ঘরটা যেন তারই জন্য ছিল
নীরা দুহাতে আরমানের মাথা চেপে ধরে টিস্যুতে রক্ত থামাতে থামাতে বলল, “চোখ বন্ধ রাখো,” আর ঠিক তখনই সাবিহার খালা ভেজা বারান্দা পেরিয়ে এসে এমন গলায় উঠলেন যেন নীরাই এই দুর্ঘটনার কারণ। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ শেষ করে সবাই যখন সেলফি আর গেটের সামনে হৈচৈয়ে, আরমান পা পিছলে সিঁড়ির ধার ঘেঁষে কপাল ফাটিয়েছে; নীরা নিজের ওড়না খুলে তার মাথা বেঁধেছে, ব্যাগ থেকে স্যালাইন জল বের করে রক্ত মুছছে, আর তার নিজের মাথার ভেতর কেবল একটাই হিসাব—আজ রাতেও যদি মেসে দেরি হয়, মিতু আপা আবার চাবি তুলে নেবে।
“তোমার এত দরদ কেন?” সাবিহার খালা নেমে এসে নীরার হাতের দিকে তাকালেন, যেন ওড়নাটা কাপড় নয়, শালীনতার সীমা। “ছেলেটা আত্মীয়স্বজনের জানাশোনার ঘরের ছেলে। সবাই দেখে কী বলবে?”
নীরা মুখ তুলল না। আরমানের পাতা কাঁপছিল, ছেলেটা আধা-চেতনায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল। পাশে দাঁড়ানো দুজন ছাত্রী পিছিয়ে গেছে, একজন শুধু বলল, “রক্ত লাগছে।” নীরা নিজের স্যান্ডেলের গোড়ালি গুটিয়ে বসে আরমানের মাথা হাঁটুর কাছে নামিয়ে দিল, যাতে ঝাঁকুনি না লাগে। তারপর ব্যাগটা এক কাঁধে তুলে, অন্য হাতে তাকে ধরে বলল, “রিকশা লাগবে। এখনই।”
খালার মুখ শক্ত হয়ে ছিল, তবু ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা লম্বা ছেলেটা—আরমান—চোখ আধখোলা করে ফিসফিস করল, “নীরা... পানি...” নীরা বোতল ঠোঁটে ধরতেই খালার দৃষ্টি একটু সরে গেল। তিনি নিজে ধরলেন না, কিন্তু গেটের ভেতরের দারোয়ানকে ডেকে বললেন, “রিকশা আনো।” সেইটুকুই প্রথম ছাড়—শাসনের ভেতর থেকেও ফিরতি পথ পুরো বন্ধ করলেন না।
ঢাকার সন্ধ্যা তখন গরমে চিটচিটে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্লিনিক পর্যন্ত রিকশায় আরমানের মাথা নীরার কাঁধে ধপধপ করছিল। ক্লিনিকের প্লাস্টিক চেয়ারের কোণায় বসে নীরা হাত ধুচ্ছিল, আঙুলের ফাঁকে জমে থাকা লাল পানি নীচে পড়ছিল, আর ফোনের ক্ষীণ আলো তালুতে লুকিয়ে দেখে নিল মিতু আপার তিনটে বার্তা—কোথায়, কখন ফিরবি, আর শেষটায় শুধু, “চাবি আমার কাছে।” উত্তর দেওয়ার সময় ছিল না; সে ক্লিনিকের কাউন্টারে ফর্ম পূরণ করল, আরমানের ছাত্রপরিচয়পত্র না পেয়ে নিজেরটাতেই আগাম টাকা জমা দিল।
সেলাই শেষ হওয়ার পর সাবিহার খালা এসে প্রথমে বিলের কাগজ নিলেন, তারপর নীরার হাতে ধরা চাবিটার দিকে তাকালেন। সেটা আসলে খালার বাসার নিচতলার সাইড-গেটের চাবি; আরমানকে বিকেলে পৌঁছে দিতে গিয়ে খালাই দিয়েছিলেন, “ফিরে দরজা টেনে দিও।” এখন তাঁর আঙুল বাড়ল, ঠাণ্ডা, নির্দ্বিধায়। “দাও। দরকার শেষ।”
নীরা চাবিটা দিল। খালা সেটা নিজের ব্যাগে ফেলতে ফেলতে বললেন, “আমাদের বাসায় বারবার ওঠানামা করার অভ্যাস কোরো না। শহরে পড়ছ বলে সীমা ভুলো না। রাত হলে মেয়েদের ফেরার জায়গা আগে ঠিক রাখতে হয়।”
