Fast Fiction

ঘরটা আমার জন্যই রাখা ছিল

মেহরিন প্লাস্টিকের চেয়ারের কোণা টেনে এনে আরিবের মায়ের মাথার নিচে গুঁজে দিল, তারপর নিজের ওড়না খুলে স্যালাইনের নলটা দরজার হাতল থেকে ছাড়িয়ে সোজা করল। করিডরে তখন তিনজন একসাথে চিৎকার করছে—“আত্মীয়রা বাইরে যান”, “রক্ত লাগবে”, “এই মেয়েটা কে?”—আর রুবাইয়াৎ আপা ঠোঁট বেঁকিয়ে বলল, “কে আবার? ক্লাসের মেয়ে। দরকার শেষ, এবার সরে দাঁড়াও।”

কথাটা এমনভাবে বলা হলো যেন মেহরিন গত তিন রাতের মতোই না জেগে ছিল, না দৌড়ে ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনেছিল, না আধভাঁজ প্রেসক্রিপশনটা বারবার খুলে দেখে টাকার হিসাব মিলিয়েছিল। তার আঙুলে পুরোনো কলমের কালি লেগে আছে; দুপুরে বিলের কাগজে ধারদেনার নাম লিখতে গিয়ে ছোপ পড়েছিল। সে জবাব দিল না। নলটা সোজা হতেই বুড়ি মহিলার কাঁপুনি কমল। ওয়ার্ডবয় সোহেল তাকিয়ে বলল, “এখন থাক, এই মেয়েটা থাক। রোগী আবার নড়বে।”

ওই “থাক” শব্দটাই প্রথম ফাঁক। রুবাইয়াৎ আপার চোখ সরু হয়ে গেল। “থাক মানে? আমরা আছি না? আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা না থাকলে হাসপাতালে সবাই ঢুকে পড়বে নাকি?”

মেহরিন আরিবের মায়ের স্যান্ডেলের জোড়া খাটের নিচ থেকে টেনে এনে পাশাপাশি রাখল। কারও মা হাসপাতালে এলে জুতো হারিয়ে গেলে পরে বেরোনো কঠিন হয়—এইসব ছোট অপমান কেউ মনে রাখে না, কিন্তু শরীর রাখে। নার্স এসে চাপা গলায় বলল, “একজন থাকবেন, বেশি ভিড় না।” রুবাইয়াৎ আপা সঙ্গে সঙ্গে হাত তুলে নিজেকে দেখাল। মেহরিন তখনই টিফিন ক্যারিয়ারের ঢাকনা খুলে নরম ভাতটা মেখে দিল, কারণ রোগীর ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। বুড়ি মহিলা চোখ আধখোলা করে বললেন, “মা, একটু পানি।”

“আমি দিচ্ছি,” মেহরিন বলতেই রুবাইয়াৎ আপা ঠাস করে ঢাকনা বন্ধ করে দিল। “এসব দেখিয়ে লাভ নাই। আরিবের ভাবমূর্তি আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সবাই চেনে।”

আরিব তখন বিলিং কাউন্টারের দিক থেকে ফিরছিল, মুখে তিন রাত না-ঘুমোনো ছায়া। তার শার্টের বুকপকেট থেকে বাসকার্ডের ক্ষয়ে যাওয়া নীল কিনারা বেরিয়ে আছে। সে কিছু বলার আগেই মেহরিন একপাশে সরে গেল। সরে গিয়েও থামল না; পাশের চেয়ারে বসা এক বৃদ্ধার হাতে পানির বোতল ধরিয়ে দিল, তারপর টিফিনটা আবার রোগীর বিছানার টেবিলে তুলে রাখল। যেন তাকে সরিয়ে দিলেও সে কাজের জায়গা ছেড়ে যায় না, শুধু নিজের জায়গা ছোট করে।

