দূরত্বটাই সেদিন দৃশ্য ছিল
খালামণি রওশন নাবিলার সামনে ফাইলটা ঠেলে দিয়ে বললেন, “এগুলো আগে নিচে জমা দাও, তারপর খেতে বসো। আর শোনো, তানভীরের পরিবার শুক্রবারে আসবে—তোমার মতো মেয়ের জন্য এমন ভদ্র ছেলেই ভালো।” কথাটা বলা হচ্ছিল এমন স্বরে, যেন নাবিলা টেবিলে রাখা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া ভাতের বক্সের মতোই—উপকারী, দরকারি, কিন্তু কাউকে কেন্দ্র করে নয়। ঢাকার কৃষি-ঋণ প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ তলার ছোট কনফারেন্সরুমে তখন ইফতারের পরের চা, কাগজের মোড়কের শুকনো খসখস শব্দ, আর আলো-আঁধারে সবার বসার জায়গা ঠিক হচ্ছে। নাবিলা দাঁড়িয়ে ছিল দরজার ফাঁকে, বসার ডাক কেউ দেয়নি।
“ও বসুক,” খুব আস্তে বলেছিলেন ফারহান সাহেব।
আস্তে হলেও সবাই শুনেছিল। কারণ তিনি সাধারণত কার কোথায় বসা উচিত, সে নিয়ে মুখ খোলেন না। রওশন খালামণি ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বললেন, “ও তো আমাদের মেয়ে, দাঁড়িয়ে কাজ করতেই অভ্যস্ত।” কিন্তু ফারহান চোখ না তুলে দ্বিতীয়বার বললেন, “ফাইল আমি পরে নেব। আগে বসুক।” নাবিলা তখনও নড়েনি। দরজার কাঠের সাথে কাঁধ ছুঁইছুঁই করে দাঁড়িয়ে থাকা আর টেবিলের ফাঁকা চেয়ারের মাঝখানে হঠাৎ একটা রেখা তৈরি হল। সে এগোতে গিয়েও থামল; ঠিক সেই মুহূর্তে ফারহানের আঙুল টেবিলের কিনারা থেকে সরে গেল, যেন তিনি নিজেই বুঝে উঠতে পেরেছেন—আর এক ইঞ্চি বাড়লে সেটা চেয়ার টেনে দেওয়া নয়, অন্য কিছু দেখাবে।
নাবিলা চেয়ারে বসে ফাইল বুকে রাখল। হাতার কাছে দিনের ভাঁজ, কাঁধে সারা শিফটের শক্ত হয়ে থাকা টান। এ অফিসে তার কাজের ভুল ধরার লোক আছে, রাত পর্যন্ত আটকে রাখার লোক আছে, কিন্তু কেউ তার দিকে তাকিয়ে বাক্য বদলায় না। ফারহান সাহেব আজ বদলালেন। এইটুকুই বিপদ।
পরদিন সকালেই বিপদটা চেহারা পেল। রিসেপশনের সালমা নিচু গলায় বলল, “আপাকে কালকে স্যার নিজে চেয়ার দিল?” তারপর এমন ভঙ্গিতে হাসল, যেন সে মজা করছে, কিন্তু তথ্যটা তুলে রাখছে। নাবিলা কিছু বলল না। সে ফাইল সাজাচ্ছিল, কৃষি-ঋণের মাঠ-প্রতিবেদন, নীচে ভুল হিসাব, উপরে সইয়ের দাগ। তানভীর এসে তার ডেস্কে কনুই রেখে দাঁড়াল। “শুক্রবার কিন্তু দেরি করবেন না। খালামণি বলেছে, আপনারা তো আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা লোক। বাইরে থেকে মানুষ আনতে হবে না।”