বলার ধরনটা যেন শিক্ষা নয়, দরজা বন্ধের আওয়াজ। নীরা কিছু বলল না। সারা বিকেল অন্যের রক্ত মুছে যে হাত ব্যথা হয়ে গেছে, সেই হাতই এখন ফাঁকা। ক্লিনিকের প্লাস্টিক চেয়ারের এক কোণায় সে বসে রইল, কারণ বাইরে হঠাৎ বৃষ্টি নেমেছে আর কোথাও যাওয়ার আগে মেসে ফোনে মিনতি করতে হবে। আরমান ভেতরে শুয়ে; সেলাইয়ের ঝিমে মুখ সাদা। সে একবার চোখ মেলে নীরার দিকে তাকাল, খালার সামনে কিছু বলল না, শুধু আঙুল তুলে পাশের টেবিলে রাখা নীরার ভেজা ওড়নাটা দেখাল। নার্স সেটা ধুয়ে কুঁচকে দিয়ে গেছে। নীরা তুলে নিতেই সে ধীর গলায় বলল, “ফিরে যেও না একা।”
খালা সঙ্গে সঙ্গে শুনে ফেললেন। “তোমার পড়াশোনা করো, আরমান। কে কোথায় যাবে, আমি দেখছি।”
এরপর দুই দিন নীরা ক্লাস, লাইব্রেরি আর ক্যান্টিনের ফাঁকে ফাঁকে আরমানের ওষুধ পৌঁছে দিলেও খালার বাসার ভেতরে ঢুকতে পারেনি। সাইড-গেট বন্ধ, কলিং বেল চাপলে কাজের মেয়ে এসে ওষুধ নিয়ে যায়। একদিন তো নীচের সিঁড়ির বাঁকে সে দাঁড়িয়ে ছিল, হাতে টিফিন কৌটো; ওপরে ড্রয়িংরুমে অতিথি, গ্লাসের শব্দ, হাসি। কাজের মেয়ে নেমে এসে কৌটো নিতে নিতে বলল, “খালা বলেছেন, আপনি এখানে দাঁড়াবেন না।” নীরা তখন সিঁড়ির ধারে প্লাস্টিকের চেয়ারের এক চিলতে কোণায় ব্যাগ রেখে পা সরিয়ে দাঁড়িয়ে রইল—যেন বসার অধিকারও ধার করা।
ওই সন্ধ্যাতেই সে জানতে পারল, মেসের বকেয়া দুই সপ্তাহের ভাড়া না দিলে রাত এগারোটার পর গেট খুলবে না। টিউশনি করে যা পায়, তার অর্ধেক বাড়িতে পাঠায়; বাকি দিয়ে ভাড়া, ফটোকপি, ল্যাব। কৃষি অনুষদের মাঠপর্যায়ের কাজের জন্য এই সপ্তাহে তিন দিন বাইরে যেতে হয়েছে, একটার পর একটা বাস, ধুলো, রোদ। শরীরে শিফটের মতো ক্লান্তি জমে আছে—কাঁধে কুঁচকে যাওয়া কুর্তা, পায়ে শক্ত হয়ে ওঠা স্যান্ডেল, চোখে ঘুমের নুন। তবু সে আরমানের জন্য নোটস গুছিয়ে নিয়ে গেল, কারণ পরীক্ষার আগেই ছেলেটার মাথায় ছয়টা সেলাই।
মাঝের বদলটা এল একেবারে ঘটনায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রদর্শনীতে শহরের এক করপোরেট পৃষ্ঠপোষক আসবে বলে সবাই তটস্থ; সাবিহার খালা সেই অতিথির আত্মীয়া, আর তাই আরমানকে বারবার বলে দিয়েছিলেন সামনে থাকতে, হাসিমুখে, পরিষ্কার পাঞ্জাবি পরে। দুপুরের ভিড়ে হঠাৎ এক প্রদর্শনী স্টলে কীটনাশকের বোতল পড়ে ফেটে গেল। গন্ধে ছাত্রীদের একজন হাঁপাতে হাঁপাতে কুঁকড়ে পড়ল, আরমান সেলাইয়ের ব্যথায় পিছিয়ে গিয়ে মাথা ধরে দাঁড়িয়ে গেল, অন্য দুজন মুখ চেপে দূরে সরে গেল। নীরা তখন স্টলের পেছন থেকে দৌড়ে এসে প্রথমে মেয়েটার ওড়না খুলে নাকে চেপে দিল, তারপর পানি ঢেলে হাত ধুয়ে তাকে টেনে বাতাসের দিকে নিয়ে গেল। সে স্টলের মেইন সুইচ বন্ধ করল, কাগজের ব্যানার ছিঁড়ে মেঝেতে ছড়ানো তরল আটকানোর বাঁধ বানাল, আর কাঁপতে থাকা মেয়েটার মাথা নিজের কাঁধে ঠেকিয়ে বসাল।
