সবার সামনে ওর পাশেই দাঁড়াল
“ওই ট্রেটা নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকবেন না, পথ আটকে যাচ্ছে”—সাবিহা খালার গলায় এমন কাটা ধার ছিল যে সাদা কাপগুলো ট্রের গায়ে ঠোকাঠুকি করে উঠল। মেহরিন তখনও গাড়ি থেকে নামা মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে, দু’হাতে চা আর কফির ট্রে ধরে। সামনে লাল কার্পেট টানা, দরজার কাছে ফুলের খিলান, কাচের ভেন্যু-দেয়ালে আলো ঝিলমিল করছে। একের পর এক গাড়ি ঢুকছে ঢাকার ওই অভিজাত বিয়ের ভেন্যুর drop-off lane-এ, আর সাবিহা খালা হাসিমুখে সবাইকে বরণ করছেন—কিন্তু মেহরিনের দিকে তাকালেন যেন সে লোকের বাড়ির ভাড়াটে মেয়ে, ভুল করে মূল ফটকের সামনে উঠে এসেছে।
মেহরিন সরে গেল না সঙ্গে সঙ্গে। ট্রেটা সামলে শুধু এক পা পাশে দিল, এতটাই যে পথ খুলে যায়, কিন্তু সে আর পেছনের অন্ধকার service side-এ গা ঢাকল না। তাতেই প্রথম ফাটলটা পড়ল। পাশের এক খালাতো ভাবি, যিনি একটু আগেও সাবিহার সঙ্গে দাঁত বের করে ছবি তুলছিলেন, ভুরু কুঁচকে মেহরিনের মুখের দিকে আর ট্রের দিকে পালা করে তাকালেন। ভুলটা যে একটু বেশিই প্রকাশ্য হয়ে গেছে, সেটা হাওয়ায় টের পাওয়া গেল।
আজকের আঘাতটা হালকা ছিল না। তিন মাস আগে আরিফের বাবার স্ট্রোকের পর এই বাড়ির হিসাব থেকে হাসপাতালের বেড—সব দৌড়ে সামলেছিল মেহরিন। নিজের কৃষি রপ্তানি প্রতিষ্ঠানের অফিস থেকে ছুটি কেটে, রাতের ঠান্ডা ভাতের বাক্স গাড়িতে ফেলে রেখে, ভোর পর্যন্ত ওষুধের লিস্ট লিখেছিল। আত্মীয়স্বজনের জানাশোনার মানুষজন তখন জানত, এই মেয়েটা কাছের। কিন্তু আজ, আরিফের বড় বোনের বিয়ের রাত, সাবিহা খালা ঠিক করেছেন কাছের লোক আর কাজের লোক—দুটো আলাদা করে দেখাবেন।
আরেকটা গাড়ি থামতেই তিনি ঝট করে এগিয়ে গেলেন। “নাঈমা, এদিকে মা, এদিকে। তোমাদের জন্য ভেতরের লাউঞ্জ রেডি।” তারপর কাঁধ ঘুরিয়ে মেহরিনকে দেখিয়ে বললেন, “আর আপনি ওই পাশে যান। রান্নাঘরের গলি দিয়ে ঢুকুন। ট্রে হাতে থাকলে সেভাবেই ভালো লাগে।”
“আমি ভেতরে ঢোকার আগে খালামণির সঙ্গে কথা বলব,” মেহরিন শান্ত গলায় বলল।
সাবিহা খালা এমন করে হেসে উঠলেন, যেন মেহরিন রসিকতা করেছে। “খালামণি? সবার সামনে সম্বোধন ঠিক রাখবেন। মেয়েপক্ষের অতিথিরা আসছে। এদের সঙ্গে নিজেকে মিলাবেন না।” তারপরে পাশের এক কাজের ছেলেকে ডেকে বললেন, “দেখো তো, proper guest আর যারা হাতের কাজ করে—লাইনটা গুলিয়ে না যায়।”
