Fast Fiction

যাকে ঠেলে সরাল, মাইক গেল তার হাতে

রুবাইয়াত আপা মেহরীনের গলা থেকে পরিচয়কার্ডের ফিতা টেনে খুলে নিলেন, এমনভাবে যেন গলায় থাকা জিনিসটাও তার দয়ার দান। তারপর ডেস্কের ওপরে রাখা রোগীর তালিকা নিজের দিকে টেনে এনে বললেন, “তুমি বেঞ্চে বসো। সামনে দাঁড়ানোর লোকের আলাদা মান থাকে।”

সামনের জানালার বাইরে বেঞ্চভরা মানুষ। বাচ্চা কোলে মায়েরা, লুঙ্গি পরা কৃষক, হালকা সাদা পাঞ্জাবিতে এক বৃদ্ধ, সঙ্গে মেয়ে-জামাই—সবাই ঘাড় তুলে দেখল। আজ ঢাকা শহরের এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্পনসর-চালিত নারীস্বাস্থ্য শিবিরের উদ্বোধন; নাম ডাকা, কুপন মেলানো, কাকে আগে ঢোকানো হবে—সবকিছু সামনের এই টেবিল আর ছোট উঁচু মঞ্চে বসানো মাইকের আশেপাশেই। মেহরীনের ব্যাগের ভেতর আধভাঁজ করা রসিদটা আঙুলে কুচকে উঠল। মায়ের ওষুধ, বাসাভাড়া, ছোট ভাইয়ের কোচিং—এই বাড়তি আয়ের জন্য সে গত তিন মাস রাত জেগে তালিকা বানিয়েছে। অথচ রুবাইয়াত আপা এক টানে তাকে সরিয়ে দিলেন।

মেহরীন হাত বাড়িয়ে পরিচয়কার্ডটা ফেরত চাইল না। শুধু দেরিতে ফেরত না-দেওয়া চাবির রিংটা ব্যাগ থেকে বের করে টেবিলের কোণে রেখে দিল। রুবাইয়াত আপা মুহূর্তের জন্য থামলেন; চাবিটা রেজিস্টার কেবিনেটের। গতকাল তিনি নিজেই বলেছিলেন, “কাল তাড়াতাড়ি আসবা।” মেহরীন ঠান্ডা গলায় বলল, “তাহলে কেবিনেটও আপনি খুলবেন, আপা। আমি বেঞ্চেই বসছি।” কাছের এক আয়া মুখ তুলে তাকাল। পুরোনো নিশ্চিন্ত ভঙ্গিতে প্রথম চিড়টা সেখানেই ধরল।

রুবাইয়াত আপা তৎক্ষণাৎ গলা উঁচু করলেন, যেন ছোট চিড়টা ঢেকে দিতে শব্দই যথেষ্ট। “এত নাটক কইরো না। স্বেচ্ছাসেবক আর সমন্বয়কারী এক জিনিস না। আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা আছে বলেই কেউ মঞ্চে উঠে যায় না।” শেষ কথাটা ছুড়ে দিলেন এমনভাবে, যাতে বেঞ্চের সারিতে বসা মানুষজন শুনে নেয়—এই মেয়ের পেছনে হয়তো কারও নাম আছে, কিন্তু সে নিজে কেউ না। শাওন, যে সাউন্ড দেখছিল, তার হাতে তার জড়িয়ে থেমে গেল। দু-একজন স্টাফের চোখে সেই পরিচিত হিসাব—কার পক্ষে দাঁড়ালে নিরাপদ।

মেহরীন বেঞ্চের শেষ মাথায় গিয়ে বসল। তার শাড়ির আঁচল হাঁটুর ওপর গুটানো, হাতে বাসকার্ডের ক্ষয় ধরা ধারের মতো মলিন পরিচয়পত্রের কভার। পাশের বৃদ্ধা ফিসফিস করে বললেন, “মা, তুমি তো সকালেই লোকজন লিস্ট কইরা দিছলা, না?” উত্তর দেওয়ার আগেই রুবাইয়াত আপা জানালায় কুপনের গুচ্ছ ঝাঁকিয়ে বললেন, “যার নাম ডাকব, সে-ই উঠবেন। অনধিকার কেউ সামনে আসবেন না।”

সামনের সারিতে খালাম্মা বসে ছিলেন—মায়ের মামাতো বোন, এই এলাকায় সবাই তাকে চেনে। তিনিই মেহরীনকে কাজটার খবর দিয়েছিলেন। খালাম্মা মুখ শক্ত করে বসে রইলেন; মেয়ের মতো মানুষকে বকাঝকা খেতে দেখা আর কথাবার্তা তোলার মধ্যে যে সামাজিক ফারাক, তিনি তা জানেন। তবু তার ঠোঁট চেপে যাওয়াটা মেহরীন দেখল। এই অপমান শুধু কাজের না, পরিচয়েরও।