সাবিহার খালা ঠিক তখনই অতিথি নিয়ে করিডর ঘুরছিলেন। তাঁর চোখের সামনে আরমান সরে দাঁড়িয়ে, দামি ঘড়ি-পরা অতিথির ছেলে রুমাল মুখে দিয়ে পেছাচ্ছে, আর নীরা হাঁটু মুড়ে মেঝেতে, হাতে দগদগে গন্ধ লেগে থেকেও অন্যকে বাঁচাচ্ছে। খালা থমকে গেলেন। কিছু ব্যাখ্যা চাইলেন না। শুধু প্রথমবারের মতো সরাসরি কাজের নির্দেশ দিলেন, “পানি আনো—না, নীরা, তুমি থাকো। অন্যরা আনুক।” ছোট্ট বাক্য, কিন্তু ভিড়ের মধ্যে কার হাত কোথায় লাগবে, তা বদলে গেল।
সেই রাতেই আরমান নীরাকে বার্তা পাঠাল—খুব ছোট, “ওষুধ আছে। তুমি খেয়েছ?” নীরা উত্তর দিল না। উত্তর দিলে খালার নজর, উত্তর না দিলে বুকের ভেতর চাপ। ভোরে সে কেবল নোটসের ছবি পাঠিয়ে দিল।
তারপরের আঘাতটা এল পরীক্ষার আগের রাতে। টিউশনি শেষে মিরপুর থেকে বাস বদলে ফিরতে ফিরতে সাড়ে এগারো। ফোনের আলো তালুতে নীচু করে নীরা মিতু আপাকে বার্তা পাঠাল—আর পাঁচ মিনিট। কোনো উত্তর নেই। মেসের গলিতে ঢুকে দেখে লোহার গেট টানা, ভেতরের আলো নেভা। অনেকক্ষণ বেল দিয়ে, দারোয়ান ডাকাডাকি করে শেষমেশ পাশের দোকানদার মাথা নেড়ে বলল, “আপার রাগ আছে। আজ খুলবে না।”
নীরার পিঠে ব্যাগের ভার হঠাৎ দ্বিগুণ লাগল। সারাদিনের ধুলো, টিউশনি থেকে ফেরার ভাঙা ক্লান্তি, বাসে দাঁড়িয়ে আসার ব্যথা—সব মিলে হাঁটু নরম হয়ে গেল। সে রাস্তায় বসেনি; বসার মতোও জায়গা ছিল না, কেবল বন্ধ ফার্মেসির সাটারের সামনে ইটের সরু ধাপ। সেখানে দাঁড়িয়ে ফোনের নীচু আলোয় কন্টাক্ট তালিকা খুলে আবার বন্ধ করল। গ্রামের বাড়িতে এই সময় ফোন দেওয়া মানে মাকে কাঁদানো। সহপাঠীদের বেশিরভাগ হলে থাকে; রাত বারোটায় কারো কাছে যাওয়া মানে আরেক দফা প্রশ্ন। শেষে সে একটাই নম্বরে আঙুল রাখল, থেমে গেল, তবু চাপল—আরমান।
ওপাশে ঘুমজড়ানো নয়, জেগে থাকা গলা। “কোথায়?”
“কিছু না,” নীরা বলল, আর তাতেই বোঝা গেল সবকিছু। “গেট বন্ধ। আমি দেখি...”
“লোকেশন দাও।”
দশ মিনিট পর একটা মোটরবাইক এসে থামল গলির মুখে। আরমান নিজে চালিয়ে আসেনি; মাথার সেলাই নিয়ে পারে না। পিছনে বসে এসেছে, সামনে তার কাজিন। নীরা উঠতে চাইছিল না। “রাত হয়েছে,” সে বলল, “তোমাদের বাসায়—”
“বাসায় যাও,” আরমান কেটে দিল। “বাইরে দাঁড়াবে না।”
সাবিহার খালা দরজা খুললেন না; নীচতলার গ্রিলের ওপার থেকে আগে গলা এল। “এই সময়ে?” তাঁর শব্দে প্রতিবেশীর ঘুম, মানসম্মান, সব একসঙ্গে খচখচ করছিল। “মেয়েমানুষকে নিয়ে রাতদুপুরে—”
নীরা তখনই পেছনে সরে দাঁড়াল। “থাক, আমি যাচ্ছি,” সে বলল। গলির বাতাসে ডাস্টবিনের গন্ধ, দূরে কুকুর ডাকা, শরীরের ওপর পোশাকটা ভারী। সে সত্যি ঘুরে যেত, যদি আরমান গ্রিলের ভেতর থেকে বলে না উঠত, “চাবি দিন।”
খালা স্তব্ধ। “কী বললে?”
