ফাঁকা স্লটটা আমারই ছিল
“চাবিটা দাও, তুমি এত ভেতরে কেন ঢুকছ?”—ফারিহা ভাবির গলাটা দরজার ফাঁকে কেটে এল, আর সেই সময় মেহরিন দুই হাঁটু মেঝেতে ঠেকিয়ে নাবিলার বিছানার নিচ থেকে গড়িয়ে যাওয়া ইনহেলারটা টেনে তুলছিল। ঘরটা ঘাম, ভেজা কাপড় আর ওষুধের গন্ধে ভরতি। নাবিলা আপা কাশি থামাতে না পেরে বিছানার ধার চেপে বসে আছে, রাশেদ বারান্দা থেকে পানির বোতল এনে হিমশিম খাচ্ছে। মেহরিন ইনহেলারটা নাবিলার হাতে গুঁজে দিয়ে বলল, “একটু ধীরে, আপা, এখন নিন।” তারপরই উঠে দাঁড়াতেই ফারিহা ভাবি তার হাতের দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় বলল, “এই ঘরে সবার একটা সীমা আছে। কাজ করে দিলে খুব ভালো, কিন্তু জায়গা বুঝতে হয়।”
মেহরিন হাত নামিয়ে নিল। হাতে পুরোনো নীল কলমের কালি দাগ, নখের ধারে ধুলো। সে সারা বিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের প্রেজেন্টেশনের ফাইল ছাপিয়ে, নাবিলার ওষুধ এনে, ফেরার পথে নিজের টিউশনের টাকা থেকে ফার্মেসির বিল মিটিয়েছে। সেই অর্ধেক ভাঁজ করা রসিদটা এখনও তার সালোয়ারের পকেটে চেপে আছে। অথচ এখন, নাবিলার বালিশ ঠিক করে দেওয়া মেয়েটাই যেন সবচেয়ে বাড়তি।
রাশেদ তখনই ঘুরে বলল, “ভাবি, ও না ঢুকলে ইনহেলারটাই পেতাম না।” কথাটা জোরে না, কিন্তু থামানো যায় না এমনভাবে বলল সে। তারপর আলমারির পাশের ছোট পড়ার টেবিলটায় রাখা নিজের মোটা নোটের গাদা সরিয়ে দিল একপাশে। “মেহরিন, তোর খাতা এখানে রাখ। বারবার দরজার কাছে দাঁড়াস না।”
ফারিহা ভাবি তাকিয়ে রইল। টেবিলটা এতদিন রাশেদের দখলে ছিল—যদিও এটি আসলে শেয়ার করা ঘরের মাঝের একমাত্র সমতল জায়গা। মেহরিন নড়ল না। সে জানে, ঢাকার এই ভাড়া ফ্ল্যাটে কার খাতা কোথায় থাকবে, কার মগ কোন তাকের কোণে উঠবে—এসবই কথার চেয়ে বড়। নাবিলা কাশির ফাঁকে ফিসফিস করে বলল, “রাখো। দাঁড়িয়ে থেকো না।”
মেহরিন ব্যাগ খুলে তিনটা বই টেবিলের বাম দিকে রাখল। ফারিহা ভাবি তৎক্ষণাৎ এগিয়ে এসে বলল, “ও জায়গাটা শিলা আসলে লাগবে। আগামী সপ্তাহে সে উঠবে কয়েকদিন, কোচিং আছে ঢাকায়।” আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা গলায় এমন ভর রাখে, যেন সিদ্ধান্ত আগেই হয়ে গেছে। মেহরিন বইগুলো ফের হাতে নিতে গিয়েছিল, রাশেদ তখন টেবিলের উপর রাখা নিজের ল্যাপটপের চার্জার গুটিয়ে নিয়ে সোজা বলল, “শিলা এলে অন্যভাবে দেখব। এটা এখন এখানেই থাকবে।”
