কন্ট্রোল ফিরতেই বেই চলল
চতুর্থ বেইয়ের সামনে ট্রলির চাকা আটকে কাঁকিয়ে উঠতেই মেহজাবিন গলা চড়াল, “ওটা আগে ছাড়বেন না—পেঁয়াজের প্যালেট ঢুকলে মাছের গাড়ি উল্টা মুখে আটকা পড়বে।” ঢাকার কারওয়ান বাজারের পেছনের কৃষি-সরবরাহ গুদামের ব্যাকলেন তখনই জ্যাম ধরে ফেলেছে। কুয়াশা নেই, তবু ডিজেলের ধোঁয়া আর কাঁচা ধনেপাতার গন্ধ মিশে বাতাস ঝাপসা। রাতভর শিফটের ভাঁজ তার সালোয়ারের হাঁটুতে কুঁচকে আছে, কাঁধ শক্ত, তবু চোখ হিসাব করছে—কোন ট্রাক আগে, কোন বেই ফাঁকা, কোন গেট ধরে ছাড়লে লাইন খুলবে। রাশেদ ডিসপ্যাচ-স্টুলে বসে, গলায় ঝোলানো ছাড়পত্রের ব্যাজে আঙুল ঠুকতে ঠুকতে তার দিকে না তাকিয়েই বলল, “তুমি সাইডে থাকো। আজ থেকে বেই ছাড়ব আমি। মালিকপক্ষের কথা।”
মেহজাবিন এক কদম এগিয়ে স্টুলটার পাশে হাত রাখল। “তিন নম্বর বেইয়ের র্যাম্প ভাঙা। চার নম্বর আগে খুলতে হবে।”
রাশেদ এবার তাকাল, ঠোঁটের কোণে পাতলা হাসি। “তুমি বেশি জানো, এইটাও সমস্যা। যে কাজ দেওয়া হয় সেটা করো। তালিকা ধরো, কন্ট্রোল না।” বলে সে তালিকা সুমির হাত থেকে টেনে নিয়ে নিজে রাখল, যেন কাগজের সঙ্গে জায়গাটাও কেড়ে নিল। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ড্রাইভাররা দেখে ফেলল; গেটের গার্ড জলিলও চোখ তুলে আবার নামাল। অপমানের কাজটা রাশেদ এমনভাবে করল যেন এটাই নিয়ম।
মেহজাবিন আর কথা বাড়াল না। তার ফোনের আলো মুঠোর ভেতর একবার জ্বলে নিভল; রাতের শেষে ভাড়া বাড়ির বাড়িওয়ালার বকেয়া মেসেজ, আম্মার ওষুধের কথা—এসব এখন কোনো কাজে লাগবে না। সে সোজা গিয়ে চতুর্থ বেইয়ের কোলাপসিবল দরজা নিজে টেনে আধখোলা করল, ভেতরের ফর্কলিফটওয়ালাকে হাত তুলে থামার ইশারা দিল। রাশেদ ভেবেছিল সে চুপ করে সরে যাবে; বদলে সে লেনের মুখে দাঁড়িয়ে ট্রাকগুলোর মুখ গুনে ফেলল। কাজ থামেনি, কিন্তু কে আসল হিসাব জানে, সেটা প্রথম ফাটলের মতো চোখে পড়ল।
পাঁচ মিনিটের ভেতর রাশেদের ভুলটা পচা ফলের গন্ধের মতো ছড়িয়ে গেল। সে বেগুনভর্তি ট্রাককে দুই নম্বর বেইয়ে ঢুকিয়ে দিল, যেখানে আগেই চালের বস্তার প্যালেট নেমে পথ অর্ধেক বন্ধ। ট্রাক ঢুকে আর সোজা হতে পারল না। পেছনে মাছের পিকআপ, তার পেছনে মুরগির খাঁচা, তার পেছনে কুমিল্লা থেকে আসা সবজির মিনিট্রাক—সব একে অন্যের বাম্পারে ঠেকল। একজন ড্রাইভার রাগে হর্ন চেপে ধরে রাখল; ধাতব আওয়াজে টিনের ছাউনি কেঁপে উঠল।
“এইভাবে ছাড়লে সকালবাজার মিস হবে!” মাছের আড়তদার চেঁচাল।
রাশেদ কাগজ উল্টেপাল্টে বলল, “সবাই চুপ থাকেন। আমি দেখছি।”
“আপনি দেখতেছেন, কিন্তু গাড়ি নড়তেছে না,” জলিল গেটের দিক থেকে বলে ফেলল, খুব জোরে নয়, তবু শোনা গেল। সুমি কাগজ বুকে চেপে দাঁড়িয়ে, কার নির্দেশ নেবে বুঝতে পারছে না।
এই সময় কামাল চাচার ট্রাক লেনের মুখে এসে থামল। গ্রামের দিকের বড় সরবরাহকারী; মেহজাবিনের খালার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা মানুষ। ঈদের সময় বাড়িতে গরু নামানো থেকে শুরু করে কার বিয়ে কবে—সব খবর রাখেন। তিনি কেবিন থেকে মাথা বের করে একবার মেহজাবিন, একবার রাশেদের দিকে তাকালেন। “মা, তোমার পালা না নাকি আজ? ফজরের আগে মাল নামাইছি, এখনো দাঁড়ায়া আছি কেন?”
