ঘরটা আমার জন্যই রাখা ছিল #2
“চাদরটা ঠিক করে ধরেন—রক্ত নিচে পড়ছে!” বলে মেহজাবিন দুই হাতে স্ট্রেচারের ধাতব কিনারা চেপে ধরল, কাঁধে ঝুলে থাকা ব্যাগটা বারবার সরে গিয়ে তার কনুইয়ে আঘাত করছিল। করিডরের সাদা আলোয় রিফাতের মায়ের শাড়ির আঁচল অর্ধেক মেঝেতে লুটাচ্ছিল; মেহজাবিন সেটা হাঁটু দিয়ে গুটিয়ে তুলে দিল, তারপর নিজের ওড়না খুলে মহিলার পায়ের ওপর চাপা দিল। ঠিক সেই সময় নাবিলা আপা রিসেপশনের কাউন্টারের দিকে মুখ ফিরিয়ে কড়া গলায় বললেন, “ওকে পরে থাকতে বলেন। আগে আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা নাম লিখেন। বাইরের মেয়েমানুষ এত ভেতরে কেন?”
কথাটা এমনভাবে বলা হল যেন মেহজাবিন এই ভিড়ভাট্টা ঢাকা শহরের হাসপাতালে কাউকে বাঁচাতে নয়, ফাঁক গলে ঢুকে পড়েছে। অথচ ভর্তি-ফরমের অর্ধেক ভাঁজ করা রসিদ তার হাতেই, বারবার খুলে আবার ভাঁজ করতে করতে কাগজের কিনারা নরম হয়ে গেছে। কৃষি অফিসের ফাইলভরা ব্যাগটা রিফাতের ছিল; বিকেলে অফিস থেকে সোজা এসে সে শুধু মাকে ধরে রেখেছিল, বাকিটা মেহজাবিনই সামলাচ্ছিল।
ওয়ার্ড-বয় জসিম গলা চড়িয়ে বলল, “একজন থাকেন, বাকিরা সাইডে যান।” নাবিলা আপা তৎক্ষণাৎ প্লাস্টিকের চেয়ারের কোণায় বসে থাকা নিজের ছেলেকে টেনে কাছে নিলেন, যেন জায়গা আগে থেকেই তাদের। মেহজাবিন দাঁড়িয়ে রইল। তারপর কোনো অনুমতির অপেক্ষা না করে ভর্তি-ফরমটা কাউন্টারে ঠেলে দিল, সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি আর আগাম টাকার গুচ্ছ। “জরুরি,” শুধু এইটুকু বলল সে। টাকাগুলো গুনতে গুনতে ক্যাশিয়ার জিজ্ঞেস করল, “রোগীর সঙ্গে সম্পর্ক?” মেহজাবিন উত্তর দেওয়ার আগেই রিফাত, কাঁধ কাঁপতে কাঁপতে, প্রথমবার সরাসরি তার দিকে তাকিয়ে বলল, “আমাদের লোক। আগে কাগজ নেন।”
সেই একটুখানি “আমাদের” করিডরের ঠান্ডা বাতাসে খুব বড় হয়ে উঠল না, কিন্তু মেহজাবিনের জন্য তবু একটা সরু ফাঁক খুলে গেল। তাকে ভেতরের দরজা পর্যন্ত যেতে দিল নার্স। রিফাতের মা অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে যাওয়ার পর করিডরের শব্দ বদলে গেল—চাকার কটকট, দূরের আজান, চা-ওয়ালার থার্মোসে চামচের ঠকঠক। রিফাত দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়েছিল; চোখ লাল, শার্টের কলারে ঘাম শুকিয়ে শক্ত। নাবিলা আপা তখনই হিসাব কষতে শুরু করলেন, “রাত বড় হবে। কে থাকবে, কে যাবে, সেটা ঠিক করতে হবে। মেয়ে মানুষকে এখানে বসিয়ে রাখলে কালকে কত কথা হবে জানেন?”