সন্ধ্যার আজান ভেসে এলে করিডর আরও ভিড় করল। খালা এসে ফিসফিস করে আরিবকে বললেন, “বাবা, মেয়েটারে একটু দূরে রাখো। মানুষের মুখ বন্ধ নাই।” এই ‘মানুষ’রা কারা, কেউ বলে না; তবু সবার জন্য জায়গা ছাড়তে হয়। মেহরিন দূরে দাঁড়িয়ে ছিল, হাতে আধভাঁজ ফার্মেসির রসিদ। তবু যখন ক্যানুলার পাশে রক্ত জমে ফুলে উঠল, সবার আগে সে-ই দৌড়ে নার্স স্টেশনে গেল, তুলা এনে চাপ দিল, আর রক্তের ছোট দাগটা চাদরে ছড়িয়ে পড়ার আগেই ভেজা টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলল। নার্স ফিরে এসে শুধু বলল, “ভালো করেছেন। রোগীর হাত ধরেন।”

রুবাইয়াৎ আপা দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “বেশ আরাম, তাই না? না আত্মীয়া, না কিছু—তবু মাঝখানে মাঝখানে।”

মেহরিন এবার তাকাল। “মাঝখানে না থাকলে উনি বিছানা থেকে পড়ে যেতেন।”

কথাটা উঁচু গলায় নয়, কিন্তু সোজা। রুবাইয়াৎ আপা যেন এরকম উত্তর আশা করেনি। তবু হার মানার মানুষ সে না। একটু পরেই সে চেয়ার বদলে দিল—নিজে বসে রইল, মেহরিনকে দাঁড় করিয়ে রাখল। তারপর আরিবকে শোনাল, “তোমার আব্বা কৃষি অফিসে চাকরি করে মানুষ হয়েছেন, এইসব অবস্থা বুঝে চলতে শিখেছ তো? কার সঙ্গে কার নাম জড়ায়, এসব ঢাকায় আগুনের মতো ছড়ায়।”

আরিব মাথা নিচু করল, কিন্তু মেহরিন দেখল তার কাঁধ শক্ত। সে চুপচাপ ওষুধের খালি প্যাকেট, ব্যবহৃত কাগজ, কলার খোসা এক ব্যাগে গুছিয়ে ফেলল। তারপর বুড়ি মহিলার পা থেকে কম্বল সরে গেলে আবার টেনে দিল। সেই সময় বৃদ্ধা নিজের হাতে তার কবজি চেপে ধরে বললেন, “বের হয়ো না।”

এক মুহূর্ত। সবার সামনে। রুবাইয়াৎ আপার নখ-লাগানো আঙুল থেমে গেল। নার্স রোগীর শ্বাস গুনছিল; কিছু বলল না। আরিব চোখ তুলে একবার মেহরিনের দিকে তাকিয়ে খুব ছোট গলায় বলল, “থাকো।”

এবার শব্দটা আর ওয়ার্ডবয়ের ছিল না।

রাত বাড়তেই হাসপাতালের বাতাসে গরম ভাত, ডেটল আর আতঙ্ক মিশে একঘেয়ে কড়া গন্ধ হলো। আরিবের মা বাথরুমে নিতে হবে। রুবাইয়াৎ আপা মুখ বিকৃত করল—“আমি পারব না, নার্স ডাকো।” নার্স অন্য কক্ষে ব্যস্ত। মেহরিন বিছানার পাশে এসে বুড়ি মহিলার কাঁধে হাত দিল, “খালা, ধীরে।” এক হাতে স্যালাইন স্ট্যান্ড, অন্য হাতে শরীরের ভার, পা পিছলে না যায় বলে নিজের স্যান্ডেল খুলে দিল। বাথরুমের সামনে পানি জমে ছিল; সে পা দিয়ে মুছে পথ শুকনো করল। ফিরে আসার সময় বুড়ি মহিলা কেঁপে উঠলে আরিব ছুটে এল, কিন্তু তার আগেই মেহরিন পুরো শরীর দিয়ে ওজনটা নিল।

