Fast Fiction

যাকে সরাল, তাকেই সামনে ডাকল

“ওদিকে না, ওদিকে না—আপনি সাইডে দাঁড়ান।” কালো পাঞ্জাবি পরা ছেলেটা হাত তুলে মেহরিনের পথ আটকে দিল, যেন সে কারও বিয়েতে নয়, ভুল করে রান্নাঘরের দরজায় এসে পড়েছে। ঢাকার গুলশানের ভেন্যুর ড্রপ-অফ লেনে একের পর এক গাড়ি এসে থামছে, দরজা খুলছে, আতরের গন্ধ আর এয়ারকন্ডিশনের ঠান্ডা হাওয়া বেরিয়ে আসছে, আর লাল গালিচার কিনারা ধরে আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা মুখগুলো হাসতে হাসতে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। মেহরিনের সামনে এসে থামা সাদা গাড়িটার ডিকি থেকে তার ছোট ব্যাগটা নামতেই আরেকজন কর্মী কাঁধ ঘুরিয়ে দেখাল, “সার্ভিস পাশ দিয়ে অপেক্ষা করেন।”

তার ডান হাতে ধরা কাগজে মোড়ানো পাতলা প্যাকেটটা শুকনো শব্দ করল। ওটার ভেতরে সোনার কিছু নেই—এক জোড়া পুরনো হিসাবের খাতা আর একটা খাম। খামটা ভারী না, কিন্তু তার কবজি শক্ত হয়ে আছে। তিন মাস আগে রাফিদের বাবার কৃষি যন্ত্রপাতির আমদানির চালান বন্দরে আটকে গেলে রাত দুইটা পর্যন্ত অফিসে বসে ব্যাংকের কাগজ গুছিয়েছিল মেহরিন; সেই রাতের পর থেকেই এই বাড়ির সবাই তাকে নাম ধরে চিনত। আজ সেই বাড়ির ছোট ছেলের বিয়ে, আর তাকে লাল গালিচা থেকে সরিয়ে সার্ভিস লেনের বেঁকে যাওয়া করিডরে পাঠানো হচ্ছে।

মেহরিন এক পা-ও সরল না। পেছনে আরেকটা গাড়ি এসে হর্ন দিল, ড্রাইভার নেমে দরজা খুলল, ফর্সা শাড়ি পরা এক দূরসম্পর্কের খালা নামতেই দুইজন ছেলে ঝুঁকে সালাম করল। তাকে ভেতরে নেওয়া হলো। মেহরিন ঠান্ডা গলায় বলল, “আমাকে কে সরাতে বলেছে?”

প্রশ্নটা ছোট ছিল, কিন্তু কাছের তিনজন শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। কালো পাঞ্জাবি ছেলেটা প্রথমে ভেবেছিল মেয়ে মানুষটা হয়তো অনুরোধ করবে; তার বদলে সে কেবল হাত নামিয়ে বলল, “ম্যাডাম, ভিড় দেখছেন তো। ভেতরের নির্দেশ। আপনি ওখানে দাঁড়ান।”

“ভেতরের কে?”

এবার গেট-ডেস্কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইমরান এগিয়ে এল। তার সামনে সরু টেবিলের কিনারায় ছড়ানো কলম, ফিতে, টেপ, নামের কার্ড, আর এক কাপ চা পড়ে আছে; এতক্ষণে চায়ের ওপরে পাতলা আস্তর জমে বৃত্তের মতো দাগ ফেলেছে। ইমরান মৃদু হাসল, সেই হাসি যারা কম টাকার মানুষকে থামাতে থামাতে শিখে ফেলে। “আপনি পরিচিত, জানি। কিন্তু আজকে প্রটোকল আছে। বরপক্ষের ক্লোজ সার্কেল আগে। বাকি সবাইকে একসাথে—”

