Fast Fiction

আসল শিফটের মালিক আবার ফিরল

“মৌরি, ওই ফাইলটা ধরো—আর লাইনে কাদের আগে ঢোকাতে হবে, সেটা তুমি বাইরে দাঁড়িয়ে বুঝিয়ে দাও। ডেস্কে আমি আছি।”

রাইসা ভাবি কথাটা বলেই রেজিস্টার টেবিলের পেছনে বসে পড়ল, যেন বসাটাই কাজ। কিন্তু রোগীর নাম, মোবাইল নম্বর, পুরোনো স্লিপ, কোন কৃষি-স্বাস্থ্য ক্যাম্প থেকে রেফার এসেছে, কার রিপোর্ট আজ, কার কাল—সবকিছুই তখন মৌরির দুই হাতে ঘুরছে। এক হাতে কাগজ, অন্য হাতে কলম; কাঁধে নীল এপ্রোনের ফিতা কেটে বসেছে; তার নিজের দুপুরের ভাতের বক্সটা টেবিলের নিচে ঠান্ডা হয়ে আছে। করিডরের সাদা বাতির একটানা গুঞ্জন আর ভিজে স্যান্ডেলের শব্দের মধ্যে সে মাথা না তুলেই বলে গেল, “চাচা, আগে রক্তচাপ লিখান, তারপর নাম। খালা, আপনার স্লিপটা দেন। নাবিলা, এই কাগজে সই নাও।”

ডেস্কে বসে রাইসা শুধু সামনে তাকিয়ে হাসছিল। আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা লোকজন এলে সে একটু সোজা হয়ে বসত, শাড়ির আঁচল টেনে নিত, তারপর বলত, “আমাদের ক্লিনিকে ভিড় খুব। একটু সময় লাগবে।” যেন ভিড়টা সে সামলাচ্ছে। অথচ ভিড়ের মাথাগুলো কোন দিকে ঘুরবে, কার বাচ্চার জ্বর আগে, কার চাষের কীটনাশক লেগে ত্বক পুড়েছে, কার কাগজ হারিয়েছে—সবাই জিজ্ঞেস করছে মৌরিকেই।

মৌরি অভ্যস্ত। তবু আজকের সন্ধ্যাটা অন্যরকম লাগছিল, কারণ সজলের খালা এসেছেন। তার মানে শুধু রোগী না, চোখও বেশি। এই ক্লিনিকটা সজলের মামার পরিচিত এক ডাক্তারের; মৌরি এখানে পার্ট-টাইম শিফটে থাকে, কলেজ শেষে। কয়েক মাস আগে সজলই ব্যবস্থা করেছিল, কিন্তু কখনও সেটা বড় করে বলেনি—কারণ বললেই প্রশ্ন বাড়ে, “মেয়েটার সঙ্গে তোমার কী?” তাই সবকিছুই মাঝরাস্তায় রাখা। কাজ আছে, নাম নেই। দরকার আছে, মর্যাদা ধার করা।

“এই যে,” রাইসা খালার দিকে তাকিয়ে বলল, “মৌরি নতুন। একটু ধীরে করে। আমি না থাকলে এরা সব উল্টাপাল্টা করে ফেলে।”

কথাটা এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল যে কেউ না জানলে বিশ্বাস করেই বসে। খালা চশমার ওপর দিয়ে একবার মৌরির দিকে তাকালেন। সেই তাকানোয় অবিশ্বাস কম, মাপঝোক বেশি। মৌরির গলায় কাঁটা বেঁধে গেল; কিন্তু সে জবাব দিল কাজ দিয়ে। রেজিস্টারের পাশের আলগা স্লিপগুলো তার দিকে টেনে নিয়ে সে এক নিঃশ্বাসে চারজনের কাগজ সাজিয়ে দিল—পুরোনো নম্বর, নতুন নম্বর, ফলো-আপ আলাদা। তারপর নাবিলাকে বলল, “এইগুলা একসাথে ভেতরে নিও না। প্রথমে ইমদাদ চাচা, তারপর বাচ্চাওয়ালা খালা।”

নাবিলা থমকাল। “আপা, আপনি দিলে আমি বুঝি।”

ওই সামান্য বাক্যটাই ছিল প্রথম ছোট ফেরত—টেবিল রাইসার, কিন্তু চলাচল এখনো মৌরির নির্দেশে। রাইসা সেটা টের পেল। ঠোঁটের হাসি শক্ত হয়ে গেল।

“তুমি এত নির্দেশ দিচ্ছ কেন?” সে নিচু গলায় বলল। “তোমাকে যা বলা হয়, তা করলেই হয়।”

তারপরই সে ঠাস করে একটা মোটা ফাইলের গুচ্ছ মৌরির হাতে ধরিয়ে দিল। “এগুলো পুরোনো কার্ড বের করো। আর বাইরে যে তিনজন দাঁড়িয়ে আছে, তাদের অগ্রিম টাকা নাও। আমি খালার সঙ্গে একটু কথা বলি।”

মৌরি মাথা তুলল। “অগ্রিমের খাতা তো আপনার কাছে।”

“তাহলে নিয়ে যাও না। সবই কি আমি মুখে বলব?”

