আমার জন্য টোপ পেতে নিজেই আটকাল
“দাঁড়ান—এই নামটা ঢুকবে না,” রাশেদা ভাবি রেজিস্টারের ওপর আঙুল ঠুকে বলল, আর জসিম দারোয়ান মেহরিনের পথের সামনে লোহার ফ্রেমটা টেনে আনল। পেছনের গেটের সরু লেনে জেনারেটরের গুঞ্জন, সিঁড়ির হলুদ বাতির মৃদু ভনভন, আর টেবিলে পড়ে থাকা ঠান্ডা চায়ের কাপের নিচে গোল দাগ। মেহরিন কাঁধের ফাইলব্যাগ শক্ত করল। আজ রাতের বাগদান এক বাড়ির নয়—ওদের কৃষি সরঞ্জাম আমদানির প্রতিষ্ঠানের নতুন শাখা খোলার ঘোষণাও হবে, আর সেই মঞ্চে তার নাম না গেলে সে কেবল আত্মীয়স্বজনের জানাশোনাতেই ছোট হবে না, কাজের জায়গাতেও মুছে যাবে।
রাশেদা ভাবি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল, গায়ে মেটে সোনালি শাড়ি, ঠোঁটে সে-রকম হাসি যা কথা শেষ হওয়ার আগেই অপমান ছুড়ে দেয়। “আমন্ত্রণ তালিকায় সামনের ফটক দিয়ে কারা ঢুকবে, তা বড়রা ঠিক করেছেন। পেছনের গেট দিয়ে শুধু মালপত্র, রান্নার লোক, আর অফিসের নিচুতলার স্টাফ। তুমি আজ কোন খাতে?” কথাটা বলে সে রেজিস্টারটা জসিমের দিকে ঘুরিয়ে দিল। পাতার ডান পাশে নতুন কালি, বাঁ পাশে পুরনো কলমের চাপে বসে থাকা দাগ। মেহরিন এক ঝলকে দেখল—তার নাম যেখানে থাকার কথা, সেখানে টান মেরে অন্য হাতের লেখায় লেখা: ‘প্রবেশ স্থগিত, নির্দেশ না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা।’
“কার নির্দেশ?” মেহরিন জিজ্ঞেস করল।
“আমার,” রাশেদা বলল, যেন এটাই যথেষ্ট। “আর যদি বুঝতে কষ্ট হয়, ওপরের তলায় খালাম্মারা আছেন, তাদেরও বলে দেব—মেয়েটার এখনও সীমা বোঝা হয়নি।”
গেটের ভেতর থেকে দুজন খালাতো ভাই ট্রে নিয়ে নামছিল, থেমে গেল। সেলিনা খালাম্মা দূর থেকে চশমার কাচ মুছতে মুছতে তাকালেন। এই বাড়িতে দরজায় কে থামে, সেটা পাঁচ মিনিটের মধ্যে ডাইনিং টেবিলে পৌঁছে যায়। আর অফিসে কাল সকালেই হিসাব শাখা জানবে—মালিকপক্ষের অনুষ্ঠানে মেহরিনকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে পেছনের লেনে।
মেহরিন খুব আস্তে বলল, “আমার দেরি করিয়ে কার লাভ হবে, ভাবি?”
“লাভ-লোকসানের ভাষা শিখেছ দেখছি,” রাশেদা উত্তর দিল। “তবে ভুলে যেও না, তোমাকে কাজ দেওয়া হয়েছিল দয়া করে। মালিকানার দাবি করতে নয়।”
এটাই ছিল প্রথম বাড়তি চাপ। কথাটা ইচ্ছে করেই উঁচু গলায় বলা। জসিমের হাতে চাবির গোছা কেঁপে উঠল। সে মেহরিনের দিকে তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে নিল; লোকটা জানে কে কখন এই গেট দিয়ে আসে, কে রাতের শেষে চাবি ফেরত দেয়, কার হাতে সবসময় দেরিতে-ফেরা পিতলের চাবিটা থাকে। আজ সেটা মেহরিনের ব্যাগেই।
সেলিনা খালাম্মা এগিয়ে এলেন। “রাশেদা, এত লোকের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখছ কেন? মেয়েটা যে কাগজ নিয়ে এসেছে, ওটা তো আজ রাতেই দরকার।”
রাশেদা বিন্দুমাত্র নরম হল না। “খালা, বাগদানের রাতে অযথা নাটক চাই না। যার ডাক আছে সে ঢুকবে। যার নেই, সে অপেক্ষা করবে। অফিসের কাগজ কালও জমা পড়তে পারে।”
“কাল পারবে না,” মেহরিন বলল। সে ব্যাগ থেকে মোটা বাদামি খাম বের করল না, শুধু হাত রাখল তার ওপর। “নতুন গুদামের প্রবেশ অনুমতি, শেয়ার হস্তান্তরের নোটিশ, আর পুরনো ট্রাস্টের সংশোধিত নিবন্ধন—সব আজ রাত বারোটার আগে মূল নথির সাথে মিলিয়ে সই তুলতে হবে।”
রাশেদা চোখ সরু করল। “তুমি এসব মুখস্থ বলছ, যেন খুব ভেতরের মানুষ। কে শিখিয়েছে?”