কথাটা এত জোরে বলা হলো যে দুইজন চাচা, একদল কাজিন, এমনকি ড্রাইভাররাও শুনল। কারও হাতে গাড়ির চাবি, কারও হাতে ফোনের নিচু আলো; কিন্তু সবার চোখ একবার করে এসে পড়ল মেহরিনের ওপর। মেহরিনের কাঁধে সারাদিনের দৌড়ের শক্ত ব্যথা, শাড়ির কুচিতে ভাঁজ পড়ে আছে, তবু তার থুতনি নামল না। সে শুধু ট্রেটা সামলে service lane-এর দিকে ঘুরল—পুরো হেরে যাওয়া মানুষের মতো নয়, বরং এমনভাবে যেন নিজেই রাস্তা বেছে নিচ্ছে। এইটুকুই সাবিহা খালার অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল।
service lane-এর বাঁকে এসে দাঁড়াতেই কাচের পাশে লিফটের ধাতব দরজায় পুরোনো আঙুলের দাগে নিজের আধাআধি প্রতিবিম্ব দেখল মেহরিন। পিছনে গরম ভাপ, প্লেটের শব্দ, সামনে বাঁক ঘুরে মূল ফটকের আলো। ফোনটা শাড়ির আঁচলের নিচে কাঁপছিল, কিন্তু সে বের করল না। এই সময়েই নাঈমা আপা, আরিফের ফুফাতো বোন, উঁচু হিল সামলে তাড়াহুড়ো করে ওই গলি ধরে ঢুকল।
“তুমি এখানে কেন?” নাঈমা থেমে গেল। “ওরা তোমাকে এখানে পাঠিয়েছে?”
“খালার মতে, ট্রে হাতে থাকলে আমাকে এখানে ভালো লাগে।”
নাঈমার চোখের পাতায় রাগ টান খেল। সে একবার ট্রের দিকে, একবার মেহরিনের মুখের দিকে তাকাল। “তুমি ট্রে ধরেছ কেন?”
“কারণ আমাকে কাজের লোকের লাইনে দাঁড় করাতে সুবিধা হয়।”
নাঈমা কোনো উত্তর না দিয়ে ঘুরে দাঁড়াল। তার হিলের শব্দ সরাসরি মূল drop-off lane-এর দিকে ছুটে গেল।
মেহরিন তখনও নড়েনি। ঠিক সেই সময় service entrance-এ ড্রাইভার সোহেল দুইটা স্যুটকেস নামিয়ে কারও সঙ্গে বলছিল, “আস্তে, আস্তে। ভাইয়ার গাড়ির পেছন থেকে ওই সোনালি শালটা আর ছোট বাক্সটা আগে নামান। ওটা মেহরিন আপার জন্য রাখা।” সে বাকিটা বলতে বলতে মেহরিনকে দেখে থেমে গেল, যেন ভুল জায়গায় ভুল নাম উচ্চারণ হয়ে গেছে। তারপর খুব স্বাভাবিক গলায় যোগ করল, “বিকেলে ভাইয়া নিজে বলছে—‘এটা আগে মেহরিনের হাতে দিবি, আমি নামার আগে হারাইলে খবর আছে।’”
কথাটা পাশেই দাঁড়ানো নাঈমা শুনে ফেলেছিল। সে এক ঝটকায় সোহেলের দিকে ফিরল। “কোন ভাইয়া?”
“আরিফ ভাইয়া।”
“কোন বাক্স?”
সোহেল গাড়ির ভেতর থেকে মখমলি ছোট ডিব্বা আর ভাঁজ করা সোনালি জামদানি শালটা দেখাল। “এইটা। উনি নিজে পেছনের সিটে রেখে গেছে।”
নাঈমা আর দেরি করল না। “এগুলো নিয়ে সামনে চলো।”
ওরা তিনজন বাঁক ঘুরেই দেখল, মূল arrival curb-এ আরেকদফা হৈচৈ উঠেছে। বিদেশফেরত মামা-মামী এসেছে, সাবিহা খালা দুইহাতে অভ্যর্থনা সামলাচ্ছেন। তিনি নাঈমাকে দেখে বিরক্ত হলেন। “তুমি আবার এদিকে কেন? আর ওকে কে সামনে আনল?”
