Fast Fiction

ঘরটা তার দিকেই ঘুরে গেল #2

“ওদিকে না, নিচের করিডরে দাঁড়ান,” রোকসানা ভাবি হাতে ধরা অতিথি-তালিকার বোর্ডটা মেহজাবিনের বুকের সামনে নামিয়ে দিলেন, যেন দরজার ফ্রেমে একেবারে পাতলা কাঠের পাল্লা গুঁজে বন্ধ করে দিচ্ছেন। “সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে শুধু কোর টিম আর আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা লোক থাকবে। তুমি খাবারের বাক্সগুলো দেখো।”

মেহজাবিন এক পা ওপরে ছিল। রোকসানার কনুইয়ের ঠেলায় তাকে আবার নিচের ধাপে নামতে হল। ওপরের ল্যান্ডিংয়ে রিং লাইট জ্বলছে, শো-হোস্ট রাফি গলায় মাইক ঝুলিয়ে কৃষি পণ্যের লাইভ শুরু হওয়ার আগে ক্যামেরার এঙ্গেল ঠিক করছে; নিচে মেহজাবিনের হাতে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া ভাত-গোশতের বাক্স, কাগজের মোড়কের শুকনো খসখস শব্দ। দুজন খালা পাশ কাটাতে গিয়ে তাকালেন, একজন ঠোঁট টেনে বললেন, “ওই মেয়েটা না? কাজ করে, কিন্তু সামনে রাখলে দেখতে ভালো লাগে না।”

মেহজাবিন কিছু বলল না। তার ডান হাতের বুড়ো আঙুলে পুরোনো নীল কালি-দাগ, দুপুরে হিসাবের খাতায় নাম টানতে গিয়ে লেগেছিল। সে শুধু খাবারের বাক্সগুলো একবার সোজা করে রেখে, দরজার আধখোলা ফাঁকে দাঁড়ানো ডেলিভারি ছেলেটাকে বলল, “উঠবেন না। লিফটের সামনে জট হয়েছে। বাঁ পাশের সিঁড়ি দিয়ে বীজের কার্টনগুলো ওপরের পেছনের ঘরে দিন।” রোকসানা ভাবি বিরক্ত হয়ে ঘুরে তাকাতেই ছেলেটা বলল, “আপা, ওটাই তো আগে বলা ছিল।” প্রথম চিড়টা তখনই পড়ল—রোকসানার মুখ শক্ত রইল, কিন্তু ছেলেটা তার দিকে আর নির্দেশের জন্য তাকাল না।

ঢাকার মোহাম্মদপুরের এই কমিউনিটি সেন্টারের তিনতলায় আজ ঈদের আগে কৃষি-ভিত্তিক লাইভ বেচাকেনার উদ্বোধন। গ্রামের মধু, অর্গানিক চাল, শাকের বীজ, দেশি মুরগির ডিম—সবকিছুর সঙ্গে জুড়ে আছে মুখ, মান, আত্মীয়তার হিসাব। আরমানের কোম্পানি টাকা দিয়েছে, তার খালা-ফুফুরা এসেছেন, সম্ভাব্য অংশীদাররা এসেছে, আর রোকসানা ভাবি এমনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন যেন সিঁড়ির এদিক-ওদিক দিয়ে কারা উঠবে, কারা নিচে থামবে, সেটাই বংশের মানরক্ষার কাজ।

ল্যান্ডিংয়ে আচমকা গরম হয়ে উঠল। রাফি নিচ থেকে চেঁচিয়ে বলল, “মধুর বোতল কোথায়? স্যাম্পল টেবিলে কিছুই নাই!” ওপরে থাকা দুই স্বেচ্ছাসেবক একে অন্যের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল। রোকসানা ভাবি তখন এক দম্পতিকে বসার জায়গা দেখাতে ব্যস্ত, যেন এই ত্রুটির সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। মেহজাবিন চোখ তুলে এক সেকেন্ড দেখেই বুঝে ফেলল—ভুল কার্টন ওপরে গেছে। সে সিঁড়ি বেয়ে দুই ধাপ উঠে আবার থামল; রোকসানা সোজা হাত তুলে বললেন, “তুমি ওদিকে যেও না।”

