Fast Fiction

কাজ চাপিয়ে, শেষে আমাকেই ডাকল

“ওই ফাইলটা এখানে দিন—না, ওইটা না, নীল স্টিকারওয়ালা,” বলে মেহরীন কাউন্টারের পাশের সরু ট্রলির উপর ঝুঁকে জন্মতারিখ মিলিয়ে নিল, আর ঠিক তখনই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীর ছেলের দিকে না তাকিয়েই রাফি হেসে বলল, “সাজিদা বসছে ডেস্কে, ও-ই আপনাদের রেজিস্ট্রেশনটা করে দেবে।”

কথাটা এমনভাবে বলা হল, যেন নীল স্টিকারওয়ালা ফাইলটা নিজে নিজেই ঠিক হয়ে গেছে। করিডরের টিউবলাইটে হালকা গুঞ্জন, মাথার ওপর ধীর পাখা, বেঞ্চে গা ঘেঁষে বসা আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা মুখ—সবাই শুনল। মেহরীনের ডান হাতে তখনও রোগীর পুরোনো রিপোর্ট, বাঁ হাতে ফোনের নিচু স্ক্রিন-আলো; ল্যাবের অ্যাপে নামের বানান না মিললে ভেতর থেকে স্যাম্পল তোলে না, সেটা এই লাইনটার মধ্যে সবচেয়ে আগে সে-ই বুঝেছিল। তবু কৃতিত্ব গেল চকচকে ওড়না গুছিয়ে চেয়ারে বসা অস্থায়ী মেয়ে সাজিদার দিকে।

রোগীর ছেলে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, “আপা, আব্বুর শ্বাসকষ্ট, আগে হবে তো?” রাফি জবাব দিল, “হবে, হবে। সাজিদা আছে।” মেহরীন মুখ না তুলে ফাইলের কোণে আঙুল ঠুকল। “জাতীয় পরিচয়পত্রের শেষ দুই সংখ্যা ভুল লেখা। এইভাবে দিলে ভেতর থেকে ফেরত আসবে।” ছেলেটা সঙ্গে সঙ্গে কাগজটা তার দিকে বাড়িয়ে দিল। প্রথম ছোট্ট সরে-আসা এটাই—কথা রাফিকে বলা, কিন্তু কাগজ ধরল মেহরীনের হাতে।

করিডরের কোণের প্লাস্টিকের চেয়ারে তার দুপুরের ভাতের ঠান্ডা হয়ে যাওয়া বক্স পড়ে ছিল; ঢাকনা বেঁকে আছে, ভেতরের ডাল জমে পাতলা চামড়া ধরেছে। সকাল আটটা থেকে দৌড়ে দৌড়ে সে-ই নম্বর মিলিয়েছে, প্রেসক্রিপশন বুঝিয়েছে, ভর্তি ফর্মে কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত রোগীর নামের বানান ঠিক করেছে। কিন্তু সামনে বসার চেয়ারটা রাফি সাজিদাকে দিল—কারণ সাজিদার কথাবার্তা মসৃণ, জামা নতুন, আর তার মামা নাকি এই ক্লিনিকের এক ডাক্তারের পরিচিত।

“মেহরীন, তুমি একটু সাইডে দাঁড়াও তো,” রাফি নিচু স্বরে বলল, কিন্তু এতটাও নিচু নয় যে সামনের বেঞ্চে বসা দুজন খালা শুনবে না। “বাইরের কাগজগুলো আগে গুছাও। ডেস্কটা ওকে নিতে দাও।”