ফারিহা ভাবির চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। “তুমি খুব সোজা করে নিচ্ছো ব্যাপারটা। মেয়েমানুষের নামে বাইরে কথা উঠতে সময় লাগে না।”
মেহরিন আর কিছু বলল না। সে বই রেখে চুপচাপ দরজার কাঠে হাত ছুঁয়ে বেরিয়ে গেল। কিন্তু বেরোনোর আগে দেখল, রাশেদ টেবিলের বাম দিকটায় তার পুরোনো ক্যালকুলেটরের পাশে একটু ফাঁক করে দিয়েছে—যেন ওই ছোট্ট অংশটা সরিয়ে নেওয়া হবে না।
দুই দিন পরে ক্যাম্পাসে বৃষ্টি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁচঘেরা ভবনের সামনে পানি জমে নোংরা ধূসর। মেহরিন ক্লাস শেষে ছাতা ভাঁজ করছিল, রাশেদ ফোন দিল। “চাবিটা তোর কাছে?” সে গত রাতের তাড়ায় মেসের অতিরিক্ত চাবি ভুলে মেহরিনকে দিয়ে রেখেছিল; ফিরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল সকালে। মেহরিন বলল, “আছে। লাইব্রেরির সিঁড়ির কাছে আসেন।” সে চাবিটা ফেরত দিতে গেলেও মনে হচ্ছিল এ জিনিস ফেরত দেওয়া মানে আবার বাইরে সরে যাওয়া।
রাশেদ চাবি নিয়ে পকেটে না ঢুকিয়ে তার দিকে বাড়িয়ে দিল। “রাখ। নাবিলা আপার রাতের ওষুধ থাকলে তুইই আগে পৌঁছাস। দরকারে খুলে ঢুকবি।” মেহরিন তাকিয়ে রইল। ধাতব চাবির মাথায় লাল প্লাস্টিক, বহুদিনের ঘষায় মসৃণ। দেরিতে ফেরত দেওয়া চাবি কখনও কখনও বিশ্বাসের মতো লাগে, কখনও বোঝার মতো। আজ দুটোই। পাশ দিয়ে কয়েকজন সহপাঠী যেতে যেতে তাকাল; রাশেদ গা করল না। শুধু নিচু গলায় বলল, “দরজায় দাঁড়িয়ে থাকিস না সব সময়।”
সেই রাতেই প্রথম ধাক্কা এল। শিলা—ফারিহা ভাবির মামাতো বোন—একটা মাঝারি স্যুটকেস টেনে এসে ঘরের দোরগোড়ায় দাঁড়াল। সঙ্গে ফারিহা ভাবি। নাবিলা বিছানায় নোট মেলছে, মেহরিন টেবিলের পাশে বসে কৃষি বিপণন বিষয়ে লিখছে। বৃষ্টির জল ঝরতে ঝরতে স্যুটকেসের চাকা দরজার সামনে কাদা রেখা ফেলল। ফারিহা ভাবি বলল, “ওঠে যা, শিলা। ওদিকের টেবিলটা তো ফাঁকাই আছে।”
মেহরিন উঠে দাঁড়াল না। সে কলম বন্ধ করল, খাতার উপর হাত রাখল। শিলা একটু ইতস্তত করেও স্যুটকেস ভেতরে ঠেলতে গেল। ঠিক তখন রাশেদ রান্নাঘর দিক থেকে এসে দরজার ফাঁকে দাঁড়াল। তার এক হাত দরজার কপাটে, আরেক হাত স্যুটকেসের হাতলে। “না,” সে বলল, “এই জায়গায় জিনিস নামবে না।”
ফারিহা ভাবি অবিশ্বাসে হেসে ফেলল। “তুমি আমাকে না বলছ?”
