Fast Fiction

ভুল জনই নিচে নেমে গেল

“ওকে এখন না, পরে,” সাবিহা খালা হাত তুলে রেজিস্টার-টেবিলের সামনে দাঁড়ানো কর্মীকে থামালেন, তারপর নিজের ভাতিজির বউকে কনুই দিয়ে সামনে ঠেলে দিলেন। “আগে ঘরের মেয়েরা উঠবে। তুমি বেঞ্চে বসো, মাহিরা।”

মাহিরার হাতে ভাঁজ খোলা-বন্ধ করা একটা ছোট কাগজ—ক্যাটারারের টাকা মেটানোর রসিদ—ঘামে নরম হয়ে গেছে। অন্য হাতে মেট্রো রেলের কার্ডের ঘষা-খাওয়া কিনারা। সে সিঁড়ির মুখের ঠিক আগে রাখা লাল দড়ির লাইনে প্রথমে ছিল; এখন লোকজনের সামনে তাকে সরিয়ে বেঞ্চে পাঠানো হচ্ছে। রেজিস্টার-টেবিলের সরু ধার ভরা আতর, কলম, সেফটিপিন, খাম—সবকিছুর মাঝখানে কর্মীটা একবার মুখ তুলেই আবার নিচু করল। আশপাশে আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা মুখগুলো একই সঙ্গে দেখল, মনে রাখল।

মাহিরা বসেনি। সে দড়ির পাশেই সোজা দাঁড়িয়ে বলল, “আমি টাকা বুঝিয়ে দিয়েছি। উপরের তালিকায় নাম মিলাতে বলেছিলেন।”

সাবিহা খালা ঠোঁট বাঁকালেন। “টাকা দিলে কি আত্মীয় হয়ে যাওয়া যায়? কাজ করে দিয়েছ, ধন্যবাদ। এখন ভদ্রভাবে সরে দাঁড়াও।”

পেছন থেকে কারও খুকখুক কাশি। কারও শাড়ির ঘের থেমে গেল। মাহিরার বুকের ভিতরটায় আগুন লাগল, তবু গলায় বরফ রেখে রসিদটা টেবিলের ওপর রাখল। “তালিকায় যার নামে অগ্রিম গেছে, তার নাম মিললে তবেই সরে দাঁড়াব।”

কর্মীটা কাগজ ধরতেই সাবিহা খালা দ্রুত নিজের হাত বসিয়ে দিলেন রসিদের ওপর। “এসব পরে হবে। আগে আপনজন।”

এই ‘পরে’ শব্দটাই মাহিরাকে সবচেয়ে বেশি অপমান করল। তিন মাস ধরে সে এই বিয়ের কেনাকাটা, হলুদ, গায়েহলুদ, ফুলওয়ালা, এমনকি বরপক্ষের কৃষি ব্যাংকের ড্রাফট জমা দেওয়া পর্যন্ত দৌড়ে করেছে; তবু সবার সামনে তার জায়গা এখন ‘পরে’। আর রায়হান—যে তাকে বলেছিল, “আজ আর কাউকে কিছু ব্যাখ্যা করতে হবে না”—সে সিঁড়ির ওপরে এক দঙ্গল বড়দের মধ্যে আটকা পড়ে নিচে তাকিয়েও নামল না।

সাবিহা খালা প্রথম খোঁচাটাতেই থামলেন না। বেঞ্চের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন, “ওইখানে বসো। দাঁড়িয়ে থাকলে লোকে ভুল বুঝবে।” তারপর আরেক আত্মীয়াকে শোনালেন এমন গলায়, যাতে সব্বাই শোনে, “মেয়েটা ভালো, কাজে লাগে। কিন্তু সব জায়গার একটা সীমা আছে।”

দ্বিতীয় অপমানটা এল আরো ধারালো হয়ে। রেজিস্টার-টেবিলের কর্মী যখন উপরের পরিবারের জন্য গলায় ঝোলানোর ছোট গোলাপি ফিতা-চিহ্নগুলো সাজাচ্ছিল, সাবিহা খালা দুইটা তুলে সামনের জনদের দিলেন, একটা নিজের আঁচলে গুঁজলেন, আর মাহিরার সামনে রাখা ফিতাটা আঙুল দিয়ে সরিয়ে কলমদানি পেছনে ঠেলে দিলেন। “এটা অতিথি টেবিলে যাবে।”

মাহিরা সেটা দেখল। শুধু দেখল না—আশপাশের চোখে দেখল। কার বুকে ফিতা ঝুলবে, কে সিঁড়ি দিয়ে সোজা উঠবে, আর কে নিচে থামবে—সব একসাথে পড়ে নেওয়া যায় এ জায়গায়। সে তখনই বুঝল, ভুল করলে সে নিজেই নিজেকে ‘অতিথি’ বানিয়ে দেবে। চুপ থাকলে সাময়িক, কথা বললে বেহায়া—দুই দিকেই ফাঁদ।

