bn-BD shelf

Fast Fiction

121 stories

Stories

121 stories
01অনুতাপ এল, ভেতরে ঢুকল নারাশেদা খালা ট্রেটা মেহরীনের হাতে গুঁজে দিয়ে বললেন, “ওদিকে বসিস না, ওই সোফা বড়দের জন্য। প্লাস্টিকের চেয়ারটা টেনে নে, চা দে আগে।” দরজার ভেতরেই থেমে গেল মেহরীন। সারা দিন কৃষি ব্যাংক...Fast Fiction02অনুশোচনা এল, অধিকার পেল নাট্রে নামাতেই সেলিনা খালা ফিসফিস না করে সবার শুনিয়ে বললেন, “মেহরিন, তুই সামনের বসার ঘরে যাস না। ওদিকটা ভিআইপি আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা লোকজন বসবে। এই চাবিটা নে, ওপরের স্টোররুম খুলে...Fast Fiction03আমাকে সরাতেই শর্টকাট মরল“মৌ, ওই কৃষির প্রেসক্রিপশনটা আগে দাও—না, এটা না, সবুজ ফাইলটা—আহা, তোমারে কতবার কইতে হবে?”Fast Fiction04আমার জন্য খোঁড়া গর্তে সে পড়লশরীফা খালা নাজমার হাতে ঝুনঝুনে চাবিটা ছুঁড়ে মেরে বলল, “এটা এত দেরিতে ফেরত দেওয়ার পরে আবার ভেতরের লাইনে দাঁড়াবি? ওখানে না, লোডিং বেয়ের একদম কিনারায়। ঝাড়ু ধরে থাক।”Fast Fiction05আমার জন্য খোঁড়া গর্তে সে-ই পড়ল“দাঁড়ান। এই গেট দিয়ে আপনি ঢুকবেন না।”Fast Fiction06আমার জন্য খোঁড়া গর্তেই ও পড়লছাড়পত্রের গোলাপি স্লিপটা রুবাইয়ার হাত থেকে কেড়ে নিয়ে কামরুল ভাই লোডিং বেয়ের মুখেই উঁচু করে ধরল। “এই চালান যাবে না। রিলিজ ব্লক আছে—নামের পাশে রেকর্ডেড।” কাঁধে বস্তা তোলা দুই শ্রমিক...Fast Fiction07আমার জন্য টোপ পেতে নিজেই আটকাল“দাঁড়ান—এই নামটা ঢুকবে না,” রাশেদা ভাবি রেজিস্টারের ওপর আঙুল ঠুকে বলল, আর জসিম দারোয়ান মেহরিনের পথের সামনে লোহার ফ্রেমটা টেনে আনল। পেছনের গেটের সরু লেনে জেনারেটরের গুঞ্জন, সিঁড়ি...Fast Fiction08আমার জন্য পাতা টোপে ও-ই ধরাটোকেনটা মেহরিনের আঙুলে ছুঁইছুঁই করেই কাউন্টারের মেয়ে হাত গুটিয়ে নিল। “এইটা না,” সে মাথা তুলে পেছনের দিকে তাকাল, “রাশেদা আপার নির্দেশ আছে। আপনি সাইডে দাঁড়ান।”Fast Fiction09আমার জন্যই লাইনটা সরে গেল“ওকে এই লেনে না, সাইডে দাঁড় করাও—বউপক্ষের কাছের কেউ আগে নামবে।”Fast Fiction10আমার জায়গা ওরা মুছতে পারেনিগরম ট্রের ধাক্কায় স্টিলের জগটা কাত হয়ে পড়তেই মেহরিন দুই হাতে ধরে ফেলল, আর একই সময়ে বলল, “ভাতটা ওই টেবিলে নামান, দই এখানে রাখেন—ওপাশে জায়গা নাই।” তার কণ্ঠে তাড়াহুড়ো ছিল, কিন্...Fast Fiction11আমি না ধরলে লাইন নড়ে না“মিতুল, ওই ট্রলিটা সরাও। কাউন্টারে তোমার দরকার নেই,” রাশেদ স্যার এমনভাবে হাত নাড়ল, যেন কাউন্টারের সামনে দাঁড়ানো মানুষগুলোও তার ব্যক্তিগত জিনিস। সামনে সারি পাক খেয়ে দরজা ছাড়িয়ে...Fast Fiction12আসল কর্তাই ফিরল, পথ বন্ধ হল“এই লেনটা না, আপা, বাইরে দাঁড়ান।” গেটের কাছে হলুদ ফিতে টানা পথের সামনে হাত ছড়িয়ে দাঁড়াল নাইম ভাই। তার কণ্ঠটা এমন জোরে উঠল যে মেহরীনের পেছনে দাঁড়ানো খালা রওশন, দুই ফুফাতো বোন, এমনকি...Fast Fiction13আসল ডিউটির মালিক আবার ফিরলরিমা বাঁ হাতে রেজিস্টারের পাতা চেপে ধরে ডান হাতে তিনটা রিপোর্ট-ফোল্ডার এক লাইনে গুঁজে দিল, তারপর কুঁচকে যাওয়া ব্যাজের ফিতা গলায় দুলতে দুলতে বলল, “খালাম্মা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের...Fast Fiction14আসল শিফটটা আবার আমার হলো“ওই ব্যাগটা আগে দেন—না, ওইটা না, ইউরিয়া লেখা নীলটা,” মিতু হাত বাড়িয়ে ক্রেতার কাঁধের উপর দিয়ে বস্তাটা টেনে নামাল, তারপর একই নিঃশ্বাসে বলল, “বিকাশে গেলে শেষ চার ডিজিট বলেন, ভুল গ...Fast Fiction15আসল শিফটের মালিক আবার ফিরল“মৌরি, ওই ফাইলটা ধরো—আর লাইনে কাদের আগে ঢোকাতে হবে, সেটা তুমি বাইরে দাঁড়িয়ে বুঝিয়ে দাও। ডেস্কে আমি আছি।”Fast Fiction16আসল স্কিল উঠতেই সব চুপনাইরা থেমে গেল আইল-ধারের মনিটর ওয়েজের পাশে, কারণ তার কালো কাপড়ে ঢাকা কনসোলের ওপর ইতিমধ্যেই রিদওয়ানের হাত। মাইকে ঘোষণাও হয়ে গেছে—“টিম লিড, রিদওয়ান হোসেন।” সামনে প্রথম সারিতে শা...Fast Fiction17আসল হাত উঠতেই সব বদলে গেল“নীরা, ওদিক থেকে সরে দাঁড়াও—কনসোল আজ মাহির ভাই চালাবেন।”