প্রশ্নটা রাশেদকে না, সবাইকে শোনানো। মেহজাবিনের গাল গরম হয়ে উঠল; এখানে কাজ আটকে গেলে শুধু টাকার ক্ষতি না, মুখও যায়। রাশেদ সঙ্গে সঙ্গে কোমর সোজা করল। “চাচা, নতুন সিস্টেম। একটু টাইম লাগবেই।”
“সিস্টেম যদি বেই বন্ধ করে রাখে, সিস্টেমরে নামায়া দেন,” কামাল চাচা কড়া গলায় বললেন। “আমার লাউ পচলে আপনারা ঘরে নিয়েন না।”
রাশেদ মরিয়া হয়ে আবার ভুল করল। কামাল চাচার ট্রাককে প্রথমে ঢোকাতে গিয়ে সে পেছনের মাছের গাড়িটাকে রিভার্স নিতে বলল। জায়গা এত কম যে রিভার্স নিলে দুই নম্বর বেইয়ের বের হওয়ার মুখ একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। মেহজাবিন এবার আর থামল না। সে লেনের মাঝখানে গিয়ে হাত তুলে বলল, “কেউ রিভার্স দেবেন না। মাছ আগে বের হবে, তারপর কামাল চাচা বাঁ দিক কেটে চারে ঢুকবেন।”
রাশেদ স্টুল থেকে উঠে চেঁচাল, “তুমি কে নির্দেশ দেওয়ার?”
“যে জানে কোন গাড়ি কোথায় ঘুরবে,” মেহজাবিন ঠান্ডা গলায় বলল।
কথা শেষ হতেই দুই নম্বর বেইয়ের ভেতর থেকে একটা লোডেড প্যালেট পাশ ঘেঁষে হেলে পড়ল। কাঠের তক্তা ভেঙে আলুর বস্তা গড়িয়ে লেনে চলে এল। একজন হেলপার লাফ দিয়ে সরে না গেলে পায়ের ওপর পড়ত। গালাগালি, হর্ন, ফর্কলিফটের বীপ, টিনের ভেতর ফ্যানের গুমগুম—সব একসাথে চেপে বসল। রাশেদ একবার ব্যাজ, একবার তালিকা, একবার হেলে পড়া প্যালেটের দিকে তাকাল; তার গলার জোর হঠাৎ পাতলা হয়ে গেল। “সুমি, ওদের থামাও… জলিল, গেট বন্ধ করো… আরে কেউ—”
কেউ থামল না, কারণ থামানোর মতো সোজা নির্দেশ সে দিতে পারছিল না।
মেহজাবিন সোজা গিয়ে ভাঙা প্যালেটের সামনে দাঁড়াল। “তিনজন এই আলু তুলে বাম দেয়ালে লাগাও। মাছের গাড়ি, ইঞ্জিন চালু রাখেন। কামাল চাচা, আপনার ড্রাইভার স্টিয়ারিং সোজা ধরেন, আমার ইশারা ছাড়া নড়বেন না।”
রাশেদ তখনও স্টুলের সামনে আটকে। একটা মালবোঝাই ট্রলি তার হাঁটুতে ধাক্কা দিয়ে পাশ কেটে গেল। জলিল দৌড়ে এসে বলল, “রাশেদ ভাই, ব্যাজটা দেন। স্ক্যান ছাড়া গেট ছাড়তে পারতেছি না। লাইন বাইরে রাস্তা ধরছে।”
রাশেদ এক সেকেন্ড মেহজাবিনের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর যেন নিজের গলা নিজেই কেটে দিল। ব্যাজের দড়ি খুলতে গিয়ে আঙুল কাঁপল। সে এগিয়ে এসে ব্যাজটা মেহজাবিনের হাতে গুঁজে দিল, সঙ্গে স্টুলের পাশে রাখা ছাড়পত্রের মার্কার-সিল। “নাও। আগে লাইন ছাড়াও।”
কাগজে নয়, হাতে। প্লাস্টিকের ব্যাজটা ঘামে ভেজা; ক্লিপের ধাতুতে পুরনো ঘষার দাগ। মেহজাবিন ব্যাজ গলায় না দিয়ে কব্জিতে জড়িয়ে নিল, স্টুলে বসে না—স্টুলটাকে টেনে বেইয়ের ধার ঘেঁষে নিজের দিকে আনল। “সুমি, তালিকা এখানে। জলিল, গেট একবারে একটা। আমার কল ছাড়া স্ক্যান না।”
