Fast Fiction

ডিসপ্যাচটা ফিরল আমার হাতে

“ওই ট্রাকটা ছাড়বেন না—” বলে মিতুল রেজিস্টারের টেবিলের দিকে হাত বাড়াতেই রাশেদ চাবির গোছা মুঠোয় চেপে তার সামনে চেয়ারের পা আড়াআড়ি ঠেকিয়ে দিল। লোডিং বেতে তখন তিনটা ট্রাক লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে, একটার পেছনে আলুর বস্তা, আরেকটার গায়ে সবুজ রঙে লেখা কৃষি উপকরণ, তৃতীয়টার ড্রাইভার হর্ন চেপে চেপে গলির বাতাস গরম করে ফেলছে। টেবিলের কাঁচের ওপর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া চায়ের কাপের নিচে গোল দাগ পড়ে আছে; চা আর কেউ ছুঁতেও পারেনি। মিতুল দাঁড়িয়ে রইল প্লাস্টিকের চেয়ারের কোণ ছুঁয়ে, বসার জায়গাটাও তার নয় যেন।

রাশেদ গলায় মালিকানা মেখে বলল, “আমি আজ ছাড়পত্র দেব। তুমি বস্তা গোনা দেখো। সবকিছু সবার হাতে যায় না।”

এই গুদামে ছাড়পত্রের টেবিল মানে শুধু টেবিল না—কোন ট্রাক আগে বেরোবে, কার মাল রোদে পচবে, কার ড্রাইভার সন্ধ্যার আজানের আগে ফেরত যেতে পারবে, কার উপর রাতের ভাড়া চেপে বসবে—সব। তিন মাস ধরে মিতুল এই বেতেই কাজ শেখায় অন্যদের। কিন্তু আজ সকালে মালিকের খালাতো ভাই নাঈম এসে হেসে হেসে বলেছে, “রাশেদ ভাই থাকবে সামনে। আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা মানুষ, দায় নিতে পারবে।” তারপর থেকে চাবি, রেজিস্টার, সিল—সব রাশেদের হাতে।

মিতুল টেবিলের ডান পাশে রাখা অর্ধেক ভাঁজ করা রসিদখানা তুলে চোখ বুলিয়ে আবার নামিয়ে রাখল। “সাব্বিরের ট্রাকে কাঁচা মরিচ আছে। আর পনেরো মিনিট দাঁড়ালে পানি ছাড়বে। আগে ওটা।”

“তুমি আমাকে শেখাবে?” রাশেদ রেজিস্টার নিজের দিকে টেনে নিল। “লাইন আমি ঠিক করব।”

মিতুল আর কথা না বাড়িয়ে এক ধাপ সরে গিয়ে বেয়ারা ছেলেটাকে বলল, “মরিচের ক্রেটগুলার ওপর ভেজা বস্তা চাপা দে। রোদটা সোজা পড়তাছে।” এটা ছোট কাজ, কিন্তু লোকজনের চোখের দিক বদলাল—ওর কথা শুনে কেউ নড়েছে, রাশেদের না।

ফোন বেজে উঠল। রাশেদ একবার স্ক্রিন দেখে মুখ টাইট করল। “জ্বী খালা... হ, আমি আছি... না, চিন্তা কইরেন না, আজ আমি সামলাচ্ছি।” ওদিকে কার গলা কী বলছে শোনা গেল না, কিন্তু ‘খালা’ শব্দটা বে-র হইচইয়ের ভেতরও কেমন করে যেন চারদিকে ছড়িয়ে গেল। হিসাবরক্ষক জাকির খাতা থেকে চোখ তুলে আবার নামিয়ে নিল। ড্রাইভাররা বুঝে গেল, চেয়ারটা কাজ দেখে না, সম্পর্ক দেখে।

মিতুলের নিজের ফোনও কাঁপছিল। মা নিশ্চয়ই বাজারের টাকা নিয়ে মনে করিয়ে দিচ্ছে; সকালেই বলেছিল, “আজ একটু তাড়াতাড়ি ফিরিস, তোর ছোটভাইয়ের টিউশনের বকেয়া দিতে হবে।” মিতুল ফোন দেখল না। সে দেখল, দ্বিতীয় ট্রাকের পেছনে সার মেশিনের কার্টন পড়ে আছে, তাপ খাচ্ছে। দেখল, তৃতীয় ট্রাকের খালাসিরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছে, মানে সময় গলে যাচ্ছে। আর দেখল, রাশেদ একটা নাম কাটল, আবার লিখল, আবার জাকিরকে জিজ্ঞেস করল, “এই চালানটা কোনটার সাথে যাবে?”