Fast Fiction18এই ভাঙনও আমাদের আলাদা করতে পারল নাস্ট্রেচারে ধাক্কা লাগতেই অক্সিজেন সিলিন্ডারের মুখটা কাত হয়ে গেল, রিদা দৌড়ে গিয়ে দুহাতে সেটাকে ধরে সোজা করল আর গেটের পাশে দাঁড়ানো ওয়ার্ডবয়কে বলল, “ভাই, আগে চাকা উঠান, না হলে আ...Fast Fiction19এক পরীক্ষাতেই সব ফাঁসগেটের ভেতর ঢুকতেই নাজিয়া দেখল তার সেতারের বাক্সটা খুলে রাখা, আর তার নাম-লেখা সাদা কাগজের ওপর কালো মার্কার টেনে লিখে দেওয়া হয়েছে—“রাইসা রহমান: লাইভ রাউন্ড।” পাশের মঞ্চ থেকে ঘোষকে...Fast Fiction20এক প্রশ্নেই ঘরটা ওদের বিরুদ্ধে গেলগাড়ির দরজা খুলতেই দুজন বেয়ারা একসঙ্গে মেহরিনের দিকে ঘুরে বলল, “আপা, পরের ভিআইপি কারটা—” “ওকে জিজ্ঞেস করার দরকার নেই,” রাশেদা খালা কাঁচের দরজার সামনে দাঁড়িয়েই কথাটা কেটে দিলেন।...Fast Fiction21একটা ফাইলই অতীত বদলে দিল“ওকে ভেতরে বসানোর দরকার নেই, বারান্দায় থাকলেই হবে—এই মেয়েটা তো কাজের মানুষ,” রাফির মা দরজার কপাট আধখানা নামিয়ে বললেন, আর মেহরীনের হাতে ধরা মিষ্টির বাক্সটা তিনি এমনভাবে নিয়ে নিলেন য...Fast Fiction22এখন আমরা একই পাশেমেহজাবিন দুই হাতে ফেটে যাওয়া সারবস্তার মুখ চেপে ধরেছিল, আর সাদা দানার মতো ইউরিয়া তার আঙুলের ফাঁক গলে কাউন্টারের কিনারা বেয়ে মেঝেতে পড়ছিল, তখনই রাশেদা আপা খড়খড়ে গলায় বলল, “কে...Fast Fiction23ওর নামটা এক ডাকেই ওপরে উঠল“ওদিকে না, ম্যাডাম—সাইড গেট,” বলে কালো কোটের দরজার অ্যাটেনডেন্ট মেহরিনের সামনে হাত নামিয়ে দিল, যেন তার হাঁটার পথটুকুও ভাড়া করা। সামনে লাল কার্পেটের মোড়, ফুলের খিলান, ক্যামেরার আ...Fast Fiction24ওরা ভেবেছিল ও ঢুকতে পারবে না“দাঁড়াও। ভেতরের গোলচত্বরে তোমার ঢোকার দরকার নেই,” রাশেদা খালা হাত তুলে মেহরিনের পথ আটকালেন, যেন নিজের বাড়ির ফটক নয়, আদালতের কাচঘেরা দরজা পাহারা দিচ্ছেন। উঠানের লাল-সাদা কাপড় পা...Fast Fiction25কন্ট্রোল আবার আমার হাতেট্রলির চাকায় বাঁধা বাঁধাকপির বস্তা কাত হয়ে লেনে ছড়িয়ে পড়তেই শিউলি ডিসপ্যাচ ঘরের দরজায় হাত রাখল, আর ভেতর থেকে কামরুল ভাই চেঁচিয়ে উঠল, “ওখানে না। সিটে কেউ বসবে না। তুই বাইরে দাঁড়া।”Fast Fiction26কন্ট্রোল ফিরতেই বেই চললচতুর্থ বেইয়ের সামনে ট্রলির চাকা আটকে কাঁকিয়ে উঠতেই মেহজাবিন গলা চড়াল, “ওটা আগে ছাড়বেন না—পেঁয়াজের প্যালেট ঢুকলে মাছের গাড়ি উল্টা মুখে আটকা পড়বে।” ঢাকার কারওয়ান বাজারের পেছনের কৃষি...Fast Fiction27কাজ চাপিয়ে, শেষে আমাকেই ডাকল“ওই ফাইলটা এখানে দিন—না, ওইটা না, নীল স্টিকারওয়ালা,” বলে মেহরীন কাউন্টারের পাশের সরু ট্রলির উপর ঝুঁকে জন্মতারিখ মিলিয়ে নিল, আর ঠিক তখনই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীর ছেলের দিকে না তাকিয়...Fast Fiction28গেট পাসটা হাতে যেতেই খেলা ঘুরলকেবিনেটের তালায় চাবি ঢোকাতে গিয়েই মেহরীনের হাত থামিয়ে দিল রাশেদা ভাবি। “ওইটা নামাও। আজ লেন-তিনের ছাড় আমি দেব।”Fast Fiction29গেটটা শেষে ওদেরই বন্ধ“ওই টার্নে দাঁড়াস না, মেহজাবিন—সরে যা। আজ ভোরের মিরপুর লাইন যাবে সোহেলের হাতে।”Fast Fiction30গেটে থামানো মেয়েকেই আগে নিল তারা“ওই গাড়িটা আগে নিন—মাহিরা নামবে,” সেলিনা খালা হাত তুলে বলতেই তিনজন ভেন্যু-কর্মী ছুটে গেল সামনের সাদা প্রাডোর দিকে, আর আরিবার ট্যাক্সির দরজা আধখোলা অবস্থাতেই থেকে গেল। ড্রপ-অফ লাইনে...Fast Fiction31ঘরটা আমার জন্যই রাখা ছিলমেহরিন প্লাস্টিকের চেয়ারের কোণা টেনে এনে আরিবের মায়ের মাথার নিচে গুঁজে দিল, তারপর নিজের ওড়না খুলে স্যালাইনের নলটা দরজার হাতল থেকে ছাড়িয়ে সোজা করল। করিডরে তখন তিনজন একসাথে চিৎক...Fast Fiction32ঘরটা আমার জন্যই রাখা ছিল #2“চাদরটা ঠিক করে ধরেন—রক্ত নিচে পড়ছে!” বলে