সবাই ভেবেছিল নওশীন হারবে
শারমিন ভাবি নওশীনের হাত থেকে পিতলের চাবির রিংটা টেনে নিয়ে পাশের কাজের ছেলেটার হাতে ছুড়ে দিলেন। “তুমি দরজায় দাঁড়াবে না। ভেতরে যাও, মেয়েদের পাশে বসো। অতিথি সামলানো সবার কাজ না।”
কমিউনিটি সেন্টারের উঠানের প্রবেশমুখে কথাটা এমন জোরে বলা হলো যে হলুদের গন্ধ, গরম তেলের ধোঁয়া আর ফিসফাসের ভিড় একসঙ্গে থেমে তাকাল। ঢাকা শহরের এই ভাড়া-করা বাড়িটা আজ আত্মীয়স্বজনের জানাশোনায় ফুলে উঠেছে; বারান্দায় খালাম্মারা, উঠোনে কেটারিং, ফটকে আলো, আর মঞ্চে সন্ধ্যার পরে কৃষি-উদ্যোক্তা সামিউল কবিরের ঘোষণা—নতুন উদ্যোগে যাকে নেবেন, তার নাম সবার সামনে উঠবে। সেই সুযোগটার জন্য তিন মাস ধরে নওশীন বিনা পারিশ্রমিকে শারমিন ভাবির অনুষ্ঠান-পরিকল্পনার খসড়া বানিয়েছে, অতিথির তালিকা গুছিয়েছে, পৃষ্ঠপোষকের প্রতিনিধির সঙ্গে সময় মিলিয়েছে। এখন তাকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঠিক দরজার সামনে, যেখানে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ মানেই দৃশ্যমানতা, আর দৃশ্যমানতা মানেই দরজা খুলে যাওয়া।
নওশীনের আঙুলে পুরোনো বাসকার্ডের খসখসে ধার ঘষা খেল। অন্য হাতে তার আধভাঁজ করা রশিদের মতো কুঁচকে যাওয়া অতিথি-তালিকা। সে একবারও চাবির দিকে হাত বাড়াল না। শুধু বলল, “ভালো। তাহলে ভিআইপি তালিকাটা আপনার কাছেই থাকুক।”
শারমিন ভাবি হেসে উঠলেন, সেই মসৃণ, লোক-দেখানো হাসি। “তালিকা আমি মাথায় রেখেছি। এত নাটক কোরো না।”
প্রথম গাড়িটা তখনই ঢুকল। সামিউল কবিরের অফিসের দুজন সহকারী, সঙ্গে এক বিদেশি বীজ কোম্পানির প্রতিনিধি, আর তাঁদের আগে আগে দৌড়ে এল ব্যবস্থাপক। ফটকে দাঁড়ানো ছেলেটা তিনজনকে ভেতরে ঢুকিয়ে চতুর্থজনকে থামিয়ে দিল—নাম মিলছে না। এক মুহূর্তে রিং আটকে গেল। পেছনে আরও দুটো গাড়ি, সামনে সালাম-দোয়া, বরের মামা কপাল কুঁচকে বলছেন, “দরজায় এ কী জটলা!”
