Fast Fiction

যে গেট থেকে আমাকেই কাটল

“ওই লাইনে না, স্যার—আপনাকে সাইডে দাঁড়াতে বলা হয়েছে।” কালো স্যুটের ছেলেটা হাত বাড়িয়ে নওশাদের সামনে দড়ির ফাঁক বন্ধ করে দিল, আর ঠিক তখনই পেছন থেকে এক নীল মাইক্রোবাস এসে থামতেই দুইজন দূর-সম্পর্কের খালাতো ভাই, যাদের নাম পর্যন্ত সবাই ভুলে যায়, হাসতে হাসতে লাল কার্পেটের ওপর দিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল। নওশাদের কাঁধের শার্ট কুঁচকে ছিল দিনের লম্বা দৌড়ে, ডান হাতে ফোনটা নিচু করে ধরা, তালুর ভেতর পর্দার আলো নিভু-নিভু। বাম হাতে সে যে ছোট খাবারের বক্সটা এনেছিল, তাতে কাবাব ঠাণ্ডা হয়ে তেল জমে গেছে। আজকের রাতে এটা শুধু একটা বিয়ে না—তার নিজের জমানো মুখ, পরিশ্রম, আর গত তিন মাসের চুপচাপ দৌড়ের দাম দাঁড়িয়ে আছে এই ঢাকার হোটেলের নামানো-গাড়ির ধারে।

শারমিন ভাবি লাল বেনারসি টানতে টানতে গাড়ির দরজার পাশে এসে দাঁড়ালেন, যেন গেট, আলো, ফুল, লোকজন—সবই তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। “নওশাদ, তোমাকে তো বলেছিলাম, ভেতরের রিসিভ লাইনে না আসতে। তোমার নাম ‘সাধারণ আত্মীয়’ তালিকায়। ওই পাশে দাঁড়াও। ভিআইপি নামানো হবে আগে।” কথাটা তিনি এত জোরে বললেন যে কাছের আন্টিরা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালেন। তার চোখে সেই চেনা তাচ্ছিল্য—যেটা ব্যবহার করা হয় তাদের জন্য, যারা দরকারি, কিন্তু দেখাতে নেই।

নওশাদ খাবারের বক্সটা নিচের স্ট্যান্ডে রাখল। “রিফাত মামা আমাকে এখানে থাকতে বলেছেন।”

“রিফাত মামা এখন কনেকে নিয়ে ভেতরে। আমি দেখছি।” শারমিন ভাবি গেট সুপারভাইজার জাহেদকে ইশারা করলেন। “ওকে ব্যাক-ড্রপে পাঠান। আর ওর জন্য কোনো গেট-পাস ইস্যু করবেন না। পরে দেখব।”

জাহেদ এক সেকেন্ড নওশাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে ফেলল। “ভাই, ওই ডান পাশ দিয়ে ঘুরেন। স্টাফ এন্ট্রির কাছে দাঁড়ান।”

এই এক ধাক্কায় অপমান শেষ হলে চলত। কিন্তু আজ শারমিন ভাবি থামার জন্য বের হননি। তিনি মাথা ঘুরিয়েই পাশের দুজন ব্যবসায়ী অতিথিকে বললেন, “এই ছেলেটা একটু বেশি বাড়াবাড়ি করে। ছোটবেলায় বাসায় আসা-যাওয়া ছিল বলে ভাবে সব জায়গায় দাঁড়াতে পারবে।” তাদের মুখে সৌজন্যের পাতলা হাসি এল, সেই হাসি যা আসলে দূরত্ব মেপে রাখে। নওশাদ এক পা সরে দাঁড়াতেই জাহেদ দড়িটা আরও টেনে ধরল। দড়ির ও-পাশে আলো, ক্যামেরা, আতর, গোলাপজল; এ-পাশে ডিজেলের ধোঁয়া আর গরম কংক্রিট।