রায়হান তখন নেমে এল বটে, কিন্তু খুব দেরিতে। কপালে ঘাম, পাঞ্জাবির বোতামের কাছে ফুলের সুতো জট লেগে আছে। নিচে নামতেই সাবিহা খালা এমন মুখে বললেন, যেন সবই স্বাভাবিক, “তোর বন্ধুটি জেদ ধরেছে। কাজের হিসাব এখনই চাই।”

বন্ধুটি। শব্দটা এক ঝটকায় মাহিরার কানের ভেতর বিঁধল। রায়হান এক সেকেন্ড থেমে গেল। সেই থামাটাই ঘরভর্তি চোখে ধরা পড়ল। “খালা, ও—”

“ওর জন্য পরে সময় হবে,” সাবিহা খালা কেটে দিলেন। “আগে ঘরের মেয়েরা উঠুক।”

মাহিরা আর তার দিকে তাকাল না। সে টেবিলের পেছনে গুঁজে রাখা গোলাপি ফিতাটার দিকে হাত বাড়িয়ে নিজে নিল না, শুধু আঙুলের ডগা দিয়ে সামনে টেনে আনল। এতটুকুই। ক্ষুদ্র, তবু দৃশ্যমান। কর্মীটা ফিতার দিকে তাকিয়ে আবার মাহিরার মুখের দিকে তাকাল। লাইনের পিছনের দুই মহিলা একটু সরে দাঁড়ালেন, যেন কে আগে যাবে সেটা নতুন করে বুঝতে চাইছেন।

সাবিহা খালা সঙ্গে সঙ্গে দড়ির সামনে নিজের শরীরটা আড়াআড়ি করে দিলেন। “ছোঁবেন না। যাদের নাম উঠবে, তারা পাবে।”

মাহিরা এবার সবার শুনতে পাওয়ার মতো গলায় বলল, “নাম উঠলে নেব। নাম কাটা হলে চলে যাব। কিন্তু আমাকে বেঞ্চে পাঠিয়ে অন্য কাউকে আগে তুলবেন না।”

এইবার নড়াচড়া সত্যিই বদলাল। কর্মীটা কার্ডে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করল, “অগ্রিম যেই নম্বর থেকে গেছে, নাম?”

মাহিরা রসিদের কোণা উল্টে দিল। “মাহিরা হোসেন। রায়হান আহমেদের পক্ষ থেকে।”

পেছনের একজন দুলাভাই গলা নামিয়ে আরেকজনকে বলল, “পক্ষ থেকে?” সেই ছোট ফিসফাসই যেন লাইনে একটা ফাটল ধরাল। সামনে যাকে সাবিহা খালা ঠেলে দিয়েছিলেন, সে নিজেই অর্ধেক পা পেছাল। কর্মীটা রেজিস্টারের পাতা উল্টে আঙুল থামিয়ে দিল। “নাম আছে।”

সাবিহা খালা এবার হাত বাড়িয়ে রেজিস্টার ঘুরিয়ে নিতে গেলেন। “থাকলে কী হয়েছে? নাম দিলেই—”

“খালা।” রায়হানের গলায় প্রথমবার কাঁচ কাটা শব্দ বেরোল। সে সিঁড়ির মাঝ থেকে নেমে সরাসরি দড়ির মুখে এসে দাঁড়াল, ঠিক মাহিরা আর সাবিহা খালার মাঝখানে নয়, মাহিরার পাশে। এই পাশে দাঁড়ানোটা দেখেই কাছের ফুফুদের মুখের ভাঁজ বদলে গেল। রায়হান কর্মীকে বলল, “লাইন ভাঙবেন না। আগে ও যাবে।”

সাবিহা খালা যেন বিশ্বাসই করতে পারলেন না। “তুই পাগল হয়েছিস? কার আগে?”

রায়হান এবার ঘুরে বড়দের দিকেও শোনাল, “যার নামে টাকা গেছে, যার হাতে ঘরের তালা ছিল, যে গতরাতেও ভেন্যুর চাবি ফিরিয়ে দিয়েছে সবার শেষে—তার আগে। মাহিরা আগে উঠবে।”

চাবির কথা শুনে মাহিরার মুঠো শক্ত হয়ে গেল। কাল রাতের দেরিতে ফেরত দেওয়া সেই চাবিটা এখনও তার ব্যাগে। এই একটা জিনিস জানত কেবল ঘরের লোক। রায়হান সেটাই সবার সামনে ছুড়ে দিল। লুকোনো সম্পর্ক নয়, ঘরের ভেতরের প্রবেশাধিকার। সাবিহা খালার মুখে রক্ত উঠে আবার নেমে গেল।

তিনি তবু শেষ চেষ্টা করলেন। “কাজ করলেই কেউ ঘরের হয় না। লোকে দাঁড়িয়ে আছে, এসব কথা এখানে—”

মাহিরা তখনই ব্যাগ খুলে ছোট রিংয়ে বাঁধা পিতলের চাবিটা বের করল। টেবিলের ওপর রাখল রসিদের পাশে। টুং শব্দে কলম কেঁপে উঠল। “যেদিন আপনি বলেছিলেন, ‘মেয়ের মানসম্মান আছে, রাতে এখানে থাকো’, সেদিন আমি কাজের লোক ছিলাম না, খালা। আজ লোকে দেখছে বলে অতিথি হয়ে গেলাম?”