জাকির নিচু গলায় বলল, “যেটা সকালে ঠিক করা আছিল, মিতু—”

রাশেদ চোখ কটমট করে তাকাতেই সে বাকিটা গিলে ফেলল।

পনেরো মিনিটের মধ্যে বে-র গন্ধ বদলে গেল। মরিচের ঝাঁঝে গরম ভ্যাঁপসা মেশে। সাব্বির ড্রাইভার ক্যাব থেকে নেমে এসে বলল, “আপা, আমারটা যদি এখন না ছাড়েন, যাত্রাবাড়ীর জ্যামে ফাঁসুম। বাজারে নামাইতে পারমু না।”

রাশেদ তাকে হাত তুলে থামাল, যেন এখানে একমাত্র কথা তারই। “কান্নাকাটি কইরেন না। সবাইর মাল আছে।”

“কান্নাকাটি না,” সাব্বির দাঁত চেপে বলল, “মাল নষ্ট হইলে ভাড়া কেডা দিব?”

রাশেদ উত্তর না দিয়ে চাবির গোছা আঙুলে ঘোরাতে লাগল। চাবিগুলো টিনের আলমারির সঙ্গে লেগে খচখচ শব্দ করছিল। মিতুলের চোখ সেখানে একবার গিয়ে থামল। ওই গোছায় বে-র শাটার, পাশের গেট, অফিসের সিল-ড্রয়ার—সব। রাশেদ চাবি ধরে আছে মানে সবাইকে দাঁড় করিয়ে রাখার অধিকার ধরে আছে।

তারপর একটা ভুল করল সে, সবার সামনে। যে ট্রাকটায় আগে খালি প্যালেট ঢুকবে, সেটা না খুলে সে পেছনের ট্রাককে সাইড নিতে বলল। ফল হল, সরু লেনে দুই ট্রাকের নাক ঠেকে গেল। ভেতর থেকে ঠেলাগাড়ি বেরোতে পারছে না। খালাসিরা চেঁচাচ্ছে। এদিকে অর্ধেক তোলা এক ট্রাকের শাটার মাঝপথে আটকে ঝুলে রইল, লোহার পাত অর্ধেক নামা, অর্ধেক ওঠা; নিচে বস্তা হাতে দুইজন ঝুঁকে আছে, মাথায় লেগে গেলে খুলে যাবে চামড়া।

মিতুল তীক্ষ্ণ গলায় বলল, “শাটারের বাঁ পাশের ক্লিপ আটকা খাইছে। আগে ওটা নামান। না হলে বস্তা যাবে না।”

রাশেদ বলল, “চুপ থাকো। আমি দেখতেছি।” সে শাটারের দড়ি টানল উল্টো দিকে। পাত আরও বেঁকে কাঁক করে উঠল। ভিতর থেকে একজন চেঁচিয়ে উঠল, “ভাই, ভাঙতাছে!”

এবার তিনদিকে একসাথে চাপ এল। সাব্বির হর্ন বাজাল দীর্ঘ, পেছনের ড্রাইভার নেমে গালি দিল, আর নাঈমের ফোন এল আবার। রাশেদ ফোন ধরেই বলল, “হ, সব ঠিক আছে,” কিন্তু সেই মুহূর্তেই এক বস্তা আলু শাটারের নিচে ঠেস খেয়ে ছিঁড়ে গেল। কাদামাখা আলু গড়িয়ে র‌্যাম্প বেয়ে নেমে এল, দুটো ভেঙে চটকে গেল চাকার নিচে। দৃশ্যটা এত স্পষ্ট ছিল যে কাউকে আলাদা করে ব্যাখ্যা করতে হল না—তার হাতে বে থমকে গেছে।

“চাবি দেন।” মিতুল এবার এগিয়ে এল।

“পিছনে যাও,” রাশেদ বলল, কিন্তু গলায় আগের জোর নেই।

শাটার আবার কাঁক করল। ভেতরের খালাসি দুহাতে ধরে আছে। জাকির টেবিল ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। সাব্বির র‌্যাম্পের নিচে এসে বলল, “ভাই, এখন নাটক কইরেন না। যারে লাগে তারে দেন।”

রাশেদের কপালে ঘাম চিকচিক করছে। নাঈমের ফোন কানে, অন্য হাতে চাবি, সামনে আটকে থাকা শাটার—একসাথে কিছুই সামলাতে পারছে না। শেষে ফোনটা বুকের সাথে চেপে ধরে সে রেজিস্টারটা ঠাস করে টেবিলে মারে, তারপর চাবির গোছাটা প্রায় ছুড়ে দেয় মিতুলের দিকে। “নাও, দেখাও! এত পারো যখন—”