ওই মুহূর্তেই তাসনিমকে দেখা গেল। কনের কাজিন, শারমিন ভাবির ননদপক্ষের মেয়ে, নীল শাড়িতে দরজার ফ্রেমে আধা-থেমে দাঁড়ানো। চোখে প্রশ্ন ছিল, কিন্তু মুখ খুলল না। আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা-ভরা এই ভিড়ে কার সঙ্গে কে কতটা কথা বলল, তাও খবর হয়ে যায়। সে শুধু একবার নওশাদের হাতে ঠাণ্ডা খাবারের বক্সটা দেখে আবার ভেতরে সরে গেল।

আরেকটা গাড়ি এল। ড্রাইভার দরজা খুলতেই শারমিন ভাবি নিজে এগিয়ে গেলেন। “এই লেন খালি রাখেন! কৃষি যন্ত্রপাতির মালিকপক্ষ আসবে। বড় ক্লায়েন্ট।” তিনি নওশাদের দিকে না তাকিয়েই বললেন, “তুমি থাকলে ভিড় লাগে। ওই পিলারের পাশে যাও।”

এবার ক্ষতিটা শুধু মান-ইজ্জতের না। নওশাদ জানত, ময়মনসিংহ থেকে আসা মাহবুব স্যার এই রিসেপশনে ঢোকার আগেই কাগজ দেখতে চান—নতুন সাপ্লাই রুট, গুদাম ছাড়পত্র, ডেলিভারি সিডিউল। রিফাত মামার ব্যবসা গত বছর থেকে টলছে; ব্যাংকের লিমিট কমেছে; পুরোনো সরবরাহকারীরা অগ্রিম ছাড়া মাল ছাড়ে না। এই বিয়ের রাতটা শুধু আত্মীয় ডাকার জন্য সাজানো না, এখানে কথাবার্তা পাকা হবে। আর শারমিন ভাবি জানেন, সেই পথের ফাইল এখন নওশাদের হাতেই।

তিনি জেনে-শুনেই ছুরি ঘুরালেন। “আর শুনেন, কোনো গাড়ি থেকে নামা অতিথির সঙ্গে কথা বলবেন না। বিশেষ করে ব্যবসার লোকজনের সামনে না। আজকে পারিবারিক অনুষ্ঠান। অফিসের লোক অফিসেই থাকলে মানায়।”

নওশাদ এবার ফোনটা কানে তুলল না। শুধু নিচু করে পর্দা জ্বালাল। একটা বার্তা আগে থেকেই খোলা ছিল। বুকিং কোড, লেন নম্বর, রিসিভ টোকেন—সব। সে হোটেলের আগের বুক করা সাইড-ড্রপ লেনটা নিজেই অগ্রিম নিয়েছিল, কারণ কৃষি মেশিনারির তিনজন বড় সরবরাহকারী আলাদা কনভয়ে আসবে; সাধারণ লেনে আটকে থাকলে তারা ফিরেও যেতে পারে। রিফাত মামা জানতেন। শারমিন ভাবি জানতেন না—অথবা জেনে গুরুত্ব দেননি।

জাহেদ আবার কাছে এল। “ভাই, কষ্ট কইরেন না। ভাবি বলছে—”

নওশাদ তাকে বুকিং মেলটা দেখাল না; শুধু বলল, “তোমাদের ম্যানেজার আরিফুল আছে? বলো, লেন-সি যার নামে রিজার্ভ, সে এসে গেছে।”

জাহেদ থমকে গেল। “লেন-সি?”

পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে হোটেলের একজন ফ্লোর-ম্যানেজার দ্রুত হেঁটে এলো, কানে ওয়্যারলেস। “মি. নওশাদ?” সে নিচু স্বরে বলল, কিন্তু স্বরেই বদল। “স্যার, লেন-সি ব্লক করে রাখা ছিল আপনার নির্দেশে। একটু জ্যাম হয়েছে, এখনই খুলে দিচ্ছি।”

শারমিন ভাবি ঘুরে দাঁড়ালেন। “কোন লেন-সি? ওটা তো আমাদের ভিআইপি রুট।”

