bn-BD

জনসমক্ষে অপমান

এই বিভাগে বাংলা ভাষার এই ধারার সব প্রকাশিত গল্প এক জায়গায় দেখানো হয়, যাতে পাঠক ও AI দুজনেই সহজে বুঝতে পারে। জনসমক্ষে অপমান. 24 গল্পসমূহ.

24 গল্পসমূহ

গল্পসমূহ

24 গল্পসমূহ
01আমার জন্যই লাইনটা সরে গেল“ওকে এই লেনে না, সাইডে দাঁড় করাও—বউপক্ষের কাছের কেউ আগে নামবে।”জনসমক্ষে অপমান02ওর নামটা এক ডাকেই ওপরে উঠল“ওদিকে না, ম্যাডাম—সাইড গেট,” বলে কালো কোটের দরজার অ্যাটেনডেন্ট মেহরিনের সামনে হাত নামিয়ে দিল, যেন তার হাঁটার পথটুকুও ভাড়া করা। সামনে লাল কার্পেটের মোড়, ফুলের খিলান, ক্যামেরার আ...জনসমক্ষে অপমান03ওরা ভেবেছিল ও ঢুকতে পারবে না“দাঁড়াও। ভেতরের গোলচত্বরে তোমার ঢোকার দরকার নেই,” রাশেদা খালা হাত তুলে মেহরিনের পথ আটকালেন, যেন নিজের বাড়ির ফটক নয়, আদালতের কাচঘেরা দরজা পাহারা দিচ্ছেন। উঠানের লাল-সাদা কাপড় পা...জনসমক্ষে অপমান04ঘরটা তার দিকেই ঘুরে গেল“এইদিকে না, ওদিকে। গিফট টেবিলের পাশেই দাঁড়ান,” সামিয়া ভাবি হাত বাড়িয়ে মেহরিনের পথ আটকে দিলেন, যেন সে ভুল করে ভিআইপি লাউঞ্জে ঢুকে পড়া কেউ। “ভিতরের উঠানে কনের ঘনিষ্ঠরা থাকবে। আপ...জনসমক্ষে অপমান05ঘরটা তার দিকেই ঘুরে গেল #2“ওদিকে না, নিচের করিডরে দাঁড়ান,” রোকসানা ভাবি হাতে ধরা অতিথি-তালিকার বোর্ডটা মেহজাবিনের বুকের সামনে নামিয়ে দিলেন, যেন দরজার ফ্রেমে একেবারে পাতলা কাঠের পাল্লা গুঁজে বন্ধ করে দিচ্ছ...জনসমক্ষে অপমান06ডাকের তালিকায় আমার নামটাই উঠল“দড়িটা ধরেন—ভিতরে এখন আপনাদের লাইন না,” দরজার হোস্ট ইমরান হাত বাড়িয়ে নওরীনের সামনে লাল ভেলভেটের কিউ-রোপ টেনে ধরল।জনসমক্ষে অপমান07তার নামটাই সামনে উঠে গেল“নীরা, ওই চেয়ারটা না—ওটা সামনের লাইনের জন্য,” মাহিরা ভাবি হাত বাড়িয়ে সাদা কার্ডওয়ালা চেয়ারটা সরিয়ে দিল, যেন নীরা বসতে নয়, ভুল করে দোকানের শাটার টেনে ধরতে এসেছে। কার্ডের ওপর নীল কাল...জনসমক্ষে অপমান08দোরগোড়ায় অগ্রাধিকার পাল্টাল“ওকে ভেতরের গেট দিয়ে নাও না, সামনের দোর দিয়ে না,” শবনম খালা হাত তুলে থামালেন, যেন মাহিরা মানুষ না, অতিরিক্ত সাজসজ্জার একটা ভুল বাক্স। “বরপক্ষের বড়রা আসবে এখন। আগে রিমিদের লাইন।”জনসমক্ষে অপমান09নামটা এক লাফে ওপরে উঠল“এই পথে না, আপা—ওপরে বরপক্ষ উঠবে,” উশার ছেলে রফিক হাত বাড়িয়ে মেহরিনের সামনে দড়ির ফাঁক টেনে বন্ধ করে দিল। নীল ফিতেয় ঝোলা তার কুঁচকে যাওয়া পরিচয়পত্র বুকে ঠকঠক করছিল, আর সিঁড়ির...জনসমক্ষে অপমান10ভুল জনই নিচে নেমে গেল“ওকে এখন না, পরে,” সাবিহা খালা হাত তুলে রেজিস্টার-টেবিলের সামনে দাঁড়ানো কর্মীকে থামালেন, তারপর নিজের ভাতিজির বউকে কনুই দিয়ে সামনে ঠেলে দিলেন। “আগে ঘরের মেয়েরা উঠবে। তুমি বেঞ্চে...জনসমক্ষে অপমান11যাকে কম ভেবেছিল, সে-ই ওপরে উঠলরুবেল হাত তুলে মেহরিনের পথ আটকে দিল। “এই দিক না, আপা। সামনের ফটক দিয়ে কনের ঘনিষ্ঠরা যাবে। আপনি ডান পাশের করিডর দিয়ে যান—কাজের লোকেরা ওদিকেই ঢুকছে।”জনসমক্ষে অপমান12যাকে ছোট ভাবল ঘর, তারই নিচে দাঁড়াল সবাই“ওই লাইনে না, পাশে দাঁড়ান,” গেটের হোস্ট সামিউল হাত তুলে দড়ির ফাঁক বন্ধ করে দিল, যেন মেহরীন কারও ভুলে ঢুকে পড়া সরবরাহের লোক। উঠানঘেরা প্রবেশচত্বরটা আলোয় ভাসছে, ফুলের গন্ধ আর কাচের গ...