আমার জন্যই লাইনটা সরে গেল
“ওকে এই লেনে না, সাইডে দাঁড় করাও—বউপক্ষের কাছের কেউ আগে নামবে।”
কথাটা বলেই নাসরিন আপা নিজের হাত তুলে সাদা মাইক্রোবাসের দরজা খুলে দিলেন শায়লার জন্য। শায়লা, যে এখনো এই বাড়ির কারও সঙ্গে কাবিনে বাঁধা না, শুধু তানভীরের জন্য “ভালো ঘরের মেয়ে” বলে ঘুরছে, লাল শাড়ির আঁচল তুলে হাসতে হাসতে নামল। আর মেহরিন, যার হাতে আধাভাঁজ করা রসিদ, ফুলওয়ালার বাকি টাকা আর মিষ্টির তালিকা, তাকে গেটের ডান পাশে বাঁধা দড়ির বাইরে সরিয়ে দেওয়া হলো—যেন সে আত্মীয় না, ভাড়ায় আনা কাজের মেয়ে।
ঢাকার বনানীর সেই আলোকমালা-জ্বলা বিয়ের বাড়ির ড্রপ-অফ লেনে গাড়ির হর্ন, আতরের গন্ধ, গরম কাবাবের ধোঁয়া আর আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা মুখের ভিড়ে অপমানের শব্দ খুব বেশি জোরে বলতে হয় না। নাসরিন আপা নিচু গলায় বললেন, “মেহরিন, মুখ শক্ত কোরো না। তোমাকে তো আমরা দায়িত্ব দিয়েছি। দায়িত্বশীল মেয়েরা সামনে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা নেয় না, কাজ সামলায়।”
মেহরিন একবার শুধু তার দিকে তাকাল। কপালের পাশে চুল লেগে আছে, বাম হাতের আঙুলে পুরোনো কলমের দাগ, আর মুঠোয় চেপে রাখা সেই আধাভাঁজ রসিদের কাগজ নরম হয়ে গেছে। সে খুব শান্ত গলায় বলল, “ঠিক আছে, আমি কাজই সামলাই। কিন্তু ফুলের অর্ডার, অতিথির নামের বোর্ড, মাথার টেবিলের আসনের তালিকা—সব আমার কাছেই আছে। পরে খুঁজবেন না।”
নাসরিন আপার চোখ এক সেকেন্ডের জন্য থেমে গেল। তারপর ঠোঁট শক্ত করে বললেন, “চাবিটা দাও। ভিতরের কাচঘরের আলমারির। এখন থেকে শায়লা দেখবে।”
মেহরিন ব্যাগ থেকে দেরিতে ফেরত দেওয়ার মতো গরম হয়ে থাকা ছোট পিতলের চাবিটা বের করল। ওই চাবি তিন মাস তার কাছে ছিল—হল বুকিংয়ের অগ্রিম, গয়নার বাক্স, কাগজপত্র, সব কিছুর জন্য সে-ই দৌড়েছে। সে চাবিটা নাসরিন আপার হাতের ওপর না রেখে পাশের রেজিস্টার টেবিলে টুং করে ফেলল। “যাকে সামনে আনছেন, তাকেই দিন,” বলল সে।
শিউলি মামি দূর থেকে ফিসফিস করলেন, “মা, এখন কিছু বলিস না। মেয়েদের মুখের মান আছে।” কিন্তু মানটাকে যে এইমাত্র লেনের ধুলোয় নামিয়ে দেওয়া হলো, সেটা কেউ জোরে বলল না।