রুবাইয়াত আপা তালিকা ধরে প্রথম পাঁচজনের নাম ডাকতে গিয়ে হোঁচট খেলেন। দুই কুপন নম্বর মেলেনি, একজনের স্বামীর হাতে থাকা এসএমএস আর প্রিন্টেড স্লিপের তারিখ আলাদা। লোকজন সামনে ধাক্কা দিতে লাগল। এক শিশুর কান্না, কারও রাগী গলা, “আপনারা আগে ঠিক করেন!” শাওন সাউন্ড টেস্ট করতে গিয়ে মাইক থেকে খচ্‌খচ্‌ আওয়াজ তুলল। ড. ফারহানা, আজকের অতিথি চিকিৎসক, মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে ঘড়ি দেখলেন। তার কপালের ভাঁজ স্পষ্ট। রুবাইয়াত আপা তখনও মাথা উঁচু করে বলছেন, “সব আমার কন্ট্রোলে আছে।”

মেহরীন বেঞ্চ থেকে উঠল না, কিন্তু বলল, “আপা, সবুজ ফাইলটা কেবিনেটের ডানদিকের তাকে। চূড়ান্ত অনুমোদনের কপি ওখানে।” রুবাইয়াত আপা তাকিয়ে হাসলেন, সেই ধারালো অপমানের হাসি। “চুপ করে বসো। বড় লোকের কাগজ তুমি চেনো?” সামনে থাকা মানুষজনও যেন ধরে নিল—হ্যাঁ, বেঞ্চে বসা মেয়ের এত জানা সাজে না।

তখনই ড. ফারহানা স্পষ্ট গলায় বললেন, “অনুমোদনের কপি কোথায়? স্পনসর প্রতিনিধি দশ মিনিটের মধ্যে আসবেন। প্রোগ্রাম লিডের নাম মিলাতে হবে।” রুবাইয়াত আপা বললেন, “আমার কাছেই আছে।” কিন্তু তার হাত থমকাল। টেবিলে নেই। ব্যাগে নেই। কপালে চিকচিক ঘাম।

শাওন কেবিনেটের দিকে তাকাল। কেবিনেট বন্ধ। চাবি টেবিলের কোণে। সবাই দেখছে। বৃদ্ধ লোকটি হালকা কাশলেন; শিশুর কান্নাও যেন থেমে শুনছে। ড. ফারহানা চাবি তুলে শাওনের হাতে দিলেন। “খুলো।” রুবাইয়াত আপা তড়াক করে বললেন, “না না, পরে—” কিন্তু ততক্ষণে কেবিনেট খুলে গেছে। সবুজ ফাইল বেরিয়ে এল, ফাইলের ভেতর প্লাস্টিক কভারে অফিসিয়াল অনুমোদনপত্র।

ড. ফারহানা কাগজটা হাতে নিয়ে রুবাইয়াত আপার দিকে বাড়ালেন না। বললেন, “জোরে পড়ো। সবাই অপেক্ষা করছে।” রুবাইয়াত আপার ঠোঁট শুকিয়ে গেল। “আমি… পরে—” পেছন থেকে কেউ বলল, “এখনই পড়েন, আমরা তো বসে আছি।” আরেকজন, “সকালে যেই মেয়েটা সব বুঝায়া দিছিল, ওরে ক্যান সরাইলেন?”

ড. ফারহানা কাগজটা শাওনের হাতে দিলেন। “তুমি পড়ো।”

শাওনের গলায় প্রথমে কাঁপুনি ছিল, তারপর শব্দ পরিষ্কার হয়ে উঠল। “আজকের ‘নবজ্যোতি নারীস্বাস্থ্য শিবির’-এর মাঠপর্যায়ের সমন্বয় ও রোগী-ডাক পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত—মেহরীন সুলতানা।” সে থামল, গিলে নিল, আবার পড়ল, “সমস্ত ফ্রন্ট-ডেস্ক প্রবাহ, টোকেন কল এবং উদ্বোধনী রোগী-ক্রম তার চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী চলবে।” নিচে স্পনসর সই, সিল, তারিখ।

বেঞ্চের সারি একসঙ্গে নড়ে উঠল না; বরং ছোট ছোট শারীরিক বদল হল। বৃদ্ধ লোকটি তার জামাইয়ের হাত থেকে স্লিপ নিয়ে আবার মেহরীনের দিকে তাকাল। শিশুকে কোলে নেওয়া মা শরীর ঘুরিয়ে বেঞ্চের শেষ প্রান্তের দিকে মুখ করলেন। আয়াটা, যে এতক্ষণ মাথা নিচু করে ছিল, এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল, “আপা, সবুজ স্টিকার কোন গ্রুপে দেব?” প্রশ্নটা রুবাইয়াত আপাকে না, মেহরীনকে।