মেহজাবিন নিচে দাঁড়িয়েই ডেলিভারি ছেলেকে ডাকল, “সবুজ ফিতাওয়ালা কার্টনটা নয়, লাল দাগওয়ালা। তলার দোকানঘরের ডান পাশে।” ছেলেটা দৌড়ে গেল। সে ফেরার আগেই মেহজাবিন রাফিকে বলল, “ক্যামেরা বাম দিকে ঘোরান, বীজের ট্রে আগে ধরুন। মধু এক মিনিটে উঠবে।” রাফি দাঁত চেপে হলেও কথা শুনল; লাইভের কাউন্টডাউন থামল না। দু মিনিট পর লাল দাগওয়ালা কার্টন ওপরে উঠতেই অতিথিদের ভিড়ের মাঝখানে চাপা গুঞ্জন উঠল—যে মেয়েটাকে নিচে নামিয়ে রাখা হয়েছে, সেই নিচ থেকে দাঁড়িয়েই বাঁচাল শুরুটা।

রোকসানা ভাবি যেন কিছুই হয়নি এমনভাবে মেহজাবিনের হাতে তিনটা খালি ট্রে ধরিয়ে দিলেন। “এগুলো ধুয়ে আনো। কাজ করতে পারো, তাই বলে সব জায়গায় দাঁড়াতে হবে না।”

কথাটা একটু জোরেই বলা হল, যাতে খালারা, আরমানের ছোট ফুফু, এমনকি সিঁড়ি বেয়ে উঠতে থাকা দুজন ব্যবসায়ীও শুনতে পায়। মেহজাবিন ট্রে নিল, কিন্তু ঘুরল না। ওপরে ল্যান্ডিংয়ে আবার গোলমাল—গ্রামের নারী উদ্যোক্তাদের বসার চেয়ার অতিথিদের ভিড়ে আটকে গেছে, ফলে লাইভে তাদের কেউ ক্যামেরার সামনে আসতে পারছে না। রোকসানা ভাবি তখনও সামনে নিজের জায়গা আঁকড়ে ধরে আছেন, যেন তিনি না সরলে অনুষ্ঠান দাঁড়িয়েই থাকবে।

মেহজাবিন নিচ থেকে চেয়ারের সারি একবার দেখে বলল, “মাঝের পথ ফাঁকা না করলে উপরের ধাপ বন্ধ হবে। সামনের তিনটা চেয়ার ঘুরিয়ে দেয়ালে নিন।” কেউ নড়ল না। সে এবার সরাসরি রোকসানার দিকে তাকাল। “কোন তিনটা সরবে? যেগুলো আপনি নিজে বসিয়েছেন, নাকি যেগুলো উঠতে দেওয়া লোকেরা এখন আটকে আছে?”

প্রশ্নটা এত সোজা, এত প্রকাশ্য, যে ল্যান্ডিংয়ে দাঁড়ানো সবাই এক মুহূর্তে রোকসানার দিকে ফিরল। অতিথি-তালিকার বোর্ড তার হাতে, অথচ পথ আটকে রাখা চেয়ারও তারই সাজানো। রোকসানা ভাবির ঠোঁট কেঁপে উঠল। “মানে? তুমি আমাকে—”

“কাকে জিজ্ঞেস করব?” মেহজাবিন কণ্ঠ না তুলেই বলল, “যার হাতে তালিকা, পথও তো তারই দায়।”

