Fast Fiction

দরজায় বাড়াবাড়ির দাম সেখানেই উঠল

মাহিরার হাত থেকে ভাঁজ খোলা-ভাঁজ করা বিলের কাগজটা প্রায় ছিনিয়েই রাবেয়া খালা বললেন, “ওটা ব্যাগে ঢোকাও, আগে এই ফুলের ঝুড়িটা ধরো—বরপক্ষের গাড়ি ঢুকবে, আর তুমি এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে চলবে না।” ঢাকার ধানমন্ডির ওই কমিউনিটি সেন্টারের সামনে তখন গাড়ির হেডলাইট, কাঁচে বৃষ্টির পুরনো ধুলা, ভেজা পিচের গন্ধ, আর গেটের পাশে তিনটা সস্তা প্লাস্টিকের চেয়ারের কোণে বসে থাকা দুজন দূর-সম্পর্কের খালাতো বোন—তাদের জন্য ঠান্ডা শরবত এসেছে, মাহিরার জন্য না। সে দুপুর থেকে দৌড়ে বাজার, গয়নার বাক্স, মেকআপওয়ালার বাকি, গ্রামের খালার জন্য বিকাশ—সব সামলে এসেছে; তবু দরজায় তাকে কেউ স্বাগত জানাল না, শুধু ডাকা হলো কাজে।

রাবেয়া খালা আজ এমনভাবে ব্যস্ততার মালিক সেজেছেন, যেন অনুষ্ঠানটা তাঁর একার টাকায় দাঁড়িয়েছে। বাস্তবে মাহিরাই গত তিন মাসে কতবার অফিস থেকে ছুটি কেটে, নিজের বেতনের আগাম ভেঙে, কাজের ফাঁকে ফাঁকে তালিকা ধরে এদিক-ওদিক ছুটে এই বিয়ের অর্ধেকের বেশি জোড়া লাগিয়েছে, সেটা আত্মীয়স্বজনের জানাশোনার মধ্যে থাকলেও কেউ মুখে আনে না। কারণ মাহিরা সেই মেয়ে, যাকে ডাকলে আসে, দিলে করে, আর অপমান গিলেও হট্টগোল করে না। রাবেয়া খালা এই অভ্যাসটাই পুঁজি করেছেন।

গেটের রেজিস্টার-কর্মী, গায়ে কালো কোমরকোট, হাতে ক্লিপবোর্ড, এগিয়ে এসে বলল, “আপনার নামে পথ-চিহ্ন আছে।” সে একটা হলুদ প্লাস্টিকের ঝোলানো কার্ড দেখাল। কার্ডে মোটা কালো অক্ষরে লেখা—‘পাশের সেবা-পথ / আগমন গ্রহণ নয়’। নিচে রাবেয়া বেগমের সই। মাহিরার দিকে না তাকিয়েই রাবেয়া খালা বললেন, “ওকে আমি ওই লাইনে রেখেছি। সামনে ভিড় বাড়ে। ও সব পারে, ও পেছন দিক দিয়ে ট্রলি নেবে, ফলের বাক্স তুলবে, যাদের দরকার তাদের ঘুরিয়ে আনবে।”

মাহিরা কার্ডটা হাতে নিল। প্লাস্টিকের ধারে আঙুলে ঘাম জমে পিছলে গেল। সামনে লাল গালিচার শুরু, আলোর মালা, কনের মামারা দাঁড়িয়ে আছে গ্রহণের জন্য। ডান পাশে সরু সিমেন্টের গলি, যেখানে রান্নাঘরের পেছনের দরজা, গ্যাস সিলিন্ডার, ফুলের খালি কার্টন। ওই কার্ড গলায় ঝুললেই মানুষ বোঝাবে—সে আত্মীয় না, কাজের লোকের লাইনে। তবু এই অপমানকে কেউ অপমান বলবে না; বলবে, ভিড় সামলানোর সুবিধা।