রুবাইয়াত আপা সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। “একটা কাগজ পড়লেই সব হয় না। আমি এখানে সিনিয়র। নিয়ম আমি জানি। মেহরীন, তুমি পরে আমার রুমে এসো।” সেই “পরে” কথাটার ভেতর ছিল পুরোনো চাল—জনসমক্ষে গিলে ফেলো, ভেতরে এসে চুপচাপ বুঝে নাও।

কিন্তু ঘরটা আর আগের মতো ছিল না। টেবিলের সামনে দাঁড়ানো তিনজন একসঙ্গে সরে জায়গা করল, যেন কারও আসার পথ খুলছে। শাওন মাইকের তার খুলে আবার জোড়া দিতে দিতে সরাসরি জিজ্ঞেস করল, “আপা, তাহলে প্রথম ডাক কার লিস্টে?” ড. ফারহানা রুবাইয়াত আপার দিকে নয়, মেহরীনের দিকে তাকিয়ে বললেন, “সময় নষ্ট হয়েছে। এখন কীভাবে চালাবেন?”

চালাবেন। শব্দটা বাতাসে ঝুলে রইল। রুবাইয়াত আপা সেটা ধরে আবার নিজের দিকে টানতে চাইলেন। “মাইকটা নামাও,” তিনি শাওনকে বললেন, “আমি ঘোষণা দিচ্ছি।” তাড়াহুড়োয় তার ওড়না কাঁধ থেকে পিছলে পড়ল, তিনি এক হাতে সামলাতে গিয়ে ফাইল প্রায় ফেলে দিলেন। মুখের রঙ বদলে গেছে; অথচ তিনি এখনও এমন ভঙ্গি করে দাঁড়িয়ে যেন আদেশ করলেই পুরোনো জায়গা ফিরে আসবে।

মেহরীন তখন বেঞ্চ থেকে উঠল। ধীরে, তাড়াহুড়ো না করে। ব্যাগের মুখে আধভাঁজ করা রসিদটা আবার দেখা দিল, তারপর হারাল। সে সামনে হাঁটতে লাগল। যারা একটু আগে তার দিকে নিচু চোখে তাকিয়েছিল, তারা সরে দাঁড়াল। রুবাইয়াত আপা হাত বাড়িয়ে পথ আটকালেন, গলা নিচু করে বললেন, “এখন বাড়াবাড়ি কইরো না। বাইরে লোকজন আছে।”

মেহরীনও গলা নিচু করল, কিন্তু থামল না। “বাইরে লোকজন আছে বলেই।” সে রুবাইয়াত আপার হাত সরিয়ে দিল না; শুধু এমনভাবে পাশ কেটে গেল যে আপার হাতটা বাতাসে থেকে গেল, কারও গায়ে না লেগে।

মঞ্চের ছোট দাওয়াটায় ওঠার সিঁড়ির পাশে ধাতব প্যানেলে পুরোনো মোছার দাগ। সেখানে এক মুহূর্তের জন্য নিজের ঝাপসা মুখ দেখল মেহরীন—ক্লান্ত, রাগে শক্ত, কিন্তু টলছে না। শাওন মাইক স্ট্যান্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছিল। রুবাইয়াত আপা এবার দ্রুত এগিয়ে এসে মাইকের মাথা চেপে ধরলেন। “এটা নামাও বলছি। অনুষ্ঠান শুরু আমি করব।”

ড. ফারহানা সামনে এসে থামলেন। “যার নামে অনুমোদন, সে করবে।” এবার কথাটা আস্তে বলা হলেও আরও দূর গেল। কারণ অপেক্ষমান সবাই তা শুনল।

রুবাইয়াত আপা শেষ চেষ্টা করলেন। “আমি এতদিন ধরে—” বাকিটা শেষ হল না। আয়াটা ইতিমধ্যে রঙিন স্টিকারের ট্রে তুলে মেহরীনের দিকে ধরেছে। জানালার পাশের ছেলেটা নতুন টোকেন গুচ্ছ মেহরীনের টেবিলের দিকে ঠেলে দিয়েছে। টেবিলের ওপর তালিকাটা এখনও রুবাইয়াত আপার হাতে, কিন্তু ধরন আলগা; কাগজের কোণা কেঁপে উঠছে।