উপরের ধাপে এক খালা হালকা কাশলেন। রাফি মাইক নামিয়ে ফেলল, যেন লাইভে না গিয়েও কথা শুনছে। আরমানের বড় খালা, যিনি এতক্ষণ কপালে টিপ ঠিক করছিলেন, প্রথমবার সরাসরি বললেন, “রোকসানা, পথটা আগে খোলো। নিচে মানুষ জমে আছে।” রোকসানার হাত থেকে তালিকার বোর্ড একটু নিচে নেমে এল। তাতে আটকানো কাগজ হাওয়ায় কাঁপল।

চেয়ার সরল। নারী উদ্যোক্তারা উঠে এলেন। লাইভের প্রথম সেগমেন্ট গড়িয়ে গেল। তবু রোকসানা ভাবি সহজে ছাড়ার মানুষ নন। আধঘণ্টা পর, যখন সিঁড়ির সুইচব্যাক ল্যান্ডিংয়ে লোক আরও ঘন হয়েছে, তিনি মেহজাবিনকে আলাদা করে ডাকলেন না; সবার সামনে অল্প নরম গলায় বললেন, “তুমি চাইলে পেছনের রেজিস্টার টেবিলে বসতে পারো। নাম টুকে দিও। সামনে দাঁড়ানোর দরকার নেই, কিন্তু কাজের কৃতিত্ব থাকবে।”

এটা প্রলোভনও, অপমানও। রেজিস্টার টেবিল মানে দেখা যায় না, শোনা যায় না, অথচ শেষে সব দায় মাথায় পড়ে। মেহজাবিন তার দিকে তাকিয়ে রইল। “যেখানে ভুল হলে সবাই সামনে থেকে তাকায়, কাজ ঠিক হলে আমি পেছনে বসব কেন?”

রোকসানা ভাবির হাসি শুকনো কাগজের মতো ভাঙল। “সবাই সব জায়গায় মানায় না।”

“ঠিক,” মেহজাবিন বলল, “তাই যার জায়গা সামলাতে কষ্ট হচ্ছে, তাকে সরানো উচিত।”

কাছের ধাপে দাঁড়ানো দুই তরুণ স্বেচ্ছাসেবক মুখ নিচু করল, কিন্তু সরে গেল রোকসানার পাশ থেকে। এই সরে যাওয়াটাই ছিল দ্বিতীয় পড়ে যাওয়া জিনিস—কোনও বড় আওয়াজ নয়, তবু বোঝা যাচ্ছিল কার পাশে দাঁড়ালে নিরাপদ, তা ঘর নতুন করে মাপছে।

এরপর আরমান এল। সে এতক্ষণ ভিআইপি অতিথিদের ঘুরিয়ে দেখাচ্ছিল, গায়ে সাদা পাঞ্জাবি, কবজিতে দামী ঘড়ি, চোখে বিরক্তি আর তাড়াহুড়ো। তার পেছনে দুজন বিনিয়োগকারী, এক পাশে রাফি, আর নিচের ধাপে আরমানের খালা। সিঁড়ির ল্যান্ডিং এমনই ঠাসা যে একজন থামলে পুরো স্রোত থামে। আরমান প্রথমে রোকসানার দিকে তাকাল, যেন স্বাভাবিক হিসাব সেখানে। “রিডিং আর হস্তান্তরটা কে করবে? উদ্বোধনের শেষ অংশে নাম ঘোষণা, অংশীদারদের সামনে কাকে আমি পাশে নেব?”

রোকসানা ভাবি তৎক্ষণাৎ এগিয়ে এলেন। “আমি আছি। তালিকাও আমার হাতে। আপনি শুধু—”

নিচ থেকে তখন একজন গ্রাহক চেঁচিয়ে উঠেছে—“আমার অর্ডারের নামটা ভুল পড়া হয়েছে!” ওপর থেকে এক বৃদ্ধ ফুফু নামতে চাইছেন, মাঝখানে ক্যামেরাম্যান আটকে। ল্যান্ডিং পুরো বোতলের মুখের মতো সরু হয়ে গেছে। আরমান এক ধাপ নেমে থামল, চোখ এবার সোজা মেহজাবিনের ওপর। তার গলায় ক্লান্ত কঠোরতা, কিন্তু শব্দ পরিষ্কার, যেন কাকে কীভাবে শোনা উচিত সে নিজেই ঠিক করে দিল—“মেহজাবিন, এখানে ওঠো। আমার পাশে দাঁড়াও। শেষ রিডিং আর হস্তান্তর তুমি করবে।”