মেহজাবিন দুই হাতে স্ট্রেচারের ধাতব কিনারা চেপে ধরল, কাঁধে ঝুলে থাকা ব্যাগটা বারবার সরে গিয়ে তার কনুইয়ে আঘাত করছিল। করিডরের সাদা আলোয় রিফাত...Fast Fiction33ঘরটা তার দিকেই ঘুরে গেল“এইদিকে না, ওদিকে। গিফট টেবিলের পাশেই দাঁড়ান,” সামিয়া ভাবি হাত বাড়িয়ে মেহরিনের পথ আটকে দিলেন, যেন সে ভুল করে ভিআইপি লাউঞ্জে ঢুকে পড়া কেউ। “ভিতরের উঠানে কনের ঘনিষ্ঠরা থাকবে। আপ...Fast Fiction34ঘরটা তার দিকেই ঘুরে গেল #2“ওদিকে না, নিচের করিডরে দাঁড়ান,” রোকসানা ভাবি হাতে ধরা অতিথি-তালিকার বোর্ডটা মেহজাবিনের বুকের সামনে নামিয়ে দিলেন, যেন দরজার ফ্রেমে একেবারে পাতলা কাঠের পাল্লা গুঁজে বন্ধ করে দিচ্ছ...Fast Fiction35ঘরটা যেন আমার জন্যই অপেক্ষায় ছিলবেসিনের সামনে ঝুঁকে মায়া এক হাতে রিমির কামিজের বমি ধুতে ধুতে অন্য হাতে কলটা চেপে রাখল, যাতে পানি ছিটকে বাইরে না যায়। পেছন থেকে রিমির খালা নাক কুঁচকে বললেন, “এই তো, সুযোগ পেলেই ঘেঁষ...Fast Fiction36ঘরটা যেন তারই জন্য ছিলনীরা দুহাতে আরমানের মাথা চেপে ধরে টিস্যুতে রক্ত থামাতে থামাতে বলল, “চোখ বন্ধ রাখো,” আর ঠিক তখনই সাবিহার খালা ভেজা বারান্দা পেরিয়ে এসে এমন গলায় উঠলেন যেন নীরাই এই দুর্ঘটনার কারণ।...Fast Fiction37ঘরটাই শেষমেশ ওদের ছাড়ল“ওই মাইক্রোফোনটা ধরো না,” রওশন আপা হাত বাড়িয়ে মেহরীনের কবজি ঠেকিয়ে দিলেন, যেন উঠানের মাঝখানের টেবিল আর ফুল-ঝোলানো ফটক একসঙ্গে তাঁর বাপের সম্পত্তি। “তুমি পিছনে থাকো। অতিথি রিসিভ...Fast Fiction38চাপ পড়তেই আসল ফাঁস হল“ওই ১২ নম্বর র্যাক ছাড়ো, আগে বনানী রুট বের করো!” রাশেদ সুপারভাইজার গলির মুখে দাঁড়িয়ে চেঁচাতেই দুইটা ঠেলাগাড়ি একে অন্যের মুখে গিয়ে ঠেকে গেল, কাঁচা টমেটোর ক্রেট কাত হয়ে লাল জল...Fast Fiction39চাপ পড়তেই কে ভুয়া ধরা গেলহাতগাড়িটার সামনের চাকা র‌্যাম্পের ধাতব ঠোঁটে ঠক করে আটকে গেল, আর একই সঙ্গে রেডিওতে কর্কশ শব্দ উঠল—“বে তিন দাঁড়িয়ে আছে, ছাড়পত্র কোথায়?” মাহিরা হাত বাড়িয়েই ছিল রিলিজ বোর্ডের দিকে, ঠি...Fast Fiction40চেয়ারটা আবার আমার হলোচতুর্থ র্যাকের মুখে ঠেলা গাড়ি দুটো আড়াআড়ি আটকে যেতেই রাশেদ সুপারভাইজার চাবির গোছা ঝনঝন করে তুলে বলল, “মেহজাবিন, তুমি লাইনে দাঁড়াও। ডিসপ্যাচ টেবিলে হাত দেবে না।” লাল ট্যাগওয়ালা...Fast Fiction41টাকার লাইন ঘুরে যেতেই ওরা থেমে গেল“এই লেনটা না, পেছন দিক দিয়ে যান—স্টাফদের দাঁড়ানোর জায়গা ওখানে,” কালো কোট পরা ছেলেটা হাত তুলে রিদওয়ানের বুকের সামনে থামিয়ে দিল, যেন সে আমন্ত্রিত কেউ না, অতিরিক্ত মালপত্র নামাতে...Fast Fiction42ডাকের তালিকায় আমার নামটাই উঠল“দড়িটা ধরেন—ভিতরে এখন আপনাদের লাইন না,” দরজার হোস্ট ইমরান হাত বাড়িয়ে নওরীনের সামনে লাল ভেলভেটের কিউ-রোপ টেনে ধরল।Fast Fiction43ডিসপ্যাচটা ফিরল আমার হাতে“ওই ট্রাকটা ছাড়বেন না—” বলে মিতুল রেজিস্টারের টেবিলের দিকে হাত বাড়াতেই রাশেদ চাবির গোছা মুঠোয় চেপে তার সামনে চেয়ারের পা আড়াআড়ি ঠেকিয়ে দিল। লোডিং বেতে তখন তিনটা ট্রাক লাইন দিয়ে দাঁড়...Fast Fiction44ডিসপ্যাচের চেয়ারটা আবার আমারলোহার শাটারের সামনে তৃতীয় ট্রলিটা এসে আড়াআড়ি আটকে যেতেই রাশেদ চেঁচিয়ে উঠল, “ওইটা আগে না, সিলেটেরটা আগে দাও—দাঁড়িয়ে থাকিস কেন?” ঢাকার কোল্ড-চেইন গুদামের লোডিং বেতে তখন কাঁচা ম...Fast Fiction45তার নামটাই সামনে উঠে গেল“নীরা, ওই চেয়ারটা না—ওটা সামনের লাইনের জন্য,” মাহিরা ভাবি হাত বাড়িয়ে সাদা কার্ডওয়ালা চেয়ারটা সরিয়ে দিল, যেন নীরা বসতে নয়, ভুল করে দোকানের শাটার টেনে ধরতে এসেছে। কার্ডের ওপর নীল কাল...Fast Fiction46তালিকার ওপরে উঠল তার নামগাড়ির দরজা খুলতেই রুমানাকে দুজন ছেলেপেলে দৌড়ে গিয়ে ছাতা ধরল, ফুলের থালা এগিয়ে দিল, আর মেহরীনের সামনে হাত তুলে এক গার্ড বলল, “আপা, একটু সাইডে দাঁড়ান। আগে কনের পক্ষ।”