নাঈমা এবার থামল না। “খালা, আরিফ ভাইয়া কার জন্য শাল রেখেছে, জানেন?”
সাবিহা খালা ঠান্ডা গলায় বললেন, “বিয়েবাড়িতে অনেক কিছুই অনেকের জন্য রাখা হয়।”
সোহেল গিলল, কিন্তু পিছু হটল না। “আমি নিজের কানে শুনছি, খালা। ভাইয়া বলছে—আগে মেহরিন আপার হাতে দিবি।”
দুইজন খালু, যারা একটু আগে proper guest নিয়ে মাথা নেড়েছিলেন, এবার সামান্য সরে এসে তাকালেন। নাঈমা ডিব্বাটা হাতে তুলে বলল, “আর এই বাক্স? এটা কি কনের গয়না? না। আরিফ ভাইয়ার গাড়ির পেছনের সিটে, আলাদা করে। নামটা বলেও গেছে।”
সাবিহা খালার মুখের হাসিটা কাচের মতো টনটন করে উঠল। “তাতে কী প্রমাণ হয়? ছেলেপেলেরা এখন অনেক কিছুই বলে।”
“তাহলে ওকে কাজের লোকের লাইনে কেন পাঠাচ্ছেন?” নাঈমা এমন জোরে বলল যে সামনের রিসেপশনের ফুলসাজানো দুই মেয়ে পর্যন্ত ঘুরে তাকাল। “যাকে ভাইয়া নামার আগেই নিজের জিনিস ধরতে বলেছে, তাকে?”
এইটুকুতেই পুরোনো পড়াটা নড়ে গেল। যাদের কাছে মেহরিন এতক্ষণ ট্রে হাতে শুধু সুবিধামতো সরিয়ে দেওয়ার মানুষ ছিল, তারা এখন একই ফ্রেমে দেখল—ট্রে, শাল, মখমলি ডিব্বা, নাঈমার রাগ, সোহেলের জবানবন্দি। ভুলটা আর একদিকের রইল না; সেটা এখন বাতাসে ঝুলছে, কে কোন পাশে দাঁড়াবে সেই অপেক্ষায়।
সাবিহা খালা শেষ চেষ্টা করলেন। তিনি হাত তুলে কাজের ছেলেদের বললেন, “ওই ট্রেটা নামিয়ে নাও। মেয়েটাকে ভেতরের পথে পাঠাও। সামনে আর ভিড় করো না।” তার গলায় এবার হাসি ছিল না, কেবল তাড়াহুড়ো করা কর্তৃত্ব। তিনি যেন ভাবলেন, দ্রুত সরিয়ে দিলে দৃশ্যটা বাঁচানো যাবে।
মেহরিন তখন প্রথমবার সরাসরি তার দিকে তাকাল। “ট্রে কেউ নেবে না,” সে বলল। গলাটা উঁচু না, কিন্তু কাটার মতো সোজা। “আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, সেখানেই থাকব।”
এক মুহূর্তের জন্য সবকিছু থেমে গেল না—বরং চলতে চলতেই আটকে গেল। নতুন একটা কালো গাড়ি ঢুকল, দরজা খুলে ভেতর থেকে আগে নামল আরিফের বড় চাচা। তার পরের দরজায় হাত রাখল আরিফ। সাদা পাঞ্জাবির ওপর গাঢ় শেরওয়ানি, কাঁধে রাতের ধুলো, মুখে টানা ক্লান্তি। সে পা নামিয়েই সামনে সাজানো গ্রহণরেখা দেখল—সাবিহা খালা ফুলের থালা নিয়ে প্রস্তুত, আত্মীয়রা অর্ধবৃত্ত, আর একটু দূরে, service lane-এর মুখে, ট্রে হাতে দাঁড়িয়ে মেহরিন।
সাবিহা খালা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে বললেন, “এইদিকে আগে, সবাই অপেক্ষা করছে।”
আরিফ এক পা-ও বাড়াল না। তার চোখ প্রথমে গেল মেহরিনের হাতে ট্রের দিকে, তারপর নাঈমার হাতে সোনালি শাল, তারপর সোহেলের হাতে ছোট ডিব্বায়। তার মুখের টান আরও শক্ত হল। “ও এখানে কেন?”