মেহরিন এবার রেজিস্টারের দিকে এগিয়ে গেল। জসিম অভ্যাসবশত এক পা সরে দাঁড়াল; রাশেদা সঙ্গে সঙ্গে তার সামনে এসে কাঁধ আড়াআড়ি করে পথ আটকাল। সরু লেনটা আরও সরু হয়ে গেল। পেছনে রান্নাঘরের বালতিভর্তি বাসন রাখা, সামনে অর্ধেক খোলা লোহার গেট, মাঝখানে রাশেদার শাড়ির কুচি আর তার ডান হাতে ধরা রেজিস্টার। মেহরিন থামল। থামাটাই যেন ওর চাওয়া ছিল।
“জসিম ভাই,” মেহরিন খুব স্পষ্ট গলায় বলল, “আজকের পেছনের প্রবেশ রেজিস্টারটা নিয়মমতো কার টেবিলে থাকার কথা?”
জসিম বিড়বিড় করল, “নথি মিলানোর টেবিলে… ভেতরের করিডোরে।”
“এখানে কেন?”
রাশেদা তাচ্ছিল্যের হাসি দিল। “আমি এনে রেখেছি। গেটে সিদ্ধান্ত হয়, করিডোরে নয়।”
মেহরিন আর এক পা-ও বাড়াল না। সে শুধু পাশ ফিরল, যাতে লেনের মুখটা পুরো রাশেদার পেছনে পড়ে যায়। এখন ভেতরে ঢুকতে হলে, বেরোতে হলে, ট্রে নিতে হলে, সিঁড়ি নামতে হলে, সবাইকে রাশেদার সামনে দিয়ে যেতে হবে। রেজিস্টার তার হাতে, গেটের চাবি জসিমের হাতে, আর মাঝখানের ফাঁকটুকু সে নিজেই নিজের শরীর দিয়ে বন্ধ করে রেখেছে। মেহরিনের কণ্ঠ শান্তই রইল। “তা হলে এখানেই সিদ্ধান্ত হোক। সামনে খালাম্মারা আছেন, পেছনে স্টোরের ছেলেরা। যা বলবেন, লিখে বলবেন।”
রাশেদার হাসি জমে গেল। সে বুঝল, পেছনের এই লেনটাকে সে নিজের আদালত বানাতে চেয়েছিল, কিন্তু এখন এইখানেই প্রত্যেকে শুনছে কার অধিকার কতটুকু। ওপর থেকে আরিফ নেমে এল—সাদা পাঞ্জাবি, গলায় অনুষ্ঠানের ফিতা, চোখে সেই অস্বস্তি যা পুরুষেরা পরে যখন দুই পক্ষেই তাদের সুবিধা থাকে। “কী হচ্ছে? অতিথিরা আসছে।”
রাশেদা দ্রুত বলল, “কিছু না। নিচের অফিসের মেয়ে জোর করে ভেতরে ঢুকতে চাইছে।”
“নিচের অফিসের মেয়ে?” সেলিনা খালাম্মার গলাটা কেটে গেল। “ওর বাবার নাম মুখে আনতে হবে, নাকি তাও মুছে ফেলবে?”