Fast Fiction47তোমার দুঃখ আমাকে আর পেল নামেহরীন ট্রের গ্লাস নামিয়ে বলেছিল, “এগুলো ভেতরে যাবে না, বরপক্ষের টেবিলে রাখেন”—ঠিক তখনই ফটকের দিকে হৈচৈ উঠল, আর খালা রাশেদা পানের বাটা হাতে ঘুরে দাঁড়িয়ে এমন স্বরে ডাকলেন, যেন ঘর...Fast Fiction48দরজা বন্ধ হওয়ার পর সে ফিরলডেলিভারি ছেলেটা কাগজে মোড়া ছোট প্যাকেটটা মেহরীনের হাতে গুঁজে দিয়ে বলল, “আপার নাম লেখা আছে, নিচে সই দেন,” আর ঠিক সেই মুহূর্তেই ভেতরের ডাইনিং টেবিল থেকে খালার গলা এল, “কে রে? আবার...Fast Fiction49দরজা বন্ধের পর সে ফিরলকাশেম দারোয়ান দরজায় টোকা না দিয়ে সোজা গ্রিল নেড়ে উঠল, “মেহরিন আপা, নিচে একজন এসেছে—নাঈম ভাই বলে। হাতে একটা বক্স, আর খাম। বলছে আজই দিতে হবে।”Fast Fiction50দরজায় বাড়াবাড়ির দাম সেখানেই উঠলমাহিরার হাত থেকে ভাঁজ খোলা-ভাঁজ করা বিলের কাগজটা প্রায় ছিনিয়েই রাবেয়া খালা বললেন, “ওটা ব্যাগে ঢোকাও, আগে এই ফুলের ঝুড়িটা ধরো—বরপক্ষের গাড়ি ঢুকবে, আর তুমি এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে...Fast Fiction51দামটা সেখানেই তার কাছ থেকে উঠলফর্কলিফটের দাঁত প্যালেটের নিচে ঢুকতেই রাশেদ ভাই হাঁক ছুঁড়ে দিল, “ওই তিনটা ক্রেটও মিতুর নামে দাও। ডিসপ্যাচে লিখে রাখো—দেরি হলে দায়ও ওর।”Fast Fiction52দূরত্বই সেদিন দৃশ্য ছিল“ওটা ভিতরে নেবে না,” নাঈমা আপা ফাইলটা মেহরিনের হাত থেকে টেনে নিয়ে দরজার চৌকাঠে নিজের শরীর আড়াআড়ি করে দাঁড়াল, “অফিসের কাগজ অফিসেই থাকবে। ভেতরের টেবিলে আব্বা বসে আছেন।”Fast Fiction53দূরত্বটাই দৃশ্য হয়ে রইলখামটা মাহিরার হাত থেকে পিছলে যাচ্ছিল, পাতলা কাগজের শুকনো মচমচ শব্দে দোতলার সিঁড়ির নিচের করিডরটা আরও টানটান হয়ে উঠল, ঠিক তখনই তানভীর দরজার চৌকাঠে এসে দাঁড়াল। তার ফোনের আলো হাতের...Fast Fiction54দূরত্বটাই সেদিন দৃশ্য ছিলখালামণি রওশন নাবিলার সামনে ফাইলটা ঠেলে দিয়ে বললেন, “এগুলো আগে নিচে জমা দাও, তারপর খেতে বসো। আর শোনো, তানভীরের পরিবার শুক্রবারে আসবে—তোমার মতো মেয়ের জন্য এমন ভদ্র ছেলেই ভালো।” কথা...Fast Fiction55দৃশ্যটা এমন ঘুরল, অপমানটা ফিরলফর্কলিফটের চাকার সামনে দাঁড়িয়ে সাবেরা ভাবি হাত তুলে বললেন, “কোনো প্যালেট বের হবে না। আগে কাগজে সই কর, তারপর গেট খুলব।” তার আঙুলে ধরা সাদা দোষপত্রটা বাতাসে কাঁপছিল, আর বে-র মুখে স...Fast Fiction56দোরগোড়ায় অগ্রাধিকার পাল্টাল“ওকে ভেতরের গেট দিয়ে নাও না, সামনের দোর দিয়ে না,” শবনম খালা হাত তুলে থামালেন, যেন মাহিরা মানুষ না, অতিরিক্ত সাজসজ্জার একটা ভুল বাক্স। “বরপক্ষের বড়রা আসবে এখন। আগে রিমিদের লাইন।”Fast Fiction57নামটা এক লাফে ওপরে উঠল“এই পথে না, আপা—ওপরে বরপক্ষ উঠবে,” উশার ছেলে রফিক হাত বাড়িয়ে মেহরিনের সামনে দড়ির ফাঁক টেনে বন্ধ করে দিল। নীল ফিতেয় ঝোলা তার কুঁচকে যাওয়া পরিচয়পত্র বুকে ঠকঠক করছিল, আর সিঁড়ির...Fast Fiction58নামটা ওপরে উঠতেই মুখ পুড়ল“না, এই লাইন না। ওদিকে দাঁড়াও,” সাবিহা খালা হাত বাড়িয়ে নওশীনের কনুই চেপে ধরলেন, যেন তিনি অতিথি নন, ভুল করে ভেতরে ঢুকে পড়া কেউ। সিঁড়ির প্রথম ল্যান্ডিংয়ে লাল দড়ি টানা, একপাশে...Fast Fiction59নিজের মঞ্চেই সে শেষ হয়ে গেল“মাহিরা, আপনি ওখানেই বসুন—বেঞ্চে। আগে নওশীন যাবে।”Fast Fiction60নিজের স্টেজেই সে ধরা খেলআরমান মেহরিনের হাত থেকে সাদা সেন্সর-প্রোবটা টেনে নিয়ে বলল, “এটা আমি নেব। তুমি স্যাম্পল ট্রে ঠিক করো।” তার কবজির ওপর পুরনো কলমের কালির দাগ ছিল; প্রোব ছাড়তে গিয়ে দাগটার ওপর মেহরিন...Fast Fiction61পাসটা হাতে যেতেই সব বদল“ওই বেঞ্চে বসবেন না, এটা আমাদের সিরিয়ালের লোকজনের,” বলে নাসরিন ভাবি হাত বাড়িয়ে মেহজাবীনের ফাইলটা ঠেলে দিলেন এমনভাবে, যেন ফাইল না, কারও কনুই সরাচ্ছেন। পুরোনো নীল কভারের ভাঁজে ভাঁ...Fast Fiction62পুরনো খাতাই সত্যি বলল“ওকে ভেতরে বসিও না,” তাসনিম ভাবি দরজার পাশে দাঁড়ানো ছেলেটাকে বলেই মেহরিনের হাত থেকে নীল ফাইলটা টেনে নিল, “আত্মীয়স্বজনের টেবিল এইদিকে। ও কাগজ ধরে দিক, এই পর্যন্ত।”