ওই এক লাইনে বেঞ্চের পাশে জমে থাকা ভুল গল্পটা কেটে গেল। সামনে দাঁড়ানো দুজন মহিলা পুরো সরে গেলেন। কর্মীটা দড়ি তুলে ধরল, কাকে পথ দেবে সেটা আর অনুমানের বিষয় রইল না। কিন্তু সাবিহা খালা দড়িটা নিজের হাতে চেপে ধরলেন। “কেউ উঠবে না। আগে ভাইজানের অনুমতি লাগবে।”

এই প্রতিরোধটুকুই শেষ ভরসা ছিল। সিঁড়ির ওপর থেকে রায়হানের বাবা নেমে আসছিলেন ধীরে, সঙ্গে দুজন চাচা। সবার চোখ এখন তাদের দিকে। রায়হান এক পা এগিয়ে টেবিলের গোলাপি ফিতা-চিহ্নগুলোর গুচ্ছ তুলে নিল। একটা নিজের বুকে লাগাল না। সোজা মাহিরার দিকে বাড়িয়ে দিল না-ও। সে সবার সামনে স্পষ্ট গলায় বলল, “অনুমতি আমি দিচ্ছি। এই বাড়ির বিয়েতে আমার পাশে, আমার আগে, রেজিস্টারে ঘরের অধিকারের চিহ্ন পাবে মাহিরা। যার আপত্তি, এখনই বলুন।”

শব্দগুলো শাড়ি, আতর, লাইটের তাপ, কাচের বাটির টুংটাং পেরিয়ে গিয়ে সিঁড়ির ধাপে ধাপে থামল। ‘আমার পাশে’—এটা শুধু সম্পর্কের কথা না। ‘আমার আগে’—এটা ছিল আঘাত। আর ‘ঘরের অধিকারের চিহ্ন’—এতে আর পিছিয়ে যাওয়ার রাস্তা নেই।

রায়হানের বাবা থামলেন। চাচাদের একজন মুখ কষে রইলেন। সাবিহা খালার হাত দড়ির ওপর থেকে সরে গেলেও আঙুল কাঁপছিল। তিনি চাপা স্বরে বললেন, “এভাবে? সবার সামনে?”

মাহিরা প্রথমবার ফিতাটা নিল। কিন্তু বুকে না লাগিয়ে সে টেবিলের ওপর রাখা অতিথি-চিহ্নটা তুলে সাবিহা খালার সরানো জায়গা থেকে বের করল, আর ঘরের ফিতাটার পাশে রাখল। দুটি চিহ্ন পাশাপাশি। তারপর অতিথিরটা ঠেলে দূরে সরিয়ে দিল। শব্দ হলো না, তবু সরার দৃশ্যটা সবাই দেখল।

কর্মীটা যেন নির্দেশের অপেক্ষায় ছিল। সে রেজিস্টারের ডান পাশে ‘ঘর’ লেখা কলামের নিচে মাহিরার নামের পাশে লাল দাগ টেনে দিল, তারপর সিঁড়ির মুখে বসা আরেক ছেলেকে ডাকল, “উনি আগে।”

এবার সত্যিকারের লাইন কাটল। যাকে এতক্ষণ আগে তোলা হচ্ছিল, সে নিজে সরে বেঞ্চের দিকে গেল। দড়ি উঠল। মাহিরার সামনে ফাঁকা পথ তৈরি হলো। সাবিহা খালা সেটা আটকে দেওয়ার মতো গলাও খুঁজে পেলেন না। তিনি শুধু বললেন, “রায়হান, তুই—”

রায়হান তার দিকে না তাকিয়েই আরও এক ধাপ এগোল। “খালা, নাম ধরে ডাকবেন। ‘ও’ না। মাহিরা আমার হবু স্ত্রী। আর আজকের ঘরের লাইনে ও সবার আগে যাবে।”

