পুরনো রেজিস্টারই মুখ খুলল
রিজওয়ানা ভাবি মেহরীনের হাতে ধরা মিষ্টির বাক্সটা দরজার চৌকাঠেই ঠেলে নামিয়ে দিলেন। “তুমি ভেতরে উঠবা না। অতিথি বসছে, আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা মানুষ আছে। কেয়ারটেকারের মেয়ে বলে নাম লেখা আছে নিচে—তোমার সীমা বুঝো।”
সিঁড়ির মাথার আলোটা হলদে, নিচে ভবনের অফিসঘরের কাচে টাঙানো ঈদের দাওয়াতের তালিকা চিকচিক করছে। দরজার ভেতর থেকে গরম কাবাবের গন্ধ, থালার শব্দ, খালাদের চাপা গলা। মেহরীনের ডান কাঁধে সারাদিনের দৌড়াদৌড়ির শক্ত হয়ে থাকা টান, কামিজের হাতায় ভাঁজ পড়ে আছে। সে মিষ্টির বাক্সটা তুলল না। শুধু নিচু হয়ে বাক্সের পাশ থেকে সরে যাওয়া সাদা কাগজটায় চোখ রাখল—দাওয়াতের তালিকায় মোটা অক্ষরে লেখা, “ফ্ল্যাট ৬বি: রিজওয়ানা, সোহেল, পরিবার।” আর এক কোণায় নীল কলমে কেটে লিখে দেওয়া, “মেহরীন—অফিস সহায়তা।”
“অফিস সহায়তা?” সে ঠান্ডা গলায় বলল।
রিজওয়ানা ভাবি গলায় ওড়না চেপে ধরলেন, যেন শালীনতার দায়ও তারই। “তুমি তো নিচে বসে রেজিস্টার সামলাও, বাজার আনো, লোক ঢোকাও। সবাইকে কি সবকিছু খুলে বলতে হয়? যাও, চা পাঠাও। খালা এসে জিজ্ঞেস করলে বলব তুমি কাজে আছ।”
ভেতর থেকে সাব্বির এক পা এগিয়ে এসে থামল। মুখে সেই কাঁচা দ্বিধা, যা সবসময় অন্যের সুবিধামতো নরম হয়ে যায়। “মেহরীন, এখন না—পরে কথা বলি।”
এই “পরে” শব্দটাই মেহরীনের গায়ে সবচেয়ে অপমানের মতো লাগে। পাঁচ বছর ধরে সে এই ভবনের নিচতলার ছোট অফিসঘরে ভাড়ার খাতা লিখেছে, মালিকের কৃষি জমির খাজনার কাগজ আলাদা ফাইলে গুছিয়েছে, কার বাসায় কোন আত্মীয় উঠল তা পর্যন্ত মনে রেখেছে। অথচ উপরে, মানুষজনের সামনে, তাকে এমনভাবে নামিয়ে দেওয়া হলো যেন সে ভুল জায়গায় উঠে আসা কোনো কাজের মেয়ে। সে এবার বাক্সটা হাতে নিল না; কাচের বোর্ডের দিকে ঘুরে দাঁড়াল।
নিচে নেমে অফিসঘরে ঢুকতেই কাশেম দারোয়ান গরম চায়ের কাপটা কাউন্টারের সরু ধারে সরিয়ে রাখল। চা এতক্ষণে ঠান্ডা হয়ে ওপরে সর পাতলা চামড়ার মতো জমেছে, কাপের নিচে গোল দাগ পড়ে আছে। কাউন্টারের কিনারা ভরা—স্ট্যাম্পপ্যাড, চাবির রিং, ভাড়ার খাতা, পুরোনো ভিজিটিং কার্ড। কাশেম ফিসফিস করে বলল, “আপা, ছাইড়া দেন। আজকে অতিথি আছে।”
মেহরীন কাচে লাগানো তালিকাটা খুলে হাতে নিল। কাগজের নিচে পিনের পুরোনো দাগ। তার চোখ আটকে গেল আরেক লাইনে—“বিশেষ উপস্থিতি: হবু কনে পক্ষ।” এর নিচে নাম নেই। নেই, কারণ বিকেলের আগে পর্যন্ত সবাই জানত মেহরীনকে একবার ওপরে ডাকা হবে, শুধু পরিচয়ের ভাষা ঠিক ছিল না। এখন সেটাও কেটে দেওয়া হয়েছে।
রিজওয়ানা ভাবি সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলেন, হাইহিলের টোকায় টোকায় অধৈর্য। “কাগজে হাত দিও না। এটা বাসার ব্যাপার।”
“বাসার?” মেহরীন কাগজটা ভাঁজ না করেই উল্টে দিল। পেছনে ভবনের লেটারহেড, নিচে অফিসের সিল। “তাহলে অফিসের কাগজে বাসার নাম কেন?”