শাওন তখন সাউন্ডওয়ালাদের সঙ্গে দরজার ধারে দাঁড়িয়ে ছিল। মামাতো ভাই, কিন্তু মাহিরার সঙ্গে তার হিসেব আলাদা—একবারও অকারণে কথা বাড়ায় না। সে একবার কার্ডটার দিকে তাকাল, তারপর রাবেয়া খালার দিকে। “খালা, সামনের অভ্যর্থনায় লোক কম পড়বে,” সে বলল।

“কম পড়বে না,” রাবেয়া খালা কড়া গলায় কাটলেন। “ও সামনের লাইনে থাকবে না। আমি বলে দিয়েছি। আর শোনো—যে গাড়িতেই আমাদের কৃষি ব্যাংকের মেজদা-ভাবি আসুক, মাহিরা সামনে যাবে না। ও পেছনের পথেই যাবে, যাদের নাম দেব তাদের ওই পথ দিয়ে ভেতরে আনবে। বুঝেছ?” এবার কথাটা শুধু কাজের জন্য নয়; কার সামনে মাহিরা দাঁড়াবে, কার চোখে পড়বে, সেই সীমাটাও টেনে দিলেন তিনি। আশেপাশের দুজন আত্মীয় মাথা নামিয়ে দাঁড়াল, যেন কিছু শোনেনি।

মাহিরা একটাও কথা বলল না। কার্ডটা গলায় ঝোলাল, শুধু ক্লিপবোর্ডওয়ালাকে জিজ্ঞেস করল, “এই পথ-চিহ্ন বদলাতে হলে কার অনুমতি লাগে?”

লোকটা স্বভাবমতো সাবধানে বলল, “যিনি সই করেছেন, তিনি ফেরত নিলে। অথবা আগমন-গ্রহণে যাকে দিয়ে হস্তান্তর করাবেন, তার নোটে।”

“হস্তান্তরও হয়?”

“গাড়ি চলতে শুরু করলে হয়। সামনে যিনি গ্রহণে থাকেন, চাপ বেশি হলে সই করা পথ-চিহ্ন অন্য কারও গলায় উঠিয়ে দেওয়া যায়। নোট থাকতে হয়।”

এটুকুই মাহিরার প্রথম ফাঁক। রাবেয়া খালা ভাবলেন, তিনি তাকে পেছনের পথের মানুষ বানিয়ে দিলেন; মাহিরা বুঝল, এই প্লাস্টিকের টুকরোটাই চলন্ত নির্দেশ, আর চলতে শুরু করলে নির্দেশের মালিক বদলানো যায়।

সে সরু গলি দিয়ে ভেতরে গিয়ে রান্নাঘরের পেছনের দিকটা দেখে নিল। একদিকে বরফের বাক্স, অন্যদিকে থালা ধোয়ার লাইন, মাঝখানে এমন এক বাঁক, যেখান থেকে বাঁয়ে গেলে সোজা খাবারের স্টোর, আর ডানে গেলে পুরনো সার্ভিস করিডর—দেয়ালে খসে পড়া অফ-হোয়াইট রং, শেষে বন্ধ ফায়ার-ডোর। ওই ডান দিকটা আজ খোলা রাখা হয়েছে শুধু অতিরিক্ত মালপত্র রাখার জন্য। পথ আছে, বেরোনো নেই। মাহিরা দাঁড়িয়ে দেখে নিল, ফায়ার-ডোরের সামনে কার্টন ঠেসে রাখা।

শাওন পাঁচ মিনিট পর সেখানে এল। “তুই চুপ কেন?”