“আমি বলছি, এখানে যার বই আছে, তার জায়গায় অন্য কারও জিনিস নামবে না।” রাশেদের গলা খুব সমান। সে স্যুটকেসটাকে আবার দোরগোড়ার বাইরে টেনে রাখল। মেহরিনের তিনটা বই, নীল কাভারের খাতা আর ভাঁজ করা ফার্মেসির রসিদ টেবিলের কোণে চাপা পড়ে আছে—অথচ সেই রসিদটাই যেন হঠাৎ প্রমাণ হয়ে দাঁড়াল, সে এখানে শুধু ভিজিটর না।
শিলা বিব্রত হয়ে ফারিহা ভাবির দিকে তাকাল। ফারিহা ভাবি বলল, “একটা মেয়েকে নিয়ে এত ঝামেলা? বাইরে মানুষ কী বলবে জানো?” নাবিলা এবার মুখ তুলল। “মানুষ আগে কাশি থামাতে শেখুক, তারপর বলুক,” সে শুকনো গলায় বলল। কিন্তু সেই সন্ধ্যায় আর বাড়েনি বিষয়টা। শিলাকে পাশের ফ্ল্যাটের খালার কাছে সাময়িক রাখা হলো। মেহরিন টেবিলে বসে থাকলেও কলম চলল না; তার বুকের ভেতরটায় টান ধরা অস্বস্তি আর অদ্ভুত হালকা একটা অনুভূতি একসঙ্গে উঠানামা করছিল।
পরের শুক্রবার ফারিহা ভাবিদের বাসায় দাওয়াত। নাবিলার শ্বাসকষ্ট এখন কমেছে; তাই সবাইকে নিয়ে পুরান ঢাকার বাড়িতে খেতে ডাকা। মেহরিন যেতে চায়নি। কিন্তু নাবিলা বলল, “আমি একা গেলে ভাবি উল্টো গল্প করবে।” সেই কারণে গিয়েই বিপদটা চোখের সামনে স্পষ্ট হল। বড় ডাইনিং টেবিল, কাঁচের ঢাকনায় গরম ভাতের ভাপ, গরুর মাংস, বেগুন ভাজি। বড়রা খাচ্ছে, ছোটরা পানি দিচ্ছে। মেহরিনকে বসানো হলো একদম কোণায়, যেন সে সঙ্গে আসা কেউ—গণনায় আছে, গৃহে নেই।
খাওয়ার ফাঁকে ফারিহা ভাবি হাসতে হাসতে বলল, “মেয়েটা খারাপ না। কিন্তু মেস-টেসের সীমা রাখতে হয়। আমাদের আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা আছে, কারও নামের সঙ্গে কারও নাম জুড়তে দেরি লাগে না। শিলা থাকলে সুবিধা হতো; নিজের লোক।” টেবিলের ওপারে রাশেদের মা চামচ নামিয়ে মেহরিনের দিকে একবার দেখলেন, তারপর ছেলের দিকে। তিনি কিছু বললেন না, কিন্তু মুখের ভাঁজ শক্ত হল।
মেহরিন তখন গ্লাসের ঠান্ডা পানি ধরে ছিল। আঙুলে কুয়াশা জমছিল। সে শান্ত গলায় বলল, “নাবিলা আপা ভালো আছেন। আমার ওঠানামা কমিয়ে দেব। চাবিটাও দিয়ে দেব।” কথাটা বলার পর বুকের ভেতর খালি হয়ে গেল। সে কারও কাছে থাকবার অধিকার দাবি করল না; বরং বোঝা হালকা করে দিতে চাইল।
রাশেদ সোজা হয়ে বসল। “চাবি ফেরত দেওয়ার দরকার নেই,” সে বলল, এবার তার গলায় ঘরের ভেতরের জন্য রাখা নিচু স্বর নেই। “আর ওঠানামা কমানোরও না। যে সময় সবার দরকার হয়েছে, তখন নিজের লোক কোথায় ছিল, সেটা সবাই জানে।” ফারিহা ভাবি সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল, “তুমি এখন বড়দের সামনে—” রাশেদের মা কাঁটাচামচে হালকা ঠক্ শব্দ করলেন প্লেটে। “খাওয়া শেষ করো,” তিনি শুধু এইটুকু বললেন। কিন্তু ফারিহা ভাবির মুখে জমে থাকা নিশ্চিন্ত ভাবটা সেখানেই সরে গেল।