ভাবি এবার কাশেমকে দেখালেন, “দেখছেন? এই জন্যই ওকে সীমা বুঝাইতে হয়। রেজিস্টারে যেমন আছে, তেমনই লেখা হয়েছে।”
প্রথম আঘাতের পর এটাই ছিল প্রথম ফাঁক—রেজিস্টার। একটা লেখা জিনিসকে সামনে এনে তিনি নিজেই পথ খুলে দিলেন। মেহরীন তালিকাটা রেখে সোজা রেজিস্টারের দিকে হাত বাড়াল। রিজওয়ানা ভাবি তড়িঘড়ি খাতা টেনে নিতে গিয়ে বুঝলেন, কাশেম ইতিমধ্যে খাতাটা তার দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে; প্রতিদিনকার ভাড়াটিয়ার নাম লেখার অভ্যাসে এই নড়াচড়া তার হাতের নিজস্ব।
মোটা খাতার প্রথম পাতায় বর্তমান বাসিন্দাদের তালিকা। ৬বি-র নিচে সোহেল আহমেদ, স্ত্রী রিজওয়ানা, মা, অতিথি। আর তার নিচে আরেক লাইনে ছোট অক্ষরে—“মেহরীন—অফিস সহায়তা, নিচতলা।” কালির রং আলাদা, লেখাও নতুন। মেহরীন আঙুল দিয়ে দাগ টেনে বলল, “এটা তিন মাস আগের লেখা। আগের পাতাগুলো দিন।”
“পুরোনো পাতা কেন?” ভাবির গলায় এবার হালকা কাঁপুনি। “এখন যা আছে সেটাই ধরা হবে।”
কাশেম মুখ নিচু করেও খাতা বন্ধ করল না। মেহরীন নিজেই পাতা উল্টাতে লাগল। তার নখের নিচে কালি, চোখের নিচে নির্ঘুমতার ছাপ, কিন্তু হাত একবারও কাঁপল না। ছয় মাস আগের পাতায় ৬বি-র পাশে আলাদা ভাড়াটিয়া-ফাইল নম্বর। আরও পেছনে গেলে এক বছর আগের নোট—“মেহরীন আক্তার, অভিভাবক মৃত মোতালেব হোসেন, স্থায়ী পরিবারের উত্তরাধিকারভুক্ত কক্ষ—অস্থায়ী সুরক্ষায়।” শব্দগুলো খসখসে, পুরোনো হিসাবরক্ষকের হাতের লেখা। ঠিক তার নিচে অন্য কলমে কেটে দিয়ে লেখা—“রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা।”
রিজওয়ানা ভাবি এবার বললেন, “ওসব পুরোনো ভুলভাল খসড়া। মালিক বদলেছে, ব্যবস্থা বদলেছে।”
মেহরীন সঙ্গে সঙ্গে আরেকটা পাতায় থামল। “মালিক বদলেছে? এই সিল তো বদলায়নি।” সে পাতাটা উঠিয়ে আলোয় ধরল। একই সিল, একই নম্বর। শুধু তার নামের উপর ঘষার দাগ, কাগজ পাতলা হয়ে গেছে। উপরের নীল কালি নতুন, নিচের কালো কালি অনেক পুরোনো। কাউন্টারের ওপরে সবাইকে দেখানোর মতো উঁচু করে ধরা মাত্রই ভাবির মুখে সেই বিরক্ত আত্মবিশ্বাসটা চুপসে গেল।
উপরে থেকে সাব্বির নেমে এসেছে, তার খালা পেছনে। খালার হাতে আতরের গন্ধ লেগে থাকা ওড়না, চোখে কৌতূহলী ধার। মেহরীন কারও দিকে তাকাল না, শুধু পুরোনো আর নতুন দুই পাতা পাশাপাশি রাখল। একটায় “উত্তরাধিকারভুক্ত কক্ষ”, আরেকটায় “অফিস সহায়তা।” তার নাম এক, বাবার নাম এক, ফাইল নম্বর এক—কেবল অবস্থান বদলানো হয়েছে। যারা এতদিন ভেবেছে সে নিচতলায় থাকার সুযোগ পেয়ে কৃতজ্ঞ থাকবে, তাদের জন্য এ লেখা ছিল যথেষ্ট না হলেও বিপজ্জনক।