Fast Fiction63পুরনো রেজিস্টারই মুখ খুললরিজওয়ানা ভাবি মেহরীনের হাতে ধরা মিষ্টির বাক্সটা দরজার চৌকাঠেই ঠেলে নামিয়ে দিলেন। “তুমি ভেতরে উঠবা না। অতিথি বসছে, আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা মানুষ আছে। কেয়ারটেকারের মেয়ে বলে নাম ল...Fast Fiction64পুরো দৃশ্যটাই উল্টে গেলরাশেদ ভাই লোহার চেকলিস্ট বোর্ডটা মেহরাবের বুকের সামনে ঠাস করে নামিয়ে বলল, “এই লাইনে দাঁড়া। একটাও ঠেলা বের হবে না, আগে সই কর।”Fast Fiction65পুরোনো রেকর্ডই কথা বলল“মেহরীনের নাম নেই? তাহলে ও কেন রেজিস্টার টেবিলে দাঁড়িয়ে?” রাশেদা ভাবি তালিকাটা সবার সামনে উঁচু করে ধরল, যেন কাগজ না, রায়।Fast Fiction66ফাঁকা ঘরটাও আমারই ছিলমাহিরা ভাবি সাবিহার বইগুলো এক হাতে তুলে নিয়ে বলল, “এই টেবিলটা খালার বড় ছেলে দুদিন থাকবে, ও বসবে এখানে। তোর জিনিসপত্র ভেতরে রেখে দে।” একই সময়ে রান্নাঘর থেকে ডেকে উঠল, “ডালটা নামি...Fast Fiction67ফাঁকা স্লটটা আমারই ছিল“চাবিটা দাও, তুমি এত ভেতরে কেন ঢুকছ?”—ফারিহা ভাবির গলাটা দরজার ফাঁকে কেটে এল, আর সেই সময় মেহরিন দুই হাঁটু মেঝেতে ঠেকিয়ে নাবিলার বিছানার নিচ থেকে গড়িয়ে যাওয়া ইনহেলারটা টেনে তুল...Fast Fiction68ফাঁদটা উল্টে ওকেই চেপে ধরল“ওই কার্ট থামাও,” সাজেদা ভাবী হাত তুলে চেঁচিয়ে উঠল, আর সামনের সবুজ প্লাস্টিক-ঢাকা প্যালেটটা ধাক্কা খেয়ে লোহার রেলিংয়ে ঠক করে লাগল। “রাশেদ, তোর সই ছাড়া এটা বের হয় কীভাবে? দুই ব...Fast Fiction69ফাঁদটাই উল্টে ওর গায়ে পড়লড্রপ-অফ লাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে মেহরিন দুহাতে ফুলের ট্রে সামলাচ্ছিল, আর রুবায়েত খালা আঙুল তুলে বলছিলেন, “ওই সাদা গাড়িটা আগে নাও, কনের মামারা নামবে। তুমি দরজার ভেতর যাবে না, বাইরে...Fast Fiction70ভাঙনও আমাদের আলাদা করেনিমেহরীন দৌড়ে গিয়ে চুলার ওপর ওঠা দুধের পাতিলটা নামাতেই রিফাতের খালা হাতের আঁচল ঝাপটে উঠলেন, “এই মেয়ে, কে বলছে তোমাকে রান্নাঘরে ঢুকতে?” পাতিলের গা বেয়ে দুধ নেমে আগুনে সিঁসিঁ শব্দ...Fast Fiction71ভাঙনেও আমরা আলাদা হইনিমেহরাব দৌড়ে গিয়ে গরম ডালের হাঁড়িটা ঈশার হাত থেকে কেড়ে নিল, তারপর নিজের হাত পুড়িয়ে হলেও সিঙ্কের নিচে নামিয়ে রাখল। হাঁড়ির ধার বেয়ে ডাল ছলকে নওশীন আপার মেঝেতে পড়ে গেছে, সাদা...Fast Fiction72ভুল জনই নিচে নেমে গেল“ওকে এখন না, পরে,” সাবিহা খালা হাত তুলে রেজিস্টার-টেবিলের সামনে দাঁড়ানো কর্মীকে থামালেন, তারপর নিজের ভাতিজির বউকে কনুই দিয়ে সামনে ঠেলে দিলেন। “আগে ঘরের মেয়েরা উঠবে। তুমি বেঞ্চে...Fast Fiction73মালের লাইন ঘুরে আমার দিকেই এল“এই পাশটা খালি রাখেন—ও না, ও না, সাবিহা আপা হাত দেবেন না,” গেটের সামনে দাঁড়ানো ছেলেটা হাত তুলে সাবিহার পথ আটকাল, আর মাহির ভাই গাড়ির দরজা ধরে হেসে বলল, “তুমি ভেতরে যাও। কার্বসাইডে...Fast Fiction74যাকে কম ভেবেছিল, সে-ই ওপরে উঠলরুবেল হাত তুলে মেহরিনের পথ আটকে দিল। “এই দিক না, আপা। সামনের ফটক দিয়ে কনের ঘনিষ্ঠরা যাবে। আপনি ডান পাশের করিডর দিয়ে যান—কাজের লোকেরা ওদিকেই ঢুকছে।”Fast Fiction75যাকে ছোট ভাবল ঘর, তারই নিচে দাঁড়াল সবাই“ওই লাইনে না, পাশে দাঁড়ান,” গেটের হোস্ট সামিউল হাত তুলে দড়ির ফাঁক বন্ধ করে দিল, যেন মেহরীন কারও ভুলে ঢুকে পড়া সরবরাহের লোক। উঠানঘেরা প্রবেশচত্বরটা আলোয় ভাসছে, ফুলের গন্ধ আর কাচের গ...Fast Fiction76যাকে ঠেলে সরাল, মাইক গেল তার হাতেরুবাইয়াত আপা মেহরীনের গলা থেকে পরিচয়কার্ডের ফিতা টেনে খুলে নিলেন, এমনভাবে যেন গলায় থাকা জিনিসটাও তার দয়ার দান। তারপর ডেস্কের ওপরে রাখা রোগীর তালিকা নিজের দিকে টেনে এনে বললেন, “...Fast Fiction77যাকে