“বাকি সবাই?” মেহরিন তার কথার ভেতরেই কেটে দিল।

সে আরও কিছু বলার আগেই পাশের সিঁড়ি থেকে তাসনিম ভাবি নেমে এল। ভারী কাজের শাড়ি, ঠোঁটে গাঢ় লিপস্টিক, কপালে এত বড় টিপ যে দূর থেকেও দেখা যায়। মুখে সেই ব্যস্ত-শালীন হাসি, যেটা দিয়ে মানুষ লোকজনকে হেয় করেও ভদ্রতা সাজিয়ে রাখে। “আরে, মেহরিন! তুমি এসে গেছ?” তারপর না থেমেই ইমরানকে বলল, “ওকে ওদিকে বসাও। গেট ফ্লো আটকাবে না।”

মেহরিন তাকিয়ে রইল। তাসনিম ভাবি কাছে এসে গলার স্বর নামাল না; বরং এমনভাবে বলল যাতে আশেপাশের সবাই শুনতে পায়। “দেখো, আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা বলে তো সবাই সামনে দাঁড়াতে পারে না। আজকে মন্ত্রী-সচিবও আসবে। তুমি ভেতরে যাবে, কিন্তু এখন না। পরে। মেয়েদের বিশ্রামঘরে বসো।”

এক মুহূর্তে তিনটে জিনিস হলো—একটা নতুন গাড়ি এসে থামল, ভেতর থেকে বয়সে ছোট এক কাজিন নেমে সরাসরি রিসিভ পেল; ইমরান হাত বাড়িয়ে মেহরিনের ব্যাগটা নিতে গেল, যেন তাকে সরানো ঠিক হয়ে গেছে; আর তাসনিম ভাবি ঠোঁট বেঁকিয়ে যোগ করল, “সবাই নিজের জায়গা বুঝলে অনুষ্ঠান সুন্দর থাকে।”

মেহরিন ব্যাগটা পিছিয়ে নিল। “আমার জায়গা আপনি ঠিক করছেন?”

তাসনিম ভাবির হাসি একটু কেঁপে উঠল, কিন্তু সে দ্রুত সামলে নিল। “তুমি বাড়াবাড়ি করো না। তোমার সঙ্গে রাফিদের পরিচয় আছে, সেটা আর ঘরের মেয়ে হওয়ার এক কথা না। আজকে রিসেপশনের সামনে কে থাকবে, সেটা আমরা ঠিক করব।”

চারপাশের দৃষ্টি এবার টের পাওয়া যাচ্ছিল। এক চাচা গাড়ি থেকে নামতে নামতে ধীর হয়ে গেলেন। এক কিশোরী মেহেদি-রাঙা হাত তুলে ফোন নামাল। ড্রপ-অফ লেনের ছাউনির নিচে যারা দাঁড়িয়ে ছিল, তারা যেন সামান্য ফাঁক রেখে দেখতে শুরু করল—মেয়েটা কি নরম হয়ে সরে দাঁড়াবে?

মেহরিন সোজা ইমরানের দিকে তাকাল। “আপনি বললেন ভেতরের নির্দেশ। কার নির্দেশে?”

ইমরান গলা খাঁকারি দিল। “আমি তো... তাসনিম আপার—মানে, পরিবারের—”

“পরিবারের কে?” মেহরিন এবার আরেক পা এগিয়ে গেল। “এন্ট্রি কার সিদ্ধান্তে হচ্ছে? আপনার? ভাবির? নাকি যে মানুষ এই অনুষ্ঠানের অতিথি নেওয়ার কথা বলেছে তার?”

প্রশ্নটা এবার ছাউনির নিচে ধাক্কার মতো লাগল। ইমরান চোখের পলক ফেলল, ঠোঁট ভিজাল। “মানে...সবাই মিলে...”

“নাম বলেন।”

তাসনিম ভাবি তীক্ষ্ণ স্বরে ঢুকে পড়ল, “এইসব জেরা করার জায়গা এটা না। ইমরান, ওকে সরাও।”

“আপনি নাম বলতে পারছেন না কেন?” মেহরিন তার চোখ সরাল না ইমরানের মুখ থেকে। “যার কথা বলে আমাকে থামাচ্ছেন, সে কি জানে আমি বাইরে দাঁড়িয়ে আছি?”