মেহরিনকে সরিয়ে রেখে নাসরিন আপা শায়লাকে নিয়ে গেটের ফুলের খিলানের নিচে দাঁড়ালেন। একেকটা গাড়ি এলে তিনি নাম বলছেন, কাকে কোথায় নিতে হবে নির্দেশ দিচ্ছেন; আর মেহরিন দাঁড়িয়ে আছে দড়ির ঠিক বাইরে, সবার চোখের সামনেই কাজের জায়গায় ঠেলে নামানো মানুষ হয়ে। শায়লা দু-একবার এমন ভঙ্গি করল যেন এ ব্যবস্থাই স্বাভাবিক। “এই নামের কার্ডগুলো কোথায়?” সে জিজ্ঞেস করতেই নাসরিন আপা উত্তর দিলেন, “মেহরিন জানে। ওকে বলো এনে দিতে।”
মেহরিন বোর্ডের পেছনে গিয়ে কার্ডের বাক্স বের করল। সাদা মোটা কাগজে কালো হরফে লেখা—“মাথার টেবিল”, “কনের মামা”, “স্পনসর পরিবার”, “বিশেষ অতিথি।” এক কোণে ছোট্ট পিনবোর্ডে নম্বরও দেওয়া—কার কোন অগ্রাধিকার, কার গাড়ি আগে থামবে, কে প্রথম অভ্যর্থনা পাবে। এগুলো সে নিজে বানিয়েছে, কারণ তানভীর বলেছিল, “আমাদের বাড়িতে যা-ই হোক, বিশৃঙ্খলা চাই না।” আজ সেই একই তানভীর সকাল থেকে ফোন ধরছে না।
শায়লা কার্ড নিতে এসে নিচু গলায় বলল, “আপু, মন খারাপ কইরেন না। বড়রা যা ঠিক করে…” মেহরিন তার হাতে বাক্সটা দিল, “বড়রা ঠিক করলে সব ঠিক হয় না।” শায়লা একটু থমকালেও সঙ্গে সঙ্গে নাসরিন আপার ডাক পেয়ে হাসিমুখে ঘুরে গেল।
ঠিক তখনই বাইরে কালো রঙের লম্বা গাড়িটা ঢুকল। ড্রাইভার এত সাবধানে গাড়ি ঘোরাল যে লেনের দড়ি কেঁপে উঠল। কয়েকজন ছেলেপেলে দৌড়ে গেল, কারণ সবাই জানে—এ গাড়িতে তানভীর নয়, তার বড় চাচাতো ভাই রাফি এসেছে। কৃষি-যন্ত্রপাতির ব্যবসা সামলায়, বাড়ির বড়দের কথায় যার ওজন আছে, আর যার সঙ্গে তানভীরের শেয়ার করা জমি, ঋণ, সম্মান—সব জড়িয়ে।
নাসরিন আপা সঙ্গে সঙ্গে শায়লাকে টেনে সামনে নিলেন। “রাফি আগে ওকেই দেখুক,” তিনি দাঁত চেপে বললেন। “কথা পাকাপাকি করতে সময় লাগে না।”
গাড়ির দরজা খুলে প্রথমে নামল রাফির ডান জুতো, চকচকে কালো চামড়ায় হলের আলো কেটে গেল। তারপর সে পুরো বেরিয়ে এল, কাঁধে ধূসর পাঞ্জাবি, চোখে ক্লান্তি, মুখে শহুরে ঠান্ডা ভাব। নাসরিন আপা হাত তুলে ডেকেই ফেলেছিলেন, “রাফি, এইদিকে—”
রাফি শুনল, কিন্তু সেদিকে গেল না।
সে দরজা থেকে নেমে একবার পুরো লেনটা দেখল—খিলানের নিচে শায়লা, পাশে নাসরিন আপা, আর দড়ির বাইরে বোর্ডের ছায়ায় দাঁড়িয়ে মেহরিন। মুহূর্তের মধ্যে তার চেহারা বদলে গেল। সে সরাসরি মাঝের পথ না নিয়ে দড়ির কাছে এসে নিজেই রশিটা তুলে ধরল, যেন পথ অন্য কারও জন্য খোলা হচ্ছে। তারপর সবার সামনে বলল, “মেহরিন, তুমি বাইরে কেন দাঁড়িয়ে আছ?”