এক মুহূর্তের জন্য বাতাস বদলে গেল। আরিফ চোখ নামাল। মেহরিন তাকে দেখল না। সে শুধু খামের ভেতর থেকে একটা ছোট কাগজ বের করল—পুরনো ট্রাস্টের অনুলিপি নয়, গুদামের পেছনের গেটের চাবি হস্তান্তর নথি। নিচে পুরনো মালিক আজমত হোসেনের স্বাক্ষর, পাশে দাগ টানা নীল কালির শুকনো দাগ। বহুদিন আগে কলম চেপে সই করার চিহ্ন। জসিম সেই কাগজ দেখেই সোজা হয়ে দাঁড়াল।
রাশেদা কাগজটা ছিনিয়ে নিতে গেল। মেহরিন তুলে নিল না; শুধু হাত সরিয়ে নিল, যাতে কাগজ তার আঙুলে না লাগে। “আপনি যদি বলতেই চান আমি অনধিকারচর্চা করছি,” মেহরিন বলল, “তা হলে সেটা লিখে দেন। রেজিস্টারে লিখুন—আমি জোরপূর্বক অপসারণযোগ্য। আপনার নামে লিখুন। সময় লিখুন।”
আরিফ ফিসফিস করে বলল, “এত বাড়াতে হবে না।”
“বাড়িয়েছেন তো আপনারাই,” মেহরিন উত্তর দিল না; কিন্তু তার নীরবতা আরিফের কথাটাকে ঝুলিয়ে রাখল। রাশেদার কপালে ঘাম চিকচিক করল। এতক্ষণ পর্যন্ত সে মুখে বলছিল; এখন কাগজে নাম দিতে হবে। তবু সাক্ষীর সামনে পিছু হটার পথ নেই। সেলিনা খালাম্মা দাঁড়িয়ে, জসিম দাঁড়িয়ে, স্টোরের দুজন ছেলে থেমে, এমনকি বাসন ধোয়ার মেয়েটিও করিডোরের মুখে।
রাশেদা রেজিস্টার টেনে নিল, পাতার নিচে তার নিজের কলম চালাল। “রেকর্ড রাখো,” সে জসিমকে বলল, “মেহরিন—অবিলম্বে অপসারণ। পেছনের গেটে প্রবেশ নিষেধ। প্রয়োজনে তালা বসবে।” তারপর নিজের নাম লিখে সই করল। কালি একটু ছড়িয়ে গেল; সে রেগে গিয়ে আঙুল দিয়ে চেপে দিল, আরও নোংরা হলো। “এবার সরে দাঁড়াও।”
এই প্রথম ছোট্ট পুরস্কারটা চোখে পড়ল—জসিম সইয়ের পাশে স্বাক্ষর করতে হাত তুলেও থামল। “ভাবি,” সে আস্তে বলল, “এই স্তরের আদেশে… আপনার একার সই চলে?”
রাশেদা ঘুরে তাকাল, কণ্ঠ ধারালো। “আমি হবু বড়বউ। এই বাড়ির অনুষ্ঠানে আমার কথা চলবে না?”
মেহরিন তখনই ফোন বের করল। কোনো তর্ক নয়, কোনো কান্না নয়। সে শুধু একটি নম্বরে কল দিল। দুবার রিংয়ের পর ওপাশে কর্কশ বয়স্ক গলা—হাজি মতিন সাহেব, কোম্পানির চেয়ারম্যান, যিনি আজ অসুস্থ বলে উপরের ঘরে বসে আছেন এবং যাঁর নাম নিয়ে এতক্ষণ সবাই চালাচালি করছিল। মেহরিন স্পিকার চালু করল না; ফোন কানে রেখেই বলল, “চাচা, পেছনের গেটে রাশেদা ভাবি আমাকে অপসারণের লিখিত নির্দেশ দিলেন। আপনার দেওয়া অস্থায়ী প্রবেশ-অধিকার আর ট্রাস্ট সংশোধনের খাম জমা দিতে বাধা দিচ্ছেন। আপনি কি চান আমি গেটেই নথি ফেরত দিই?”
চারপাশের শব্দ এতটাই থেমে গেল যে ওপাশের কাশি শোনা গেল। তারপর কড়া গলা, এত জোরে যে মেহরিন ফোন কানে রেখেও সবাই শুনে ফেলল, “রেজিস্টারটা যার হাতে, তার হাতে দিও না। জসিমকে দাও। আর মেহরিনকে কেউ থামাবে না। ও আজ থেকে ট্রাস্টের সহ-স্বাক্ষরকারী। পেছনের গেটের নিয়ন্ত্রণ কাগজে আগে থেকেই ওর নামে নবায়ন করা হয়েছে। কে অপসারণের আদেশ দিয়েছে?”