প্রথম ফাটলটা সেখানেই দেখা গেল। ইমরান একবার তাসনিম ভাবির দিকে তাকাল, আবার গেট-ডেস্কের কাগজগুলোর দিকে। তাসনিম ভাবি এবার রেগে উঠে বলল, “রাফিদকে এইসব ছোটখাটো ব্যাপারে টানার দরকার নেই। সে খুব ব্যস্ত।”

রাফিদের নাম উচ্চারণ হতেই কয়েকজনের মুখে অস্বস্তির ছায়া পড়ল। মেহরিন সেটাই ধরল। “তাহলে রাফিদের নামেই আমাকে আটকাচ্ছেন?”

তাসনিম ভাবি এবার খুব নিচু স্বরে কথা বলার চেষ্টা করল, কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। “তুমি নিজের মর্যাদা রাখো, মেহরিন। কেউ যদি ডাকত, তোমাকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো না।”

ঠিক তখনই ছাউনির বাইরে ব্রেকের চাপা চিৎকার শোনা গেল। সবার মাথা একসঙ্গে ঘুরে গেল। গাঢ় ধূসর গাড়িটা দ্রুত এসে থামল একেবারে লাল গালিচার মুখে। ড্রাইভার দৌড়ে দরজা খুলল। প্রথমে নেমে এলেন রাফিদের খালাম্মা—যার সামনে তাসনিম ভাবিও সাধারণত সোজা হয়ে দাঁড়ায়—তারপর অন্য পাশ থেকে রাফিদ।

গাঢ় রঙের পাঞ্জাবি, চোখে ক্লান্তি, কাঁধে সারাদিনের দায়িত্বের টান। সে এক সেকেন্ডের জন্যও ভেতরের দিকে তাকাল না। দরজা থেকে পা নামিয়েই তার চোখ পড়ল মেহরিনের ওপর—গালিচার বাইরে, সার্ভিস লেনের মুখে, হাতে কাগজে মোড়া প্যাকেট, পাশে গেট-ডেস্কের চা ঠান্ডা হয়ে থাকা টেবিল।

রাফিদের প্রথম সম্ভাষণ বদলে গেল। খালাম্মা কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই সে এগিয়ে এসে থামল, দৃষ্টি সোজা ইমরানের ওপর। “আমি যাকে রিসিভ করতে বলেছিলাম, সে বাইরে দাঁড়িয়ে কেন?”

কারও গলা শুকিয়ে যাওয়ার শব্দও যেন শোনা গেল। ইমরান মুখ খুলে বন্ধ করল। তাসনিম ভাবি তড়িঘড়ি এগিয়ে এসে বলল, “আসলে গেটে ভিড়—আমি ভাবছিলাম পরে—”

রাফিদ তার দিকে ঘুরে তাকাল। “পরে মানে? আমার লোককে কে সরিয়েছে?”

‘আমার লোক’—দুটি শব্দ যেন লেনজুড়ে টান মেরে গেল। খালাম্মা ভ্রু কুঁচকে মেহরিনের দিকে তাকালেন, তারপর তাসনিম ভাবির দিকে। কাছের এক আত্মীয় কাশিটা আটকে ফেললেন। ইমরানের হাত থেকে কলম পড়ে টেবিলের কিনারা ছুঁয়ে মাটিতে ঠুক করে লাগল।

তাসনিম ভাবি এবারও হার মানল না। তার গলায় মরিয়া সৌজন্য। “রাফিদ, তুমি ভুল বুঝছ। ও পরিচিত মেয়ে, সম্মান আছে। কিন্তু সামনে দাঁড়ানোর তো একটা হিসাব—বউয়ের দিক, বড়রা, সম্মানিত অতিথি—সবাই আছে। এখন যদি—”

“এখন যদি কী?” রাফিদের গলা নিচু, কিন্তু ধারালো। “আমি বলেছিলাম, মেহরিন এলে আমাকে খবর দেবে। তাকে গেটে দাঁড় করিয়ে রাখার সাহস হলো কার?”