“সাইড-রুমের চাবি।” আরমানের গলায় ঝাঁজ ছিল না; বরং যে শান্ত স্বরে সে সাধারণত ল্যাবে কথা বলে, সেই স্বর। “নিচতলার পড়ার ঘরটা খালি। ওখানে থাকবে।”
“থাকবে মানে? তুমি বুঝছ কী বলছ? আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা আছে, মানুষ আছে, বাড়ি আছে—”
“বাইরে রাস্তা আছে,” আরমান বলল। “ওখানে থাকবে না।”
খালার চুড়ির শব্দ হলো, যেন হাত কাঁপল। “এক রাতের জন্য? কাল সকালে চলে যাবে।”
নীরা এবার নিজেই বলল, “না। আমি ভেতরে গেলে নিয়ম আপনার, দরজাও আপনার। যদি কোনো কথা ওঠে, আমি এখনই চলে যাই।” কথাটা বলেই সে দাঁত চেপে রইল। মিনতি নয়; শেষ শক্তিটুকু দিয়ে নিজের সীমা টেনে দিল। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও সে ধার চাইছে না—নিরাপদ জায়গা চাইছে, শর্তে অপমান নয়।
আরমান গ্রিল খুলে এক ধাপ বাইরে এল। রাতের আলোয় সেলাইয়ের দাগ চিকচিক করছিল। সে নীরার ব্যাগটা নিল না, হাত ধরল না। শুধু খালার দিকে তাকিয়ে বলল, “চাবি না দিলে আমি ওপরে উঠছি না। দরজা খোলা রাখুন।”
এইবার সিদ্ধান্তটা ঝুলে থাকল এক নিঃশ্বাস সময়। ওপরতলা থেকে কারও কাশির শব্দ এল, পাশের ফ্ল্যাটে কল চলল, গলির বাতাসে পর্দা নড়ল। তারপর সাবিহার খালা ধীরে ধীরে আঁচলের গিট খুলে ছোট পিতলের চাবি বার করলেন। গ্রিলের ফাঁক দিয়ে বাড়িয়ে দিলেন, কিন্তু নীরার হাতে নয়—আরমানের দিকে। আরমান সেটি নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে নীরার দিকে বাড়িয়ে দিল।
নীরা চাবিটার দিকে তাকিয়ে রইল। এই ছোট জিনিসটাকে আজ সে দ্বিতীয়বার দেখছে; বিকেলে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, এখন ফেরতও নয়, অন্য রূপে দেওয়া হচ্ছে। সে হাত বাড়াল, কিন্তু নেবার আগে বলল, “সকাল হলে আমি নিজেই বের হব। কাউকে ডাকার দরকার হবে না।”
আরমান মাথা নাড়ল। “নীচের ঘরে জল আছে। লাইট জ্বালানো।”
খালা এবার সরলেন না, তবু গ্রিলটা বন্ধও করলেন না। ভেতরের সরু করিডর, তারপর সিঁড়ির বাঁক, তারপর নীচতলার পড়ার ঘর—রুটটা ফাঁকা পড়ে রইল। যেন যে নিষেধ এতদিন ধরে জমছিল, সে আজ পুরো মুছে যায়নি, কিন্তু পথের মাঝখানে দাঁড়ানোও ছেড়ে দিয়েছে।
নীরা নিজেই গ্রিল ঠেলে ভেতরে ঢুকল। ভেজা স্যান্ডেলের শব্দ করিডরে লেগে উঠল। সে সিঁড়ির নীচের ছোট ঘরের দরজায় পৌঁছে দেখল ভেতরে পাতলা বিছানা পাতা, টেবিলের ওপর জগে পানি, একটা শুকনো তোয়ালে, আর জানালার কপাট আধখোলা। পড়ার টেবিলে আরমানের পুরোনো কৃষি অর্থনীতির বই সরিয়ে জায়গা করা হয়েছে। এই ঘর নিশ্চয়ই মিনিট পাঁচেক আগে থেকেই সাজানো নয়; তবু এলোমেলো নয়। কারও থাকার মতো করেই রাখা।
দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে নীরা একবার পেছনে তাকাল না। ব্যাগ নামিয়ে, তোয়ালে নিয়ে মুখ মুছে, ভেতরে ঢুকে দরজাটা পুরো বন্ধ করল না—শুধু টেনে দিল, যাতে আটকায় না। তারপর বিছানার পাশে এসে স্যান্ডেল খুলে রাখল।
বিছানার ধারের ছোট কার্পেটের ওপর দুই জোড়া জুতো পাশাপাশি, নাক দুটো ভেতরের দিকে ঘোরানো; মাঝখানের পথটুকু খালি রইল।