মাহিরা কার্ডটা খুলে তার হাতে দিল না, শুধু দেখাল। “এই সই করা জিনিস দিয়ে মানুষকে পথ থেকে নামায়। তাহলে পথ ফেরতও দেয়।”

শাওন বুঝতে একটু সময় নিল। বাইরে তখন হর্ন, দরজা খোলার শব্দ, মাইকে কোরআন তিলাওয়াতের ফাঁকে ফাঁকে ঘোষণার গুঞ্জন। মাহিরা নিচু গলায় বলল, “কৃষি ব্যাংকের মেজদা-ভাবি না, আগে আসবে বরের ফুফা আর তার সঙ্গে যে গাড়িটা থাকবে, ওরা খালার বিশেষ মানের লোক। খালা নিজে সামনে দাঁড়িয়ে নিতে চাইবে। কিন্তু যদি ঠিক সেই সময়ে তাকে বলা হয়, তাঁর সই করা পথ-চিহ্ন অনুযায়ী বাড়তি আগমন ওই ডান করিডর দিয়ে ঘুরিয়ে নিতে—?”

শাওনের চোখে পাতলা হাসি উঠল, মিলিয়ে গেল। “কে বলবে?”

“হস্তান্তরের নোট লাগবে। সামনে চাপ পড়লে। তুই রেজিস্টার-কর্মীকে বলবি, আগমন-গ্রহণে বাড়তি ভিড়, খালা নিজে সাইড রুট তদারকি করবেন—এই নোট খালার সই করা কার্ডের নিচে স্ট্যাপল করুক। আমি নাম বলব না। আমি শুধু জিজ্ঞেস করেছিলাম, হয় কি না।”

শাওন একবারও ‘ঝামেলা হবে’ বলল না। শুধু কার্ডটার নিচের সই দেখল, তারপর বাইরে চলে গেল।

আবার গাড়ি। এবার একটার পর একটা। সামনের লেনে ছাউনির নিচে দরজা খুলছে, কার আগে ছাতা ধরা হচ্ছে, কার হাতে ফুল তোলা হচ্ছে—সবাই তা দেখছে। মাহিরা সাইড গলির মুখে দাঁড়িয়ে ফলের বাক্স নামাতে নামাতে দেখল, রাবেয়া খালা কনের মাকে পাশ কাটিয়ে নিজেই গ্রহণের মাঝখানে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর শাড়ির আঁচল কাঁধে শক্ত, ঠোঁট টানটান। তিনি একবারও মাহিরার দিকে তাকালেন না। যেন ওকে সফলভাবে অদৃশ্য করে ফেলেছেন।

তারপর তিনি বাড়াবাড়িটা করলেন।

একটা সাদা মাইক্রোবাস ঢুকতেই খালা হাত তুলে গেটের লোকদের বললেন, “শুনছেন? মাহিরা সামনে আসবে না। ওকে কেউ ডাকার দরকার নেই। ও ওই পাশের পথেই থাকবে। আর যদি আমার আত্মীয়দের কেউ বাড়তি আসে, আগে ওদিকে পাঠাবেন, আমি পরে দেখে নেব। সামনের লাইনে ওর নাম থাকবে না।” কথাটা এত জোরে বলা হলো যে পাশের চেয়ারে বসা বউঝিরাও শুনল। এখন আর এটা ভিড় সামলানো নয়; প্রকাশ্যভাবে কাউকে মূল দরজা থেকে নামিয়ে দেওয়া।

গেটের কর্মী তখনই পকেট থেকে স্ট্যাপলার বের করল। শাওন কোথা থেকে এসে তার কানে কি বলেছে, বোঝা গেল না। কিন্তু কর্মীটি হলুদ কার্ডের পেছনে ছোট্ট সাদা চিরকুট আটকে লিখে ফেলল—‘বাড়তি আগমন: রাবেয়া বেগম—সাইড রুট তদারকি ও গ্রহণ-হস্তান্তর’। সে চিরকুটটা তুলে ধরে নিশ্চিত হতে বলল, “রাবেয়া ম্যাডাম, ঠিক?”