মেহরীন মঞ্চে উঠে দাঁড়াল। রুবাইয়াত আপার হাতে ধরা মাইকের গায়ে তার আঙুল রাখল, টান দিল না; শুধু স্থিরভাবে বলল, “ছাড়েন।” এই এক শব্দে অনুনয় ছিল না, রাগও না—ছিল মালিকানার সোজা দাবি। রুবাইয়াত আপা এক সেকেন্ড দেরি করলেন। সেই দেরিটাই তার হার। শাওন এগিয়ে এসে তারের জট মুক্ত করতেই মাইকের মাথা তার হাত থেকে সরে মেহরীনের হাতে চলে এল।

খচ্ করে তীক্ষ্ণ প্রতিধ্বনি উঠল। সামনের সারির মানুষ কেঁপে তাকাল। মেহরীন মাইক মুখের কাছে তুলল না সঙ্গে সঙ্গে; আগে টেবিলের তালিকাটা নিজের দিকে নিল, স্টিকারের ট্রে রাখল বাঁ পাশে, টোকেন ডান দিকে। তারপর মাইকে বলল, “শুনবেন। যাদের কুপনে সবুজ দাগ আছে, তারা প্রথম বেঞ্চ থেকে দাঁড়ান। নম্বর এক—রোকেয়া বেগম। সঙ্গে যিনি আছেন, শুধু একজন আসবেন। নম্বর দুই—হালিমা খাতুন। কৃষি ব্যাংকের পাশের গ্রাম থেকে এসেছেন, আপনার কাগজ ঠিক আছে। নম্বর তিন—শারমিন আক্তার।”

রোকেয়া বেগম দাঁড়িয়ে উঠতেই তার মেয়ে বলল, “এই যে, এই দিক?” মেহরীন মাইকে চোখ না সরিয়েই হাত তুলে পথ দেখাল। “বাঁ পাশের দরজা। স্টিকার নিয়ে যান।” আয়াটা সঙ্গে সঙ্গে সায় দিল, “এইদিকে, আপা।” টেবিলের সামনের জট কেটে গেল ধারালো ছুরির মতো। যে বৃদ্ধ লোকটা এতক্ষণ বিরক্ত ছিলেন, তিনি নিজের স্লিপ বুকের কাছে চেপে ধরে বললেন, “আমার নম্বর পরে, ঠিক আছে।” কণ্ঠে আর ঝাঁজ নেই; আছে মানা।

রুবাইয়াত আপা নিচে দাঁড়িয়ে বললেন, “তুমি নাম ডাকতে পারো, কিন্তু উদ্বোধনী বক্তব্য—” কথাটা শেষ হওয়ার আগেই ড. ফারহানা মঞ্চের একপাশে সরে দাঁড়িয়ে মেহরীনের জন্য জায়গা ছেড়ে দিলেন। এটা ছিল সবচেয়ে খারাপ আঘাত—কেউ তাকে সরায়নি, কিন্তু কেউ তাকে জায়গাও দেয়নি। শাওন রুবাইয়াত আপার হাতে থাকা উদ্বোধনী ফোল্ডার নিয়ে টেবিলের অন্য পাশে রাখল, যেন সেটার মালিকানা বদলে গেছে।

মেহরীন চোখ তুলে একবার নিচে তাকাল। খালাম্মা বেঞ্চের মাথায় বসে আছেন, মুখ উঁচু, এবার আর চেপে রাখা না। তাদের এই আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা, এতদিন যেটাকে রুবাইয়াত আপা খোঁটা বানিয়েছিলেন, এখন সেটাই সাক্ষী। কিন্তু মেহরীন ওই দিকে থামল না। থামলে খাদের ধার নরম হয়ে যেত।

সে মাইক শক্ত করে ধরল। “উদ্বোধনী লাইন দাঁড় করান। গর্ভকালীন পরীক্ষা আগে, সাধারণ পরামর্শ পরে। যারা বয়সে বড়, তাদের বসার জায়গা ছাড়ুন। শাওন, দ্বিতীয় দরজাটাও খোলেন। এখন নম্বর চার—মাসুদা আক্তার। নম্বর পাঁচ—বিলকিস নাহার। সবাই শুনে এগোবেন।”

সামনের দাওয়ায় মাইক্রোফোনের মাথা থেকে আবার সরু চিৎকারের মতো প্রতিধ্বনি উঠল, তারপর শব্দটা নেমে এল। “নম্বর ছয়—সাবিনা ইয়াসমিন। নম্বর সাত—রহিমা বেগম। প্রথম বেঞ্চ, এখন দাঁড়ান।” পেছন দিক থেকে গলা উঠল, “জি, দাঁড়াইছি।” আরেকটা, “এইদিকে, এইদিকে।” মেহরীন মাইক না-ছেড়ে বলল, “লাইন ঠিক রাখুন।” শব্দের লেজে ক্ষীণ খচখচে ফিডব্যাক কেঁপে উঠে ধীরে ধীরে মরে গেল।