এটাই ছিল সেই মুহূর্ত, যেখানে কেউ চাইলে মেহরিনকে নরম করে সরিয়ে নেওয়া যেত—লাজুক ব্যাখ্যা, পরে কথা হবে, ভেতরে বসুন। তাসনিম ভাবি সেই পথটাই ধরল। “মেহরিন, তুমি ভেতরে চলো। পরে আরামে—”

মেহরিন তাকে থামাল। “না। এখনই হবে।”

সব চোখ এবার তার দিকে। রাফিদও চুপ। ভিড়ের মধ্যে হালকা বাতাস বয়ে গেল, আতরের গন্ধে মিশল ডিজেলের ধোঁয়া।

মেহরিন ধীরে ধীরে কাগজে মোড়া প্যাকেটটা বাম হাতে নিল, ডান হাতে ব্যাগের ভেতর থেকে একটা ছোট চাবির গোছা বের করল। পিতলের পুরনো চাবি, কালো চামড়ার ট্যাগে লেখা—ফার্মহাউস অফিস। কৃষি যন্ত্রপাতির ডিলারদের সঙ্গে যে অফিসে বসে সে হিসাব তুলেছিল, রাফিদের বাবার অসুস্থতার পর গত আট মাস যেটার তালা সে খোলেছে সবচেয়ে বেশি। আশেপাশে যারা ঘরের বাইরের লোক ভেবে তাকে সরাচ্ছিল, তাদের অনেকেই ওই ট্যাগ চিনে ফেলল।

সে চাবিটা তাসনিম ভাবির দিকে বাড়িয়ে দিল না; সোজা রাফিদের দিকে তুলে ধরে বলল, “যদি আমি ‘পরিচিত মেয়ে’ হই, তাহলে আপনার বাবার ব্যবসার অফিসের চাবি আজ রাতেই অন্য কাউকে দেন। আমি আর কাল সকাল থেকে সেখানে উঠব না।”

তাসনিম ভাবির মুখের রঙ বদলে গেল। “এটা এখানে দেখানোর কী আছে?”

মেহরিন এবার তার দিকে ফিরল। “এখানেই দেখানোর আছে। কারণ এখানেই আপনি আমাকে বললেন, আমার দাঁড়ানোর জায়গা নেই।”

সে চাবিটা মুঠোয় বন্ধ করল। গলার স্বর বাড়াল না; তবু ছাউনির নিচে সবাই শুনল। “আমি এই বাড়ির চাকর না, দরজায় থামিয়ে রাখা যাবে। আমি এই বাড়ির দেনা বয়ে নিয়ে আসা মানুষও না, কাজ শেষ হলে সাইডে ফেলে রাখবেন। রাফিদ, সবার সামনে শুনে নিন—যদি আমি শুধু হিসাবের খাতা গুছিয়ে দেওয়া কেউ হই, আমি চলে যাচ্ছি। আর যদি আমার জন্য মানুষ পাঠিয়ে রিসিভ করানোর কথা বলে থাকেন, তাহলে আমার পরিচয় আপনাকেই বলতে হবে না। আমি নিজেই বলছি—আমি আপনার ঘরের বাইরে দাঁড়ানো মানুষ নই।”

কথার শেষে সে এক ইঞ্চি-ও পিছোয়নি। এই একটুকু না-পিছোনোয় লেনের মানচিত্র বদলে গেল।

খালাম্মা প্রথম নড়লেন। তিনি তাসনিম ভাবির দিকে এমনভাবে তাকালেন, যেন এখনই কারও সামনে তাকে ছোট করবেন কি না, সেটা মেপে দেখছেন। ইমরান হঠাৎ টেবিল ছেড়ে সরে দাঁড়াল। যে দুইজন কর্মী একটু আগে মেহরিনকে সার্ভিস পাশ দেখাচ্ছিল, তারা নিজেদেরই গালিচার দিক থেকে সরিয়ে নিল।