বলতে বলতেই রাইসা খাতাটা নিজের কনুইয়ের পাশে আটকে রাখল। কাজ ঠেলে দিল, হাতিয়ার দিল না। কাছেই সজল দাঁড়িয়ে ছিল; ডাক্তারকে একটা ফোন ধরিয়ে দিয়ে সে দৃশ্যটা দেখল, কিন্তু এগিয়ে এল না। পারলও না—খালা সামনে, রাইসা তার ভাবি, আর মৌরি কাগজ হাতে দাঁড়িয়ে। ঢাকা শহরে অনেক অপমান চড়া গলায় হয় না; টেবিলের কোন পাশে কে বসে আছে, সেটাই যথেষ্ট।

মৌরি তখনও কাজ থামাল না। কাউন্টারের বাঁ-দিকের ড্রয়ার থেকে সে দ্বিতীয় খাতা বের করল, যেটা কেউ মনে রাখে না কিন্তু সব মিল মেলে সেখানেই। “চাচা, তিনশো আগে দেন। নাম লিখে রাখছি। খালা, আপনার টাকা পরে, আগে ভেতরে যান।” এই দ্রুততায় লাইনের শেষপ্রান্ত নড়ে উঠল। সজল শুধু একবার খুব সামান্য মাথা নুইয়ে তাকাল—ধন্যবাদও না, পক্ষও না—তবু সেই দৃষ্টিতে ছিল, সে দেখেছে।

রাইসা সেটা আরও খারাপভাবে নিল। সে হঠাৎ চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “এই যে, এই রিপোর্ট কার? কে হারিয়েছে? সবকিছু ছড়িয়ে ফেলো, তারপর আমাকে সামলাতে হয়!”

হাতে ধরা রিপোর্টটা আসলে সে নিজেই একটু আগে খালার সামনে জায়গা করতে সরিয়েছিল। কিন্তু কথাটা এমন জোরে বলল যে বেঞ্চে বসা দুইজন মুখ তুলে তাকাল। মৌরির হাতের ফাইলগুলো ভারী হয়ে উঠল। সে শুধু বলল, “রিপোর্টটা আপনার কনুইয়ের নিচে।”

রাইসা নিচে তাকিয়ে এক মুহূর্ত থামল, তারপর আরও রেগে গিয়ে রিপোর্টটা তুলে নিল। “তাহলে আগে বলো না কেন?”

কেউ হাসল না, কেউ কিছু বলল না। কিন্তু নাবিলা খুব আস্তে খাতাটা মৌরির কাছে আরেকটু সরিয়ে দিল। ওইটুকুই যথেষ্ট ছিল বোঝার জন্য—ঘরের ভেতর সবাই একই গল্পে বিশ্বাস করছে না।

এর মাঝেই করিডরের আলো একবার টিমটিম করে উঠল। পাখার ঘূর্ণিতে কাগজের কোণা কাঁপল। ভেতর থেকে নার্স বেরিয়ে এসে বলল, “কৃষি-স্প্রে লেগে যে ছেলেটা এসেছে, ওর রেজিস্ট্রেশন নম্বর নাই। ডাক্তার এখনই দেখতে বলছে। কে নিয়েছে?”

রাইসা মুখ খুলে বলল, “আমি—” তারপর থেমে গেল। কারণ সে নামই লেখেনি। ছেলেটাকে সে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখেছিল, পরে করবে ভেবে। কিন্তু ওর বাবার পাঞ্জাবিতে শুকনো কাদা, হাতে পাটের দড়ির দাগ—দূর থেকে এসেছে বোঝাই যায়—আর এখন ছেলেটার গলায় লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে গেছে।

লাইন থেমে গেল। ভেতরের দরজা আধখোলা, সবাই কাগজ চায়, নম্বর চায়, আগের ওষুধের হিসাব চায়। রাইসা দ্রুত রেজিস্টার উল্টেপাল্টে দেখল, কিছুই নেই। তার কপালে ঘাম জমল। “এক মিনিট, আমি করছি,” সে বলল, কিন্তু কী করছে, সেটাই বোঝা গেল না।

মৌরি তখন আর তাকিয়ে থাকল না। সে বাবাটার হাত থেকে কুঁচকে যাওয়া রেফার স্লিপটা নিল, একটা পুরোনো কৃষি-শিবিরের সিল চিনল, নাবিলাকে বলল, “সবুজ ফাইলের গুচ্ছটা দাও।” তারপর সোজা রাইসার পাশ দিয়ে হাত বাড়িয়ে শিফটের সাদা কাগজটা টেনে নিল—আজ কে এসেছে, কত সিরিয়াল গেছে, জরুরি কারা—সব লেখা থাকার কথা ওই পাতায়। পাতাটা এতক্ষণ রাইসার সামনে ছিল, প্রায় খালি।

“নাম?”