নামাতে চেয়েছিল, সে-ই ওপরে উঠল“ওই দিক না, এই দিক,” রাশেদা খালা হাত তুলে দারোয়ানকে থামালেন, তারপর মেহরিনের সামনে বাঁধা মখমলের দড়িটা সরিয়ে আবার টেনে দিলেন অন্য লাইনে। “কনের ঘনিষ্ঠদের পথ এটা। আপনি ওদিকে বসবেন,...Fast Fiction78যাকে বসতে দেয়নি, তার কাছেই ঢোকার মিনতি“এই বেঞ্চে না, ওদিকে দাঁড়ান”—মাহিরা ভাবি নিজের ব্যাগটা বাড়িয়ে খালাম্মার বসতে যাওয়া জায়গাটা আটকে দিল, তারপর কাউন্টারের মেয়েটাকে চিবুক তুলে বলল, “আগে আমাদের নাম ডাকেন, রোগী খুব...Fast Fiction79যাকে বাদ দিতে চেয়েছিল সবাইলিফটের সামনে হাত তুলে রাশেদ স্যার বললেন, “মেহরাব, দাঁড়াও। তুমি না। আরিফ যাবে আগে।” আরিফের গলায় নতুন ঝোলানো পরিচয়কার্ড, হাতে কাগজে মোড়া অতিথি-প্যাকেট, তবু তার কপালে এমন ঘাম যে...Fast Fiction80যাকে সরাবে ভেবেছিল, নাম উঠল তার“ওই বেঞ্চে বসে থাকো, সামনে যেও না,” ফারিহা ভাবি হাত বাড়িয়ে মৌর কাঁধের সামনে একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে দিল, “রোগীর আপনজন আগে দাঁড়াবে। সঙ্গে আসা মানুষ সবাই জানে নিজের জায়গা।”Fast Fiction81যাকে সরাল, তাকেই সামনে ডাকল“ওদিকে না, ওদিকে না—আপনি সাইডে দাঁড়ান।” কালো পাঞ্জাবি পরা ছেলেটা হাত তুলে মেহরিনের পথ আটকে দিল, যেন সে কারও বিয়েতে নয়, ভুল করে রান্নাঘরের দরজায় এসে পড়েছে। ঢাকার গুলশানের ভেন্যুর ড্...Fast Fiction82যে গেট থেকে আমাকেই কাটল“ওই লাইনে না, স্যার—আপনাকে সাইডে দাঁড়াতে বলা হয়েছে।” কালো স্যুটের ছেলেটা হাত বাড়িয়ে নওশাদের সামনে দড়ির ফাঁক বন্ধ করে দিল, আর ঠিক তখনই পেছন থেকে এক নীল মাইক্রোবাস এসে থামতেই দু...Fast Fiction83যে জায়গা তারা দেয়নি, সেটাই অপেক্ষায় ছিলমৌ ট্রে নামিয়ে আরেকটা ভেজা গ্লাস তুলতেই রাশেদা ভাবি তার কনুই সরিয়ে দিল, যেন মানুষের নয়, স্ট্যান্ডের জায়গা ঠিক করছে। “এখানে না, ওই পেছনের লাইনে দাঁড়াও। সামনের টেবিলে আত্মীয়স্ব...Fast Fiction84যে টোপ ফেলেছিল, সে-ই ধরা“এইদিকে না,” শাহেদা খালা সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে মেহরিনের কনুই চেপে ধরে বললেন, “উপরে যাবার আগে চেকলিস্টে সই দাও। কে কী করেছে, সব লেখা আছে।” লাল দাগ টানা কাগজটা তিনি বুকের কাছে তুলে ধরলে...Fast Fiction85যে মঞ্চ সাজাল, সেই মঞ্চেই ডুবল“ওইখানে না,” ডা. রায়হান হাত বাড়িয়ে মেহরীনের বুকে ধাক্কা না দিয়েও ধাক্কার মতো থামিয়ে দিল, “কিটটা টেবিলে রাখো, তারপর সাইডে দাঁড়াও। লাইভ স্লটে জটলা চাই না।”Fast Fiction86যে মঞ্চটা ওর ছিল, সেটাই ওকে মারল“মেহরিন, তুমি সাইডে দাঁড়াও—এই রাউন্ডটা তানভীর করবে,” ঘোষক স্যার মাইকের তার এক হাতে চেপে ধরে বললেন, আর আরেক হাতে ডেমো টেবিলের সামনে রাখা নামফলকটা তুলে তানভীরের দিকে বাড়িয়ে দিলেন।...Fast Fiction87যে লাইনে আমাকে ঠেকাল, সেই লাইনই সরে দাঁড়াল“দাঁড়ান,” গেটের সামনে লাল দড়িটা টেনে ধরে নাঈম বলল, “ভিতরের সারি আগে ঢুকবে।” তারপর আরিবার কাঁধের পাশ ঘেঁষে সোনালি কাজের শাড়ি পরা মাহিরাকে হাত দেখিয়ে ভেতরে পাঠিয়ে দিল। আরিবা এক পা এগ...Fast Fiction88যে হাত সরিয়েছিল, সেই হাতই ডাকল“বে তিন খুলে দেন! বরফ গলছে!” কুদ্দুস গেটের দিক থেকে চিৎকার করতেই লোডিং বেয়ের সামনের ট্রাকের লাইন আরেক হাত এগোল, তারপর থেমে গেল। লক ঝুলছে, মোটা দাঁতের মাস্টার চাবি রাশেদের মুঠোয়,...Fast Fiction89রিলিজের আসনটা আবার আমারট্রলিটা বে-দরজার সামনে কেঁচোর মতো বেঁকে দাঁড়িয়ে ছিল, আর ড্রাইভাররা একসাথে চেঁচাচ্ছিল, “রিলিজ কই? গরম নামতেছে!” মাহিরা হাতে স্টিলের ট্রে চেপে পাস-বোর্ডের দিকে যেতেই রাশেদ কনুই ঠেক...Fast Fiction90রেকর্ডেই তাদের মিথ্যে মরলট্রে নামাতে না নামাতেই রোকেয়া ভাবি দরজায় হাত তুলে বলল, “এইখানে না, রান্নাঘরের পাশে রাখো। আর শোনো, অতিথিদের সামনে ‘নীরা আপা’ বলবে না কেউ। ও আমাদের বাসার মেয়ে না, কাজের লোকের মতোই...Fast Fiction91রেখা পুড়ল, তবু ভাঙল না“ওই দিক দিয়ে না,” দরজার ফ্রেমে হাত রেখে সাফওয়ান মেহরাবকে থামাল, যেন ঘরের ভেতর নয়, তার শ্বাসও ঢোকা নিষেধ। “বাইরের বারান্দা দিয়ে যাও। মামারা বসে আছে।”