ম্যানেজার এবার সোজা উত্তর দিল, “ম্যাডাম, ওই রুট আজ রাতের জন্য আলাদা বুক করা। অগ্রিম পরিশোধও করা আছে। কৃষি সরঞ্জাম সরবরাহকারীদের রিসিভ ওই লাইনে হবে—নওশাদ স্যারের তালিকা অনুযায়ী।”

কথা শেষ হতে না হতেই দুজন বেয়ারা দড়ি খুলে ডান পাশের বন্ধ লেনের সামনে স্ট্যান্ড সরিয়ে দিল। সিকিউরিটি বোলার্ড একপাশে গড়িয়ে গেল। নীল বাতি জ্বলে উঠল। নওশাদের দিকে ঘুরে এক কর্মচারী বলল, “স্যার, আপনি এই পাশে দাঁড়ান। প্রথম গাড়িটা পাঁচ মিনিট।”

শারমিন ভাবির মুখে এক ঝলকে যে ফাঁপা থেমে যাওয়া এল, সেটাই ছিল রাতের প্রথম ফাটল। তিনি তাড়াতাড়ি বললেন, “এক মিনিট, আমার সঙ্গে আলোচনা না করে—”

“চুক্তির কাগজে যার স্বাক্ষর, নির্দেশ তার।” ম্যানেজার খুব নরম গলায় বলল। “আমরা লিখিত তালিকা অনুসরণ করব।”

নওশাদ ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা খাবারের বক্সটা স্ট্যান্ড থেকে তুলে লেন-সির পাশে রাখল, যেন সে কোথাও ঢুকে পড়েনি; বরং তার জায়গা ফিরিয়ে নিয়েছে। কর্মচারীরা একে একে তাকে ঘিরে অবস্থান বদলাল। কয়েক মিনিট আগেও যে জাহেদ তাকে পিলারের পাশে ঠেলে দিচ্ছিল, সে এখন অন্যদের বলছে, “এই রুট ফাঁকা রাখেন। এখানে নামবে বিশেষ অতিথি।”

ভেতর থেকে রিফাত মামা দ্রুত বেরিয়ে এলেন, পাঞ্জাবির গলার বোতাম খোলা, কপালে ঘাম। “নওশাদ, মাহবুব ভাই ফোন দিয়েছে, কাগজটা—”

শারমিন ভাবি মাঝখানেই ঢুকে গেলেন। “আপনি আগে ভেতরে যান। এখানে তো ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি—”

“ভুল বোঝাবুঝি না,” নওশাদ বলল। তার গলায় কোনো জোর ছিল না, সেই কারণেই শব্দগুলো বেশি পরিষ্কার শোনাল। “লেন-সি, রিসিভ অর্ডার, আর সাপ্লাই ফোলিও—সব আমার নামে। আপনারা যাদের বড় ক্লায়েন্ট বলছিলেন, তারা আগে কাগজ দেখবে, তারপর ভেতরে যাবে।”

রিফাত মামার মুখের রঙ বদলে গেল। তিনি শারমিন ভাবির দিকে তাকিয়ে বুঝলেন, খুবই ভুল সময়ে ভুল লোককে ঠেলা হয়েছে। তার চোখ নেমে এল নওশাদের হাতে ধরা পাতলা কালো ফাইলের দিকে। “কাগজ আছে তো?”

“আছে। কিন্তু যে আমার প্রবেশ আটকায়, সে আমার টেবিল ঠিক করবে না।”

তারপর সবকিছু দ্রুত সরে গেল। লেন-সির মাথায় দাঁড়ানো স্টাফরা নওশাদের তালিকা থেকে নাম মিলিয়ে নিতে লাগল। যাদের শারমিন ভাবি একটু আগে প্রধান দরজা দিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন, তাদের গাড়ি সাধারণ সারিতে আটকে রাখা হল; আর লেন-সি পুরো খালি। দুইজন চাচা দূর থেকে তাকিয়ে ফিসফিস করছিলেন, কিন্তু মুখের ভাব পাল্টে গেছে—এখন তারা হিসাব করছে কার পাশে দাঁড়ানো নিরাপদ।

