লাইভ টেস্টেই ভুয়া তারকা ফাটল
“কেসটা নামাও। এই মেশিনে হাত দেবে না তুমি।”
তানভীর কবির কথা বলেই মেহরাবের হাত থেকে কালো যন্ত্রপাতির বাক্সটা টেনে নিল। টানটা এত হঠাৎ ছিল যে মেহরাবের পুরোনো ব্যাজের ল্যানইয়ার্ড গলায় কেটে গেল, আর তার অন্য হাতে ধরা আধভাঁজ করা ফার্মেসির রসিদ মেঝেতে পড়ে গিয়ে স্লাইড করে দরজার খাঁজে আটকে রইল। পাশের কাচঘেরা ডায়াগনসিস বেতে আলো জ্বলছে, সামনে স্পনসরদের ব্যানার—গ্রামীণ কৃষি-উদ্যোক্তাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প—আর তার ওপাশে অপেক্ষা করা লাইন লম্বা হচ্ছে। রিমির খালাতো ভাই, এক ট্রাস্টি, আর দুজন দাতা দাঁড়িয়ে সব দেখছে। তানভীর হেসে বলল, “ও শুধু বহন করে। লাইভ ডেমো আমি চালাব।”
মেহরাব দরজার ফাঁকে এক মুহূর্ত থামল। এই হাসপাতালের সোনোগ্রাফি ইউনিটে তিন বছর রাত কেটেছে তার; ছাদের নিচে গরমে ঘেমে, ঝড়ের রাতে জেনারেটর ধরে, মেশিনের শব্দ শুনে ত্রুটি চিনতে শিখেছে। তবু আজ, ঢাকা শহরের এই চকচকে প্রদর্শনীতে, সে শুধু বাক্স-ওঠানো লোক। ডা. শায়লা আপা দূর থেকে ভুরু কুঁচকে তাকালেন, কিন্তু ট্রাস্টি আবদুল কাদের সাহেব ইতিমধ্যে তানভীরের কাঁধে হাত রেখেছেন; আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা যাদের, তাদের সামনে কার কণ্ঠ কতটা উঠবে, সবাই হিসাব করে চলে।
ভেতর থেকে ঘোষণার গলা এল, “পরের লাইভ স্ক্রিনিং প্রস্তুত?” তানভীর বাক্স খুলে প্রোব বের করল এমন ভঙ্গিতে, যেন বহুদিনের রাজত্ব। সে মেহরাবকে না তাকিয়েই বলল, “জেলটা দাও। আর দূরে থাকো।”
মেহরাব জেল এগিয়ে দিতে গিয়ে এক ঝলক স্ক্রিনে দেখে বুক শক্ত করল। গভীরতা বেশি, গেইন বাড়ানো, আর ভুল প্রিসেট—অ্যাবডোমেনের বদলে সাধারণ সফট টিস্যু। রোগী যদি আসল কেস হয়, এই সেটিংয়ে স্তর ভেসে যাবে। সে নিচু গলায় বলল, “প্রিসেট পাল্টাতে হবে। না হলে লিভারের ধারটাই কাদার মতো উঠবে।”
তানভীর এমনভাবে হেসে উঠল, যেন দারোয়ান ফতোয়া দিয়েছে। “তুমি কি এখন রিপোর্টও লিখবে? ডোনাররা দাঁড়িয়ে আছে, সময় নষ্ট কোরো না।” কাদের সাহেব তৎক্ষণাৎ সায় দিলেন, “ডিগ্রি যার, কাজও তার। নিচের স্টাফ বেশি কথা বললে শৃঙ্খলা থাকে না।” পাশে রিমি দাঁড়িয়ে ছিল, হাসপাতালের করপোরেট দলে কাজ করে; তার মুখে অসহায় শক্ত ভাব। সে এক পা এগিয়ে আবার থেমে গেল, কারণ তার ফুফু—কাদের সাহেবের স্ত্রী—ইতিমধ্যে কড়া চোখে তাকিয়েছেন।
প্রথম লোকটা ঢুকল আসল রোগী নয়, প্রদর্শনীর জন্য রাখা এক স্বেচ্ছাসেবক। তানভীর প্রোব বসাল, স্ক্রিনে দানাদার ধূসর কুয়াশা নাচল। সে আত্মবিশ্বাসী গলায় বলল, “এখানে স্বাভাবিক পারেঙ্কাইমাল—” তারপর থামল। ইমেজে কিছুই দাঁড়াচ্ছে না। সে গেইন আরও বাড়াল। ধূসর কুয়াশা আরও মোটা হলো।
মেহরাব এবার জেল-ট্রে নামিয়ে দিল। ট্রের ধাতব শব্দে দুজন নার্স ঘুরে তাকাল। সে রোগীর দিকে নয়, সরাসরি কনসোলের দিকে তাকিয়ে বলল, “ফোকাস লাইন ভুল জায়গায়। আর স্তরটা উল্টো পড়ছেন।” তানভীর কণ্ঠ চড়াল, “বের হও।”