মেহজাবিন বলল না যে সন্ধ্যার টিউশনটা সে বাতিল করেছে, না গেলে এই মাসের বাড়িভাড়া জোড়া লাগানো কঠিন হবে। বলল না যে তার পুরোনো ট্রানজিট কার্ডের ক্ষয়ে যাওয়া ধার আজ তিনবার মেশিনে আটকে গেছে। সে শুধু ওষুধের তালিকাটা নিল। “এগুলো এখনই আনতে হবে।”
ফার্মেসিতে গিয়ে বুঝল তালিকার শেষের ইনজেকশনটা বাইরে থেকে আনতে হবে। নিজের মোবাইলের খাপে রাখা ভাঁজ করা পাঁচশো টাকার নোট, টিউশনের জন্য জমিয়ে রাখা, বের করে দিল। ফেরত টাকার সঙ্গে নতুন আরেকটা রসিদ ঢুকল হাতে। ফিরে এসে দেখল প্লাস্টিকের চেয়ার তিনটায় আত্মীয়রা বসে গেছে; তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নাবিলা আপা ভুরু কুঁচকে বললেন, “এসব আনলেন, ঠিক আছে। এখন বাসায় গিয়ে ঘুমান। সকালে আবার আসবেন। রাত জাগার দরকার নাই।”
“ডাক্তার আবার ডাকতে পারে,” মেহজাবিন শান্ত গলায় বলল।
“ডাক্তার কি আপনাকেই ডাকবে?” নাবিলা আপার ঠোঁট বেঁকে গেল। “মেয়েদের নামে লোকজন কী বলে, সেটা বুঝেন না?”
ওই সময় রিফাত মাথা তুলল না, কিন্তু হাত বাড়িয়ে তার পাশে রাখা ব্যাগটা নিল না। উল্টো, নিজের মায়ের শালের গোটানো বালিশটা তুলে প্লাস্টিকের চেয়ারের এক কোণা ফাঁকা করল। “বসো,” খুব নিচু স্বরে বলল। ওইটুকুই। নাবিলা আপা তাকালেন, কিছু বললেন না; তবে তার নীরবতা ছিল ধারালো।
রাত দুইটার পর ডাক্তার বের হয়ে বললেন, রক্তচাপ নেমেছিল, এখন সামলানো গেছে, কিন্তু সকালে একটা জটিল কাগজে স্বাক্ষর লাগবে। ঠিক সেই সময় রিফাতের খালা এসে পৌঁছালেন জেলা শহর থেকে, হাতে কাপড়ের ব্যাগ, মুখে হাজার প্রশ্ন। নাবিলা আপা তাকে বসিয়ে ফিসফিস করে বলতে লাগলেন কে কত করল, কে কতখানি কাছের। মেহজাবিন তখন ওয়াশরুম থেকে বালতি এনে করিডরে পড়ে থাকা বমি ধুয়ে দিচ্ছিল, কারণ রোগীর ছেলের জুতা তাতে মাখামাখি হয়ে গেছে। জসিম ঝাড়ু হাতে দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু অন্য ওয়ার্ডে ডাক পড়েছে। মেহজাবিনের আঙুলে পুরোনো কলমের কালি-দাগ এখনও লেগে; সেই দাগে ফেনা আটকে নীলচে হয়ে উঠল।
ফজরের আলো ফুটতেই বিলিং সেকশন থেকে ফোন এল—সকালের মধ্যে আরেক দফা টাকা না দিলে কেবিন ছাড়বে না। রিফাত তখন করিডরের জানালার গ্রিলে কপাল ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে। কৃষি অফিসে তার অস্থায়ী চাকরি, বেতন নিয়মিত আসে না; মা অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই ধার করে চলছে। নাবিলা আপা গলায় অসহায়তার সুর মেখে বললেন, “আমি যা পারি করেছি। এখন তো আর আকাশ ফুঁড়ে টাকা নামবে না।”
মেহজাবিন ব্যাগ থেকে ছোট্ট টিনের বাক্স বের করল। ভেতরে একজোড়া কানের দুল, মায়ের রেখে যাওয়া, আর কিছু সঞ্চয়। “এগুলো রাখেন,” সে কাউন্টারে বলল, “বাকি আমি বিকেলে জোগাড় করি।” ক্যাশিয়ার কানের দুল নিতে চাইল না, কিন্তু নগদ টাকাটা নিল। রিফাত ঘুরে তাকাল এবার—একেবারে তাকাল। তার চোখে লজ্জা ছিল, কৃতজ্ঞতাও ছিল, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ছিল হঠাৎ ভয় পাওয়া মানুষের মতো এক রকম খালি হয়ে যাওয়া। “তুমি এটা কেন করলে?”