জনসমক্ষে অপমান13যাকে নামাতে চেয়েছিল, সে-ই ওপরে উঠল“ওই দিক না, এই দিক,” রাশেদা খালা হাত তুলে দারোয়ানকে থামালেন, তারপর মেহরিনের সামনে বাঁধা মখমলের দড়িটা সরিয়ে আবার টেনে দিলেন অন্য লাইনে। “কনের ঘনিষ্ঠদের পথ এটা। আপনি ওদিকে বসবেন,...জনসমক্ষে অপমান14যাকে সরাবে ভেবেছিল, নাম উঠল তার“ওই বেঞ্চে বসে থাকো, সামনে যেও না,” ফারিহা ভাবি হাত বাড়িয়ে মৌর কাঁধের সামনে একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে দিল, “রোগীর আপনজন আগে দাঁড়াবে। সঙ্গে আসা মানুষ সবাই জানে নিজের জায়গা।”জনসমক্ষে অপমান15যাকে সরাল, তাকেই সামনে ডাকল“ওদিকে না, ওদিকে না—আপনি সাইডে দাঁড়ান।” কালো পাঞ্জাবি পরা ছেলেটা হাত তুলে মেহরিনের পথ আটকে দিল, যেন সে কারও বিয়েতে নয়, ভুল করে রান্নাঘরের দরজায় এসে পড়েছে। ঢাকার গুলশানের ভেন্যুর ড্...জনসমক্ষে অপমান16লাইনটা আমার জন্যই ভাঙল“এইদিকে না, ওদিকে দাঁড়ান—মেহমানদের প্রথম লাইন আলাদা,” গেটের স্বেচ্ছাসেবক লাল ফিতার পাশে হাত বাড়িয়ে মেহরিনকে সরে দিল, আর ঠিক সেই ফাঁক দিয়েই নাবিলা ভাবি নীল শাড়ির কুঁচি তুলে ভেতরের প...জনসমক্ষে অপমান17লাইনটা শেষমেশ আমার জন্য ভাঙল“ওকে পেছনে রাখেন,” রিমি ভাবি হাত তুলে বেঞ্চের দিক দেখাল, যেন ভেন্যুর লোকজনও তার বাপের চাকর। “আগে কনের মামারা, তারপর আমাদের দিক। মেহরীন দাঁড়াক।”জনসমক্ষে অপমান18শেষ মুহূর্তে নামটা উঠল সবার আগে“ওই লেন না, পাশেরটা। কর্মীদের ঢোকার পথ ওদিকে।”জনসমক্ষে অপমান19শেষে ব্যতিক্রম হল সেই মেয়েটাইদড়ির খুঁটির মাথায় বাঁধা লাল ফিতা টেনে রুখসানা খালা মেহরিনের বুকের সামনে আড়াআড়ি নামিয়ে দিলেন। “এই পর্যন্ত। উপরের ল্যান্ডিংয়ে কনের ঘরের লোক, ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, আর যাদের নাম আছে—শু...জনসমক্ষে অপমান20সবাই ভেবেছিল আমি বাদরুবাইয়া খালা মেহরিনের হাত থেকে গাড়ির চাবিটা কেড়ে নিয়ে এমনভাবে উঁচু করলেন, যেন ওটা কোনো ভুল লোকের হাতে ধরা পড়া জিনিস। “এটা তোমার কাছে কেন?” তাঁর গলার ধার পার্কিং লেনের সিমেন্টে...জনসমক্ষে অপমান21সবার আগে ওঠার অধিকারটা আমারদরোয়ান কবির হাত বাড়িয়ে সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে মেহরিনের পথ আটকে দিল। “একটু থামেন আপা। উপরের তালিকায় নাম মিলাইতে হইব।” তার পেছন দিয়ে শাড়ির ঘের তুলে তিনজন খালা, এক জোড়া অফিসের অত...জনসমক্ষে অপমান22সবার সামনে একমাত্র ও-ইট্রে-টা তার হাত থেকে কেড়ে নিয়ে সাবিহা খালা সবার সামনে বললেন, “ওটা পেছনে নে, রিমি। সামনের ফটকে দাঁড়ানোর লোক তুই না।”জনসমক্ষে অপমান23সবার সামনে ওর পাশেই দাঁড়াল“ওই ট্রেটা নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকবেন না, পথ আটকে যাচ্ছে”—সাবিহা খালার গলায় এমন কাটা ধার ছিল যে সাদা কাপগুলো ট্রের গায়ে ঠোকাঠুকি করে উঠল। মেহরিন তখনও গাড়ি থেকে নামা মানুষগুলোর...জনসমক্ষে অপমান24হাসিটা আগে ছিল, লজ্জা পরে“ওদিকে না, পেছনের বারান্দা দিয়ে ঢোকো—জুতোও খুলে রাখো,” নাসরিন খালা হাত তুলে মেহজাবিনের পথ কেটে দিলেন, এমন ভঙ্গিতে যেন সে কোনো অতিথি না, রান্নাঘরের লোক। সামনে উঠোনে গাঁদা আর রজনীগন্...জনসমক্ষে অপমান