সাবিহা খালা বললেন, “আরে, এইসব পরে হবে। আগে বড়দের সালাম—”
“আমি জিজ্ঞেস করেছি, ও এখানে কেন?”
এইবার কথাটা এত ঠান্ডা ছিল যে পাশে দাঁড়ানো এক মামা অকারণে নিজের পাঞ্জাবির বোতাম ছুঁয়ে নিলেন। সাবিহা খালা সামলে উঠতে গিয়ে বললেন, “ভিড়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়। ট্রে ধরেছিল, তাই—”
মেহরিন এগিয়ে এল না। সে ট্রে হাতে আগের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে বলল, “আমাকে service side-এ পাঠানো হচ্ছিল। proper guest-দের সঙ্গে যেন আমাকে না মেলানো হয়।”
কথাটা শোনার পর আরিফের মাথা কাত হল সামান্য। তারপর সে যা করল, তাতে পুরো receiving order ভেঙে গেল। ফুলের থালা, সালামের ক্রম, বড়দের আগে নেওয়ার আচার—সব কেটে সে সোজা সাবিহা খালার পাশ দিয়ে চলে গেল মেহরিনের দিকে। কেউ তাকে থামাতে পারল না, কারণ থামানোর মানে হতো সবার সামনে স্বীকার করা যে এই হাঁটাটাই নিষিদ্ধ।
সাবিহা খালার মুখ এবার সত্যি ফ্যাকাশে হয়ে উঠল। “আরিফ!” তিনি ডেকে উঠলেন, তাতে অনুরোধের চেয়ে বেশি ভয় ছিল।
আরিফ থামল না। মেহরিনের সামনে এসে সে সোহেলের হাত থেকে মখমলি ডিব্বাটা নিল, নাঈমার হাত থেকে সোনালি শালও। তারপর সবার সামনে, arrival curb-এর মাঝখানে, যেখানে সব গাড়ির আলো এসে পড়ছে, সে প্রথমে ট্রের ওপর রাখা এক কাপ সরিয়ে জায়গা করল, যেন ওই ট্রে আর নিচু কাজের চিহ্ন না থেকে এখন মেহরিনের হাতের জিনিস মাত্র। তারপর শালটা মেহরিনের বাহুর ওপর রাখল, ডিব্বাটা তার দিকে বাড়িয়ে বলল, “এগুলো আগে তোমার হাতে যাওয়ার কথা ছিল।”
কেউ নিশ্বাস টানার শব্দও চেপে রাখতে পারল না। কিন্তু সে এখানেই থামল না।
আরিফ ফিরে, একেবারে পরিবারের দিকে মুখ করে বলল, “আজকে আমি কাকে আগে গ্রহণ করব, সেটা আমি ঠিক করব। মেহরিন, তুমি সামনে আসো। তোমাকেই আমি আগে নিচ্ছি।”
এটা অনুরোধ ছিল না, না ব্যাখ্যা। এটা ঘোষণা। এমন ঘোষণা যা শোনামাত্র সকলের দেহভঙ্গি বদলে যায়। যে কাজের ছেলে একটু আগে ট্রে কেড়ে নিতে হাত বাড়িয়েছিল, সে দু’পা পিছিয়ে গেল। ফুলের থালা নিয়ে দাঁড়ানো মেয়েরা সরে ফাঁক করে দিল। এক খালু, যিনি proper guest কথায় মাথা নেড়েছিলেন, এবার নিজের মেয়েকে টেনে পাশে নিলেন যাতে পথ খুলে যায়।