রাবেয়া খালা ঝট করে তাকিয়ে, পুরোটা না পড়েই বললেন, “হ্যাঁ হ্যাঁ, যেটা বলেছি সেটাই।” তাঁর চোখ তখন মাইক্রোবাসের জানালায়, যেখানে কেউ হাত নাড়ছে। সেই ‘হ্যাঁ’-ই যথেষ্ট ছিল।

এরপর সব খুব দ্রুত হলো। বরপক্ষের এক গাড়ির দরজা খুলে তিনজন নামতেই সামনে গাদাগাদি, ফুল, সালাম, ছবি। একই সময়ে আরেকটা কালো প্রাডো ঢুকে পড়ল পেছনের ধাক্কায়। গেটের কর্মী পেশাদারের মতো হাত তুলে বলল, “বাড়তি আগমন সাইড রুটে, রাবেয়া ম্যাডাম তদারকি করবেন।” সে হলুদ কার্ডটা সামনে ধরল। কার্ডটা তখন মাহিরার গলা থেকে খুলে নেওয়া, নোট লাগানো, কার্যকর আদেশ। রাবেয়া খালা প্রথমে ভাবলেন, মাহিরাকে ডাকা হচ্ছে। তিনি তীক্ষ্ণ গলায় আবার বললেন, “মাহিরা, তুমি ওই দিকেই—”

“জ্বি,” মাহিরা শান্তভাবে বলল, কিন্তু সামনে এগোল না।

কর্মীটি ইতিমধ্যে দুইজন হল-বয়ের ইশারায় রাবেয়া খালার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। “ম্যাডাম, আপনার সই করা পথ-চিহ্নে বাড়তি আগমন আপনি নেবেন। এই পথ।” সে কার্ডের ফিতে রাবেয়া খালার দিকে বাড়িয়ে দিল।

রাবেয়া খালা থমকে গেলেন। “এটা ওর—”

“হস্তান্তর নোট আছে,” কর্মী বলল। পাশে শাওন দাঁড়িয়ে, হাতে অতিথি-তালিকার খাম। “সামনের গ্রহণে চাপ। আপনি সাইড রুট তদারকি করবেন।”

ঠিক তখনই প্রাডোর পেছনের দরজা খুলে নামলেন সেই বিশেষ আত্মীয়—বরের ফুফা, সঙ্গে তার মোটা সোনার ফ্রেমের চশমাওয়ালা ভগ্নীপতি। তারা সামনের আলোর নিচে দাঁড়িয়ে চারপাশ দেখছেন, কে তাদের নেবে। রাবেয়া খালার মুখের রং টেনে গেল। তিনি বাঁ হাতে আঁচল চেপে ধরে বললেন, “না, আমি সামনেই থাকব। ওকে পাঠান। ও এসব সামলায়।”

কর্মী কার্ডটা নামাল না। “ম্যাডাম, রুট বদলাতে যিনি পাঠিয়েছিলেন তিনি এখন সামনে ব্যস্ত। আপনার সই, আপনার নোট। গাড়ি আটকে আছে।”

পিছন থেকে আরেকটা গাড়ি হর্ন দিল। হল-বয়রা ইতিমধ্যে ভিআইপি ভেবে প্রাডো থেকে নামা লোকদের সাইডে ধরে রেখেছে, কারণ কাগজে সাইড রুট সক্রিয়। রাবেয়া খালা এবার মাহিরার দিকে তাকালেন, প্রথমবার সোজা। চোখে আদেশ, তারপর অনুনয়, তারপর খালি রাগ। “মাহিরা, তুমি বলো—এটা ভুল হয়েছে। তাড়াতাড়ি বলো।”

মাহিরা নড়ল না। তার কাঁধে সারাদিনের দৌড়ঝাঁপের জড়তা, সালোয়ারের হাঁটুর কাছে ভাঁজ, কবজিতে বাজারের ব্যাগের দাগ। সে শুধু গেটের কর্মীকে বলল, “যার সই, তার রুট। গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা ঠিক না।”