সে কথার সঙ্গে কাজও করল। ডেস্কের ওপরের শিফট শিট টেনে এনে সাজিদার দিকে ঘুরিয়ে দিল, নিজের ক্লিপবোর্ড থেকে ঝোলানো পরিচয়-কার্ডের অতিরিক্ত ক্লিপ খুলে সাজিদার ওড়নার কাঁধে আটকে দিল। যেন ভারটা চেয়ারের সঙ্গে যায়, কাজের সঙ্গে নয়। তারপর মেহরীনের দিকে না তাকিয়েই বলল, “তুমি পেশেন্টের আত্মীয়দের লিস্ট নিয়ে ভেতরে ভেতরে কথা বলে আসো। ওখানে তো তুমি পারো।”

পারে। এইটুকুই তার সর্বনাশ। মেহরীন শিফট-শেষের জড়তা জমে থাকা কাঁধ সোজা করল। “ওই ভদ্রলোকের ফাইলটা আগে ভেতরে নিন,” সে সরাসরি সাজিদাকে বলল, “শ্বাসকষ্টের কেস, আর নামের ভুল আমি ঠিক করে দিলাম।” সাজিদা একটু থমকাল, তারপর কলম চালাতে গিয়ে আবার আটকে গেল। মেহরীন আর দাঁড়াল না। সে পাশের সার্ভিস অ্যালকোভে ঢুকে রক্ত সংগ্রহের গ্লাভস, বারকোড স্টিকার, আর ভেতরের টেকনিশিয়ানের জন্য তালিকা গুছাতে শুরু করল। পিছনে রাফির গলা ভাসল, “সব কন্ট্রোলেই আছে।”

সব কন্ট্রোলে ছিল না। দশ মিনিটের মধ্যে এক বয়স্কা মহিলা চিৎকার করে উঠলেন, “আমার ভাইয়ের রিপোর্ট তো অন্য নামের সঙ্গে চলে গেছে!” বেঞ্চ থেকে লোক উঠে দাঁড়াল, করিডরের গুঞ্জন মোটা হয়ে গেল। সাজিদা রেজিস্টার উল্টেপাল্টে দেখছে, রাফি তার কাঁধের ওপর ঝুঁকে থেকেও কিছু ধরতে পারছে না। ভুলটা আসলে প্রথম ইনটেকেই—দুই ভাইয়ের বাবার নাম এক, জন্মতারিখ উল্টো। নীল আর সবুজ স্টিকারের পার্থক্য বুঝতে না পারলে এমনই হয়।

মেহরীন তখন অ্যালকোভ থেকে বেরিয়ে এল হাতে দুটো বারকোড শিট নিয়ে। “চেয়ারটা ছাড়ুন,” সে রাফিকে বলল, এত ঠান্ডা গলায় যে ওর দিকে তাকাতে হল। রাফি বিরক্ত হাসল। “এখন নাটক কোরো না।” মেহরীন কোনো জবাব দিল না। সে সরাসরি শিফট শিটটা সাজিদার হাতের নিচ থেকে টেনে নিল, ডেস্কের সামনে খালি চেয়ারটায় বসল, আর এক টানে রেজিস্টারের দুই পৃষ্ঠা পাশাপাশি খুলে দিল। “বাবার নাম হাবিবুর রহমান দুজনেরই। জন্মসাল চুয়ান্ন আর ছাপ্পান্ন। যার কৃষি অফিসের আইডি আছে, তার ফাইল এইটা।” বয়স্কা মহিলা হাঁ করে তাকিয়ে থাকলেন। রোগীর ছেলে কাগজ এগিয়ে দিল। মেহরীন দুই লাইনে কেটে নতুন নম্বর বসাল, ভেতরে ফোন করল, “ভুল স্টিকার গেছে, এখনই থামান, নতুন বারকোড পাঠাচ্ছি।” তারপর ট্রলির উপর নতুন ফাইল সাজিয়ে বলল, “এইটা আগে। অক্সিজেন নেওয়া লাগলে সময় নষ্ট হবে।”