সাবিহা খালা শেষ বারের মতো বললেন, “এইভাবে? সবার সামনে? তুমি কি বুঝছ—”
আরিফ এবার তার দিকে ফিরল। “আমি খুব ভালো বুঝছি। যে মানুষ বাবার ICU-র সামনে রাত কাটায়, এই বাড়ির হিসাব ধরে, আর আমার নামের আগেই আমার দায় নেয়—তাকে আপনি ট্রে হাতে দাঁড় করিয়ে side lane-এ পাঠাবেন না।” সে আরেক পা সরে, যেন কথার কেন্দ্র থেকে সাবিহা খালাকে সরিয়ে দেয়। “আজকে কার মুখ বাঁচবে, তা নিয়ে আমি ভাবছি না।”
এইবার visible damage হলো চোখের সামনে। সাবিহা খালার হাতে ধরা ফুলের থালা কেঁপে দুটো গাঁদা ফুল নিচে পড়ে গেল। তাঁর আশেপাশে যারা একটু আগে তার নির্দেশের অপেক্ষায় ছিল, তারা আর তার দিকে তাকিয়ে নেই। receiving line ভেঙে নতুন করে গড়ছে—কেন্দ্রে মেহরিন। ক্ষমতার দিক বদলে গেছে এত দ্রুত যে খালার গলা শুকিয়ে কর্কশ হয়ে গেল। “মেহরিন, তুমি তো কিছু বলছ না। এইসব নাটক—”
মেহরিন তখনই নিজের অংশটা নিল। সে ট্রে একহাতে সামলে আরিফের বাড়ানো ডিব্বাটা নিল না সঙ্গে সঙ্গে। বরং স্পষ্ট গলায় বলল, “নাটক আমি করি না, খালা। আমাকে যেদিকে দাঁড় করাবেন ভাবছিলেন, সেই জায়গায় আর দাঁড়াব না।”
তারপর সে এক পা এগিয়ে arrival curb-এর আলোর ভেতর এল। আরিফ তার জন্য পথ করল না; সে নিজেই পথ নিল। এই ছোট্ট ব্যবধানটাই আঘাতের শেষ দফা হলো। কারণ এখন বোঝা গেল, তাকে কেউ কেবল টেনে সামনে আনেনি—সে নিজে সামনে দাঁড়ানো মেনে নিয়েছে।
আরিফ ডিব্বাটা আবার বাড়িয়ে দিল। “নাও।”
মেহরিন এবার নিল। ট্রে, শাল, ছোট ডিব্বা—সব মিলিয়ে তার দুইহাত ভরে গেল, কিন্তু সে কাঁপল না। চারপাশে যারা ছিল, তারা এমনভাবে সরে দাঁড়াল যেন এই জায়গাটা বরাবরই তার জন্য খালি রাখা ছিল, শুধু তারা ভুল পড়েছিল। সাবিহা খালার মুখে আর কোনো ভাষা জুটল না; তার কর্তৃত্ব দাঁড়িয়ে রইল লাল কার্পেটের কিনারায়, ব্যবহার করার লোক ছাড়া।
মেহরিন আর ভেতরের মূল দরজার দিকে গেল না। সে ঘুরে service lane-এর বাঁকের দিকে হাঁটল, যেন নিজের পথ নিজেই চিহ্নিত করছে। এখন আর ওটা নির্বাসনের গলি নয়। ওখানে পৌঁছে সে ট্রেটা দু’হাতে ঠিক করে নিল। সামনে যে-যে দাঁড়িয়েছিল, তারা অকারণে একসঙ্গে সরে ফাঁক করে দিল। service-lane bend-এ এসে ট্রেটা তার হাতে সমান হয়ে বসল, কাপগুলোর ঠোকাঠুকি থেমে গেল।