যে ছেলেটা অতিথিদের গাড়ির দরজা খুলছিল, সে হতভম্ব হয়ে হাত নামিয়ে ফেলল। শায়লার ঠোঁটের হাসি কাঁপল। নাসরিন আপা দ্রুত বললেন, “ও তো কাজ দেখছে, বাবা—”
“কাজ দেখলে বাইরে দাঁড়াবে?” রাফির গলা খুব জোরে না, কিন্তু লেনের হর্ন, মানুষের গুঞ্জন, থালা-বাসনের শব্দ কেটে সবাই শুনে ফেলল। সে মেহরিনের দিকে হাত বাড়াল, “প্রথমে তুমি। আমার সঙ্গে ভিতরে চলো।”
মেহরিন নড়ল না। “আমি কাজের লোকের জায়গাতেই আছি, তাই না?”
রাফি এক পা এগিয়ে এলো। “যার হাতে তালিকা, চাবি, টেবিলের ক্রম, তার জায়গা দড়ির বাইরে না। আমার পাশে।”
এবার তাকে পথ ছেড়ে দিতে হলো। নাসরিন আপা এত তাড়াহুড়োয় রশি ছাড়লেন যে ব্রেসলেট খিলানের বাঁশে ঠুকে টুং করে উঠল। রাফি মেহরিনের কাছ থেকে কার্ডের বাক্স নিল না; বরং বাক্সটা-সহ তার হাত ধরেই তাকে পথের ভেতর আনল। দুজন একসঙ্গে ফুলের খিলানের নিচ দিয়ে ঢুকল। পেছনে শায়লাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো, প্রথম অভ্যর্থনার জায়গা ফসকে গিয়ে।
ভিতরে ঢোকার ঠিক আগে কাচঘেরা লিফটের পাশে ধাতব আয়নায় মুছে না ওঠা আঙুলের দাগের ফাঁকে মেহরিন নিজের মুখটা দেখল—অপমানের দাগ তখনো গরম, কিন্তু অবস্থান বদলে গেছে। এই বদল কেউ অস্বীকার করার আগেই রাফি রিসেপশনের ছেলেকে বলল, “মাথার টেবিলের বোর্ড কোথায় রাখা?”
নাসরিন আপা দ্রুত এসে পথ রোধ করলেন। “রাফি, ভিতরে গিয়ে বসো। এত লোকজনের সামনে বাড়াবাড়ি করো না। মেয়েটা ভালো, কাজও করেছে, কিন্তু—”
“কিন্তু বদলানো যায়?” রাফি চোখ তুলে তাকাল। “এটাই তো আপনারা ভাবছেন।”
তানভীরও তখন সিঁড়ি বেয়ে নেমে এসেছে, মুখে এমন অস্বস্তি যেন শেষ মুহূর্তে কোন পক্ষ নেবে বুঝতে পারছে না। সে নিচু স্বরে বলল, “ভাই, আজকে অনুষ্ঠান। পরে কথা বলি।”
রাফি হেসে ফেলল, ঠান্ডা, কাটা হাসি। “পরে মানে কখন? যখন সব কাজ করিয়ে দিয়ে নাম কেটে দেবে?” সে মেহরিনের দিকে না তাকিয়েই বলল, “তুমি যে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলে, মনে আছে? আমি বলেছিলাম, কাগজের আগে মানুষ চিনতে চাই। আজ চিনে ফেললাম।”
নাসরিন আপার মুখ শক্ত থেকে টলমল হলো। “এভাবে বলো না। আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা সবার সামনে—”
“সবার সামনেই তো ওকে সরিয়েছেন,” রাফি কেটে দিল। “এখন সবার সামনেই ঠিক হবে।”
