শেষে শুধু আমার চাবিই চলল
পানির জগটা মেহরীন দুই হাতে ধরে এগিয়ে দিতেই সাবিহা খালা তীক্ষ্ণ গলায় বললেন, “থাক, এত আগ বাড়িয়ে ধরতে হবে না। অতিথিদের সামনে কে কী করছে, সেটা বুঝে করতে হয়।”
বসার ঘরে প্লাস্টিকের চেয়ারের কোণে গাদাগাদি করে বসা লোকজনের ভিড়ে কথাটা এমনভাবে ছুড়ে দেওয়া হলো, যেন মেহরীন জগ নয়, কারও মানসম্মান কেড়ে নিতে গিয়েছিল। ঢাকা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ভাড়া ফ্ল্যাটে আজ সাবিহা খালার ভাইপোর বাগদানের আড্ডা; মেহরীন এখানে আত্মীয় না, আবার পুরো বাইরের মানুষও না—তার খালাতো বোন এই বাসায় সাবলেট থাকে বলে পরিচয়ের ঝুলে থাকা এক নামমাত্র জায়গা। কাজের বেলায় ডাকা যায়, বসার বেলায় চেয়ার মেলে না। সকাল থেকে রান্নাঘরে পেঁয়াজ কেটেছে, বরফ এনেছে, বাচ্চাদের খাইয়েছে; তবু কারও সামনে সে শুধু “ও মেয়েটা”।
তখনই পাঁচ বছরের রিদি দৌড়ে এসে টেবিলের কোণায় মাথা ঠুকে কেঁদে উঠল। কাঁচের গ্লাস উল্টে শরবত ছড়িয়ে গেল কার্পেটে, শিশুটার কপাল মুহূর্তে ফুলে উঠছে। কথার রেশ ধরে সবাই একসাথে আওয়াজ তুলল, কেউ বকছে, কেউ বাচ্চাকে টানছে, কেউ কার্পেট নিয়ে হা-পিত্যেশ করছে। মেহরীন একটাও কথা না বলে জগটা নামিয়ে রিদিকে কোলে টেনে নিল, ফ্রিজের ওপরে রাখা বরফের বাটি থেকে মুঠো বরফ কাপড়ে বেঁধে কপালে চেপে ধরল, আর অন্য হাতে শরবতের ওপর শুকনো মুছনি ফেলে দিল যাতে কেউ পা পিছলে না পড়ে।
রিদির কান্না কেঁপে কেঁপে নামতে থাকতেই রাশেদ দরজার কাছে থেমে তাকাল। সে এই বাড়ির কারও মতো ভিড়ের মাঝখানে গলা চড়াল না; শুধু একবার বলল, “চাচি, কার্পেটটা টেনে নিন, ভেজা আছে।” তারপর খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে পাশের খালি প্লাস্টিকের চেয়ারটা টেনে মেহরীনের পিঠের দিকে সরিয়ে দিল। “বসান ওকে।”
ওটাই ছিল প্রথম ছোট্ট ফাঁক—কারও না দেওয়া জায়গায় একটা চেয়ার। কিন্তু সাবিহা খালা চোখ সরু করে সেটাও দেখে ফেললেন। “রাশেদ, ওখানে নীহার মাকে বসাও। সবাই তো আর সমান না।”
মেহরীন চেয়ারটা নিজের দিকে টেনে নিল না। রিদিকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়েই বরফ চেপে রইল। রাশেদ আর কিছু বলল না, তবে চেয়ারটা ফেরতও দিল না; সেটাই দেয়ালের সঙ্গে ঠেকিয়ে রইল, যেন পরে দরকার হলে আবার ব্যবহার হবে। এই সামান্য জেদও ঘরের ভেতর কেমন অমিল রঙের মতো থেকে গেল।
সন্ধ্যা গাঢ় হতেই মেহরীনের ফোনের আলো হাতের তালুতে নিচু হয়ে জ্বলে উঠল। হোস্টেল সুপার আপার তিনটা মিসড কল। সে বারান্দায় গিয়ে ফিরতি ফোন করতেই ওপাশের গলা কড়া, ক্লান্ত, অনড়—“নয়টার মধ্যে না ফিরলে গেট বন্ধ। আজ আর ঢোকাতে পারব না। আগেই বলা ছিল।” মেহরীন ঘড়ি দেখল। আটটা বেজে পঁচিশ। মোহাম্মদপুরের এই দিক থেকে ক্যাম্পাসের মেয়েদের হোস্টেলে যেতে এখন যানজট পেরোতে হলে অলৌকিক কিছু লাগবে।
সে ভেতরে এসে নরম গলায় বলল, “খালা, আমি এখন বের হই। একটা রিকশা পেলে—”
সাবিহা খালা তার কথা শেষ হতে দিলেন না। “এত রাতে একা বের হবে? আবার হোস্টেলে ঢুকতে না পারলে ফিরে আসবে? না, না, আমাদের ফ্ল্যাটে সে ঝামেলা নেওয়া যাবে না। আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা আছে। কাল যদি কারও কানে যায়, বাগদানের রাতে এক অচেনা মেয়ে এখানে ছিল—কে বোঝাবে?”