মেহজাবিন কাঁধ ঝাঁকাল। “আপনার মা কেবিনে থাকুক আগে।”
এই কথার ঠিক আধঘণ্টা পরেই মাঝের মোড়টা এসে গেল। রিফাতের মাকে কেবিনে তুলতে গিয়ে খালার পা স্লিপ করল, স্ট্রেচার দরজার ধাতব ফ্রেমে আটকে কাত হয়ে গেল। নার্স আর জসিম দুজনেই অন্যদিকে ছিল। রিফাত এক হাতে মাকে ধরে, এক হাতে স্ট্যান্ড সামলে পুরোপুরি বিচলিত। ওই এক মুহূর্তে মেহজাবিন ছুটে গিয়ে স্ট্যান্ডটা বুক দিয়ে ঠেকাল, বাঁ হাত দিয়ে স্যালাইনের নল ওপরে তুলল, আর ডান কাঁধ দিয়ে স্ট্রেচার সরিয়ে দরজার ঠোক্করটা থামাল। রিফাতের মা ব্যথায় চিৎকার করে উঠেছিলেন; আরও এক ইঞ্চি সরে গেলে নল খুলে যেত। রিফাতের তালু মেহজাবিনের কবজিতে এসে থামল, শক্ত, কাঁপা। দুজনেই এক সেকেন্ড দম নিল না।
পরে, কেবিনের বাইরে দাঁড়িয়ে রিফাত শুধু বলল, “আমি দেখিনি কতটা তুমি ধরে রেখেছিলে।” কথাটা নিচু, কারও শোনার জন্য না। মেহজাবিন উত্তর দিল না। কেবিনের কাচে ভোরের ধূসর আলো পড়ছিল, আর নাবিলা আপা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সব দেখেও এমন মুখ করে রইলেন যেন এটা ছিল স্বাভাবিক, আর মেহজাবিনের কাজই ছিল পড়ে থাকা সব ধরে রাখা।
তিন দিন পর ছাড়পত্র হল। সমস্যা তখন নতুন জায়গায় গিয়ে দাঁড়াল—হাসপাতাল থেকে সোজা কোথায় নেওয়া হবে? রিফাতের মায়ের গ্রামের বাড়ি এখন অসম্ভব; ঢাকায় ফলো-আপ আছে। রিফাত যে মেসে থাকে সেখানে অসুস্থ বৃদ্ধা রাখা যাবে না। শেষ পর্যন্ত কাছেই এক আত্মীয়ের ফাঁকা ফ্ল্যাটে কয়েক রাতের জন্য ব্যবস্থা হল। কিন্তু সেই ব্যবস্থার সঙ্গে শর্ত এল নাবিলা আপার মুখ দিয়ে: “রিফাত থাকবে, খালা থাকবে। মেহজাবিন, তুমি এখন বাড়ি যাও। এতদিন হাসপাতালে ছিলে, যথেষ্ট হয়েছে। মেয়ের মান-সম্মান বলে কিছু আছে।”
“ওষুধের সময়, স্যালাইন, ড্রেসিং—সব আমি লিখে দিয়েছি,” মেহজাবিন বলল।
“লেখা দিলেই হয়। থেকে যাওয়ার দরকার নাই।” নাবিলা আপা এবার একেবারে দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। ছোট একদল মানুষ দেখছে—খালা, জসিম, বাড়িওয়ালার প্রতিনিধি, নিচের গার্ড। “এখানে কারা থাকবে, সেটা আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা দেখে ঠিক হবে। সবাই সব জায়গায় ঢুকতে পারে না।”
এটা ছিল সরাসরি দরজা আটকে দেওয়া। মেহজাবিনের হাতে তখন ওষুধের ব্যাগ, ভেতরে গজ, থার্মোমিটার, ডাক্তারের কাগজ। এক সেকেন্ডের জন্য তার মনে হল ব্যাগটা মেঝেতে রেখে চলে যায়। যে মানুষগুলো তার কেনা ওষুধ ব্যবহার করবে, তার ধোয়া চাদর গায়ে দেবে, তার লেখা সময় দেখে ট্যাবলেট খাওয়াবে, তারাই তাকে দোরগোড়ার বাইরে নামিয়ে রাখছে। অপমানেরও একটা গরম থাকে; সেটা গলা বেয়ে উঠে এসে চোখের ভেতর কেটে যায়। সে ঠোঁট কামড়ে ব্যাগটা আরও শক্ত করে ধরল।
ঠিক তখন রিফাত সিঁড়ি বেয়ে উঠল। হাতে মায়ের রিপোর্ট, কাঁধে নিজের কৃষি অফিসের ব্যাগ। দরজার সামনে নাবিলা আপাকে দেখে থামল। “কি হয়েছে?”
নাবিলা আপা খুব স্বাভাবিক গলায় বললেন, “কিছু না। মেয়েটাকে বলছি, এখন যাক। এখানে থাকার দরকার নেই। মানুষজন কী বলবে?”