শব্দটা বাতাসে ঝুলে থাকল না; সঙ্গে সঙ্গে সিঁড়ির গতি বদলে গেল। নিচের ধাপে দাঁড়ানো দুজন লোক শরীর গুটিয়ে তাকে জায়গা দিল। ওপরে উঠতে থাকা একজন মাঝধাপে থেমে পেছনে চাপা পড়ল। রোকসানা ভাবি তড়াক করে হাত বাড়িয়ে বললেন, “না, না, ওকে পেছন দিয়ে আনুন। সামনে জ্যাম হবে। আমি করে দিচ্ছি—”

মেহজাবিন তখনই নড়ল। কারও মুখের দিকে না তাকিয়ে, হাতে থাকা পাতলা কাগজের প্যাকেটটা এক স্বেচ্ছাসেবকের হাতে দিয়ে সোজা দৃশ্যমান লাইনে পা রাখল। রোকসানার বাড়ানো হাতকে পাশ কাটাতে গিয়ে তার শাড়ির আঁচল বোর্ডের কোণায় আটকাল, বোর্ড বাঁক খেয়ে রোকসানার বুকের সঙ্গে ধাক্কা খেল। তালিকার কাগজ অর্ধেক বেরিয়ে এল। তিনি সেটি সামলাতে গিয়ে এক ধাপ জায়গা হারালেন; পেছন থেকে নামতে থাকা বৃদ্ধ ফুফু বিরক্ত গলায় বললেন, “সামনে থামবেন না তো!”

মেহজাবিন সেই এক ধাপ ফাঁকটুকু নিয়ে ওপরে উঠল। এবার আর কেউ তাকে থামাল না। আরমান নিজে কাঁধ সরিয়ে তার জন্য জায়গা করল—ল্যান্ডিংয়ের সবচেয়ে দেখা যায় এমন কিনারায়, যেখানে রিং লাইটের আলো মুখে পড়ে আর নিচতলা থেকেও বোঝা যায় কে কার পাশে। এই সরানো, এই জায়গা করে দেওয়াই ছিল উল্টে যাওয়া ছবির হাড়।

রোকসানা ভাবি এখনও ছাড়তে চাইছিলেন না। “আরমান, ও তো স্টাফের মতো কাজ করেছে, ওকে এভাবে—”

আরমান তার দিকে না ফিরেই বলল, “যে বাঁচিয়েছে, সে স্টাফের মতো লুকিয়ে থাকবে কেন?” তারপর মেহজাবিনের দিকে ঘুরে, একেবারে সবার সামনে, খালা-ফুফু-অতিথি-ক্রেতা-উদ্যোক্তাদের ভিড়ের মধ্যে গলা নামাল না, “তালিকাটা নাও।”

তালিকা কিন্তু রোকসানার হাতেই। এই এক মুহূর্তে সবচেয়ে কষ্টের কাজটা প্রকাশ্যে হয়ে গেল। আরমান হাত বাড়িয়ে তার কাছ থেকে বোর্ড চাইল। রোকসানা ধরেই রইলেন এক সেকেন্ড বেশি। ততক্ষণে নিচের ধাপে যারা উঠতে আটকে ছিল, তাদের মুখ ওপরে তোলা; ক্যামেরার লেন্সও সেদিকে। রোকসানার আঙুল সাদা হয়ে উঠল। শেষে তাকে ছাড়তেই হল। বোর্ডটা আরমান থেকে সরাসরি মেহজাবিনের হাতে গেল।