শারমিন ভাবি ঘুরে চেঁচালেন, “ওকে ঢুকিও না। আমন্ত্রিত না হলে না।”
নওশীন সামনে এগিয়ে এল, কণ্ঠস্বর নিচু। “নীল ফাইলের অতিথি। সামিউল স্যারের কৃষি-প্রকল্পের জাপান পার্টনার। নাম বাংলা উচ্চারণে আলাদা লেখা হয়েছে।” সে ছেলেটার হাত থেকে তালিকাটা নিল না; শুধু পাতাটা উল্টে আঙুল রাখল এক লাইনে। “এখানে—কোম্পানির নামে। ব্যক্তির নামে না।”
ব্যবস্থাপক কপাল ঠুকে বলল, “আহা, এইজন্যই তো বলছিলাম, ডাবল এন্ট্রি—”
লোকটা ঢুকে গেল। আটকে থাকা গাড়িগুলোও নড়ল। পেছন থেকে কারও গলা এলো, “মেয়েটা না থাকলে তো ফটকেই গণ্ডগোল হতো।” কথাটা খুব জোরে নয়, কিন্তু যথেষ্ট জোরে। শারমিন ভাবি তালিকাটা টেনে নিয়ে বললেন, “আমি তো সেটাই দেখছিলাম। ও শুধু নামটা পড়ে শোনাল।”
নওশীন সরে গেল, কিন্তু সরে গেলেও দাঁড়াল এমন জায়গায়, যেখান থেকে ফটক, মঞ্চ, আর উঠোনের মাঝের চলাচল একসঙ্গে দেখা যায়। লিফটের ধাতব দরজায় শুকনো মুছামুছির দাগের মতো তার মুখও নিস্তরঙ্গ। রাফি, বরের চাচাতো ভাই, পাশ দিয়ে যেতে যেতে থামল। খুব আস্তে বলল, “তুমি এভাবে সাইডে দাঁড়িয়ে থাকবে?”
নওশীন তার দিকে তাকাল না। “আমি যেখানে দাঁড়াই, সেখান থেকেই কাজ দেখা যায়।”
রাফির চোয়াল শক্ত হলো। এই রাফিই গত মাসে বলেছিল, “ভাবির সঙ্গে লেগো না, আগে কাজটা পেয়ে নাও।” আজ সে নতুন পাঞ্জাবিতে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু চোখে অস্বস্তি। সে আর কিছু বলার আগেই খালাম্মা ডাক দিলেন, “রাফি, অতিথিদের কাছে যাও।” পরিবার সবসময় জরুরি কথার মাঝখানে মানুষ সরিয়ে দেয়।
মাগরিবের পর উঠোন ভারী হয়ে উঠল। কেটারিংয়ের ট্রে, বাচ্চাদের দৌড়, মঞ্চের সাউন্ডচেক, আর ফটকে একের পর এক গাড়ি। শারমিন ভাবি গলায় ওড়না টেনে নির্দেশ ছুড়ছেন, যেন পুরো বাড়িটা তার শ্বাসে চলছে। কিন্তু তাঁর চোখ বারবার নওশীনের দিকে যাচ্ছে—বিশেষ করে যখন ব্যবস্থাপক, ডেকোরেশনের লোক, এমনকি কেটারিং সুপারভাইজারও কোনো জটলা হলে প্রথমে নওশীনের মুখ খুঁজে নিচ্ছে। যারা কাজ বোঝে, তারা চিৎকারের দিকে নয়, সমাধানের দিকে হাঁটে।
সমস্যাটা বাঁধল পৃষ্ঠপোষকের জন্য রাখা সামনের সারির আসনে। তিনটে চেয়ার দখল করে বসেছেন দূর-সম্পর্কের আত্মীয়েরা; কেউ উঠতে চাইছে না। শারমিন ভাবি দূর থেকে বললেন, “ওদের কিছু বলো না, পরে দেখি।” কিন্তু পরে দেখার সময় নেই—সামিউল কবিরের গাড়ি মোড়ে। নওশীন এগিয়ে গিয়ে ঝুঁকে হাসল না, অনুরোধও না; সে শুধু নাম ধরে বলল, “মামা, এই আসনগুলো পৃষ্ঠপোষকের। আপনাদের জন্য পাশে কুশনের সারি রাখা আছে। এখন না উঠলে ওনারা দরজায় দাঁড়িয়ে থাকবেন, তখন সবার চোখ আপনাদের দিকেই যাবে।”
কথাটা নরম, কিন্তু শাণালো। লোকগুলো একে অন্যের দিকে তাকিয়ে উঠল। একজন বিড়বিড় করল, “আগে বললেই হতো।” নওশীন নিজে গিয়ে কুশন ঠিক করে দিল। সামিউল কবির ঢোকার সময় চেয়ারগুলো খালি, পানি রাখা, মাইক্রোফোনের তার সরানো। শারমিন ভাবি এগিয়ে গিয়ে সালাম করলেন, যেন সব তাঁর হাতেই তৈরি। সামিউল কবির মাথা নাড়লেন, কিন্তু বসার আগে একবার নওশীনের দিকে তাকালেন; শুধু তাকানো, তবু যথেষ্ট।
শারমিন ভাবি তখনই ঘুরে বললেন, “নওশীন, তুমি বেশি আগ বাড়িয়ে যেও না। কে কোথায় বসবে, সেটা আমি ঠিক করব। তুমি বুঝলে?”