প্রথম এসইউভি ঢুকতেই নওশাদ নিজেই এক পা এগিয়ে দরজা খুলল না; শুধু হাত তুলে ইশারা করল। দুই কর্মচারী একসঙ্গে দরজা ধরল। মাহবুব স্যার নামতেই শারমিন ভাবি হাসিমুখে ঝাঁপিয়ে যেতে চাইছিলেন, কিন্তু জাহেদ তার সামনে হাত ছড়িয়ে দিল—অবচেতনে, অভ্যাস বদলে গেছে। “ম্যাডাম, এক সেকেন্ড, আগে তালিকা যাচাই।”

মাহবুব স্যার চোখ কুঁচকে নওশাদের দেখলেন। “কাগজ?”

নওশাদ কালো ফোলিওটা খুলে প্রথম পাতাটা উল্টে ধরল। উপরে রিফাত ট্রেডিং-এর লেটারহেড, নিচে নতুন ডেলিভারি রুট, গুদাম ছাড়পত্রের শর্ত, আর পাশে তিন পক্ষের স্বাক্ষরের জায়গা। মাহবুব স্যার পাতায় আঙুল রাখতেই পেছনে আরও দুটো গাড়ি ঢুকল। সেই কনভয়—যেটার জন্য লেন দরকার ছিল। সময় হাতে নেই।

শারমিন ভাবির গলা এবার নরম। “নওশাদ, আগে সবাইকে ভেতরে নেওয়া হোক। কাগজ পরে বসে—”

“না।” সে চোখও তুলল না। “এই কাগজ না হলে তারা ভেতরে যাবে না। আর এই লেনেও নামবে না।”

পেছনের গাড়ি থেকে সিলেটের ডিলার নেমে অস্থির হয়ে ঘড়ি দেখল। এক কর্মচারী এসে নওশাদের কানে বলল, “স্যার, সাধারণ লেনে আটকে আছে কনের পক্ষের দুটো গাড়ি। শারমিন ম্যাডাম বলছে এগুলো আগে—”

নওশাদ ছোট্ট করে বলল, “লেন-সি আজ সরবরাহকারী আর স্বাক্ষরকারীদের জন্য। বাকিদের সাধারণ পথে পাঠান। আমার তালিকা ছাড়া কেউ এই রুটে ঢুকবে না।”

এইবার দৃশ্যটা সবার চোখে পড়ার মতো বদলে গেল। গেটের সামনে দাঁড়ানো দুই নিরাপত্তাকর্মী নতুন করে দড়ি বেঁধে দিল—কিন্তু এবার শারমিন ভাবির পাশে। তিনি যে লাল কার্পেটের কিনারায় দাঁড়িয়ে এতক্ষণ নির্দেশ দিচ্ছিলেন, সেখানে এখন তাকে থামিয়ে রাখা হয়েছে। আর লেন-সির মুখে নওশাদ, জাহেদ, ম্যানেজার, তিনজন অতিথি, আর ফাইল।

রিফাত মামা আর দেরি সইতে পারলেন না। “নওশাদ, কী চাই?”

নওশাদ এবার প্রথমবার মাথা তুলল। “যে সাপ্লাই রুট আমি দাঁড় করিয়েছি, সেটা আমার তত্ত্বাবধানেই চলবে। বিয়ে শেষের পরও। লিখিত অনুমতি লাগবে—গুদাম ছাড়, গ্রহণ-ক্রম, আর ক্লায়েন্ট রিসিভ সরাসরি আমার লাইনে। আজ রাত থেকেই।” সে ফোলিও থেকে ভাঁজ করা একটা অনুমতিপত্র বের করল। “আর এই লেন-সি এখন থেকে যার দরকার, সে আমার তালিকায় থাকবে। ভাবির মৌখিক নির্দেশে না।”

শারমিন ভাবি প্রায় ফিসফিস করলেন, “এভাবে আত্মীয়ের অনুষ্ঠানে কাগজ ধরছ?”