খালা ফিসফিস করে বললেন, “মোতালেব হোসেন তো সোহেলের চাচার পুরোনো ম্যানেজার ছিলেন না?”
মেহরীন এবার প্রথমবার মাথা তুলল। “ম্যানেজার ছিলেন। আর এই ভবন ওঠার আগে জমির দেখভালও তিনি করতেন। চুক্তিতে তার নামে এক কক্ষ রাখার কথা ছিল। তিনি মারা যাওয়ার পর আমি ছিলাম ছোট। আমাকে নিচতলায় রেখে বলা হয়েছিল, বড় হলে কাগজ দেখানো হবে। তারপর থেকে আমি কাগজ লিখেছি, কাগজ গুছিয়েছি, শুধু নিজের নামের ঘষা দেখিনি—আজ পর্যন্ত।”
সাব্বিরের মুখ এক লহমায় খালি হয়ে গেল। এই কয়েক মাসে যতবার সে মেহরীনকে নিচতলার অফিসঘরে চাবি গোনতে, ভাড়াটিয়ার ফোন ধরতে, তার মায়ের জন্য ওষুধ আনতে দেখেছে, সবকিছুর মানে একসঙ্গে বেঁকে গেল। তবু সে কিছু বলার আগেই রিজওয়ানা ভাবি তেড়ে উঠলেন, “এসব কথা অতিথির দিনে নামানো লাগে? মেয়ে মানুষ হয়ে সম্মান বোঝো না? তোমাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, এখন সুযোগ বুঝে—”
“আশ্রয়?” মেহরীন কথাটা কেটে দিল। “এই শব্দটাই আপনারা লিখে লিখে আমার গায়ে সেঁটে রেখেছেন।”
সে দ্রুত পেছনের আলমারি খুলল। ফাইলগুলো সে-ই সাজায়; কোনটা ভাড়ার, কোনটা বিদ্যুতের, কোনটা মালিকপক্ষের কৃষি জমির মামলার কাগজ, তার চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না। নীল দড়ি বাঁধা একটা পুরোনো ফাইল বেরোল—মোতালেব হোসেনের নাম। রিজওয়ানা ভাবি এগিয়ে এসে ফাইল কেড়ে নিতে গিয়েছিলেন, কিন্তু কাশেম অনিচ্ছায় হলেও মাঝখানে দাঁড়িয়ে গেল। আচমকা নয়, বরং দারোয়ানের বহুদিনের অভ্যেসে—যার হাতে চাবি, তার আগে পথ আটকাতে নেই। আজ চাবি ছিল মেহরীনের টেবিলে।
ফাইলের ভেতর চুক্তিপত্রের ফটোকপি, পানির বিল, আর এক কোণায় সেঁটে থাকা পুরোনো নোটিশ। হলদেটে কাগজে লেখা—“নিচতলার দক্ষিণ কক্ষ, মোতালেব হোসেন পরিবার-অধিকার সংরক্ষিত।” তারিখ ভবন তৈরির প্রথম বছরের। নিচে সই। আর সবচেয়ে তীব্র ছিল কাগজের ডান কোণের ছেঁড়া অংশ—যেন ইচ্ছে করে কোনো সময় বোর্ড থেকে টেনে খোলা হয়েছিল। সেই ছেঁড়া কোণের মিল পেয়ে গেল কাচে টাঙানো বর্তমান তালিকার নিচের পুরোনো পিনের দাগের সঙ্গে। একই জায়গায় বহুবার কাগজ উঠেছে, নেমেছে, বদলেছে।
খালা এবার আর ফিসফিস করলেন না। “তাইলে এতদিন ওরে নিচতলার মেয়ে বইলা ঘুরাইছেন? আর আজকে ওপরে উঠতে দিছেন না?”