“জাহিদ।”

“বয়স?”

“বারো।”

মৌরি লিখতে লিখতে বলল, “নাবিলা, ওকে ভেতরে নাও। পুরোনো ক্যাম্প নম্বর দাগ দাও। চাচা, টাকা পরে দেবেন।” বাবাটা হতভম্ব হয়ে বলল, “কিন্তু—” মৌরি তার দিকে না তাকিয়েই বলল, “পরে।”

ওই ‘পরে’ শব্দটা লাইনে ঢেউ তুলল। জরুরি কে, কাকে আগে, তা এক সেকেন্ডে স্থির হয়ে গেল। ভেতরের নার্স আর প্রশ্ন করল না। নাবিলা কাগজ নিয়ে দৌড়ে গেল। রাইসা বলল, “শিফট শিটটা রাখো, আমি লিখছি।” তার গলায় এবার আগের কর্তৃত্ব ছিল না, তাড়া ছিল।

মৌরি পাতাটা নিজের দিকে রেখে কেবল বলল, “এখন ভুল হবে।”

বাক্যটা ছোট, ঠান্ডা। ঝগড়া নয়। কিন্তু টেবিলের দুই পাশ আলাদা হয়ে গেল। সজল তখন খালার পাশে থেকে সরে এসে দাঁড়িয়েছে। সে মৌরির সামনে টাকা নেওয়ার বাটিটা রাখল, তারপর আর কিছু না বলে পিছনের বেঞ্চ সরিয়ে দিল, যেন লাইনের পথ পরিষ্কার হয়। খালা এবার দ্বিতীয়বার তাকালেন; আগের মাপঝোকের বদলে এবার চোখে হিসাব মিলল।

দুর্ভাগ্য থামল না। পাঁচ মিনিটের মধ্যে আরেকজন রোগীর স্বামী চিৎকার শুরু করল—তার স্ত্রীকে ভেতরে নেওয়া হয়েছে কিন্তু ফাইল নেই। রাইসা তাড়াহুড়োয় দুজনের প্রেসক্রিপশনের খাম অদলবদল করেছে। সেই ভুলে ডাক্তার ভেতর থেকে লোক পাঠালেন। করিডরের বাতির গুঞ্জন যেন আরও জোরে উঠল; বেঞ্চে বসা শিশু কেঁদে উঠল; ঠান্ডা ভাতের বক্স থেকে হালকা ভাপ-ছাড়া গন্ধ বেরোচ্ছে, দীর্ঘ সময়ের পরিত্যাগের মতো।

রাইসা এবার সত্যিই বিপদে পড়ল। সে এদিক-ওদিক খুঁজে, মানুষের সামনে হকচকিয়ে, বারবার বলছিল, “একটু দাঁড়ান, একটু দাঁড়ান।” কিন্তু দাঁড়ানোর সময় ফুরিয়ে গেছে। যে লোকটা চিৎকার করছিল, সে বলল, “এই আপাটারে দেন, এইডাই তো সব জানে।” সে আঙুল তুলেছিল মৌরির দিকে।

রাইসা কেমন যেন তেতে উঠে বলল, “মৌরি, এটা সামলাও তো।”

এই ‘সামলাও তো’ কথাটা আগের মতো আদেশের ভঙ্গিতে এল না। তবু সে পুরোনো সুরে টেনে নিতে চাইল, “এই মেয়ে, তাড়াতাড়ি—”

মৌরি খাম দুটো পাশাপাশি রেখে নাম মিলিয়ে দেখছিল। সে চোখ না তুলেই বলল, “আমার নাম বলেই ডাকবেন। আর যেটা আমি নেব, সেটা আমি শেষ করব।”

এক মুহূর্তে কারও মুখ পুড়ল না, কেউ লজ্জায় মাটিতে মিশে গেল না; কিন্তু রাইসার পরের কথাটা বেরোতে একটু দেরি হল। এই দেরিই যথেষ্ট। সজল তখন খুব ছোট্ট এক কাজ করল—রেজিস্টারের পাশে থাকা কলম, সীল আর নগদের খাতা টেনে মৌরির হাতের নাগালে এনে রাখল। যেন টেবিলের ভাষা বদলে গেল।