ফেরার পর খালা নিচু গলায় বললেন, “মেয়েটা কাজের।” তারপর সঙ্গে সঙ্গে চারপাশ দেখে গলা নামালেন, যেন বেশি স্বীকার করলে বদনাম হবে। তবু সেই স্বীকারোক্তির দাম আছে। প্লাস্টিকের চেয়ারের একধারে মেহরিনকে বসতে দিলেন তিনি নিজেই। এইটুকুই নিরাপদ জায়গা—একটা কোণা, যেখানে সারারাত দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না।

ভোরের আগে হঠাৎ আরিবের মায়ের শ্বাস ছোট হয়ে এলো। মনিটরের শব্দ বদলে গেল। নার্সরা দৌড়ে এল। “একজন বাইরে যান।” রুবাইয়াৎ আপা এতক্ষণে দরজার কাছে, কিন্তু ভিতরে ঢোকার সাহস নেই। আরিবের দুই হাত কাঁপছে, ফর্মে সই করতে গিয়ে কলম পড়ে গেল। মেহরিন কলমটা তুলে তার হাতে গুঁজে দিল। কালি-দাগওয়ালা নিজের আঙুল দিয়ে কাগজের লাইনে দেখিয়ে দিল কোথায় সই করতে হবে। তখনই আরিব হঠাৎ বলে উঠল, “মেহরিন!”

সে নাম ধরে ডাকল। সামনে নার্স, খালা, রুবাইয়াৎ আপা—সবাই। মেহরিন ঘুরতেই আরিব তার কবজি চেপে ধরল, “এখানে থাকো। তুমি গেলে আমি পারব না।”

রুবাইয়াৎ আপা তীব্র স্বরে বলল, “এটা হাসপাতাল, নাটক করার জায়গা না।”

আরিব এবার তার দিকেই তাকাল। চোখ লাল, গলা বসা, তবু পরিষ্কার—“আপা, এখন যার কাজ লাগে, সে-ই থাকবে।”

এই প্রথম সে প্রথার বদলে তাকে বেছে নিল, আর সেটা যুক্তি দিয়ে নয়, প্রয়োজনের মাঝখানে হাত বাড়িয়ে। মেহরিন কিছু বলল না। শুধু ফর্মের আরেকটা পাতা উল্টে দিল, তারপর দরজার পাশে দাঁড়িয়ে নার্সকে জায়গা ছেড়ে দিল। ভিতরের তাড়াহুড়োর মধ্যে তার উপস্থিতি এখন আর ব্যাখ্যা চায় না।

সকাল নামার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের বাইরে ঢাকা আবার নিজের চেহারা ফিরে পেল—হর্ন, ধুলো, দেরিতে আসা আত্মীয়, চায়ের কাপে চিনি বেশি। কিন্তু চাপ সরে গেল না; নতুন রূপ নিল। রুবাইয়াৎ আপা করিডরের কোণে আরিবকে দাঁড় করিয়ে ফিসফিস নয়, ইচ্ছে করেই শোনার মতো স্বরে বলল, “একদিন-দুইদিন থাকলেই কি মানুষ ঘরের হয়? মেয়েটার বাসা মিরপুরে মেয়েদের মেসে। সেখানে ফিরুক। আর লাগলে ডেকে নেব। এর বেশি হলে নাম লাগবে। বিয়ের কথাও আছে, বুঝো।”

মেহরিন শুনেও চোখ তুলল না। ওষুধের ব্যাগ থেকে স্ট্রিপ গুনছিল। কিন্তু তার বুকের ভিতরটা একবার ঠক করে নামল। মেসের মালিক আগেই বলে রেখেছে—দু’রাতের বেশি বাইরে থাকলে খাট অন্যকে দিয়ে দেবে। তবু সে ছিল, কারণ হাসপাতালে কেউ তো আরিবের মায়ের রাতের বাথরুম, ওষুধের ফাঁক, স্যান্ডেলের জোড়া দেখে না। দরকার ফুরোলেই লোক ফুরায়—এই হিসাব সে নতুন জানে না।