লোকজনের সামনে তার বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে কথা বলতে তানভীরের কণ্ঠে কোনো সংকোচ ছিল না; যেন নাবিলার সম্মতি আগেই ডেস্কের ড্রয়ারে রেখে দেওয়া আছে। নাবিলা কলম থামাল না। তখনই ফারহান পাশ দিয়ে যেতে যেতে থেমে বললেন, “ডেস্কের ওপর ভর দেবেন না। রিপোর্ট নষ্ট হবে।” তানভীর সোজা হয়ে দাঁড়াল। কথাটা অফিসের নিয়মের মতো শোনা গেল, কিন্তু নিয়মটা বেছে বেছে এই মুহূর্তেই মনে পড়ল। সালমা চোখ নামিয়ে ফেলল।
দুপুরে নাবিলা মাঠপর্যায়ের হিসাব নিয়ে ফারহানের কক্ষে ঢুকতেই দেখল, জানালার পাশে আরেকটা চেয়ার টানা। তিনি বললেন, “দাঁড়িয়ে থাকবেন না।” কক্ষের অর্ধেক কাচঘেরা, বাইরে টাইপের শব্দ, ভেতরে কাগজ আর ঠান্ডা চায়ের গন্ধ। সে বসেনি। ফাইল বাড়িয়ে দিল। ফারহান নিলেন না; পাতার এক কোণ ধরে শুধু দেখালেন, “এই সংখ্যাটা পাল্টান। আপনার হিসাব ঠিক, ওরা বদলে দিয়েছে।” তার কণ্ঠে বিরক্তি ছিল, কিন্তু নাবিলার দিকে নয়।
এইটুকু ব্যক্তিগত সুরও চোখ এড়ায় না। দরজার বাইরে কারও ছায়া এসে থেমে আবার সরে গেল। নাবিলা ফাইল টেনে নিতে গিয়ে তার আঙুল ফারহানের আঙুলের কাছে এসে থেমে গেল; মাঝখানে পাতলা কাগজ, তারও মাঝখানে শুকনো হাওয়া। ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠল। ফারহান হাত সরিয়ে নিলেন। “যান,” তিনি বললেন, স্বর আগের চেয়ে বেশি ঠান্ডা। বাঁচানোটা এমনভাবে হল, যেন বাঁচানোর দরকারই ছিল না।
অফিসের পরে বৃষ্টি নামল। নিচে গাড়িঘরে দাঁড়িয়ে নাবিলা ব্যাগের ভেতর কাগজ বাঁচাচ্ছিল। ফারহানের ড্রাইভার গাড়ির দরজা খুলে রেখেছিল। ফারহান নিজে নামলেন না, কেবল জানালা নামিয়ে বললেন, “রাত হয়েছে। উঠে যান, পথে নামিয়ে দেবে।”
এক সেকেন্ডের জন্য প্রস্তাবটা খুব সহজ মনে হল। ভিজে বাসস্ট্যান্ড, মগবাজারের যানজট, রেন্টের বাসায় দেরি করে ফেরা, বাড়িওয়ালির কটমটানি—সবকিছুর চেয়ে সহজ। কিন্তু গাড়ির ছাউনির নীচে দাঁড়ানো দারোয়ান, দুইজন জুনিয়র অফিসার, আর কাঁচের ভেতর নিজের প্রতিবিম্ব—সব একসাথে তাকে দেখে ফেলল। নাবিলা এক পা পিছিয়ে গেল। “আমি যাব না, স্যার।”
ফারহান ভ্রু তুললেন, যেন তিনি না শুনে থাকতে চেয়েছিলেন। “এটা নিরাপত্তার কথা।”
“আমার নিরাপত্তা আমি বুঝি।” নাবিলা গলা উঁচু করল না। সে শুধু গাড়ির খোলা দরজা থেকে সরে এল, বৃষ্টির ধারায় পা দিল। চপ্পলের ভেতর পানি ঢুকে ঠান্ডা লাগল। “অফিসের গাড়িতে আমি একা উঠব না।”