এই প্রথম সুমি বিনা প্রশ্নে কাগজ এনে তার হাতে দিল।
মেহজাবিনের গলা খুব জোরে উঠল না, কিন্তু লেনের সবাই শুনল। “দুই নম্বর বন্ধ। মাছের গাড়ি আগে বের হবে। ফর্কলিফট, পেছন থেকে না—ডান কাঁধ ঘুরে তোলেন। আলুর বস্তা চারটার বেশি একসাথে তুলবেন না, আবার পড়বে। কামাল চাচা, এখন বাঁ কাটেন—এখন।”
কামাল চাচার ট্রাক সুঁইয়ের ছিদ্র দিয়ে সুতো যাওয়ার মতো কেটে চতুর্থ বেইয়ে ঢুকে গেল। আটকে থাকা মাছের পিকআপ সামনে ফাঁকা পেয়ে বেরিয়ে স্ক্যান লাইনে চলে গেল। একটার পেছনে আরেকটা জায়গা তৈরি হতে থাকল। জলিল গেটে ব্যারিয়ার তুলল, নামাল, তুলল—এবার ঠিক ক্রমে। সুমি ছাড়পত্রে তার বলা নম্বর বসাতে লাগল। রাশেদ পাশে দাঁড়িয়ে দু-একবার মুখ খুলে আবার বন্ধ করল; কেউ তার দিকে তাকাচ্ছে না।
দ্বিতীয় ঠিকটা হলো আরও কঠিন। পেছনের লেনে চট্টগ্রামগামী কলার ট্রাক এসে দাঁড়িয়েছিল, আর সামনে এখনও দুই নম্বর বেইয়ের আধা-জ্যাম। রাশেদ অস্ফুটে বলল, “ওটাকে অপেক্ষা করাই…”
মেহজাবিন কাগজ না তুলেই কেটে দিল, “না। কলা রোদ ধরলে কালো হবে। পাঁচ নম্বরের খালি র্যাম্প নামাও।” “পাঁচ নম্বরে তো খুচরা মাল—” “খুচরা মাল করিডরে সরাও। এখনই।”
তার কথার সঙ্গে সঙ্গে দুই হেলপার দৌড়ে গেল, করিডরের ঝুড়ি-ক্রেট সরিয়ে জায়গা বানাল। কলার ট্রাক একচোট ধোঁয়া ছেড়ে সোজা পাঁচ নম্বরে ঢুকে পড়ল। পেছনের জমাট শব্দ আলাদা আলাদা শব্দে ভাঙতে লাগল—একটা হর্ন থামল, একটা চাকা ঘুরল, একটা গেট খুলল, একটা প্যালেট জায়গামতো বসল। কথার চেয়ে কাজের গতি দ্রুত প্রমাণ দিল। লেনটা আর রাশেদের দিকে তাকিয়ে নেই; মেহজাবিনের হাত, মাথা, চোখের ইশারা অনুসরণ করছে।
ঠিক তখন মালিকের ছোট ছেলে নাঈম পেছনের সরু পথ দিয়ে এসে দাঁড়াল। ঝকঝকে স্যান্ডেল, ইস্ত্রি করা পাঞ্জাবি—আজকে তাদের বাসায় কারও গায়ে হলুদের দাওয়াত, দুপুরেই যাবে শুনেছিল সবাই। সে প্রথমে জ্যাম দেখতে এসেছিল, কিন্তু এসে দেখল লাইন চলছে, আর ডিসপ্যাচ-স্টুল বেইয়ের ধার ঘেঁষে মেহজাবিনের নিয়ন্ত্রণে। রাশেদ তার কাছে এগিয়ে গিয়ে কিছু বলতে চাইল, “ভাই, আমি আসলে—”
নাঈম কথা শেষ করতে দিল না। তার চোখ গেট, স্ক্যান, ছাড়পত্র, আর মেহজাবিনের কব্জিতে জড়ানো ব্যাজের ওপর ঘুরে এক জায়গায় থামল। “এখন কে ছাড়ছে?”
মেহজাবিন মাথা না তুলেই বলল, “চার, পাঁচ, তারপর এক। দুই বন্ধ থাকবে, কাঠ বদলানো পর্যন্ত। জলিল, পরের স্ক্যান।”
জলিল তার দিকেই তাকিয়ে ব্যারিয়ার তুলল।
নাঈম রাশেদের দিকে ফিরল। “ওকে বসাইছিলে কেন?”