ঘটনাটা এত দ্রুত হল যে রাফির “এক মিনিট” বলারও ফাঁক রইল না। ফাইল ফিরল, লোকজন বসল, লাইন আবার নড়ল। মেহরীন উঠে গেল না। সাজিদা চুপচাপ নিজের হাত সরিয়ে নিল, তার কাঁধে ঝোলানো ক্লিপটা কেমন অস্বস্তিকর হয়ে পড়েছে বুঝতে পারা যাচ্ছিল। প্রথমবার করিডরের চোখগুলো কাজের দিকে পড়ল, মুখের দিকে নয়।

কিন্তু স্বস্তি টিকল কম। আছরের আগে আগে একটা দল এসে ঢুকল—সামনে সাদা দাড়িওয়ালা এক বৃদ্ধ, পেছনে তিনজন ছেলে, দুজন বউমা, আর মাঝখানে স্ট্রেচারে আধশোয়া রোগী। সাথে সাথে বেঞ্চের কয়েকজন উঠে জায়গা ছাড়ল। কেউ ফিসফিস করে বলল, “নাবিলা খালার ভাশুরের শ্বশুর।” আত্মীয়তার এই ধাঁধা ঢাকা শহরের যে-কোনো করিডরে দরজা খুলে দেয়।

নাবিলা খালা নিজেই খানিক পর এসে হাজির। গায়ে ধূসর জামদানি, হাতে ভারী ব্যাগ। ঢুকেই রাফিকে বললেন, “বাবা, একটু দেখে দাও তো, এরা আমাদের মানুষ। এত ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকবে কী করে?” তারপর তার চোখ মেহরীনের ওপর গিয়ে থামল, থেমেও যেন না-থামা ভঙ্গিতে। “ও আছে নাকি? ওকে বাইরে দৌড়ের কাজ দাও। সামনের টেবিলে একটু ছিমছাম কাউকে রাখলে লোকজন ভরসা পায়।”

ছিমছাম। মেহরীন শুনল। সাজিদাও শুনল। রাফি শোনার ভান না করে কাগজ নিল। এই বৃদ্ধ-সংযুক্ত দলটার সামনে ভুল হলে গল্প বাড়ি পর্যন্ত যাবে; কারা কাকে কোথায় বসায়, কে কাকে কতটা মানুষ মনে করে—সবই সেখানে আলাদা মানে পায়। করিডরের বাতাস আরও ঘন হয়ে উঠল।

ইমতিয়াজ, ভেতরের টেকনিশিয়ান, অ্যালকোভের পর্দা সরিয়ে মাথা বের করল। “কার্ডিয়াক মার্কার, সুগার, আর তাড়াতাড়ি ইসিজি লাগবে। আগে ইনটেক ঠিক না হলে আমি কিছু তুলব না।” রাফি বলল, “হচ্ছে তো।” মেহরীন দেখল, বৃদ্ধের দলের বড় ছেলে কাগজে সই করতে গিয়ে থমকে গেছে। ভর্তির ফর্মে রোগীর বয়স এক জায়গায় বাষট্টি, অন্য জায়গায় সাতষট্টি। আর পুরোনো রিপোর্টে নামের সঙ্গে “হুজুর” যোগ করা, নতুন ফর্মে নেই। এই ক্ষুদ্র জিনিসগুলোতেই এখানে ঝামেলা বাঁধে; আত্মীয়রা ধরে বসে, “এটা কি আমাদের আব্বা না?”

নাবিলা খালা এবার আরেকটু কাছে এসে, অন্যদের শোনানোর মতো করেই বললেন, “রাফি, তুমি সামলাও। মেয়েটা ভালো, কিন্তু সামনের চাপ সবার জন্য না।”

রাফি তাড়াহুড়োয় গলায় দৃঢ়তা আনতে গিয়ে উল্টো ভুল করল। সে সাজিদাকে বলল, “দ্রুত নাও।” সাজিদা বৃদ্ধের ছোট ছেলের নাম রোগীর জায়গায় লিখে ফেলল। সাথে সাথে পেছন থেকে এক বউমা চড়া স্বরে উঠল, “এটা কী! আমাদের আব্বাকে ছেলের নামে ভরতি করবেন?” বৃদ্ধের লাঠি মেঝেতে ঠুকল। করিডরের টিউবলাইটের গুঞ্জনের ভেতরেও সেই ঠকাঠক আলাদা শোনা গেল।