মিতুল মাঝআকাশে চাবি ধরল। লোহার ঠাণ্ডা ওজন হাতে বসতেই তার মুখে কোনো বিজয়ের হাসি এল না, শুধু শরীরের ভর বদলাল। সে রেজিস্টার নিজের দিকে টেনে নিল, টেবিলের কাঁচের ওপর থাকা চায়ের দাগের পাশেই রাখল, তারপর একটানে চেয়ারে বসল—যেখানে সকাল থেকে তাকে বসতে দেওয়া হয়নি।

“সাব্বির, তোমার মরিচ আগে। পেছনেরটা দুই ফুট রিভার্স, তারপর বাঁক নাও। করিম, শাটারের বাঁ ক্লিপে লোহার রড ঢোকাও—না, ওপর থেকে না, নিচের খাঁজে। হেলাল, আলুর বস্তা সরাও, পথ খালি করো। জাকির ভাই, মরিচের চালান নাম্বার পড়েন।”

কথাগুলো এত ছোট, এত ঠিক জায়গায় পড়ল যে বেতের শব্দ বদলে গেল। হর্ন থেমে গিয়ে শুধু ধাক্কাধাক্কির ঠুকঠাক শোনা গেল। করিম রড ঢুকিয়ে ক্লিপ ছাড়াতেই শাটার সোজা নামল। মিতুল হাত তুলে থামাল, “এখন আধা ওপেন। পুরো না। আগে ভেতরের পাঁচটা বস্তা বের করো, তারপর প্যালেট।” লোডাররা তার দিকে তাকিয়ে আবার কাজ ধরল। কারও অনুমোদন লাগল না।

রাশেদ পাশে দাঁড়িয়ে বলল, “এইটা আমি আগেই কইছিলাম।”

কেউ সাড়া দিল না। মিতুল রেজিস্টারে নাম টেনে লিখছে, তার পুরোনো নীল কালি-দাগ লেগে থাকা কলমটা আঙুলে ঘুরে ঠিক জায়গায় থামছে। সে চোখ না তুলেই বলল, “গেট নম্বর দুই খুলেন।” চাবি ঘুরল। পেছনের আটকে থাকা ট্রাক একটু সরে জায়গা দিল। ঠেলাগাড়ি একে একে বেরোতে শুরু করল। পাঁচ মিনিট আগেও যেখানে আলু চটকাচ্ছিল, সেখানে এখন শুধু বস্তা টানার শব্দ।

তারপর গতি উঠল। মরিচের ক্রেট আগে উঠল, ভেজা বস্তা চাপা দিয়ে। সার মেশিনের কার্টন রোদ থেকে সরিয়ে ছায়ায় আনা হল। সাব্বির কেবিনে উঠে ইঞ্জিন জ্বালানোর আগে জানালা দিয়ে শুধু বলল, “এইবার হবে।” মিতুল হাতে সিল চাপল, রেজিস্টারে সময় লিখল, সামনে দাঁড়ানো বালকটাকে বলল, “ছাড়পত্র দাও।” ট্রাকটা বেরিয়ে গেল। ধোঁয়ার কালো রেখা গেট পেরিয়ে মিলিয়ে যেতেই দ্বিতীয় ট্রাক ঢুকল এমন মসৃণতায়, যেন লেনটা এভাবেই থাকার কথা ছিল।

দশ মিনিটের মধ্যে বে-র লোকজন কার কণ্ঠে চলতে হয় সেটা ঠিক করে ফেলল। “মিতুল আপা, এইটা কোথায়?” “আপা, এই চালান একসাথে?” “আপা, গেট লাগাব?” প্রশ্নগুলো তার দিকে আসছে, রাশেদের পাশ কাটিয়ে। সে শুধু দিক দেখাচ্ছে। “ওইখানে।” “দুই ভাগ।” “এখন না।” যে প্লাস্টিকের চেয়ারের কোণে দাঁড়িয়ে ছিল, এখন সেই চেয়ার তার শরীরের নিচে স্থির। আর রাশেদ দাঁড়িয়ে আছে পাশে, দাঁড়ানোরও ঠিক জায়গা পাচ্ছে না; কখনো টেবিলে হাত রাখছে, কখনো ফোন দেখছে, কিন্তু কেউ তাকে জিজ্ঞেস করছে না।

এমন সময় নাঈম নিজে এসে হাজির। গেট দিয়ে ঢুকেই বলল, “কী অবস্থা? এত ফোন কেন?” তার স্যান্ডেলের ফাঁক দিয়ে ধুলা উড়ছে, কিন্তু চোখ সোজা টেবিলে। সেখানে মিতুল বসা, সামনে খোলা রেজিস্টার, ডান পাশে সিল, বাঁ হাতে চাবি।

রাশেদ দ্রুত এগিয়ে গিয়ে বলল, “জ্যাম হইছিল, আমি সামলাইছি। এখন ঠিক।” সে হাত বাড়িয়ে টেবিলের দিকে ইশারা করল, “দাও, আমি বসি।”