এইবার আঘাতটা পুরো ঘরে বসল। এক মুহূর্ত আগেও যিনি তাকে ‘বন্ধু’, ‘কাজের মেয়ে’, ‘অতিথি’ বানাচ্ছিলেন, তাকে এখন নাম ধরে পড়তে বাধ্য করা হলো। বড়দের সামনে, কর্মীর সামনে, যাদের সামনে মুখ বাঁচিয়ে তিনি এতক্ষণ খেলছিলেন তাদের সবার সামনে। সাবিহা খালার ঠোঁট খুলে বন্ধ হল; কোনো শব্দ বেরোল না। তার কর্তৃত্বের জায়গাটা চোখের সামনে খসে পড়তে লাগল—দড়ি আর তার হাতে নেই, রেজিস্টার তার দিকে ঘোরানো নয়, ফিতা সে দিচ্ছে না, নামও সে ঠিক করছে না।

মাহিরা থামল না। সে রেজিস্টারের দিকে ঝুঁকে নিজের নামের পাশে আঙুল রাখল, যেন পড়ে নিচ্ছে। তারপর সেই গোলাপি ফিতাটা নিজে বুকের বাম পাশে আটকাল। আঙুলে একটু জোর বেশি পড়ায় কাপড়ে টান লাগল। সে কর্মীকে বলল, “উপরে যে আসনটা মাঝের সারির আগে খালি রাখা হয়েছে, ওটা কার নামে?”

কর্মীটা তাড়াতাড়ি উঠে একটা সাদা কাগজের আসন-চিহ্ন দেখাল। “ঘরের বড় ছেলের পক্ষ।”

মাহিরা কাগজটা নিল না। শুধু বলল, “তাহলে হাতে দিন।”

রায়হান কাগজটা নিয়ে সরাসরি তার হাতে দিল। কাগজের কোণায় নীল কালি, ভাঁজের কাছে আঙুলের দাগ। সাবিহা খালা এগিয়ে এসে সেটা কেড়ে নিতে গেলেন, কিন্তু রায়হান এবার কবজি ধরে থামাল না—শুধু নিজের কাঁধ দিয়ে পথ বন্ধ করে দিল। এতটাই ঠান্ডা, এতটাই প্রকাশ্য যে তাতে আরও বেশি অপমান ছিল। তিনি হাত নামিয়ে নিতে বাধ্য হলেন।

সিঁড়ির নিচের ছেলেটা আবার জিজ্ঞেস করল, “আগে কাকে উঠাব?”

মাহিরা নিজেই উত্তর দিল, পরিষ্কার, স্থির গলায়—“আমাকে।”

ছেলেটা সঙ্গে সঙ্গে সরে দাঁড়াল। পেছনের দুইজনকে হাত তুলে থামাল। “একটু দাঁড়ান। আগে আপা।”

সেই ‘আপা’ শব্দটা বাতাসে নরম নয়, ধারালো হয়ে বসল। মাত্র কিছুক্ষণ আগে যে বেঞ্চে বসার নির্দেশ পেয়েছিল, এখন তার জন্য সিঁড়ি খালি হচ্ছে। সাবিহা খালা পাশ কাটিয়ে দাঁড়াতে গিয়ে নিজের শাড়ির আঁচল দড়ির খুঁটিতে আটকে ফেললেন; টান দিয়ে ছাড়াতে গিয়ে আরো বিশ্রী হলো। পাশে দাঁড়ানো এক ভাসুরবউ এগিয়ে সাহায্য করতে গিয়েও থেমে গেল—কাকে আগে সামলাবে, খালার আঁচল না নতুন করে খোলা পথ, তা বুঝে উঠতে পারল না।

মাহিরা প্রথম ধাপে পা রাখার আগে টেবিল থেকে পিতলের চাবিটা তুলে নিল। তারপর এক সেকেন্ড থেমে সেটা রায়হানের তালুর ওপর রেখে দিল। “এটা এবার সময়মতো রাখবেন,” সে বলল।

এটাই ছিল তার শেষ সীমারেখা—দখল নয়, বাছাই করা প্রত্যর্পণ। রায়হানের চোখে ঝলক উঠল, কিন্তু সে কিছু বলল না। বলার সুযোগও মাহিরা দিল না। সে সাদা আসন-চিহ্নটা হাতে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে লাগল।

সিঁড়ির মোড়ে, যেখানে উপরের ঘরের লাইনে ঢোকার আগে আরেকবার কাপড়ের পর্দা সরাতে হয়, কাঠের খুঁটির গায়ে অনেক ব্যবহারে ঘষা পড়া এক লালচে দাগ ছিল। মাহিরা উঠে গিয়ে নিজের আসন-চিহ্নটা সেই খুঁটির সামনের র্যাকে গুঁজে দিল—সবচেয়ে আগে, চোখে পড়ার জায়গায়। গোলাপি ফিতার ধাতব পিন তার বুকের শাড়িতে ছোট্ট টান ফেলে রইল, আর পাশের পর্দার কাপড় একবার দুলে থেমে গেল।