রাশেদের মুখে রক্ত নেই। “আপনার আব্বা বলছিলেন—আমি তো ভাবছিলাম—”
“ভাবা পরে করবেন।” নাঈম নিচু গলায় বললেও শব্দে লোহার ধার। “যে চালাইতে পারে, কন্ট্রোল তার হাতেই থাকবে।” সে স্টুলটার দিকে হাত বাড়িয়েছিল, যেন রাশেদকে আবার বসাতে পারে; কিন্তু ঠিক তখনই পরের ট্রাক বেইয়ের মুখে এসে দাঁড়াল আর ড্রাইভার জানালা থেকে চেঁচিয়ে উঠল, “আপা, আমি এক নম্বর?” মেহজাবিন সিল চাপতে চাপতে বলল, “না, আপনি চার পার হইলে এক। ডান চাকা সোজা রাখেন।” ট্রাক তার কথামতো নড়ল।
এই নড়াটাই শেষ কথা হয়ে গেল। নাঈমের বাড়ানো হাত মাঝপথে থেমে গেল; স্টুল, ছাড়পত্রের মার্কার, স্ক্যানের কল—সব মেহজাবিনের দিকেই রইল। সে আর কিছু ঘোষণা করল না, শুধু পিছিয়ে দাঁড়িয়ে গুদামের সুপারভাইজারকে ইশারা দিল দুই নম্বর বেইয়ের কাঠ বদলাতে। রাশেদ দাঁড়িয়ে থেকেও যেন জায়গা হারাল; লেনের মাঝখানে তার উপস্থিতি এখন বাড়তি বাঁধা।
চাপ কমার বদলে মেহজাবিন আরো ধারালো হলো। “সুমি, কামাল চাচার পর মাদারীপুরের ট্রাক। ভুল কাগজ সামনে আনবা না। জলিল, একসাথে দুইটা ঢুকাবেন না—রাস্তা খাইয়া ফেলবে। আর শুনেন, দুই নম্বরের কাছে কেউ খালি ট্রলি রাখবেন না।” কেউ তর্ক করল না। কামাল চাচার ট্রাক ফাঁকা হয়ে বেরোতে বেরোতে তিনি জানালা থেকে শুধু বললেন, “এইবার ঠিক আছে, মা।” মেহজাবিন তাকাল না। “পরেরটা আনেন।”
রাশেদ শেষ চেষ্টা করল। স্টুলের কাছে এসে হাত বাড়াল, “ব্যাজটা দেন, আমি দাঁড়াই থাকি, আপনি বলে দেন—” মেহজাবিন তার দিকে একবার তাকাল, তারপর পরের ছাড়পত্রে সিল বসিয়ে বলল, “আপনি পেছনের করিডর ফাঁকা করেন। এখানে দাঁড়ালে লাইন আবার মরবে।” সেই মুহূর্তে পাশের হেলপার ট্রলি ঠেলে সোজা রাশেদের পায়ের কাছে এনে থামাল; রাস্তা ছাড়তে সে নিজেই সরে গেল। এ দৃশ্যটা কারও মুখে হাসি আনল না, কিন্তু অপমানটা আরও কড়া হলো—কারণ এখন তাকে কেউ বিরোধীও মানছে না, শুধু অকার্যকর জিনিসের মতো এড়িয়ে যাচ্ছে।
আরেক দফা স্ক্যান, আরেক দফা বেই কল, আরেক দফা সিল। সূর্য উঠতে শুরু করলে টিনের কিনারায় আলো লেগে চমকাল, কিন্তু লেনের গতি থামল না। মেহজাবিন স্টুলে আধবসে, এক হাতে মার্কার, অন্য হাতে ছাড়পত্র, কব্জিতে ব্যাজের ফিতে কেটে লাল দাগ ফেলেছে। নাঈম একবারও সেটা ফেরত চাইলো না। সে শুধু হিসাবের টেবিলের ছেলেকে ডেকে বলল, “আজ থেকে সকালের ডিসপ্যাচে মেহজাবিনের নাম উঠবে। রোস্টার বদলাও।” তারপর সরে গেল, যেন কাজের জায়গায় কাজের কথার বেশি আর কিছু বলার নেই।
শেষ ট্রাকটা গেট পেরোনোর পর গুদামের পেছনের সরু নিরাপত্তা-লেনে ফ্যানের গুমগুম শব্দ ছাড়া আর তেমন কিছু নেই। ভেজা সিমেন্টে টায়ারের দাগ কাটা, দেয়ালে পুরনো পোস্টার আধখানা উঠে আছে। জলিল স্ক্যান-মেশিন বন্ধ করে মেহজাবিনের দিকে ব্যাজটা ফেরত বাড়াল; সে কব্জি থেকে ফিতে খুলে ক্লিপটা ধরতে হাত মেলল। বহুদিনের ঘষায় ক্ষয়ে যাওয়া ধাতব দাগ এক ঝলক দেখা দিল, তারপর ব্যাজের ক্লিপ এসে ঠুক করে তার তালুতে পড়ল।