মিতুল হাত সরাল না। সামনে তৃতীয় ট্রাকের চালান খুলে সে জাকিরকে বলল, “এইটা ফুলবাড়িয়া যাবে, আগে ওজন মিলাইয়া দেন।” তারপর প্রথমবার চোখ তুলে নাঈমের দিকে তাকাল। “দুইটা ট্রাক আটকা আছিল। একটা শাটার ভাঙার উপক্রম। এখন ছাড়পত্রের ক্রম আমি ধরছি। মাঝখানে হাত বদলাইলে আবার থামবে।”

রাশেদ ফিসফিস করে বলল, “চাবি দেন।”

ফিসফিসানিটা খুব খারাপ শোনাল, কারণ একটু আগেই সেই গলাতেই সে সবাইকে থামাচ্ছিল। নাঈমের চোখ একবার র‌্যাম্পের দিকে গেল—চটকে যাওয়া আলুর দাগ এখনো শুকায়নি। আরেকবার গেল বেরিয়ে যাওয়া প্রথম ট্রাকের খালি জায়গায়। তারপর সে সরাসরি রাশেদকে না দেখে বলল, “যে চালাইতেছে, সে-ই শেষ করুক।”

এতটুকুই যথেষ্ট ছিল। রাশেদের হাত টেবিলের ধার থেকে সরে গেল। কিন্তু সে ছাড়তে পারল না, বলল, “আমি তো দায় নিলাম—”

মিতুল এবার সিল ঠাস করে নামাল। শব্দটা ছোট, কিন্তু কাটার মতো। “দায় নিতে চাইলে দাঁড়ায়া থাকেন। ছাড়পত্র আমি দিচ্ছি।” তারপর উচ্চস্বরে, সবাই শুনে এমন ভঙ্গিতে বলল, “পরেরটা—চট্টগ্রামের সার। গেট খোলো।”

লোডার ছেলেটা এক সেকেন্ডও দেরি করল না। “গেট খোলো” শুনে সে রাশেদের দিকে নয়, মিতুলের দিকে তাকিয়েই ছুটল। দ্বিতীয় চাবি ঘুরল। ট্রাক এগোল। রাশেদের মুখে যে ভরসা নিয়ে সকাল থেকে আদেশ ছিল, সেটা ভেঙে পড়ে এখন কেবল দাঁত চেপে থাকা। তার ফোন আবার বেজে উঠল; সে দেখল, কেটে দিল। এখন ফোন ধরলে যা বলার ছিল, তা আর আগের ভাষায় বলা যাবে না।

বে আবার গিলতে শুরু করল জমে থাকা মাল। একটার পর একটা প্যালেট, কার্টন, বস্তা সরে গেল। মিতুল ক্রম দিল, থামাল, ছাড়ল। কেউ ভুল জায়গায় ঠেলাগাড়ি ঢোকাতে গেলে সে শুধু আঙুল তুলে দিক দেখাল, লোকটা সোজা হয়ে নিল। জাকির রসিদ মিলিয়ে সামনে দিচ্ছে। ভাঁজ খোলা-বন্ধে কাগজের কিনারা নরম হয়ে গেছে। নাঈম একসময় সরে গিয়ে ফোনে কারও সঙ্গে নিচু গলায় কথা বলতে লাগল; তাতে বে-র গতির কিছু বদলাল না।

শেষ ট্রাকটা গেট পেরোনোর সময় সন্ধ্যার আলো লোহার শাটারের ওপর নরম হলুদ হয়ে পড়ছিল। র‌্যাম্পে পড়ে থাকা আলুর কাদা পানি দিয়ে ধুয়ে দেওয়া হয়েছে। চায়ের কাপের ওপর পাতলা সর জমে গেছে, কেউ আর খাবে না। মিতুল রেজিস্টারের শেষ লাইনে সময় লিখে সিল মারল, তারপর ধীরে ধীরে দাঁড়াল। রাশেদ তখনও টেবিলের কাছেই, যেন শেষ মুহূর্তে কিছু ফেরত নেবে। সে হাত বাড়াতে যাচ্ছিল।

মিতুল চাবির গোছাটা নিজের মুঠোয় রাখল, রেজিস্টার বন্ধ করে জাকিরের হাতে দিল, তারপর বে-অফিসের পাশের ছোট টিনের আলমারির সামনে গিয়ে কাচওয়ালা চাবির কেবিনেট খুলল। ভেতরের হুকে মাস্টার চাবির গোছা তুলে ঝুলিয়ে দরজাটা ঠাস করে লাগিয়ে দিল। লোহার গোছাটা একবার, দুবার দুলে কাঁচে ঠেকে টুংটাং শব্দ করল, তারপর থেমে গেল।