ড্রাইভার হাত নামিয়ে নিল। দারোয়ানের চোখে ক্ষণিকের কৌতূহল চুপসে গেল। ফারহান কিছু বলেননি; কেবল দরজাটা নিজে টেনে বন্ধ করলেন। কাচের ওপারে তার মুখ পড়া যাচ্ছিল না। কিন্তু নাবিলা প্রথমবার দেখল—না বলার পরও কেউ তাকে জোর করল না। এবং এই না-টা তার নিজের কাঁধে উঠে বসে রইল, ভারী, পরিষ্কার।
শুক্রবারের আগে চাপ আরও জোরে এল। বাসায় মা ফোনে কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন, “তানভীরের পরিবার ভালো। ঢাকায় চাকরি, নামাজ পড়ে, লোকজন চেনে। খালামণি এত দৌড়াদৌড়ি করছে, তুই মুখের ওপর না বলিস না।” নাবিলা রান্নাঘরের চৌকাঠে হেলান দিয়ে কথা শুনছিল; চাপা আগুনে ডাল উথলে পড়ছিল, আর পাশের ঘর থেকে বাড়িওয়ালির টেলিভিশনের আওয়াজ আসছিল। সে জানত, এই শহরে সম্মান মানে কাকে নিয়ে বাজারে যাওয়া যায়, কার নাম বললে কেউ ভ্রু কুঁচকায় না। তার নিজের নামে এমন কিছু নেই। কেবল কাজ আছে, মাস শেষে বেতন আছে।
শুক্রবার অফিসে অদ্ভুতভাবে সাজসজ্জার দিন হয়ে গেল। কৃষি-ঋণ বিভাগের একটা বড় অংশীদার এলো, সঙ্গে তানভীরের চাচা—যিনি আবার রওশন খালামণির আপন চেনা। সামনের কক্ষে নাস্তা, চেয়ার টানা, নাম ধরে ডাকা; নাবিলাকে বলা হল ভেতরের টেবিলে বসে রেজিস্টার ঠিক করতে। বাইরে পরিচয়ের হাসি, ভেতরে হিসাব। রওশন খালামণি পর্দা সরিয়ে বললেন, “নাবিলা, বের হইস না এখন। পরে ডাকব।”
বের হইস না। যেন সে ভুল জায়গায় দেখা দিলে কারও সম্ভাব্য সম্মানে দাগ লাগবে। নাবিলা মাথা নামিয়ে রেজিস্টারের পাতা উল্টাল। পাতার ঘর্ষণে শুকনো খসখস শব্দ উঠছিল। কিছুক্ষণ পর বাইরে তানভীরের গলা ভেসে এল, “মেয়েটা লাজুক। অফিসে খুব কাজ করে।” এই ‘মেয়েটা’ শব্দটা দরজার ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা জুতোর সারির চেয়েও ছোট করে দিল তাকে।
তারপর আরেকটা গলা—ফারহান। শান্ত, কাটা কাটা। “রেজিস্টার কার কাছে?”
রওশন বললেন, “ও ভেতরে করছে।”
“ভেতরে কেন? মাঠ-তথ্যের ভুল হলে আজই ধরা লাগবে।” পর্দা পুরো সরিয়ে তিনি বললেন, “নাবিলা, রেজিস্টার নিয়ে আসুন।”
নাবিলা উঠে দাঁড়াল। পর্দার এই পাশ থেকে ওই পাশে যাওয়াটুকুও সেদিন প্রকাশ্য। সে বেরিয়ে রেজিস্টার টেবিলে রাখতেই অংশীদার লোকটা বলল, “ওহ, আপনি করেন এসব?” তানভীর উত্তর দিতে যাচ্ছিল, ফারহান আগে বললেন, “হ্যাঁ। শেষ দুই কিস্তির অসঙ্গতি ও-ই ধরেছে।” কথাটা প্রশংসা নয়; অথচ রুমের ভেতরের বসার ভঙ্গি বদলে গেল। নাবিলাকে তখনও কেউ বসতে বলেনি। কিন্তু তাকে আর ভেতরের ঘরে ঠেলে রাখা গেল না।