“এক সেকেন্ড।” মেহরাব আর অনুমতি চাইল না। সে কনসোলে হাত বাড়িয়ে মাত্র দুটো জিনিস করল—প্রিসেট বদলে ‘অ্যাবডোমেন’ নিল, তারপর গভীরতা নামিয়ে ফোকাস লিভারের দরজায় বসাল। স্ক্রিন যেন সঙ্গে সঙ্গে ময়লা পানি থেকে পরিষ্কার কাচে উঠে এল। কালো-সাদা স্তরগুলো আলাদা হয়ে দাঁড়াল; পোর্টাল ভেইনের শাখা স্পষ্ট, পেছনে ছোট গোল অন্ধকার ছোপটাও দেখা গেল। তানভীরের হাত প্রোবের উপরেই রয়ে গেল, কিন্তু সে আর পরের শব্দটা বলতে পারল না।
কাচের ওপাশে দাঁড়ানো ট্রাস্টির হাত কাঁধ থেকে সরে গেল। ডা. শায়লা আপা আরেক পা এগিয়ে এলেন। তানভীর স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল এমন মুখে, যেন নিজের লেখা পড়তে গিয়ে হঠাৎ অক্ষর চিনতে পারছে না। মেহরাব শান্ত স্বরে বলল, “এখন বলুন, কোন স্তরটা পড়ছিলেন?”
তানভীর উত্তর দিল না। তার বদলে দ্রুত প্রোব সরিয়ে রোগীর পেটের অন্যদিকে নিতে গেল, যেন ভুলটা স্ক্রিন বদলালেই মুছে যাবে। কিন্তু দেরি হয়ে গেছে। পরিষ্কার ইমেজ একবার বেরিয়ে এলে, কুয়াশায় ফেরত যাওয়াটাই অপরাধের মতো লাগে।
এই মুহূর্তেই ভেতর দিক থেকে হুড়োহুড়ি পড়ল। রিসেপশনের হাসান চাচা আধখোলা দরজায় এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন, “শায়লা ম্যাডাম, জরুরি রোগী উঠছে। গ্রামের দাতা মজিদ সাহেবের বড় ভাবি—ডান পাশে তীব্র ব্যথা, প্রেসার পড়ে যাচ্ছে। বাইরে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানো হয়েছে। আত্মীয়রা সব সঙ্গে।”
কাদের সাহেব তৎক্ষণাৎ গম্ভীর হলেন; মজিদ সাহেবই এই পুরো কৃষি-স্বাস্থ্য প্রকল্পের মুখ্য অর্থদাতা। কাচের ওপাশে ইতিমধ্যে দুজন বয়স্কা মহিলা, এক তরুণ ছেলে, আর পর্দা সরিয়ে ঢুকতে চাওয়া আত্মীয়দের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। তানভীর গলা পরিষ্কার করে বলল, “জরুরি হলে আমি সামলাই। সবাই বাইরে থাকুন।”
মেহরাব দেখল, তানভীর কনসোলে ফের হাত দিলেও তার আঙুল কাঁপছে। প্রোব কেবল ধরতে জানলেই হয় না; ব্যথার উৎস খুঁজতে হলে শরীরের ভেতরটা চোখে আঁকতে হয়। শায়লা আপা ছোট করে বললেন, “তানভীর, নিশ্চিত?” তানভীর বলল, “অবশ্যই।”
তখন কাদের সাহেব, মুখ বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করে, মেহরাবের দিকে না তাকিয়েই বললেন, “তুমি বাইরে লাইন সামলাও।” কথাটা ছিল পুরোনো জায়গায় ঠেলে ফেলা। দরজার ধারে পড়ে থাকা আধভাঁজ রসিদে মেহরাবের চোখ গেল—আজ সকালে মায়ের ওষুধের দাম লিখে রাখা। ওই টাকাটা তার এই মাসের ওভারটাইম থেকে যাবে, যদি চাকরি ধরে। তবু সে এগিয়ে গেল। হাত বাড়িয়ে টেবিলের উপর রাখা যন্ত্রপাতির বাক্স নিজের দিকে টেনে আনল। ধাতব ক্লিপের শব্দে সবাই তাকাল।
“এই কেস আমি করব,” সে বলল।
দুটি শব্দেই ঘর শক্ত হয়ে গেল—আমি করব। রিমির ফুফু ফিসফিস করে উঠলেন, “স্টাফের সাহস দেখো।” কাদের সাহেবের মুখ লাল। তানভীর প্রায় ধমকে উঠল, “তুমি সীমা ছাড়াচ্ছ।”