রাফিদ এক পা সামনে এল। তার গলায় এবার আর ঝাঁজ না, ঘোষণা। “কেউ শুনে রাখেন—মেহরিনকে গেটে আটকানোর অধিকার এই বাড়িতে কারও নেই।” তারপর তাসনিম ভাবির দিকে না তাকিয়েই বলল, “আজকে যাকে তোমরা বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখলে, আমি তাকেই সবার আগে ভেতরে নিচ্ছি।”

তাসনিম ভাবি শেষ চেষ্টা করল। “রাফিদ, বউপক্ষ, বড়রা—এভাবে—”

“এভাবেই,” মেহরিন বলল, তাকে শেষ করতে না দিয়ে। “আর একটা কথা শুনে নিন, ভাবি। আমি ভেতরে যাচ্ছি অতিথি হয়ে না। আমি যাচ্ছি যার পাশে দাঁড়ানো নিয়ে আপনাদের এত ভয়, সেই জায়গাটা নিজের নামে নিয়ে।”

সে রাফিদের দিকে তাকাল না; তাকাল সামনে, লাল গালিচার মুখে জমে থাকা মানুষগুলোর দিকে। “রাস্তা ছাড়েন।”

এতক্ষণ যে ভিড়টা তাকে দেখছিল, সেই ভিড়ই আগে সরে গেল। এক চাচা নিজের পাঞ্জাবির কাঁধ টেনে পিছোলেন। মেহেদি-রাঙা হাতওয়ালা মেয়েটা ফোন নামিয়ে পথ ছাড়ল। ইমরান টেবিলটা কাত হয়ে পড়ে যাওয়ার আগেই ধরে টেনে এক পাশে নিল, যেন নিজের অস্তিত্বই গুটিয়ে ফেলছে। তাসনিম ভাবির ঠোঁট শুকিয়ে সাদা, কিন্তু বলার মতো স্বর নেই। দৃশ্যমান ক্ষতি এতটাই স্পষ্ট যে ব্যাখ্যা আর কাউকে বাঁচাতে পারল না।

রাফিদ মেহরিনের কাছ থেকে চাবির গোছা নিল না। বরং তার হাতের নিচে হাত রেখে চাবিটা নামিয়ে দিল, যেন ফিরিয়ে দিচ্ছে মালিকানা। “এটা কোথাও যাবে না,” সে বলল। কিন্তু বাকিটা তার বলার দরকার হলো না। কারণ মেহরিন ইতিমধ্যে সামনে হাঁটা শুরু করেছে।

লাল গালিচার মুখ থেকে ভেতরের উজ্জ্বল আলো পর্যন্ত অল্প পথ। কিন্তু ওই কয়েক কদমের মধ্যে কতগুলো চোখের ভাষা বদলে গেল—যারা একটু আগে তাকে সার্ভিস লেনে পাঠাচ্ছিল, তারাই এখন কাঁধ সরিয়ে দাঁড়াচ্ছে; যারা ভেবেছিল সে চুপচাপ গিলে নেবে, তারা মুখ নামিয়ে ফেলছে। খালাম্মা সরে দাঁড়িয়ে তাকে আগে যেতে দিলেন। তাসনিম ভাবি ঠিক গালিচার ধারেই আটকে রইল, নিজের অনুষ্ঠানেই হঠাৎ অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাওয়া মানুষদের মতো।

ভেতরে ঢোকার মুখে মেহরিন থামল না। সে কেবল একবার কাঁধ ঘুরিয়ে, এমন স্বরে বলল যা ভেতরের আলো আর বাইরের ছায়া—দুই দিকেই পৌঁছায়, “আজ থেকে আমাকে কোথায় দাঁড় করাতে হবে, সেটা আমি নিজেই ঠিক করব।”

সার্ভিস লেনের বাঁকে তখন সবাই আগেই সরে গেছে। এক বেয়ারা দুহাতে ধরা চায়ের ট্রেটা বুকে চেপে থেমে ছিল; মেহরিন এগিয়ে যেতেই খোলা জায়গাটা সোজা হয়ে গেল, ট্রের কাপগুলো কেঁপে উঠে ধীরে ধীরে স্থির হলো।