এইটুকু পরিবর্তনের পরেই শাস্তিটা এল। বিকেলে রওশন খালামণি তাকে নথির বান্ডিল ধরিয়ে বললেন, “অতিরিক্ত বুদ্ধি দেখালে মেয়েদের ক্ষতি হয়। তানভীরের লোকজনকে আজ মুখে কী জবাব দেব?” কাগজের মোড়কটা নাবিলার হাতে জোরে চেপে দিলেন। “আর স্যারের রুমে দরজা টেনে ঢুকবে না। মানুষ তো কথা বলবেই।”
“দরজা আমি টানি না,” নাবিলা বলল।
“তাহলে টানানো কেন লাগে?” রওশন ঝুঁকে এলেন। “মাথায় রাখো, উনি তোমার নাগালের মানুষ না।”
নাবিলা এবার চোখ তুলল। “আমার নাগালের মানুষ লাগবেও না।” এত নিচু স্বরে বলল যে, রওশন এক মুহূর্ত বুঝতেই পারলেন না অপমানটা কোথায়। বুঝে ওঠার আগেই নাবিলা বান্ডিল নিয়ে সরে গেল। কাঁধ শক্ত, হাঁটার ভেতর সারা দিনের জমে থাকা কষ্ট।
সেদিনই রাত পর্যন্ত কাজ পড়ল। অংশীদারের সংশোধিত কাগজ, নতুন সই, আবার এন্ট্রি। একে একে সবাই চলে গেল। সালমা নিচ থেকে ফোন করে জানাল, “আপা, লিফট বন্ধ হওয়ার আগে নেমে আসবেন।” তবু নাবিলা আটকে রইল। রওশন ইচ্ছে করেই শেষ মুহূর্তে নথি ফেরত পাঠিয়েছিলেন। ফারহানের কক্ষের আলোও তখনও জ্বলছিল।
নাবিলা শেষ কাগজে সিল মেরে বেরোতেই করিডোর ফাঁকা। রাতের অফিসে হাঁটার শব্দ নিজের কাছেই বেশি স্পষ্ট লাগে। লিফটলবির কাছে এসে সে থামল; ফাইল বুকে, ব্যাগ কাঁধে, মাথার ওড়না খানিক সরে গেছে। কাঁচের বাইরে ঢাকা ঝাপসা, নিচে গাড়ির আলো সাপের মতো।
পেছন থেকে ফারহান বললেন, “আমি নিচে বলে দিচ্ছি, গাড়ি—”
নাবিলা ঘুরে দাঁড়াল। “দরকার নেই।”
তিনি আরেকটু এগোলেন। লিফট এসে থামল, দরজা খুলল। ধাতব আলোর ভেতর খালি বাক্সের মতো দাঁড়িয়ে রইল। করিডোর আর লিফটের মাঝখানে পাতলা একটা দাগ, যেন মেঝের জোড়া। নাবিলা সেই দাগের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে। ফারহান তার এক হাত দূরে। এত কাছে, তবু এই দূরত্বের মধ্যে অফিস, রওশন, তানভীর, মা, শুক্রবারের পর্দা—সব একসাথে ঠাসা।
“নাবিলা,” তিনি বললেন, খুব নিচু স্বরে। প্রথমবার শুধু নাম।
সে চোখ না সরিয়ে বলল, “আমার নাম একা বলে কিছু বদলাবে না।”
ফারহানের চোয়াল শক্ত হল। “আমি বদলাতে বলছি না।”
“কিন্তু আপনি অভ্যস্ত—যেখানে দরকার, সেখানেই ঢুকে জায়গা বদলে দিতে।” তার গলা কাঁপল না। “চেয়ার, রেজিস্টার, হিসাব, গাড়ি। সবাই দেখেছে। আপনি থামেন না বলে ওরা কথা বলে। আমি থামিনি বলেই আজ আমাকে ভেতরের ঘরে বসানো হয়।”