মাথার টেবিলের পাশের দেয়ালে বড় সাদা র্যাঙ্ক বোর্ড ঝোলানো—উপরে মোটা অক্ষরে “অভ্যর্থনা ক্রম”, নিচে নাম, নম্বর, টেবিল, আসন। কার্ড আর নম্বর মিলিয়ে লোকজন বসানো হচ্ছে। বোর্ডের সামনে হলের কর্মচারী সালাম দাঁড়িয়ে, হাত কাঁপছে; সে বুঝে গেছে ভুল পক্ষের আদেশ মানলে চাকরি যাবে, সঠিক পক্ষের কথা অমান্য করলেও চাকরি যাবে।
নাসরিন আপা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে বললেন, “সালাম, কিছু বদলাবে না। যা লেখা আছে তাই থাকবে।”
রাফি বোর্ডের দিকে তাকিয়ে বলল, “কলম।”
সালাম পকেট থেকে মার্কার বের করতে গিয়েও থামল। তানভীর এবার এগিয়ে এল, “ভাই, প্লিজ। শায়লার পরিবারের লোক বসে আছে। ওদের অসম্মান হবে।”
“যে অসম্মান শুরু করেছ, তার হিসাব এখন বোর্ডে উঠবে,” রাফি বলল।
মেহরিন তখনও চুপ। তার বুকের ভেতর ধুকপুকানি এমন জোরে উঠছে যে মনে হচ্ছে কানের পাশে শুনতে পাচ্ছে। শিউলি মামি কাছে এসে খুব আস্তে বললেন, “মা, যদি এখন পিছু হটিস, সবাই বলবে তোর জায়গা সত্যিই ওটাই ছিল।”
ওই এক কথাই যেন ঘষে আগুন ধরাল। মেহরিন সামনে গিয়ে সালামের হাত থেকে মার্কারটা নিল। কারও হাত থেকে ছিনিয়ে নয়—সোজা, দৃঢ়ভাবে। বোর্ডে কালো অক্ষরে লেখা ছিল: ১. স্পনসর পরিবার – নাসরিন আপা পক্ষ ২. বিশেষ পরিচিত – শায়লা ও পরিবার ৩. পরিচালনা সহায়তা – মেহরিন ৪. কৃষি ব্যবসা পক্ষ – রাফি
বোর্ডের নিচে একই ক্রমে মাথার টেবিলের আসন-কার্ড গুঁজে রাখা।
নাসরিন আপা হাঁ করে বললেন, “মেহরিন, তুমি ছুঁবে না। তোমার অধিকার নেই।”
মেহরিন এবার প্রথমবারের মতো সবার দিকে মুখ তুলে বলল, “অধিকার তো আপনারাই কাজের সঙ্গে বেঁধে রেখেছিলেন। কাজ যদি আমার, ক্রমও আমি জানি।”
সে “৩. পরিচালনা সহায়তা – মেহরিন” লাইনের কাগজটা টেনে খুলে নিল। কাগজের পিন ছিঁড়ে কটাস করে শব্দ হলো। তারপর “১” নম্বরের পাশে খালি জায়গায় নিজের নামের কার্ড গুঁজে দিল না; বরং নতুন করে মার্কার দিয়ে লিখল— ১. মেহরিন রহমান – গৃহস্বীকৃত পক্ষ তার নিচে ছোট হরফে: মাথার টেবিল, রাফির ডান পাশে।
শায়লার নামের কার্ড সে খুলে “বিশেষ পরিচিত” লাইনে নামিয়ে দিল। নম্বরের পাশে আঙুল ঠেকিয়ে কার্ডটা সোজা করল। পুরো হল তাকিয়ে আছে—কে কাকে বিয়ে করবে, এই ঘোষণার ভাষা কেউ সরাসরি শুনল না; কিন্তু এই ক্রমের মানে সবাই বুঝল।
তানভীর ঝাঁপিয়ে এসে বলল, “এইটা নাটক হয়ে যাচ্ছে!” মেহরিন তাকাল না। “নাটক তখনই হয়েছিল, যখন আমাকে দড়ির বাইরে দাঁড় করিয়েছিলে।” নাসরিন আপা কাঁপা গলায় বললেন, “রাফি, তুমি কিছু বলো। এভাবে একটা মেয়ে নিজে নিজে—”