মেহজাবিন বোর্ড নিল। তার বুড়ো আঙুলের নীল কালি-দাগ সাদা কাগজের ধারে লাগল। সে একবারই নামের দিকে চোখ বুলিয়ে পরিষ্কার স্বরে পড়ল কৃষি উদ্যোক্তাদের নাম, অংশীদারদের নাম, আর শেষে হস্তান্তরের কাগজ কার হাতে যাবে। কেউ আর সংশোধন করল না। নিচের সেই ক্রেতা, যে একটু আগে নাম ভুল নিয়ে চেঁচাচ্ছিল, এবার চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুনল। রাফি মাইক তার দিকে বাড়িয়ে ধরল, রোকসানার দিকে নয়।

হস্তান্তরের খামটাও রোকসানা ভাবির সাজানো টেবিলে ছিল। তিনি তাড়াহুড়ো করে এগিয়ে এনে বলতে চাইলেন, “এটা আমি—” কিন্তু আরমান খামটা তার হাত থেকে নিল না। সে মেহজাবিনের খালি হাতে খামটা রেখে দিল। “তুমিই দাও।”

দৃশ্যটা এত প্রকাশ্য, এত ধারালো, যে কারও ব্যাখ্যা লাগল না। যে মেয়েটাকে শুরুতে সিঁড়ির নিচে খাবারের বাক্স ধরিয়ে রাখা হয়েছিল, সে এখন আলো-ধরা ল্যান্ডিংয়ের ওপর থেকে নাম পড়ছে, খাম দিচ্ছে, আর যার হাতে এতক্ষণ পথ আর তালিকা ছিল, সে মাঝধাপে আটকে দাঁড়িয়ে আছে—না পুরো ওপরে, না নিচে। পেছন থেকে নামতে চাওয়া বৃদ্ধ ফুফু এবার সরাসরি বললেন, “একটু সাইডে হও মা, পথ দাও।” রোকসানার কাঁধ সরে গেল; সেই সরে যাওয়া যেন তার গলার স্বরও সরিয়ে নিল।

মেহজাবিন খাম এগিয়ে দিল, কাজ শেষ করল, তারপর বোর্ড বুকে চেপে দাঁড়িয়ে থাকল না। আরমান আবার বলল, “পাশেই থাকো।” এবার তার গলায় অনুরোধের লেশ নেই; ঘোষণা আছে। আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা মানুষদের সামনে কার পাশে কে দাঁড়াবে, তা যেন একবারে লিখে দিল।

রোকসানা ভাবি শেষ চেষ্টা করলেন। গলাটা আচমকা নরম, প্রায় মিনতির মতো। “মেহজাবিন, তুমি চাও তো পরে আমার সঙ্গে বসে—রেজিস্টারের হিসাবটা—”

মেহজাবিন তার দিকে তাকালই না। বোর্ডটা এক স্বেচ্ছাসেবকের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বলল, “রেজিস্টার যিনি সামনে থেকে সামলাতে পারেন, তিনি-ই রাখুন। আমি যেটা দেখানোর ছিল, দেখিয়ে দিয়েছি।”

তারপর সে ল্যান্ডিংয়ের পাশের সরু গলি-করিডোরে বাঁক নিল। আশ্চর্য, লোকজন নিজে থেকেই তার দিকের পথ ফাঁকা করে দিল; যে পথে একটু আগে তাকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছিল, সেই পথ এখন ধরে রাখা। পেছন থেকে রোকসানা ভাবির ডাক ছুটে এল, “মেহজা— শুনো—” আরেকটা গলা, “ভাবি, তালিকাটা—” শব্দগুলো সিঁড়ির দেওয়ালে লেগে ফিরে এল, পাশের বাঁকে গিয়ে থমকে ভেঙে পড়ল। মেহজাবিন ঠান্ডা হয়ে যাওয়া খাবারের বাক্সটা তুলে নিল, কাগজের মোড়ক একবার শুকনো শব্দ করে উঠল, আর সে না ফিরেই সামনে হাঁটল।