নওশাদ শান্তস্বরে বলল, “আমাকে আত্মীয়ের মতো ঢুকতে দেননি। এখন কাগজের মতোই দেখতে হবে।”

মাহবুব স্যার খুব ধীরভাবে বললেন, “আমার লোকজনের ট্রাক ভোরে নামবে। আজ রাতেই যদি স্বাক্ষর না হয়, আমি খুলনায় মাল ঘুরিয়ে দেব।” কথাটা শোনামাত্র রিফাত মামার বুক নেমে গেল। কৃষি যন্ত্রপাতির চালান অন্যদিকে গেলে তাদের এই মৌসুম শেষ।

শারমিন ভাবি শেষ চেষ্টা করলেন। “আমি বলছি, আগে অতিথিদের—”

“ম্যাডাম,” ম্যানেজার এবার প্রথমবার তাকে থামাল, “লেন-সি স্থগিত রাখা যাবে না। আপনার গাড়িগুলো অন্য লাইনে দিন।”

ওটাই ছিল পুরোনো কর্তৃত্বের শেষ ঠেলা, আর সেটাও খোলা চোখে ভেঙে গেল। নওশাদ পাশের স্ট্যান্ড থেকে একটা শক্ত কাগজের গেট-পাস টানল—আগে থেকে ছাপানো, লেন-সি প্রবেশচিহ্ন। সে তিনটা পাস আলাদা করে মাহবুব স্যার, সিলেটের ডিলার, আর চট্টগ্রামের পরিবেশককে দিল। “আপনারা আগে। রিসিভ রুম প্রস্তুত।”

তারপর চতুর্থ পাসটা জাহেদের হাতে দিল। “এটা শুধু রিফাত মামার জন্য। তিনি যাতায়াত করবেন। অন্য কেউ না।”

জাহেদ মাথা নেড়ে পাসটা বুকের কাছে তুলে ধরল, যেন হুকুমে নতুন ধর্ম পেয়েছে। শারমিন ভাবি হাত বাড়িয়ে বললেন, “আমারটা?”

নওশাদ ফোলিও বন্ধ করতে করতে বলল, “আপনার জন্য সাধারণ প্রবেশপথ খোলা আছে।”

পেছনে আটকে থাকা আত্মীয়দের গাড়ির দরজা খুলছে, বন্ধ হচ্ছে, ড্রাইভাররা হর্ন চেপে আবার থামছে, আর লেন-সির বাতাস আলাদা। এখানে আর তার ঠাঁই নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। মাহবুব স্যার পাস হাতে ভেতরে ঢুকে গেলেন; সিলেটের ডিলার তার লোককে ফোনে বলল, “এই লাইনেই নামাও”; চট্টগ্রামের পরিবেশক ফাইলের দ্বিতীয় পাতায় ঝুঁকে পড়ল। রিফাত মামা নিঃশব্দে নওশাদের কাছাকাছি এসে দাঁড়ালেন, কিন্তু শারমিন ভাবি দড়ির ওপাশেই থেকে গেলেন—একদম সেই জায়গায়, যেখানে একটু আগে তিনি নওশাদকে সরিয়ে দিয়েছিলেন।

হোটেলের ভেতরের ছোট কাচঘেরা কক্ষে একটা লম্বা কনট্র্যাক্ট টেবিল সাজানো ছিল। বাইরে এখনও গাড়ির দরজা লাগার শব্দ, ওয়্যারলেসে ছোট ছোট নির্দেশ, দ্রুত পায়ের আওয়াজ। নওশাদ ফোলিও খুলে শেষ পাতাটা সামনে টেনে আনল—গুদাম ছাড়, গ্রহণ-ক্রম, রিসিভ অনুমতির নতুন বরাদ্দ। নিজের হাতের নিচে ফোলিও চেপে রেখে সে রিফাত মামার স্বাক্ষরের জায়গায় আঙুল রাখল, তারপর কাগজটা সামান্য ঘুরিয়ে নিজের দিকে এনে ওপরে আরেকটা শীট সোজা করে টেনে দিল। কাগজ সরে গিয়ে নতুন প্রবেশ-বরাদ্দের লাইনটা ঢেকে নয়, স্পষ্ট করেই সামনে এসে থামল।