রাফির কপালে ঘাম চিকচিক করছিল। সে একবার নাবিলা খালার দিকে, একবার বৃদ্ধের ছেলেদের দিকে, একবার সাজিদার কাঁপা কলমের দিকে তাকাল। লাইন এদিকে থেমে গেছে; পেছনে আরও রোগী জমে উঠছে। ইমতিয়াজ পর্দার ফাঁক দিয়ে বিরক্ত মুখে দাঁড়িয়ে। এই থামা যদি পাঁচ মিনিট ছাড়ায়, ভেতরের সংগ্রহ, বাইরের ফর্ম, বিল—সব একসঙ্গে জট পাকাবে।

মেহরীন চুপচাপ দাঁড়িয়েই ছিল। তাকে কেউ ডাকেনি। সে এগোলও না। রাফি তখন নিচু স্বরে বলল, “তুমি একটু দেখো না।” মেহরীন তাকাল না। “আমি তো সাইডের কাজ করি।” এই একটুকু বাক্যেই ওর গলায় প্রথমবার তাড়া ধরা পড়ল। “মেহরীন।” সে এবার সোজা তাকাল। “শিফট শিট, ক্লিপ, আর চেয়ার ফেরত দিন। না হলে আপনি নিজেই করুন।”

কথাটা জোরে বলা হয়নি, তবু শুনে ফেলল কাছের সবাই—কারণ আশেপাশে আর কোনো শব্দই ঠিকমতো এগোচ্ছিল না। নাবিলা খালা ঠোঁট চেপে ধরলেন। রাফি দু-সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইল, যেন এই ছোট্ট কাজটা—একটা ক্লিপ খুলে দেওয়া—তার নিজের মান-ইজ্জতের চেয়ে বড় হয়ে গেছে। তারপর সে সাজিদার কাঁধ থেকে পরিচয়-কার্ডের ক্লিপ খুলে নিল। ধাতব মাথাটা তার আঙুলে একবার খচখচ করল। শিফট শিটটাও টেনে তুলে মেহরীনের দিকে বাড়িয়ে দিল। “নাও।”

মেহরীন হাত বাড়াল, কিন্তু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই নিল না। সে সামনে এগিয়ে এসে ডেস্কের একেবারে ধার ঘেঁষে দাঁড়াল, ক্লিপটা নিজের কামিজের বুকের কাছে আটকাল, শিফট শিটটা কাউন্টারের ওপর বিছিয়ে দিল, তারপর চেয়ার টেনে বসল। এই বসাটা এমন ছিল, যেন করিডরের ভার আবার সোজা জায়গায় নেমে এল।

“রোগীর নাম পুরো লিখুন,” সে বড় ছেলেকে বলল। “যেভাবে পুরোনো রিপোর্টে আছে, সেভাবেই। ‘হুজুর’ লাগলে লাগবে, না লাগলে বাদ। কিন্তু দুই জায়গায় দুইরকম হবে না।” তারপর বউমার হাত থেকে প্রেসক্রিপশন নিল, বৃদ্ধের নাড়ি ধরে থাকা ছেলেটাকে বলল, “আপনি মাথাটা একটু উঁচু করুন।” ইমতিয়াজকে ডেকে দিল, “ইসিজির কাগজ রেডি রাখেন। ইনটেক এখনই যাচ্ছে।” তিন লাইনের মধ্যে সে বয়স, ঠিকানা, আগের রিপোর্ট নম্বর, বিল ফর্ম—সব মিলিয়ে ফেলল। এক জায়গায় থেমে বড় ছেলেকে বলল, “আপনার নম্বরটা এখানেই দিন, ভেতর থেকে ডাকলে একজনই যাবেন। দশজন গেলে আরও দেরি হবে।”