রিফাত প্রথমে মেহজাবিনের হাতে ধরা ব্যাগের দিকে তাকাল, তারপর দরজার চৌকাঠে রাখা তাদের পুরোনো স্যান্ডেলের দিকে, তারপর নাবিলা আপার মুখে। সে কোনো তর্ক শুরু করল না। খুব চুপচাপ নিজের পকেটে হাত ঢুকিয়ে চাবির রিং বের করল—ছোট, কালচে, ব্যবহার করতে করতে কিনারা মসৃণ হয়ে যাওয়া। আরেক পকেট থেকে ভাঁজ করা একটা কাগজ বেরোল; মেসের রসিদ, বহুবার খোলা-বন্ধ করা। সে কাগজটা গুটিয়ে আবার রেখে দিল।
“খালা,” সে বলল, “আপনি মাকে আগে ভেতরে নেন। আপা, এই ফ্ল্যাটে যে দুদিন থাকব, সেটা অস্থায়ী। কিন্তু মেহজাবিন বাইরে যাবে না।” নাবিলা আপা মুখ খুলতেই সে এবার সরাসরি তাকাল। “এটা কারও সামনে বলার কথা না, তাই বলিনি। আমার মেসের পাশের ছোট ঘরটা আমি কালই অগ্রিম দিয়ে নিয়েছি। ওর জন্য। হাসপাতাল থেকে রাতে ফিরতে হবে ধরে।”
করিডরের বাতাস যেন এক মুহূর্তে বদলে গেল না; বরং আরও টানটান হল। নাবিলা আপা তীক্ষ্ণ স্বরে বললেন, “ওর জন্য? মানে কী? তুমি কি জানো কী বলছ?”
রিফাত জবাব দিল না। সে চাবির রিং থেকে একটা আলাদা চাবি খুলে মেহজাবিনের দিকে বাড়িয়ে দিল। “তুমি আগে যাও। নিচের মোড়ে নাস্তার দোকানের পাশের গলিটা। টিনের গেট, দ্বিতীয় তলা। আমি মাকে তুলে দিয়ে আসছি।” তারপর, এক সেকেন্ড থেমে, দরজার মুখে দাঁড়িয়ে নাবিলা আপার শরীরের ফাঁকটুকু খুলে দিল। “ওষুধের ব্যাগটা নিয়ে ভেতরে ঢোকো। সময় লিখে দাও।”
এইটুকু ছিল দরজা খোলা; কিন্তু মেহজাবিনের জন্য তার চেয়েও বড় ছিল, সে চাবিটা সঙ্গে সঙ্গে নেয়নি। একবার রিফাতের মুখের দিকে তাকাল। ওখানে কোনো নাটুকেপনা নেই, কোনো বড় ঘোষণা নেই—শুধু তিন রাতের না-ঘুম, ভয়, আর অবশেষে একরোখা স্থিরতা। সে চাবিটা নিল। তারপর নাবিলা আপার কাঁধের পাশ ঘেঁষে, খুব সোজা হয়ে, ব্যাগ হাতে ভেতরে ঢুকে গেল। কেউ তাকে আর থামাল না।
ভেতরে রোগীকে শুইয়ে, ওষুধের সময় গুঁজে দিয়ে, থার্মোমিটার টেবিলের কোণায় রেখে, মেহজাবিন আর একবারও কারও দিকে কিছু প্রমাণ করতে দাঁড়াল না। বিকেলের শেষ আলো নামার আগে সে সেই নতুন ঘরটার সামনে গিয়ে দাঁড়াল—মেসের পাশের সরু সিঁড়ি, সিমেন্টের দেওয়ালে স্যাঁতসেঁতে দাগ, টিনের গেট। তালা খুলতেই হালকা চুনের গন্ধ বেরোল। ছোট ঘর; একটা খাট, ভাঁজ করা নীল চাদর, অ্যালুমিনিয়ামের জগ, জানালার ধারে প্লাস্টিকের চেয়ার। চেয়ারের কোণায় বাজারের ব্যাগে রাখা বিস্কুট, ওআরএস, আর এক প্যাকেট গজ। খাটের ওপর তার রেখে যাওয়া পুরোনো নোটবই—রিফাত কোনো একসময় হাসপাতাল থেকে নিয়ে এসেছে—আর পাশে কলমটা, ঢাকনা খোলা, আঙুলের চাপে পুরোনো দাগ পড়া।
পেছনে কারও পায়ের শব্দ এলে সে ঘুরল না। ব্যাগটা নামিয়ে খাটের ধারে রাখল, ওড়না ঠিক করল, তারপর ভেতরে ঢুকে দরজাটা পুরোপুরি টেনে দিল না—আধখোলা রাখল। হাত বাড়িয়ে সুইচ টিপতেই হলুদ বাতিটা জ্বলে উঠল।
ঘরটা গুছিয়ে রাখা, খাটে চাদর টানা, চেয়ারের কোণায় তার নোটবই, আর জানালার গ্রিল পেরিয়ে পড়া আলো-ছায়ার মধ্যে ছোট বাতিটা জ্বলতেই থাকল।