“অচেনা” শব্দটা মেহরীনের গায়ে ভেজা কাপড়ের মতো ঠান্ডা হয়ে লেগে রইল। সকাল থেকে রান্নাঘরের আগুনে দাঁড়ানো হাতদুটো তখনও পেঁয়াজের গন্ধ ছাড়ছে। সে বলল, “আমি ড্রয়িংরুমের মেঝেতেও—”
“না মানে না।” সাবিহা খালা উঠে নিজেই বারান্দার গ্রিলের চাবি ঘুরিয়ে দিলেন। “তুমি এখনই বের হও। আর যদি হোস্টেলে না ঢোকায়, তোমার নিজের ব্যবস্থা করবে। মেয়েদের ব্যাপারে নাম লাগতে সময় লাগে না।”
চাবির শব্দটা এত শুকনো ছিল যে, পাশে দাঁড়ানো দু-একজন মুখ ফিরিয়ে নিল। রাশেদ তখন ফোন কানে নিয়ে কারও সঙ্গে নিচু গলায় কথা বলছিল; কথার মাঝখানে থেমে সে শুধু তাকাল। মেহরীন বুঝল, এ বাড়ির দরজা তার জন্য না। অপমানেরও একটা স্পষ্ট রূপ আছে—কেউ হাতে ধরে বাইরে নামিয়ে না দিলেও, থাকার বিছানা কেড়ে নেওয়াই যথেষ্ট।
নিচে নামার সময় তার কাঁধে দিনের শেষের কাঠিন্য জমে ছিল; সালোয়ারের হাঁটুর কাছে ভাঁজ শক্ত, স্যান্ডেলের ফিতে ধুলোয় মলিন। গলির মুখে এসে সে দুটো রিকশা থামাল, কোনোটাই ক্যাম্পাসের দিকে যাবে না। একটা সিএনজি অতিরিক্ত ভাড়া চাইল। মেহরীন ফোন বের করে আবার সুপার আপাকে কল দিল, ধরল না। তখনই ওপরতলা থেকে একটা ছেলেমানুষের চিৎকার, তারপর ধপাস শব্দ।
লোকজন দৌড়ে সিঁড়ির দিকে ছুটল। মেহরীনও ঘুরে দাঁড়াল। দেখে রিদি নয়, নীহার মা—যিনি সাত মাসের গর্ভবতী—সিঁড়ির মোড়ে বসে পড়েছেন; শাড়ির আঁচল একদিকে সরে গেছে, মুখ সাদা, ঠোঁট কাঁপছে। সবাই একসাথে প্রশ্ন করছে, কেউ ঠিকমতো ধরছে না। মেহরীন ভিড় চিরে উঠে গেল। “পিছাইেন না, শ্বাস নিতে দিন।”
সে দ্রুত আঁচল টেনে পেটটা ঢেকে দিল, মহিলার কাঁধের নিচে হাত দিয়ে শরীর সোজা করল, এক হাত নীচে রেখে ধাপে ধাপে বসা থেকে নামিয়ে আনল। “রাশেদ ভাই, নিচে গাড়ি আছে? এখনই লাগবে। আর কেউ পানি আনেন না, আগে মুখে বাতাস দেন।” মহিলার স্যান্ডেল খুলে দিয়ে পা একটু উঁচু করতেই তিনি কুঁকড়ে উঠে ফিসফিস করলেন, “পেট টান মারতেছে...”