মেহরিন এবার ফোনটা সামান্য নামাল। “রাশেদা ভাবি। লিখিত।”
রাশেদার ঠোঁট শুকিয়ে গেল। “চাচা, আমি তো শুধু শৃঙ্খলার জন্য—”
ওপাশে আরেক দফা কাশি, তারপর কাটা শব্দ, “যার পদ নেই, সে অপসারণ লিখবে কেন? জসিম, রেজিস্টারের পাতাটা পড়ে শোনাও।”
জসিম এবার সত্যি সোজা হয়ে দাঁড়াল। রাশেদার হাত থেকে রেজিস্টার নিতে গিয়ে সে আর অনুমতি চাইল না। পাতাটা তুলে পড়ল, গলায় হালকা কাঁপুনি: “মেহরিন—অবিলম্বে অপসারণ। পেছনের গেটে প্রবেশ নিষেধ। প্রয়োজনে তালা বসবে। স্বাক্ষর—রাশেদা সুলতানা।”
ওপাশের গলা শক্ত হলো। “নথিভুক্ত করো: অননুমোদিত অপসারণ নির্দেশ। পেছনের গেট সাময়িক সিল। যিনি নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ওই পথ ব্যবহার করবেন না। চাবি মেহরিন নেবে। এখনই।”
এইবার দৃশ্যটা এক ঝটকায় বদলে গেল। রাশেদা বলল, “না, এক মিনিট—” কিন্তু ‘এক মিনিট’ বলার আগেই জসিম চাবির গোছা তুলল। ধাতুর ঠোকাঠুকি সরু লেন জুড়ে বাজল। সে মেহরিনের দিকে বাড়িয়ে দিল। আরিফ এগিয়ে এসে কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল; তার গলার শিরা কাঁপছিল, কিন্তু এখানে তার কোনো সই নেই, কোনো রেজিস্টার নেই। সেলিনা খালাম্মা চশমা পরে নিলেন, মুখের কোণে এমন এক রেখা টানল যা হাসি নয়, আবার দুঃখও নয়—শুধু পড়ে ফেলা।
মেহরিন ফোন নামিয়ে বলল, “জসিম ভাই, পড়ে শোনানো পাতার নিচে আরেক লাইন লিখুন। ‘অননুমোদিত নির্দেশ ফেরত প্রেরিত। আদেশদাতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত পথরোধ তার ওপর প্রযোজ্য।’ সময় লিখুন।” তারপর সে রাশেদার দিকে হাত বাড়াল। “কলমটা।”
রাশেদা পিছিয়ে গেল, যেন সেই সস্তা কালো কলমটাই হঠাৎ ধারালো। “তুমি সীমা ছাড়াচ্ছ।”
“আপনি একটু আগেই সীমা লিখে দিয়েছেন,” মেহরিন বলল। “এবার কাগজ ফিরছে।”
জসিম লিখল। কালি এইবারও ছড়াল, কিন্তু হাতে কাঁপুনি কম। মেহরিন রেজিস্টার নিজের দিকে না টেনে, টেবিলের মাঝ বরাবর রেখে দিল—যেন কারও ব্যক্তিগত জিনিস নয়, কার্যকর নথি। তারপর চাবির গোছা থেকে পেছনের গেটের মোটা পিতলের চাবিটা আলাদা করল। এই সেই চাবি, যা রাতের শেষে দেরিতে ফেরে। বহুদিন ওর হাতেই ফিরেছে; আজ ফিরল মালিকানা-নির্দেশে।
রাশেদা সামনে ঝাঁপ দিল। “আমি ভেতরে যাব। অনুষ্ঠান আমার—”
“পেছনের পথ নয়,” মেহরিন কেটে দিল। গলাটা খুব উঁচু নয়, কিন্তু স্পষ্ট। “আপনি যে পথে অন্যকে নামিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, সেই পথ আপনার জন্য বন্ধ। সামনের ফটক খোলা আছে। যদি কেউ আপনাকে ঢোকায়।”
এই একটি বাক্যে প্রথম দৃশ্যের সবকিছু উল্টে গেল। পেছনের লেনের রান্নার মেয়ে ট্রের জন্য সরে দাঁড়াল না; স্টোরের ছেলেরা চুপচাপ তাদের বস্তা উঁচু করল, যেন এই সরু জায়গায় এখন কেবল কার্যকর লোকেরই জায়গা। আরিফ একবার রাশেদার দিকে, একবার মেহরিনের দিকে তাকাল; তারপর সরে গেল, কারণ এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে তাকেও পথ আটকে থাকা লোকের দলে পড়তে হয়।
মেহরিন গেটের পাল্লা টেনে দিল। লোহা ঘষার কর্কশ শব্দ উঠল। সে জসিমকে বলল, “রেজিস্টার করিডোরের টেবিলে নিন। এখানে আর কোনো ব্যক্তিগত বিচার বসবে না।” তারপর নিজের হাতে পিতলের চাবিটা ঢুকিয়ে ঘুরাল। তালার ভেতর ধাতব দাঁত একবার খচ্ করে বসে গেল। রাশেদা এগিয়ে এসে, এতক্ষণকার আভিজাত্য হারিয়ে, হাত বাড়াল—“চাবি দিন, আমি—”
মেহরিন তার দিকে না তাকিয়েই চাবিটা বের করল, দেরিতে-ফেরা চাবির রিংয়ে সেটি গুঁজে ব্যাগে রাখল, আর গেটের বাইরের হুকটায় নতুন সিল-ট্যাগ ঝুলিয়ে দিল। তারপর এক পা সরে দাঁড়াল, যাতে রাশেদার সামনে শুধু বন্ধ লোহার পাল্লা আর ঝুলন্ত তালাটা থাকে।
রাশেদা ক্রোধে তালা চেপে ধরল, একবার মোচড় দিল। তালা নড়ল না।