নওশীন এবার সরাসরি তাঁর দিকে তাকাল। উঠোনের মাঝখানে আলো এমনভাবে পড়েছে যে একেকটা মুখ আলাদা করে পড়া যায়। “ঠিক আছে,” সে বলল। “তাহলে একটা জিনিস বলুন—সামিউল স্যারের প্রকল্প-দলের যে প্রতিনিধি পাঁচ মিনিট পরে মঞ্চে ওঠার কথা, তাকে এখন কোন দরজা দিয়ে আনা হবে? সামনের পথটা ফটোগ্রাফারের ট্রাইপডে বন্ধ, পেছনের গেটের চাবি কার কাছে, আর নামটা কোন তালিকায় আছে?”
প্রশ্নটা ছুরি ছিল না; ছিল খোলা পাটাতন টেনে নেওয়া। চারপাশের দু-তিনজন একসঙ্গে শারমিন ভাবির দিকে ঘুরল। ব্যবস্থাপক থেমে গেল। রাফি ঠিক তখনই মঞ্চ থেকে নেমে আসছিল; সেও মাঝপথে দাঁড়াল।
শারমিন ভাবির ঠোঁট ফাঁক হলো, কিন্তু উত্তর এল না। “ওসব—ওসব আমি বলছি,” তিনি বললেন, তারপর ছেলেটার দিকে, “পেছনের—না, সামনের... মানে—”
ব্যবস্থাপক আর দেরি করল না। সে সরাসরি নওশীনের কাছে এসে বলল, “আপা, পেছনের গেট খুলব? চাবি তো ভাবির কাছেই ছিল।”
উঠোনে এই ছোট্ট বাঁকটাই সবচেয়ে জোরে বাজল। কার কাছে জিজ্ঞেস করা হলো, কে উত্তর দিতে পারল, আর কার দিকে মানুষ হাঁটা ঘুরিয়ে দিল—সবাই দেখল। নওশীন হাত বাড়িয়ে বলল, “চাবি লাগবে না। পেছনের স্লাইডিং ল্যাচ ভেতর থেকে ওঠে। রান্নাঘরের পাশের ছেলে মমিনকে বলুন। আর প্রতিনিধি এলে সরাসরি মঞ্চের ডান পাশে তুলবেন। বাঁ দিকে কেবল পড়ে আছে।”
শারমিন ভাবি কড়া গলায় বললেন, “সবাই ওর কথা শুনছ কেন? এখানে দায়িত্বে আমি।”
কেউ প্রতিবাদ করল না, তবু কেউ থামলও না। মমিন দৌড়ে গেল। ব্যবস্থাপক ফোন কানে দিয়ে নওশীনেরই নির্দেশ পুনরাবৃত্তি করল। সামিউল কবিরের সহকারী এক গ্লাস পানি হাতে নিয়ে শারমিন ভাবির পাশে না দাঁড়িয়ে নওশীনের কাছে এসে বলল, “ম্যাডাম, স্যার আপনাকে একটু পরে দেখতে বলেছেন।” ‘ম্যাডাম’ শব্দটা শারমিন ভাবির গায়ে গিয়ে লাগার কথা ছিল, কিন্তু বাতাসে বাঁক নিল।
এবার শারমিন ভাবির মুখে প্রথম সত্যিকারের ভাঁজ পড়ল। তিনি রাফিকে ডাকলেন, “তুমি কিছু বলো! এই মেয়েটা সীমা ছাড়াচ্ছে।”