Fast Fiction92লাইনটা আমার জন্যই ভাঙল“এইদিকে না, ওদিকে দাঁড়ান—মেহমানদের প্রথম লাইন আলাদা,” গেটের স্বেচ্ছাসেবক লাল ফিতার পাশে হাত বাড়িয়ে মেহরিনকে সরে দিল, আর ঠিক সেই ফাঁক দিয়েই নাবিলা ভাবি নীল শাড়ির কুঁচি তুলে ভেতরের প...Fast Fiction93লাইনটা শেষমেশ আমার জন্য ভাঙল“ওকে পেছনে রাখেন,” রিমি ভাবি হাত তুলে বেঞ্চের দিক দেখাল, যেন ভেন্যুর লোকজনও তার বাপের চাকর। “আগে কনের মামারা, তারপর আমাদের দিক। মেহরীন দাঁড়াক।”Fast Fiction94লাইভ টেস্টেই ভুয়া তারকা ফাটল“কেসটা নামাও। এই মেশিনে হাত দেবে না তুমি।”Fast Fiction95শেষ ধাপের আগেই থামল“ওপরে এখন দাঁড়িয়ে থাকো,” নাঈমা আপা হাতের খামটা মেহজাবিনের বুকের দিকে ঠেলে দিয়ে বললেন, তারপর একই দরজার ভেতর দিয়ে হালকা শাড়ি-পরা এক মেয়েকে ডেকে নিলেন, “তুমি আসো মা, ভিতরে বসো।”...Fast Fiction96শেষ ধাপের আগেই সে থামাল“দরজার ভেতরে আসবে না, এখানেই দাঁড়াও,” সাবিহা খালা থালার ঢাকনা তুলে আবার চাপা দিলেন, যেন ঘরের গন্ধও মেহরীনের ভাগে পড়া অন্যায়। “খাতাটা দাও। হাত মুছে ধরো আগে। নানুর সামনে তেল-হলুদে...Fast Fiction97শেষ মুহূর্তে নামটা উঠল সবার আগে“ওই লেন না, পাশেরটা। কর্মীদের ঢোকার পথ ওদিকে।”Fast Fiction98শেষে আমার হাতই লাগলরাশেদ ভাই ফাইলের মোটা গুচ্ছটা মাহিরার হাত থেকে কেড়ে নিয়ে কাউন্টারের ভেতরের ঘূর্ণি-চেয়ারটায় নিজের শরীর নামিয়ে বলল, “তুমি বাইরে দাঁড়াও। নাম ডাকব, তখন কাগজ ধরাবে।” তার কনুইয়ের...Fast Fiction99শেষে আমার হাতই লাগল #2ট্রলি ধাক্কা খেয়ে র্যাকের কোণায় আড়াআড়ি আটকে গেল, সারি ভরে রাখা কৃষি সারের বস্তা আর বীজের কার্টন একসঙ্গে কেঁপে উঠল, আর মেহরীন হাত বাড়াতেই রাশেদ চাবির রিংটা মুঠোয় তুলে বলল, “আপ...Fast Fiction100শেষে একই ভার তুলেছিরিদা দুই হাতে স্যালাইনের স্ট্যান্ড ঠেলে দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে তুলতেই পেছন থেকে তানভীর খালার কড়া গলা এসে লাগল, “এইটা তুমি ধরবা না, নার্স আসতেছে— অত বাড়াবাড়ি কইরো না।” অথচ নার্স...Fast Fiction101শেষে ওরাই ঢোকার ভিক্ষা চাইল“ওকে না, পাশের লেনে দাঁড় করান। এই পাসে ভেতরের পিকআপ হবে না।”Fast Fiction102শেষে কাজটা আমার হাতেই এলোচতুর্থ ট্রাকটা বে-দরজার সামনে কাত হয়ে দাঁড়াতেই মাহিন হাত তুলে চিৎকার করল, “ওইটা তিন নম্বর লাইনে, এখনই!” কিন্তু মার্কারটা ছিল রাশেদ সুপারভাইজারের হাতে; সে কাগজে গোল দাগ টেনে উল্টো এ...Fast Fiction103শেষে কাজটা আমার হাতেই ফেরালপ্লাস্টিকের টোকেনের ঝুনঝুন শব্দ তুলে রাশেদ স্যার মেহরীনের সামনে থেকে লাল ফাইলটা সরিয়ে বলল, “ওই কনসোলের দিকে যাবেন না। কাউন্টারে দাঁড়ান, নাম লিখেন। লাইভ ছাড় আমি দেব।”Fast Fiction104শেষে গেট পাস চাইল তারাই“ওটা এখন ছাড়বেন না,” কাচের কাউন্টারের ওপাশ থেকে সাবিহা ভাবি হাত তুলে থামিয়ে দিল, আর মেহরিনের বাড়ানো রসিদটা আঙুলের ডগায় ঠেলে পাশে সরিয়ে দিল। “আগে উনাদের চারটা সিট দিন। নরসিংদীর...Fast Fiction105শেষে ব্যতিক্রম হল সেই মেয়েটাইদড়ির খুঁটির মাথায় বাঁধা লাল ফিতা টেনে রুখসানা খালা মেহরিনের বুকের সামনে আড়াআড়ি নামিয়ে দিলেন। “এই পর্যন্ত। উপরের ল্যান্ডিংয়ে কনের ঘরের লোক, ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, আর যাদের নাম আছে—শু...Fast Fiction106শেষে শুধু আমার চাবিই চললপানির জগটা মেহরীন দুই হাতে ধরে এগিয়ে দিতেই সাবিহা খালা তীক্ষ্ণ গলায় বললেন, “থাক, এত আগ বাড়িয়ে ধরতে হবে না। অতিথিদের সামনে কে কী করছে, সেটা বুঝে করতে হয়।”