কেউ প্রতিবাদ করল না। বরং বৃদ্ধের লাঠি এবার আর ঠুকল না; সেটা তার হাঁটুর সঙ্গে নীরব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। নাবিলা খালা একবার মেহরীনের হাতের দিকে তাকালেন—দ্রুত, অভ্যস্ত, থামাহীন। সাজিদা সরে গিয়ে বেঞ্চের পাশে দাঁড়াল, মুখে একরকম লজ্জা আর স্বস্তির মিশ্র ছাপ। রাফি পাশ কাটিয়ে লোকজনকে পথ ছাড়তে বলছে, কিন্তু আর সামনের সুর তার নয়।

লাইন আবার চলতে শুরু করল। এক রোগীর কাগজ থেকে আরেক রোগীর ফর্মে, বিল থেকে নম্বরে, নম্বর থেকে ভেতরের ট্রেতে—মেহরীনের হাতের নড়াচড়া করিডরের জট খুলে দিল। সে কোনো নাটক করল না; শুধু একটার পর একটা ভুল বন্ধ করল। কে আগে, কে পরে, কার স্যাম্পল এখন, কার রিপোর্ট পুরোনো—সব যেন তার আঙুলের ডগায় জায়গা খুঁজে নিল। রাফি দুবার কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেল; শেষে শুধু দরকারি কাগজ এগিয়ে দিতে লাগল।

হঠাৎ পেছন থেকে এক ছোট মেয়ে কেঁদে উঠলে মেহরীন চেয়ার ছেড়ে ওঠেনি; পাশের আয়াকে ইশারায় পানি আনতে বলেছে, হাতের কাজ থামায়নি। এই দেখাটাই বদলে দিল সবচেয়ে বেশি—সে ভাঙা লাইন জোড়া দিতে পারে, আর সেই জোড়া দেওয়া না থাকলে বাকিরা কেবল আওয়াজ বাড়ায়। করিডরের লোকজন এটা বুঝল কথায় নয়, অপেক্ষার সময় কমে যাওয়ায়।

শেষ জরুরি ফর্মটায় সই নিয়ে সে ইমতিয়াজের হাতে দিল। ভেতরের পর্দা নড়ে বন্ধ হয়ে গেল। পেছনের চাপ খানিক নরম হলো। রাফি তখন খুব আস্তে বলল, “আর দুইটা কেস, তারপর আমি নেব?” মেহরীন শিফট শিটে চোখ রেখেই বলল, “আপনি বাইরে বিলের লাইনটা ঠিক করুন।” সে-ই প্রথমবার রাফিকে কাজ ভাগ করে দিল। রাফি কিছু বলল না। শুধু মাথা নেড়ে সরে গেল।

আরও পাঁচ মিনিট পরে, করিডরের ভিড় পাতলা হলে মেহরীন চেয়ার থেকে উঠল। অ্যালকোভে ঢুকে হাত ধুয়ে নিল। সিঙ্কের ওপরে ঝোলানো ছোট র‍্যাকে গ্লাভসের জোড়া ছিল দুটো; এক জোড়া সে ব্যবহার করেছে, আরেকটা রিজার্ভ। সে ভেজা হাত ঝেড়ে নিজের ব্যবহৃত গ্লাভস জোড়া খুলল। আঙুলের ডগায় এখনও পাউডারের হালকা গন্ধ, করিডরের আলো এখনও গুনগুন করছে, কোণের ঠান্ডা ভাতের বক্সটা যেমন ছিল তেমনই পড়ে।

মেহরীন গ্লাভস জোড়া র‍্যাকের ছায়ায় ঝুলিয়ে দিল। রাবারটা তার তালু ছুঁয়ে নরম করে টুপ করে ফিরে লাগল।