রাফি কয়েক সেকেন্ড চুপ রইল। ওই কয়েক সেকেন্ডেই বোঝা গেল, কে কাকে বাঁচাবে, আর কে কাকে আর পারছে না। “যে কাজ জানে, তার কথা শোনাই ভালো,” সে শেষ পর্যন্ত বলল, খুব আস্তে, কিন্তু শোনা যাওয়ার মতো করে।
এই আঘাতটা শারমিন ভাবি লুকোতে পারলেন না। “ও? ও তো শুধু আমার সঙ্গে থেকে শেখেছে!” তিনি বললেন। “আজকের পৃষ্ঠপোষকও আমি এনেছি। মাইকে নাম ডাকবে রাফি। নওশীন ভেতরে যাবে।”
ঠিক তখন মঞ্চের সামনে সঞ্চালক মাইকে ঘোষণা দিলেন, “আর কিছুক্ষণের মধ্যে বিশেষ ঘোষণা থাকবে। শারমিন আপা, যাকে বলেছিলেন—প্রস্তুত রাখেন।” শারমিন ভাবি সুযোগটা লুফে নিলেন। তিনি মঞ্চের সিঁড়ির কাছে গিয়ে রাফির হাতে মাইক্রোফোন ধরাতে গেলেন। “তুমি বলবে। পরিবারের ছেলেই বলুক।”
নওশীন চলল। না তাড়াহুড়ো করে, না অনুমতি চেয়ে। সে উঠোনের মাঝখান কেটে মঞ্চের সামনে পৌঁছাল, সবার চোখের ওপর দিয়েই। শারমিন ভাবি তার পথ আটকালেন। “তুমি কোথায়?”
“যেখানে আমাকে এতক্ষণ দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি,” নওশীন বলল। তারপর সোজা রাফির দিকে হাত বাড়াল। “মাইক্রোফোনটা দাও।”
রাফির হাতে ধরা যন্ত্রটা এক মুহূর্ত মাঝআকাশে ঝুলে রইল। শারমিন ভাবি ফিসফিস করে হিসহিসালেন, “তুমি পাগল হয়েছ? এত লোকের সামনে?”
“এত লোকের সামনেই তো সরিয়েছিলেন,” নওশীন বলল।
রাফি মাইক্রোফোনটা তার হাতে দিল। এই দেওয়াটাই ছিল প্রথম প্রকাশ্য ভাঙন। শারমিন ভাবি সঙ্গে সঙ্গে সঞ্চালকের দিকে ফিরলেন, “একটু থামান, ভুল হচ্ছে—” কিন্তু সামিউল কবির তখন উঠে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বসে থাকেননি। তিনি দেখছেন।
নওশীন মাইক্রোফোন অন করে প্রথমে নাম ডাকল না। সে বলল, “যেহেতু আজকের আয়োজনের সঙ্গে কাজের ঘোষণাও জড়িত, তাই আগে একটা বিষয় সবার সামনে পরিষ্কার করছি। এই উঠোনের অতিথি-তালিকা, পৃষ্ঠপোষকের সময়, প্রবেশপথের বিন্যাস, মঞ্চে ওঠার ধারাবাহিকতা—সব আমি তৈরি করেছি। গত তিন মাস ধরে। কাজ করেছি আমি; সামনে দাঁড়িয়ে ছিল অন্য নাম।”
উঠোনের বাতাসে থালার শব্দ আটকে গেল। শারমিন ভাবি এগিয়ে এসে বললেন, “মিথ্যে! তুমি সীমা জানো না!”