ফিরে আসার পথে সিঁড়ির অন্ধকার মোড়ে মেহরিন থামল। দরজার ফাঁকে দাঁড়ানোর সেই ছোট্ট অভ্যাসগত বিরতি। সে চাবিটা বের করে রাশেদের দিকে বাড়িয়ে দিল। “আপনাদের নিয়ে কথা উঠুক, আমি চাই না।” রাশেদ চাবি নিল না। বরং তার মুঠোটা ভাঁজ করে দিয়ে বলল, “কথা উঠলে উঠুক, তুই নিজের জায়গা ছেড়ে দিয়ে সব ঠিক করে দিবি না।” এত কাছে দাঁড়িয়ে বলল, কিন্তু স্পর্শটুকু এক সেকেন্ডের বেশি নয়। তবু এই প্রথম মেহরিন বুঝল, তাকে আটকে রাখার ইচ্ছে দয়ার না—পক্ষ নেওয়ার।
শেষ চাপটা এল তিন দিন পরে, বিকেলের দিকে। নাবিলা ডিপার্টমেন্টে, রাশেদ এখনও ফেরেনি। মেহরিন টিউশন থেকে এসে দেখে ঘরের দরজা আধখোলা, ভেতরে ফারিহা ভাবি আর শিলা। শিলার স্যুটকেস এবার খোলা, তার পোশাক বেরিয়ে বিছানার উপর। টেবিলের বাম দিকটা ফাঁকা করে ফেলা হয়েছে; মেহরিনের বই মেঝেতে নামানো। উপরের লম্বা শেয়ার করা তাকের মাঝের সারিতেও তার জায়গায় শিলার প্রসাধনীর ব্যাগ উঠতে যাচ্ছে।
মেহরিন দরজায় দাঁড়িয়ে রইল। এক মুহূর্তের জন্য তার মাথা ঝাপসা হয়ে গেল, তারপর সে নিচু হয়ে নিজের বই তুলল। ফারিহা ভাবি জয়ী গলায় বলল, “এভাবে সহজেই মিটে যেত, যদি প্রথম থেকেই বুঝতে। তোমার জিনিসপত্র গুছিয়ে নাও।”
মেহরিন বইগুলো বুকে চেপে সোজা দাঁড়াল। “না,” সে বলল, খুব আস্তে, কিন্তু একটুও কাঁপল না। “আমার জিনিস আমি গুছাব, কিন্তু সরাব না।” সে টেবিলের দিকে এগিয়ে গিয়ে আবার নিজের খাতা রাখল। পুরোনো নীল কালির দাগওলা কলমটা তার ওপর আড়াআড়ি রেখে দিল—যেন লাইন টানা হলো।
ফারিহা ভাবি তেড়ে এসে শিলাকে বলল, “রাখো তোমার ব্যাগ।” শিলা কুণ্ঠিত হাতে তাকের ফাঁকা অংশে ব্যাগ তুলতে গেল। ঠিক তখনই দরজার বাইরে চাবির শব্দ। রাশেদ ঢুকে দৃশ্যটা একবারে দেখে নিল—মেঝেতে সরে পড়া বই, খুলে রাখা স্যুটকেস, মেহরিনের শক্ত মুখ। সে একটাও প্রশ্ন করল না। সরাসরি এগিয়ে গিয়ে শিলার ব্যাগটা তাক থেকে নামিয়ে দরজার পাশে রাখল। তারপর টেবিলের বাম দিকটায় মেহরিনের বইগুলো নিজে তুলে গুছিয়ে বসাল। ফার্মেসির অর্ধেক ভাঁজ করা রসিদটা খাতার ভেতর থেকে পিছলে পড়েছিল; সে সেটাও তুলে বইয়ের নিচে চেপে দিল।
“এটা বাড়াবাড়ি,” ফারিহা ভাবি বলল, এবার গলায় রাগের চেয়ে বেশি তাড়া। “খালাম্মাকে আমি কী বলব?”