বিকেলে ছাড়পত্র মিলল। ঝামেলা তখন অন্যখানে। আরিবের মা হাঁটতে পারছেন না ঠিকমতো; বাসায় নিতে হবে। রুবাইয়াৎ আপা আগেই ব্যবস্থা করে ফেলেছে—“আমি খালাকে নিয়ে উঠব। আরিব, তুমি আম্মুকে ধরো। মেহরিন, তুমি যাও। এতক্ষণ ছিলে, ধন্যবাদ।” শেষ কথাটা এমনভাবে বলল যেন বখশিশ দিল।

নিচে নামার সময় আরও এক ধাপ নীচে নামাল সে। ভাড়ার মাইক্রোবাসে একটা সিট ফাঁকা ছিল; রুবাইয়াৎ আপা নিজের ব্যাগ রেখে দিল সেখানে। “এটা ওষুধের জন্য,” বলে মেহরিনকে দাঁড় করিয়ে রাখল। সিঁড়ির মোড়ে ঝুলে থাকা পোস্টারের নিচে দাঁড়িয়ে মেহরিন তার ব্যাগের চেইন টানল। ভিতরে টুকটাক সবকিছু—চার্জার, রসিদ, বাসকার্ড—যেন সবই সাময়িক।

আরিবের মা গাড়িতে ওঠার সময় কেঁদে ফেললেন। “মা কোথায়?” তিনি কোন ‘মা’ ডাকছেন, বোঝা কঠিন না। মেহরিন এগোতেই রুবাইয়াৎ আপা কাঁধে হাত রেখে আটকাল, “এখানেই শেষ। মানুষের চোখ আছে।”

মেহরিন হাতটা সরিয়ে দিল। খুব জোরে নয়, কিন্তু পুরোপুরি। “মানুষের চোখ থাকলে উনাকে সিটে বসান আগে।”

সে গিয়ে দুহাতে আরিবের মায়ের পা ঘুরিয়ে বসাল, ওড়না দিয়ে দরজার ধাতব প্রান্ত মুছে দিল যাতে কপালে না লাগে। তারপর সোজা দাঁড়াল। “এখন আমি যাচ্ছি।”

এই ‘যাচ্ছি’ কথাটা তার নিজের। ভিক্ষার না, অভিমানেরও না। সিদ্ধান্তের।

কিন্তু বিষয়টা এত সহজে ছাড়ার মতো ছিল না। বাসা পৌঁছে আরও বড় অপমান অপেক্ষা করছিল। ধানমন্ডির পুরোনো বাড়ির তিনতলায় আরিবদের ভাড়া ফ্ল্যাট; নিচতলায় বাড়িওয়ালার বউ সব দেখে। রুবাইয়াৎ আপা সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে আগেই বলে দিল, “মেহরিন উপরে আসবে না। নিচে নামিয়ে দিলেই হবে। ভেতরে মেয়ে ঢুকলে পরে কী বলব?” বাড়িওয়ালার বউ গ্রিলের আড়াল থেকে তাকিয়ে আছে। খালা চুপ। আরিবের মা কাঁপা গলায় বলছেন, “মা, হাত দে।”

সিঁড়ির মাঝখানে দাঁড়িয়ে মেহরিন বুঝল, এটাই সেই জায়গা যেখানে মানুষকে দরজার বাইরে রেখে তার সব কাজ ভেতরে ঢুকিয়ে নেওয়া হয়। সে আর এক ধাপ উঠল না। ব্যাগের ফিতা শক্ত করে ধরল। “খালা, ওনাকে ধরুন,” বলে সরে দাঁড়াতে যাচ্ছিল।