মেহরাব বাক্স খুলে নতুন কভার লাগানো প্রোব তুলল, নার্সকে বলল, “রোগীকে বাম কাতে একটু ঘোরান। শ্বাস আটকে রাখতে বলবেন না এখনই—ব্যথা বাড়বে।” তার গলা উঁচু নয়, কিন্তু নির্দেশে দ্বিধা নেই। নার্স সালমা এক সেকেন্ড কাদের সাহেবের মুখ দেখে নিল, তারপর রোগী ধরল মেহরাবের কথামতো। এই এক সেকেন্ডেই আসন বদলাল; কার আদেশে হাত চলবে, সেটা ঘর বুঝে ফেলল।
রোগীকে আনা হলো। পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই নারী, কপালে ঘাম, শাড়ি এলোমেলো, সঙ্গে আত্মীয়স্বজনের চাপা কান্না। ডান উপরের পেটে হাত চেপে আছেন। তানভীর সামনে যেতে চাইলে মেহরাব এক পা সরেও জায়গা ছাড়ল না। শায়লা আপা এবার স্পষ্ট গলায় বললেন, “চলুক। সময় নেই।” এই অনুমতি তানভীরের জন্য ছিল না।
মেহরাব জেল ছড়িয়ে প্রোব বসাল ডান কস্টাল মার্জিনের নিচে। স্ক্রিনে প্রথমে লিভারের ছায়া উঠল। সে কাঁধ নিচু করে, চোখ না সরিয়ে, খুব সামান্য চাপ বাড়াল, তারপর প্রোবের মাথা দুই ডিগ্রি ঘুরিয়ে নিল। “শ্বাস নিন... ছাড়ুন... এবার থামুন।” রোগী কেঁপে উঠলেন। তানভীর পেছন থেকে বলে উঠল, “গলব্লাডার ফোলাই থাকলে সবারই ব্যথা—” কথাটা শেষ করার আগেই মেহরাব ফ্রিজ না করে চলন্ত ইমেজে ক্যালিপার ছাড়াই বলল, “গলব্লাডার শুধু ফোলা না। নেকের কাছে পাথর আটকে আছে। দেয়াল মোটা। চারপাশে তরল নামছে। আরও একটা জিনিস আছে।”
সে গভীরতা অল্প নামাল। স্ক্রিনের ডান পাশে কালো রেখা নড়ে উঠল, তারপর পরিষ্কার হলো—পিত্তথলির গায়ে চেপে থাকা ঘন ছায়া, তার পেছনে উজ্জ্বল অর্ধচাঁদ, আর নিচে পাতলা তরলের স্তর। মেহরাব প্রোব একটু সরিয়ে সাবকস্টাল থেকে ইন্টারকস্টালে নিল। “এখানে দেখুন,” সে বলল, এবার কাদের সাহেব নয়, রোগীর সঙ্গে আসা তরুণ ছেলেটির দিকেও যেন শোনাল, “এটা আটকে থাকা পাথর। এই লাইনটা দেয়াল। এটা চারপাশের তরল। ফেটে যাওয়ার আগের অবস্থা।”
ঘরের বাতাস কেমন যেন চেপে গেল। আত্মীয়দের মধ্যে যে মহিলা এতক্ষণ পর্দা সরাচ্ছিলেন, তিনি হাতের আঁচল মুখে চেপে ধরলেন। তানভীর তাড়াতাড়ি বলল, “না, এটা আর্টিফ্যাক্টও হতে পারে—”
মেহরাব তার কথা কেটে দিল না, থামিয়েও দিল না; কাজ চালিয়েই দিল। সেটাই বেশি অপমানের। সে ডপলার না নিয়ে সাধারণ ইমেজেই কোণ পাল্টাল, তারপর আবার আগের ফ্রেমে ফিরল। “আর্টিফ্যাক্ট হলে কোণ পাল্টালে পাল্টায়,” সে বলল, চোখ স্ক্রিনে, “এটা পাল্টাচ্ছে না।” তারপর ফ্রিজ। এক চাপ। ইমেজ থেমে গেল। ক্যালিপার বসাল দেয়ালের ওপর। “ওয়াল থিকেনিং।” আরেক ক্যালিপার তরলের রেখায়। “পেরিকোলেসিস্টিক ফ্লুইড।” এরপর পাথরের গায়ে চিহ্ন। “ইমপ্যাক্টেড স্টোন।”
তানভীর এবার সামনে এসে কনসোল ধরতে চাইল। মেহরাব বাম কনুই সামান্য সরিয়ে তার হাত আটকে দিল, চোখ তুলল না। তানভীরের মুখে সেই বিখ্যাত টেলিভিশন-সুলভ হাসিটা নেই; ঠোঁট শুকনো, গলায় শব্দ আটকে। কাদের সাহেব একবার তার দিকে, একবার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলেন। এখন কথা বললে ভুল পক্ষে দাঁড়ানো হবে—এই হিসাব তিনি দেরিতে বুঝেছেন।