রাশেদ এবার আর দাঁড়িয়ে থাকল না। সে এক লাফে নিচে নেমে গলির মুখ থেকে সিএনজি টেনে আনল। সাবিহা খালা এতক্ষণে নেমে এসে উচ্চস্বরে বলতে লাগলেন, “আস্তে ধরো, কেউ ভিডিও কইরো না, জামাইপক্ষের লোকজন আছে।” কথার মাঝেই মেহরীন নীহার মাকে বুকের দিকে ধরে সিএনজির ভেতর তুলল, নিজের ওড়না গুটিয়ে তার পিঠে ঠেস দিল, মাথা কাঁচে না লাগে হাত রেখে বসল। সিএনজি ছাড়ার সময় রাশেদ কেবল বলল, “আপনি নামবেন না। হাসপাতালে নিয়ে ঢুকাই, তারপর দেখেন।”
ঢাকার রাতের যানজটও জরুরি কাঁপুনির সামনে একটু সরে যায়। ক্লিনিকের সামনে পৌঁছে ভর্তি কাগজ, নার্স ডাকা, হুইলচেয়ার—সবকিছুর মাঝখানে কে আত্মীয়, কে না, তার হিসাব গুলিয়ে গেল; কারণ কাজ জানত একমাত্র মেহরীন। সে নার্সকে বলল, “সিঁড়িতে স্লিপ করেছে, ব্যথা আছে, কিন্তু জ্ঞান আছে।” হাত কাঁপছিল, তবু গলার স্বর না। নীহার মা ওটিতে যাননি, পর্যবেক্ষণে নেওয়া হলো। ভেতর থেকে খবর এলো, আপাতত ঝুঁকি কেটে গেছে।
সাবিহা খালার স্বর তখন নরম, কিন্তু তাতে কৃতজ্ঞতার চেয়ে হিসাব বেশি। “মেহরীন, তুমি তো আছোই, রাতটা ক্লিনিকে থেকে দেখো না? আমরা বাড়িতে গিয়ে লোকজন সামলাই। ভোরে কেউ এসে তোমাকে নামিয়ে দেবে।” যেন কয়েক মিনিট আগের বন্ধ দরজা ছিলই না; শুধু দরকারের জায়গা পাল্টেছে।
মেহরীন চুপ করে তাকিয়ে রইল। ক্লিনিকের করিডরে ধুলো-ধরা প্লাস্টিক চেয়ারের এক কোণে বসে থাকতে থাকতে সে বুঝল, এই ‘থেকে যাও’ও আশ্রয় না; এটা পাহারাদারের ডিউটি। রাশেদ তখন ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিয়ে ফিরে এসেছে। সাবিহা খালা তাকে বললেন, “তুমি বাড়ি চলো। এত রাতে আর এখানে থাকার দরকার নাই। কাল সকালে ছেলেপক্ষও আসতে পারে।”
রাশেদ ওষুধের প্যাকেটটা হাতে ঘুরিয়ে এক সেকেন্ডের জন্য খালার মুখের দিকে তাকাল। “আমি যাচ্ছি না,” সে বলল। স্বর খুব নিচু, কিন্তু কেটে গেল। “নীহার আপার স্বামী পথে। উনি আসা পর্যন্ত আমি থাকব।”
“তাহলে মেয়েটা থাকুক, তুমি যাও। ছেলের জন্য রাতভর ক্লিনিকে বসে থাকা ভালো দেখায়?”
এবার রাশেদ পকেট থেকে ফ্ল্যাটের চাবি বের করে খালার হাতে দিল না; উল্টো খালার বাড়ির অতিরিক্ত চাবিটা, যেটা বিকেলে বাজার থেকে ফেরার সময় তার কাছে ছিল, সেটাই টেবিলে রেখে দিল। “ওই বাড়ির দরজা আপনি বন্ধ রাখেন, সমস্যা নাই। কিন্তু মেহরীন আর আপনার ফ্ল্যাটে যাবে না।”
সাবিহা খালা থমকে গেলেন। “মানে?”
“মানে, আমি আমার বাসায় নিয়ে যাব। আজ রাতের জন্য না—যতদিন হোস্টেলের ঝামেলা মেটে।” সে চারপাশে তাকাল না, কাউকে বোঝাল না। শুধু একটুখানি বিরতি নিয়ে যোগ করল, “চাচি, এখন এ নিয়ে আর কথা বাড়াবেন না।”
কথাটা বড় ছিল না, কিন্তু খরচা ছিল। এই শহরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ছেলেদের ভাড়া বাসায় রাতে কোনো মেয়ে উঠবে—এটা মুখে মুখে আগুন ধরানোর মতো ব্যাপার। সাবিহা খালার মুখ শক্ত হয়ে গেল। “তুমি কি জানো মানুষ কী বলবে?”