রিজওয়ানা ভাবির স্বর ভেঙে গেলেও তিনি থামলেন না। “কাগজ থাকলেই কি সব হয়? সামাজিক হিসাব লাগে। কে কোথায় বসবে, কে কোন নামে পরিচিত হবে—এসবও তো দেখতে হয়।”
এই প্রথম সাব্বির সরাসরি বলল, “সামাজিক হিসাবের নামে নাম ঘষে ফেলা হয় না, ভাবি।”
কথাটা বড় নয়, কিন্তু ঘরের বাতাসে ওজন পাল্টে দিল। রিজওয়ানা ভাবি এতক্ষণ চৌকাঠ, সিঁড়ি, দাওয়াত—সবকিছুর ভাষা নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। এখন তার চোখ বারবার খাতায় যাচ্ছে, যেন লেখা জিনিসগুলো হঠাৎ তার হাত ছাড়া হয়ে গেছে। মেহরীন বুঝল, এটুকু ভাঙন যথেষ্ট নয়। পুরোনো নোটিশ আর রেজিস্টার একসঙ্গে না বসানো পর্যন্ত তারা আবার এটাকে “ভুল বোঝাবুঝি” বানিয়ে ফেলবে।
সে কাচের নোটিশবোর্ডের সামনে দাঁড়াল। সেখানে এখনও নতুন দাওয়াতের তালিকা, কনের পক্ষের জন্য ফাঁকা রাখা সাদা জায়গা, আর নিচে অফিস সময়সূচি। বোর্ডের পাশের টিনের বাক্সে নোটিশ-পিন থাকে। মেহরীনের হাত একবার থামল; তালুর ভেতর মোবাইলের ম্লান আলো জ্বলে উঠেছিল, কারও বার্তা এসেছে—সম্ভবত পরে কথা বলার আরেকটি কাপুরুষ ডাক। সে স্ক্রিন উল্টে রাখল।
“মেহরীন, এটা এখন কোরো না,” সাব্বির বলল, গলায় আতঙ্ক। “উপরে মানুষ—”
“এই জন্যই এখন,” মেহরীন বলল। “কারণ মিথ্যাটা দরজায় টাঙানো।”
সে প্রথমে বর্তমান দাওয়াতের তালিকাটা খুলে নিল। কাগজ নড়তেই কাচে বহু বছরের ঘষার দাগ, পিনের গর্ত, ধুলোর ফিকে বর্গক্ষেত্র দেখা গেল—কতবার কোন নাম উঠেছে, কোন নাম নামানো হয়েছে, তার নীরব মানচিত্র। তারপর সে রেজিস্টার থেকে ছিঁড়ে নেওয়া প্রত্যয়িত অনুলিপি, যেটা কাশেম তার দিকে এগিয়ে দিয়েছে, আর পুরোনো নোটিশের ফটোকপি একসঙ্গে মিলিয়ে ছোট্ট একটা সংশোধিত পত্র লিখল। বড় বড় অক্ষরে—“নিচতলার দক্ষিণ কক্ষ: মেহরীন আক্তার, মোতালেব হোসেন পরিবার-অধিকার। বর্তমান রেজিস্টারে ‘অফিস সহায়তা’ নামে পরিবর্তন অসঙ্গত।” নিচে ফাইল নম্বর, তারিখ, অফিস সিল। তার হাতের লেখা পরিষ্কার; বহুদিন অন্যের নামে হিসাব লেখার পর আজ নিজের নামে লিখতে গিয়ে একটুও বাঁকা হলো না।
রিজওয়ানা ভাবি এগিয়ে এসে বললেন, “তোমার সাহস কত! কে অনুমতি দিল?”