এক মুহূর্তে দৃশ্যটার মানে বদলে গেল। সামনে যারা দাঁড়িয়ে ছিল, তারা বুঝল—রাবেয়া খালার গলায় এখন সেই হলুদ কার্ড ঝুলছে। সামনের অভ্যর্থনার মাঝখান থেকে তাকে সরিয়ে সাইড গলির দিকে নিতে দুইজন লোক রাস্তা ফাঁকা করছে। কনের মা হতভম্ব হয়ে এক পা পিছোলেন; যাকে এতক্ষণ সবাই কেন্দ্রে দেখছিল, সে এখন নিজের সই করা পথ মেনে সরছে। প্রাডোর অতিথিরা ভ্রু কুঁচকে তাকাল, কেন তাদের এই ভেজা সিমেন্টের গলি দিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রাবেয়া খালা কারও চোখে চোখ রাখতে পারলেন না।

তিনি শেষ চেষ্টা করলেন। গলার স্বর কেটে চড়া হলো, “আমি বলছি, সামনে নিন! আমি বলছি!”

হল-বয়দের একজন থেমে গেলেও গেটের কর্মী থামল না। “ম্যাডাম, সামনের লেন ব্লক হয়ে যাবে। আপনার তদারকি সাইডে।” তার কণ্ঠে বিনয় আছে, কিন্তু আদেশ বদলানোর সাহস নেই; কারণ কার্ডে সই, নোট, চলন্ত আগমন—সব মিলেছে। আর সবাই দেখছে।

মাহিরা তখন নিজের হাতে থাকা ছোট খামটা খুলে কৃষি ব্যাংকের মেজদা-ভাবির নাম লেখা আসল গ্রহণ-টোকেন সামনের ডেস্কে দিয়ে দিল। কনের মায়ের পাশে দাঁড়ানো এক তরুণীকে বলল, “ওরা এলে সামনে নেবেন। এই নামে।” এতটুকুই। দীর্ঘ ব্যাখ্যা নয়; শুধু কার হাতে কোন পথ যাবে, সেটা সরিয়ে দিল। রাবেয়া খালার কেন্দ্রীয় জায়গাটা খালি হয়ে গেল, আর সেই খালি জায়গা মুহূর্তের মধ্যেই অন্যরা দখল করে নিল।

রাবেয়া খালাকে সাইড গলি দিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। তিনি কার্ডের ফিতে টেনে খুলতে গিয়ে আরও জড়িয়ে ফেললেন। হলুদ প্লাস্টিক তাঁর বুকের কাছে উলটে ঝুলে আছে, সাদা নোটটা স্ট্যাপল করা। গলির বাঁকে বরফের বাক্স, খালি ফুলের কার্টন, রান্নাঘরের ভাপ। প্রাডোর অতিথিরা বিরক্ত মুখে তাঁর পেছনে। সামনের অভ্যর্থনায় meanwhile নতুন গাড়ির দরজা খুলছে, ফুলের ঝুড়ি উঠছে, আর কেউ তাঁকে ডাকছে না।

বাঁক পেরিয়ে মৃত শেষের করিডরে পৌঁছে গেটের কর্মী থামল। “ম্যাডাম, এখান থেকে স্টোর ঘুরে যেতে হবে,” সে বলল, কিন্তু ডান দিকের পথটা গিয়ে ঠেকেছে বন্ধ ফায়ার-ডোরে। ওখানে আর যাওয়ার জায়গা নেই। রাবেয়া খালা ঘুরে দাঁড়াতে চাইলেন, তখন মাহিরা পেছন থেকে এসে তাঁর গলার ফিতে থেকে হলুদ পথ-চিহ্নটা খুলে নিল, দু আঙুলে ধরে এক মুহূর্ত দেখল, তারপর ফায়ার-ডোরের হাতলে ঝুলিয়ে দিল। “এই পথ আপনারই ছিল, খালা,” সে বলল। “ফেরত দিলাম।”

তারপর মাহিরা ঘুরে সোজা বেরিয়ে গেল। করিডরের মাথায় সস্তা প্লাস্টিকের একটি চেয়ার উল্টো করে রাখা, তার পায়ায় কাগজের মোড়কের শুকনো খসখস শব্দ লেগে আছে। হলুদ পথ-চিহ্নটা বন্ধ দরজার হাতলে দুলে একবার থেমে গেল; সামনে পথ গিয়ে সেখানেই শেষ।