রাশেদ শান্ত স্বরে বলল, “মানুষ তো একটু আগেই অনেক কিছু বলেছে।” তারপর ফার্মেসির রসিদ, ওষুধ, পানির বোতল সব মেহরীনের হাত থেকে নিয়ে বেঞ্চে রাখল, যেন সামান্য জিনিস সরিয়েই পথ বদলে ফেলা যায়। “হোস্টেল সুপারকে আমি কাল সকালে যাব। আজ উনি আর রাস্তায় থাকবেন না।”
নীহার মায়ের স্বামী এসে গেলে মেহরীন আর ধরে রাখতে পারল না। এতক্ষণ পর্যন্ত নিজেকে শক্ত করে রেখেছিল; এখন ক্লিনিকের টিউবলাইটের নিচে দাঁড়িয়ে তার হঠাৎ মনে হলো সারা দিন ধরে সে শুধু দরজা থেকে দরজায় ঠেলে ফেলা হয়েছে। হোস্টেল বন্ধ, ফ্ল্যাট বন্ধ, আত্মীয়ের নাম বন্ধ। সে বলল, “না, লাগবে না। আমি কোনোভাবে—”
“কোনোভাবে মানে?” রাশেদ প্রথমবার একটু কড়া হলো। “রাত সাড়ে এগারোটা। ঢাকার রাস্তায় আপনি আর কোনোভাবে থাকবেন না।”
এই ‘আপনি’তে জোর ছিল না, আশ্রয় ছিল। মেহরীন মুখ ঘুরিয়ে ফেলল। চোখের কোণে জমে থাকা পানিটা যেন নিজের কাছেও লজ্জার। “আপনার বাসায় গেলে—”
“আপনি গেলে দরজা বন্ধ হবে না,” রাশেদ বলল। “এইটুকু জানেন।”
তারপর আর তর্ক রইল না, রইল কেবল পথ। ক্লিনিক থেকে বেরোতে বেরোতে মেহরীনের হাঁটু কাঁপছিল। রাশেদের ভাড়া বাসা ক্যাম্পাসের পেছনের গলিতে, তিনতলার ছোট ফ্ল্যাট; নিচে ফটকের পাশে ঝুলছে মরচে ধরা নামফলক, সিঁড়িতে হলুদ আলো, ভেজা সিমেন্টের গন্ধ। সে ওপরে উঠতে উঠতে দুবার রেলিং ধরল। রাশেদ আগে উঠে দরজা খুলে দাঁড়াল, ভেতরের অন্ধকারে একসাথে ড্রয়িংরুম আর ছোট রান্নাঘর দেখা যায়। কোনো সাজানো স্বস্তি নেই, কিন্তু ভেতরটা খালি নয়—বইয়ের স্তূপ, ভাঁজ করা গদি, টেবিলে কৃষি অর্থনীতির নোট, সিঙ্কে ধোয়া দুটো মগ উল্টো করে রাখা।
মেহরীন দরজার কাছে থেমে গেল। শরীরের সব জোর যেন ওই চৌকাঠেই এসে থেমেছে। “আমি একটু বসে আবার—”
রাশেদ কথা না বাড়িয়ে দেয়ালের হুক থেকে একটা চাবির রিং নামাল। তাতে দরজার অতিরিক্ত চাবি। সে চাবিটা মেহরীনের হাতে রাখল, আঙুল বন্ধ করে দিল। “এটা রাখেন। আমি পাশের ঘরে থাকি, দরজা ভেতর থেকে লাগাবেন। কাল, পরশু—যতদিন দরকার। চাবিটা ফেরত দেওয়ার তাড়া নাই।”
মেহরীন তাকিয়ে রইল। চাবির ধাতু এখনও উষ্ণ, হয়তো তার হাতের ঘামে, হয়তো সারা দিন পকেটে থাকার কারণে। এই প্রথম কেউ তাকে রাত কাটানোর দয়া না, ফিরে আসার অধিকার দিল। সে ধীরে ধীরে ভেতরে পা রাখল। এক পা, তারপর আরেক পা। দরজার বাইরে সিঁড়ির হলুদ আলো রইল, ভেতরে সাদা বাতি জ্বলে উঠল।
“বাথরুম ওইদিকে,” রাশেদ বলল, খুব সাধারণ ভঙ্গিতে, যেন এটাই স্বাভাবিক। “তোয়ালে টাঙানো আছে। মুখ ধুয়ে নেন।”
মেহরীন কিছু বলল না। শুধু চাবিটা মুঠোয় নিয়ে সোজা বাথরুমের দিকে গেল। দরজা আধখোলা ছিল; সে ভেতরে ঢুকে কল খুলল, ঠান্ডা পানি মুখে পড়তেই সারাদিনের শক্ত মুখটা অবশেষে নরম হয়ে এল। সে মুখ তুলে আয়নায় নিজের দিকে একবার তাকাল—চোখ লাল, ওড়না কাঁধ থেকে সরে গেছে, গালে লেগে আছে শুকনো ধুলো আর লবণ। তারপর ধীরে ধীরে দরজাটা ভেতর থেকে টেনে দিল।
বাইরের ঘর থেকে আর কোনো কথা এলো না। আলো জ্বলা বাথরুমে ধোয়া মুখের ফোঁটা সরে নেমে যাচ্ছে। বেসিনের পাশে চাবির রিংটা নেই; সেটা তার মুঠোয়। কল বন্ধ হয়ে গেছে, তবু সাদা পোরসেলিনের ধারে জমে থাকা পানি এখনও গরমের সামান্য উষ্ণতা ধরে রেখেছে।