শায়লা আপা স্ক্রিনের কাছে ঝুঁকে এলেন। “মারফি?” তিনি বলতেই মেহরাব রোগীর পিত্তথলির উপর প্রোবের চাপ সামান্য বাড়াল। রোগী তীব্র স্বরে কেঁপে উঠলেন। “পজিটিভ,” মেহরাব বলল। আর কোনো অলংকার নয়।
এইবার ক্ষতি চোখে পড়ল। তানভীরের গলা আর উঠছে না, সে নিজের ব্যাজ সোজা করতে গিয়ে দুবার ভুলে টান দিল। তার পেছনে দাঁড়ানো ট্রাস্টিরা সরে গেল যেন তাকে ঘিরে ছবি তুলতে এসেছিল, এখন ফ্রেমে রাখতে চাইছে না। রিমির ফুফু, যিনি কিছুক্ষণ আগে স্টাফের সাহস নিয়ে ফিসফিস করেছিলেন, তিনিই এবার রোগীর আত্মীয়দের সরতে বলছেন যাতে মেহরাব কাজ করতে পারে। ক্ষমতা মানুষের মুখে যেমন বদলায়, পায়ের দিকেও বদলায়; যে সামনে ছিল, সে অজান্তে আধপা পেছনে যায়।
মেহরাব রিপোর্ট লিখতে বসল না। সে চলন্ত স্ক্রিন আবার চালু করল, একবার লং অ্যাক্সিস, একবার ট্রান্সভার্স নিল, যেন কেউ পরে বলতে না পারে ছবিটা কাকতাল। “সার্জারি কল দিন,” সে শান্ত গলায় বলল। “অবস্থা খারাপের দিকে। এখনই।” শায়লা আপা নার্সকে মাথা নেড়ে নির্দেশ দিলেন। তানভীর এবার বলার চেষ্টা করল, “আমি—” কিন্তু তার “আমি” আর কোথাও পৌঁছাল না; কারণ ঘর ইতিমধ্যে অন্য আদেশে চলা শুরু করেছে।
মজিদ সাহেবের তরুণ ভাগ্নে, যে এতক্ষণ ভয় আর সন্দেহে কাচের গায়ে লেগে ছিল, কাছে এসে থরথর গলায় জিজ্ঞেস করল, “অপারেশন লাগবে?” মেহরাব স্ক্রিন থেকে চোখ না সরিয়েই বলল, “ডিউটি সার্জন দেখবেন। কিন্তু দেরি করলে ঝুঁকি বাড়বে।” এটুকুই। না ভয় দেখানো, না সান্ত্বনার মিথ্যা। এই সংযমই ঘরের শেষ জায়গাটুকুও তার দিকে ঘুরিয়ে দিল।
তানভীর হঠাৎ জোর ফেরত পেতে চাইল। “একটা স্ক্যানেই সিদ্ধান্ত হয় না,” সে বলল, এবার কাদের সাহেবের দিকে তাকিয়ে। কিন্তু সেই তাকানোটা আশ্রয়ের মতো লাগল। কাদের সাহেব মুখ খুললেন না। তার বদলে শায়লা আপা বললেন, “তুমি সরে দাঁড়াও।” চারটি শব্দ। কার জন্য তা নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি থাকল না।
মেহরাব শেষ ফ্রেমে ফিরে গেল। পাথর, দেয়াল, তরল—তিনটাই একসঙ্গে আনল। তারপর গেইন সামান্য কমাল, যাতে সাদা অংশ ঝলসে না যায়। ছবি আরও পরিষ্কার হলো। সে রোগীর নামের পাশে সময় বসাল। যন্ত্রপাতির বাক্সটা তার বাম হাতে ঠেকানো; কালো কেসের কোণায় তার আঙুলের চাপ সাদা হয়ে আছে। দরজার খাঁজে আটকে থাকা আধভাঁজ রসিদটা বাতাসে সামান্য কেঁপে থেমে আছে।
“ফাইন্ডিং লক,” মেহরাব বলল, আর নিজের আঙুলে চূড়ান্ত কমান্ড চাপল। ডায়াগনসিস বয়ের স্ক্রিনে পিত্তথলির গলায় আটকে থাকা পাথর, মোটা দেয়াল, চারপাশের তরলের রেখা পড়ে রইল স্পষ্ট অক্ষরের নিচে; তার হাতে যন্ত্রপাতির বাক্স, আর কার্সরটি পরের ঘরে যাওয়ার আগে ঠিক সেই চিহ্নের পাশে এসে থেমে গেল।