তারপর থেকে সব দ্রুত। মৌরি ভুল খাম আলাদা করল, দুজন রোগীর নাম নতুন করে ধরে মিলাল, ভেতরে ফোন দিল না—সরাসরি নার্সকে বলল, “এই রোগীর ডোজ থামান, ফাইল বদলেছে।” নার্স তার মুখের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ল। লাইন আবার ছোট ছোট ভাগে নড়ল। কে ভেতরে যাবে, কে অপেক্ষা করবে, কে টাকা পরে দেবে—সব শোনা যেতে লাগল একজায়গা থেকে। শিফটের সাদা পাতাটা এখন তার বাম হাতে, ডান হাতে রসিদখাতা। তার এপ্রোনের কোমরের কাছে কুঁচকে থাকা ভাঁজটা আরও গাঢ় হয়েছে; দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার শক্ত কাঠিন্য তার কাঁধে বসে আছে; তবু চলাফেরায় আর অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো নেই।

রাইসা পাশে দাঁড়িয়ে প্রথমে কিছু বলতে চেয়েছিল। পরে বলল, “খালার কাগজটা আগে—”

মৌরি খালার রিপোর্ট দেখে শান্ত গলায় উত্তর দিল, “ওনাকে দশ মিনিট পরে নিলে ঠিক হবে। আগে জাহিদের অবস্থা দেখুক।” কথা বলার সময় সে ‘আপনার খালা’ বলেনি, ‘আমার খালা’ও না। শুধু রোগীর ক্রম বলেছে। এইটুকুতেই সীমানা উঠে গেল—সম্পর্ক নয়, কাজ আগে।

খালা নিজেই বললেন, “আমার তাড়া নাই। আগে বাচ্চাটারে দেখাক।”

সজল তখনও চুপ। কিন্তু চুপ করাটাও এবার আগের মতো না। সে দরজার ভিড় সরাচ্ছিল, এক বৃদ্ধকে বসার জায়গা করে দিচ্ছিল, আর যখনই কেউ জিজ্ঞেস করছিল, “কার কাছে কাগজ দেব?” সে একবারও রাইসার দিকে আঙুল তোলে না। শুধু বলছিল, “ওইখানে দেন।”

‘ওইখানে’ মানে ছিল মৌরির টেবিলের দিক।

একসময় এতক্ষণকার জমে থাকা বিশৃঙ্খলা থিতু হয়ে এল। ভেতর থেকে ডাক্তার আর তাড়াহুড়োর লোক পাঠালেন না। নাবিলা এসে খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করল, “আপা, পরের তিনজন?” মৌরি নাম বলে দিল। টাকা গোনার বাটি, সীল, রেজিস্টার, শিফটের পাতাটা—সব তার সামনে এমনভাবে সাজানো যে কারও আলাদা করে ঘোষণা দরকার নেই। রাইসা এবার বসার চেয়ারটা টেনে নিলেও তাতে আর কেন্দ্র ফেরত এল না। বসার জায়গা তার, শিফটের ভার না।

সজল এক ফাঁকে খুব নিচু গলায় বলল, “পানি খাবা?”

মৌরি চোখ না তুলে বলল, “এই লাইনটা নামুক।”

সে অনুরোধও নিল না, অভিমানও দেখাল না। তার নিজের শর্তের বাইরে কিছু না। তবু সজল প্লাস্টিকের গ্লাসে পানি এনে রেজিস্টারের ডান পাশে রেখে দিল, যেখানে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়, বাধ্যবাধকতা ছাড়া। মৌরি একটু পরে সেটাই খেল।

রাত যখন গাঢ় হল, শেষ রোগীর টাকা বুঝিয়ে দিয়ে মৌরি শিফটের পাতায় নিচের হিসাব টেনে দিল। আজকের জরুরি তিনজনের পাশে লাল দাগ, বাকি দুজন ফলো-আপ, অগ্রিম বাকি কারা—সব পরিষ্কার। সে পাতাটা বন্ধ করল না; ভাঁজও করল না। শুধু সোজা করে নিজের ফাইলের উপর রাখল। নাবিলা চাবি জিজ্ঞেস করলে সে দিল, তারপর নিজের এপ্রোন খুলে ভাঁজ না করে হাতে রাখল। দীর্ঘ শিফটের শেষে কাপড়ে যে শক্ত উষ্ণতা জমে, তা কোমরের কাছে আটকে আছে।

বাইরে বেরোতে বেরোতে করিডরের আলো এখনো গুনগুন করছে। সিঁড়ির মোড়ে সজল দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু মৌরি থামল না। বাড়ি ফিরে বারান্দার ধোয়ার দড়ির কোণে সে এপ্রোনটা তুলে ঝুলিয়ে দিল। কোমরের ভাঁজটা সোজা হল না; কাপড়টা সেখানে এখনো গরম রইল।