মেহরীন তার দিকে তাকালই না। “যে হাতে এতদিন আপনাদের ভাড়া-খাতা চলেছে, সেই হাত।”
ভাবি কাগজ কেড়ে নিতে ঝাঁপালেন। মেহরীন এক কদম সরল, তারপর কাশেমের টেবিলের ওপর রাখা ভারী পিতলের পিনকুশন থেকে একটা লম্বা নোটিশ-পিন টেনে নিল। শব্দটা ছোট হলেও তীক্ষ্ণ। সাব্বির এগোল, কিন্তু থেমে গেল; থামতেই হলো, কারণ মেহরীন ইতিমধ্যে কাগজদুটো কাচের ঠিক মাঝখানে বসিয়ে দিয়েছে, যেখানে সিঁড়ি থেকে নামলে আর অফিসঘরে ঢুকলে—দুই দিক থেকেই পড়া যায়।
রিজওয়ানা ভাবি শেষ চেষ্টা করলেন। “এটা নামায়া ফেলো। পরে বসে দেখা যাবে।”
“পরে” শব্দটা আবার এলো। এবার মেহরীন কথা বলল না। পুরোনো ছেঁড়া নোটিশের কপি নিচে, সংশোধিত পত্র ওপরে মিলিয়ে ধরে পিনটা কাচের বোর্ডে ঠেলে ঢুকিয়ে দিল। প্রথমে কাগজ খানিকটা বেঁকে গেল, নিচের অংশ সরে আসছিল। সে আঙুল চেপে সোজা করল, পিনটা আরেক দফা ঠেলে গভীরে বসাল। কাচের পেছনের কর্কে ঢোকার খসখসে শব্দ হলো—শুকনো, নির্দয়, চূড়ান্ত।
সংশোধিত পাতার ওপর তার নাম এবার একা নয়; পুরোনো অধিকার, ফাইল নম্বর, কাটাকুটির আগের ভাষা—সব একসঙ্গে পড়া যায়। নিচতলার মেয়ে, অফিসের মেয়ে, আশ্রিত—এই সব সুবিধামতো নামগুলো একসঙ্গে হালকা হয়ে গেল। দরজার চৌকাঠ, যেটা একটু আগেও তার জন্য বন্ধ করা হয়েছিল, এখন সেই চৌকাঠের পাশের কাচেই তার আসল পরিচয় আটকে আছে। কেউ যদি নামাতে চায়, তাকে ছেঁড়ার দাগ রেখে নামাতে হবে; আবার লুকানোর আগেই সবাই দেখবে কোথায় ঘষা হয়েছে।
মেহরীন হাত সরিয়ে নিল। নোটিশ-পিনের চারপাশে পুরোনো ব্যবহারের ক্ষয়চিহ্ন, কাচে আঙুলের দাগ, আর সাদা কাগজের কোণা এক মুহূর্ত কেঁপে থেমে গেল। তারপর পাতাটা আর নামল না; কাচের গায়ে ঠিক হয়ে বসে রইল।