নওশীন তাঁর দিকে ফিরল না। সে সামিউল কবিরের দিকে তাকিয়ে বলল, “স্যার, আপনি যাকে নতুন কৃষি-উদ্যোগের সমন্বয়ক খুঁজছেন, তার দরকার যদি শুধু আত্মীয়ের মুখ, তাহলে আমাকে এখনই সরিয়ে দিন। কিন্তু দরকার যদি এমন কাউকে, যে দরজায় আটকে থাকা মানুষ, ভুল তালিকা, আটকে থাকা পথ, নষ্ট হতে থাকা মঞ্চ—সব একসঙ্গে চালাতে পারে, তাহলে আমি সহায়কের জায়গা ছাড়ছি। আমি এই কাজের দাবি করছি। আর আজকের প্রবেশ ও মঞ্চ-সমন্বয়ের দায়িত্বও এখন থেকে আমি নিচ্ছি।”
এটা ঘোষণা ছিল, অনুনয় নয়। কথা শেষ হতেই সে মাইক্রোফোন সঞ্চালকের হাতে দেয়নি। বরং নিচে দাঁড়ানো ব্যবস্থাপকের দিকে নামিয়ে বলল, “পৃষ্ঠপোষক-দল ডান পাশ দিয়ে উঠবে। সামনের রিং খালি রাখুন। যাদের নামে আসন, শুধু তারাই সামনে থাকবে। তালিকাটা আমার কাছে দিন।”
ব্যবস্থাপক দৌড়ে এসে তালিকাটা সত্যিই তার হাতে দিল। ওই মুহূর্তে শারমিন ভাবির মুখের রঙ বদলাল—এটাই দৃশ্যমান ক্ষতি, কারও মুখে না বললেও সবাই বুঝল। তিনি তালিকা ধরতে হাত বাড়িয়ে বললেন, “ওটা আমার—”
নওশীন পিতলের চাবির রিংটা, যা একটু আগে ছেলেটার হাতে গিয়েছিল, তার দিকে না তাকিয়েই বলল, “চাবি যার দরকার ছিল, সে ব্যবহার করেছে। এখন দেরিতে ফেরত দেওয়া জিনিস আমি আর নিই না।” তারপর তালিকাটা ভাঁজ খুলে নিজের পাশে রাখল, ঠিক মাইক্রোফোন স্ট্যান্ডের গোড়ায়, যেখানে সবাই দেখতে পায় কার হাতে কাগজ, কার হাতে দিকনির্দেশ।
সামিউল কবির মঞ্চের নিচ থেকে বললেন, “চালিয়ে যান।” শুধু এই দুই শব্দ। কিন্তু ওই দুই শব্দে উঠোনের ক্ষমতা হেলে গেল। শারমিন ভাবি আবার কিছু বলতে চাইলেন, শব্দ বেরোল না; তাঁর গলা যে স্বরে এতক্ষণ সবাইকে সরাচ্ছিল, সেই স্বরই শুকিয়ে গেল। দুইজন খালা, যারা একটু আগেও তাঁর পাশে ছিলেন, সরতে সরতে নওশীনের দিকের ফাঁকা জায়গায় এসে দাঁড়ালেন। কেটারিংয়ের ছেলে ট্রে নিয়ে পাশ কাটাতে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, “আপা, এই লাইনটা খালি রাখি?” প্রশ্নটা শারমিন ভাবিকে নয়।
নওশীন আর কোনো ব্যাখ্যা দিল না। সে নাম ধরে ডাকতে শুরু করল, কাকে কোন সারিতে যেতে হবে, কারা এখন মঞ্চে উঠবে, কোন গাড়ি ভেতরে ঢুকবে না। উঠোনে চলাচল তার কণ্ঠে গুছিয়ে গেল। শারমিন ভাবি মঞ্চের সিঁড়ির পাশে দাঁড়িয়ে রইলেন, যেখানে একটু আগেও মানুষ তার দিকে ছুটে যাচ্ছিল; এখন সবাই পাশ কেটে যাচ্ছে।
শেষে নওশীন মাইক্রোফোনে শুধু একবার বলল, “সামিউল স্যারের ঘোষণার আগে কাজের সমন্বয় নিয়ে আর কোনো নির্দেশ থাকলে আমাকে বলবেন। আজকে এই অংশটা আমি দেখছি।”
তারপর সে মাইক্রোফোন স্ট্যান্ডটা এক ইঞ্চি নিজের দিকে টেনে নিল।
তাঁবুর ছাউনির ধার থেকে সরে আসা ছায়া আবার উঠোনে ফিরে এলো। এক নিঃশ্বাসের জন্য ফাঁকা জায়গাটা স্থির হয়ে থেকে তারপর নতুন করে ভরতে লাগল—মানুষ এবার বাঁক নিয়ে নওশীনের দিকেই আসছে। ছায়াটা ধীরে ধীরে তার পায়ের কাছে গিয়ে থামল।