“নিজে নিজে না,” রাফি এবার খুব স্পষ্ট গলায় বলল, যেন বোর্ডটাকেই সাক্ষী করছে, “আমি বলছি। আমার পাশে, আমার টেবিলে, আমার ঘরের স্বীকৃত মানুষ মেহরিন। কেউ নাম নামাতে পারবে না।”
এই এক লাইনে পুরোনো সব ভরসা উল্টে গেল। তানভীরের মুখের রং নেমে গেল; সে নাসরিন আপার দিকে তাকাল, যেন নির্দেশ চাইছে, অথচ প্রথমবার তাকে কেউ দিল না। শায়লার বাবা, যিনি এতক্ষণ বুক ফুলিয়ে বসেছিলেন, ধীরে ধীরে চেয়ার থেকে উঠেও এগোলেন না। সালাম কর্মচারী নিঃশব্দে পুরোনো আসন-কার্ড সরিয়ে নতুন ক্রমে মাথার টেবিলে রাখার জন্য দৌড় দিল।
নাসরিন আপা শেষ চেষ্টা করলেন। “মেহরিন, বোর্ডে যা খুশি লিখলেই হয় না। সমাজ আছে, কথা আছে, পর্দা আছে।”
মেহরিন তার হাতে সেই ছোট পিতলের চাবিটা ধরিয়ে দিল—যেটা কিছুক্ষণ আগে টেবিলে রেখে ছিল। “আপনি এই চাবি নিয়ে আলমারি সামলান,” সে বলল। “আমার জায়গা আমি নিয়ে নিলাম।”
তারপর সে বোর্ডের নিচের কার্ড-র্যাকে হাত দিল। “রাফি – কৃষি ব্যবসা পক্ষ” লেখা কার্ডটা খুলে “১” নম্বর লাইনের নিচে ঠিক নিজের নামের পাশে বসাল। দুটো কার্ড পাশাপাশি। ওপরে শায়লার নাম নেমে গেছে, নাসরিন আপার পক্ষ সরে গেছে এক ধাপ নিচে। দৃশ্যটা এত পড়তে-সুবিধের মতো স্পষ্ট যে কেউ আর “ভুল বুঝেছে” বলে বাঁচতে পারল না।
রাফি এক পা পেছনে সরে তাকে জায়গা দিল। সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় উল্টে যাওয়া—এ ঘরের প্রভাবশালী পুরুষ সামনে এসে দাবি করে জায়গা নেয়নি; বরং জায়গাটা মেহরিনের হাতে ছেড়ে দিয়েছে, আর ঘরকে বাধ্য করেছে তার লেখাই মানতে।
মেহরিন বোর্ডের ডান কোণে ঝুলে থাকা নম্বর-ফিতের বাঁকটা সোজা করল। “১” সংখ্যাটা তির্যক হয়ে ছিল। সে আঙুল বুলিয়ে সেটাকে সমান করে দিল, তারপর শায়লার নামের লাইনের পাশে ঝুলে থাকা “২” নম্বরটা এক ধাপ নিচে নামিয়ে “৩”-এর জায়গায় আটকে দিল। নতুন ক্রমে শুধু নাম না, সংখ্যাও মিলল।
মাথার টেবিলের পাশের র্যাঙ্কিং ওয়ালে এখন উপরে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে— ১. মেহরিন রহমান – গৃহস্বীকৃত পক্ষ ১-এর নিচে সংযুক্ত আসন: রাফির ডান পাশে ২. স্পনসর পরিবার – নাসরিন আপা পক্ষ ৩. বিশেষ পরিচিত – শায়লা ও পরিবার ৪. পরিচালনা সহায়তা – শূন্য
মেহরিন পুরোনো, ভাঁজ-খাওয়া রসিদটা বের করে “পরিচালনা সহায়তা – শূন্য” লাইনের উপর আড়াআড়ি গুঁজে দিল, যেন ওই খালি পদটা আজ থেকে বন্ধ। তারপর বোর্ডের নিচের পিনটাকে একবার চেপে ধরল। সংখ্যাগুলো স্থির হয়ে গেল।