তখনই আরিব, যে এতক্ষণ মায়ের কাঁধ সামলাচ্ছিল, হঠাৎ থেমে গেল। রুবাইয়াৎ আপা তাড়াতাড়ি বলল, “দাঁড়িয়ে আছ কেন? দরজা খোলো।” আরিব পকেট থেকে চাবি বের করল, কিন্তু রুবাইয়াৎ আপার বাড়ানো হাতে দিল না। সে সোজা নিচে নেমে মেহরিনের সামনে এসে দাঁড়াল। এক সেকেন্ডের জন্য করিডরের টিউবলাইটে তার মুখে ক্লান্তি আর জেদ একসাথে ধরা পড়ল।

“তুমি গেলে কোথায় যাবে?” প্রশ্নটা নিচু গলায়।

মেহরিন ঠোঁট চেপে বলল, “মেসে। যদি খাটটা রেখে থাকে।”

রুবাইয়াৎ আপা ঝাঁঝিয়ে উঠল, “এইসব আবেগের সময় না, আরিব!”

আরিব যেন শুনলই না। সে দরজার সামনে গিয়ে চাবি ঘুরিয়ে খুলে দিল। তারপর সরে দাঁড়াল না; উল্টো দরজাটা পুরো ঠেলে খুলে রেখে নিচে নেমে আবার মেহরিনের ব্যাগটা তার হাত থেকে নিয়ে নিল। “ভিতরে আসো।”

বাড়িওয়ালার বউ গ্রিলের ওধার থেকে বলল, “কে মেয়েটা?” রুবাইয়াৎ আপা সঙ্গে সঙ্গে মুখে মিষ্টি সুর আনতে গিয়ে আরও কড়া শোনাল, “হাসপাতাল থেকে—”

আরিব কেটে দিল, “মা’কে যে এনেছে, সে-ই।” তারপর মেহরিনের দিকে ফিরে, এবার একেবারে ব্যক্তিগত গলায়, “রাস্তা খালি করেছি। আসো।”

এইটুকুতেই খরচ ছিল—রুবাইয়াৎ আপার কর্তৃত্ব, বাড়িওয়ালার প্রশ্ন, খালার নীরব সমর্থন ভেঙে ফেলা, আর নিজের মুখে এক সম্পর্কের সীমানা টেনে দেওয়া যার নাম এখনই কেউ দিতে পারবে না। মেহরিন স্থির দাঁড়িয়ে রইল। সে জানে, একবার এই দোরগোড়া পেরোলে আর “কাজ শেষে যাও” বলা আগের মতো সহজ থাকবে না। আবার না পেরোলেও সব দায় তার ওপরই চাপবে। সে নিজের স্যান্ডেল খুলল, দরজার বাইরে পরিপাটি করে পাশাপাশি রাখল, তারপর দুই হাত ফাঁকা করে ভেতরে পা দিল।

আরিব তখনও দরজাটা ধরে। রুবাইয়াৎ আপা কিছু বলছিল, কিন্তু কথার ধার আর পৌঁছাল না। মেহরিন ভেতরে ঢুকে প্রথমেই ড্রয়িংরুমের পাশে ছোট ধোয়ার জায়গায় গিয়ে হাত ধুল। হাসপাতালের গন্ধ সাবানেও গেল না পুরো। তারপর সে নিজেই ব্যাগটা নিয়ে বারান্দার পাশের ছোট ঘরের দিকে এগোল—যেটা হয়তো পড়ার ঘর, হয়তো স্টোর, হয়তো কারও জন্য আগে কখনও ঠিক করে রাখা হয়নি। তবু বিছানার উপর ধোয়া চাদর টানটান, জানালার কপাট খোলা, আর টেবিলের ধারে তার জন্য জায়গা ফাঁকা।

মেহরিন ব্যাগ নামিয়ে রাখল। একবারও কারও দিকে ফিরে তাকাল না। দরজার চৌকাঠ পেরিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে সে নিজে হাতে কপাটটা আধখোলা রেখেই পাশের কাঠের তাকের নিচের খোপে নিজের টুথব্রাশটা রেখে দিল। খোপটা খালি ছিল, যেন সেটাই এতক্ষণ অপেক্ষা করছিল; পথ ভেতরে সোজা, খোলা।