রাশেদ তার দিকে না তাকিয়েই বলল, “যা সত্যি, তাই। এই জায়গা খালি না।” তারপর ঘরের উপরের তাকের সারি ধরে হাত চালিয়ে মাঝখানে যেটুকু ফাঁক শিলার ব্যাগ নিতে চাচ্ছিল, সেটা আরও পরিষ্কার করে দিল। মেহরিনের দুটো রেফারেন্স বই ডানদিকে, একটা কৌটা, একটা মগ; আর তাদের পাশে ইচ্ছে করে রাখা এক হাত জায়গা ফাঁকা। “এখানে কিছু উঠবে না,” সে বলল।
ফারিহা ভাবি এবার সোজা মেহরিনের দিকে ফিরল। “তুমি কিছু বলছ না কেন? এত কিছুর পরে থাকতেই চাও?”
মেহরিন তার দিকে তাকাল। বাইরে আজান শুরু হয়েছে, জানালার কাঁচে সন্ধ্যার নোংরা আলো। সে ধীরে ধীরে নিজের চাবিটা ব্যাগের ছোট চেইনওলা ঘরে ঢুকিয়ে দিল। তারপর শিলার খোলা স্যুটকেসের পাশে পড়ে থাকা নিজের বইয়ের শেষ কপিটা তুলে টেবিলে রাখল। “আমি অতিথি হলে চলে যেতাম,” সে বলল। “আমার জিনিস আমি যেখানে ছিল, সেখানেই রাখছি।”
কথাটা ঘরে ঠান্ডা ধাতুর মতো পড়ল। নাবিলা ঠিক তখনই এসে দরজার বাইরে থামল; তার হাতে বাজারের ব্যাগ, চোখে ক্লান্তি। সে ভেতরে ঢুকে কিছু না বলে শিলার স্যুটকেসটা দরজার বাইরের করিডরে সরিয়ে দিল। ভেতরে ঢোকার পথ পরিষ্কার হলো, কিন্তু কেউ আর তর্ক জোরে এগোল না। ফারিহা ভাবি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে শুধু বলল, “এই দায় তোমাদের।” তারপর শিলাকে নিয়ে বেরিয়ে গেল। দরজাটা পুরোপুরি বন্ধ হলো না; অল্প ফাঁক রয়ে গেল, যেন সদ্য ঠেকানো ঝড়ের পরও বাতাস ঢুকবে।
ঘরে হঠাৎ খুব স্বাভাবিক শব্দগুলো ফিরে এল—নাবিলার ব্যাগ থেকে পেঁয়াজের গন্ধ, পাশের ফ্ল্যাটের প্রেসার কুকারের সিটি, দূরে রিকশার ঘণ্টা। রাশেদ টেবিলের পাশে এসে দাঁড়াল। “মেহরিন,” সে ডাকল। এই প্রথম কেবল নাম, কোনো বাড়তি সম্বোধন ছাড়া। মেহরিন মাথা তুলল না, শুধু বইয়ের কোণ সোজা করল। রাশেদ আলতো করে তার খাতার পাশে চাবিটার জন্য ছোট্ট একটা স্টিলের বাটি সরিয়ে রাখল, যেন জিনিসটিরও স্থায়ী জায়গা আছে।
রাত নেমে গেলে মেহরিন উপরের তাকটায় নিজের বই তুলল। দুটো মোটা বই, একখানা পাতলা নোট, আর ভাঁজ করা রসিদটা তাদের নিচে গুঁজে দিল যাতে উড়ে না যায়। তাকের সারি লম্বা, ব্যবহারে জীর্ণ, কাঠের কিনারায় পুরোনো খোঁচা। তার জিনিসের পাশেই এক হাত ফাঁক জায়গা খালি রইল—না মগ, না ব্যাগ, না কারও প্রসাধনী। মেহরিন হাত বাড়িয়ে ফাঁকা অংশটার ধুলো একবার মুছে নিল, তারপর বইগুলোর কিনারা সমান করে রেখে দিল।