Fast Fiction107সবাই ভেবেছিল আমি বাদরুবাইয়া খালা মেহরিনের হাত থেকে গাড়ির চাবিটা কেড়ে নিয়ে এমনভাবে উঁচু করলেন, যেন ওটা কোনো ভুল লোকের হাতে ধরা পড়া জিনিস। “এটা তোমার কাছে কেন?” তাঁর গলার ধার পার্কিং লেনের সিমেন্টে...Fast Fiction108সবাই ভেবেছিল নওশীন হারবেশারমিন ভাবি নওশীনের হাত থেকে পিতলের চাবির রিংটা টেনে নিয়ে পাশের কাজের ছেলেটার হাতে ছুড়ে দিলেন। “তুমি দরজায় দাঁড়াবে না। ভেতরে যাও, মেয়েদের পাশে বসো। অতিথি সামলানো সবার কাজ না।”Fast Fiction109সবার আগে ওঠার অধিকারটা আমারদরোয়ান কবির হাত বাড়িয়ে সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে মেহরিনের পথ আটকে দিল। “একটু থামেন আপা। উপরের তালিকায় নাম মিলাইতে হইব।” তার পেছন দিয়ে শাড়ির ঘের তুলে তিনজন খালা, এক জোড়া অফিসের অত...Fast Fiction110সবার সামনে একমাত্র ও-ইট্রে-টা তার হাত থেকে কেড়ে নিয়ে সাবিহা খালা সবার সামনে বললেন, “ওটা পেছনে নে, রিমি। সামনের ফটকে দাঁড়ানোর লোক তুই না।”Fast Fiction111সবার সামনে ওর পাশেই দাঁড়াল“ওই ট্রেটা নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকবেন না, পথ আটকে যাচ্ছে”—সাবিহা খালার গলায় এমন কাটা ধার ছিল যে সাদা কাপগুলো ট্রের গায়ে ঠোকাঠুকি করে উঠল। মেহরিন তখনও গাড়ি থেকে নামা মানুষগুলোর...Fast Fiction112সবার সামনে গাড়ির ডাক দিল সেসাব্বির ভাই মেহরীনের হাত থেকে সাদা নাম-কার্ডটা টেনে নিয়ে বলল, “এটা তোমার হাতে কেন? গাড়ির ডাক আমি দেব। তুমি গিফট ব্যাগগুলো ধরো।”Fast Fiction113সাজানো দৃশ্যটাই উল্টো গেলমতিন হাত তুলে মেহরিনকে থামাল। ব্যাক গেটের সরু সার্ভিস লেনে ডেকোরেশনের ট্রাকের গা ঘেঁষে সে দাঁড়িয়ে, হাতে ফাইল, কাঁধে রাতভর দৌড়ঝাঁপের শক্ত হয়ে থাকা ক্লান্তি; তবু তাকে ঢুকতে দেওয়...Fast Fiction114সাজানো দৃশ্যটাই তার ঘাড়ে ফিরলবেই-দরজার লোহার কপাটটা ধাক্কা মেরে খুলে দিয়ে রাশেদ ভাই বলল, “কার্ট ঠেলো, মৌরি। আজ একটা ভুল হলেই কাগজে উঠবে—তারপর আমার কিছু করার থাকবে না।” তার হাতে ছিল রিলিজ লেজার, আর মৌরির হাতে...Fast Fiction115সামনের সারি সে-ই নিলরাশেদ চাচা সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে দাঁড়িয়ে রেজিস্টারের উপর তালু চাপা দিলেন, তারপর মেহরিনের গলায় ঝুলে থাকা পুরোনো, ঘষে-চকচকে কার্ডের দিকে আঙুল তুলে বললেন, “এই পাস নিচতলার কাজের জন্য...Fast Fiction116সামনের সারি সে-ই নিল #2“রাইসা, সামনে না। ওই ব্যাজটা খুলে পেছনে দাঁড়াও—তুমি শুধু খাম ধরাবে।”Fast Fiction117সিঁড়ির ফাঁদ উল্টো ওর গলাতেই“না, এই সিঁড়ি দিয়ে না—ওই পাশের টেপ মারা রাস্তায় যান,” রোকসানা ভাবি হাত তুলে মেহরিনের বুকের সামনে বাতাস কেটে দিল, যেন মানুষ না, মালপত্র ঘোরানো হচ্ছে। ল্যান্ডিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দুজন অ...Fast Fiction118স্পটলাইট হঠাৎ ওর দিকেই ঘুরলদরজার মুখেই স্বেচ্ছাসেবক ছেলেটা মেহরিনের গলা থেকে ঝোলানো অংশগ্রহণকারীর কার্ড খুলে নিয়ে বলল, “এটা আরমান ভাইয়ের লাইনে যাবে, আপা। আপনি টেবিলের পাশে থাকেন, জিনিসপত্র ধরিয়ে দেবেন।” কথা...Fast Fiction119হাসিটা আগে ছিল, লজ্জা পরে“ওদিকে না, পেছনের বারান্দা দিয়ে ঢোকো—জুতোও খুলে রাখো,” নাসরিন খালা হাত তুলে মেহজাবিনের পথ কেটে দিলেন, এমন ভঙ্গিতে যেন সে কোনো অতিথি না, রান্নাঘরের লোক। সামনে উঠোনে গাঁদা আর রজনীগন্...Fast Fiction120হেসেছিল আগে, ডাকা হলো ওকেইফাইলের বান্ডিলটা মেহরিনের হাঁটুর ওপর আছড়ে ফেলে রুবাইয়ার ভাবি বলল, “এইগুলো সিরিয়াল ধরে বসাও, কিন্তু বেঞ্চের সামনে দাঁড়াইবা না—রোগীর লোকজন ভাববে তুমি এখানের স্টাফ।”Fast Fiction121হেসেছিল আগে, থামল পরে“সাবিহা, ওই টেবিল ছেড়ে ট্রেটা ধরো—এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে ছবি খারাপ দেখায়,” মাহিরা ভাবি হাত বাড়িয়ে তার আঙুলের ফাঁক থেকে ট্যাবটা টেনে নিল, তারপর পাশের ছেলেটাকে বলল, “অপারেটর জায়গ...Fast Fiction