লিফটের দরজা খোলা, সময় গুনছে। ফারহান আরও এক পা বাড়ালেন। এতটুকু যে বাড়ালেন, নাবিলা তার শ্বাসের উষ্ণতা টের পেল। হাত ওঠেনি, তবু উঠতে চাওয়ার টান বোঝা গেল—কাঁধের কাছে সরে যাওয়া ওড়না ঠিক করে দেওয়া, বা ফাইল নিয়ে নেওয়া, বা কেবল তাকে ভেতরে দাঁড় করিয়ে রাখা—যে কোনো সহজ অজুহাত। এই এক পা-ই সর্বনাশ হতে পারত।
নাবিলা আগে নড়ল। সে লিফটের ভেতরে এক পা দিল, কিন্তু পুরোটা নয়; মুখ করিডোরের দিকেই। ফাইলটা আরও শক্ত করে বুকে টেনে নিয়ে বলল, “এই পর্যন্ত। এর বেশি না।”
শব্দ কম, অথচ লিফটলবির ফাঁকা দেয়ালে লেগে তা স্পষ্ট শোনাল। ফারহানের জুতো মেঝের দাগের ঠিক বাইরে থামল। তার দৃষ্টি নাবিলার মুখে নয়, সেই দাগে নেমে গেল; যেন তিনি প্রথমবার দেখছেন, এখানেই সীমা আঁকা। এক মুহূর্তের জন্য মনে হল তিনি হয়তো তবু ঢুকে পড়বেন—তিনি পারেন, এই অফিসে সব দরজা তার জন্য সহজ। নাবিলা আঙুল বাড়িয়ে ভেতরের বোতামে চাপ দিল। ধাতুর ছোট্ট শব্দ উঠল।
“আপনি আমাকে বাঁচাতে আসবেন না,” সে বলল। “আমাকে ছোটও করবেন না।”
ফারহান এবার তাকালেন। মুখের অভ্যস্ত কর্তৃত্বটা তখন অদ্ভুতভাবে নিঃশব্দ। “ছোট করেছি,” তিনি বললেন, খুব সংক্ষেপে। “সেটা বুঝেছি।”
এটা ক্ষমা চাওয়া নয়। দাবি তো নয়ই। কেবল স্বীকার—যে তিনি এতদিন দূরত্বকে নিজের সুবিধামতো সরিয়েছেন। নাবিলা সেই স্বীকারোক্তির ভেতর ঢুকল না। সে আরেক পা পিছিয়ে গেল, লিফটের ভেতর পুরো দাঁড়াল। করিডোরের আলো তার গা থেকে সরে ধাতব আলোর ভেতর গেল।
ফারহানের হাত একবার উঠল, বুকসমান পর্যন্ত; যেন দরজা আটকে রাখবেন, বা শেষ কথা বলবেন। তারপর হাতটা মাঝপথে থেমে নেমে গেল। তিনি দাগ পেরোলেন না।
নাবিলা আর কিছু বলল না। তার মুখে ক্লান্তি ছিল, চোখের নিচে সারা দিনের কালচে দাগ, হাতার ভাঁজ এখনো ভাঙেনি। কিন্তু দাঁড়ানোর ভঙ্গিটা বদলে গেছে—অপেক্ষা করে থাকা কারও মতো নয়, নিজে পথ বেছে নেওয়া কারও মতো। সে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বোতামের পাশে হাত রাখল, যেন লিফটের এই ছোট ভেতরটুকু এখন তারই নির্ধারিত দূরত্ব।
দরজাদুটো ভেতরের দিকে টানতে শুরু করল। ফারহান বাইরে, দাগের এপারে; নাবিলা ভেতরে। ফাঁকটা সরু হতে হতে একসময় এতটাই চিকন হল যে দুজনের মাঝখানে আর মানুষ নয়, শুধু সেই রেখাটাই দেখা গেল। তারপর দরজার দু-পাল্লা পুরো মেলেনি; চুলের ফাঁকের মতো এক সরু সিম এক ভগ্ন সেকেন্ড থেমে রইল, যেন বন্ধ হওয়ার আগেও দূরত্বটাকে একবার দৃশ্য করে নিয়ে তবেই নিভে গেল।