রেকর্ডেই তাদের মিথ্যে মরল
ট্রে নামাতে না নামাতেই রোকেয়া ভাবি দরজায় হাত তুলে বলল, “এইখানে না, রান্নাঘরের পাশে রাখো। আর শোনো, অতিথিদের সামনে ‘নীরা আপা’ বলবে না কেউ। ও আমাদের বাসার মেয়ে না, কাজের লোকের মতোই আছে।”
নীরা থামল না, কিন্তু ট্রের গ্লাসে শরবত কেঁপে উঠল। ঢাকার পুরোনো দোতলা বাড়িটার সামনে আজ খতমের দোয়া শেষে মিলাদ; আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা এমনভাবে উঠোন ভরেছে, যেন প্রতিটা চোখ বসার জায়গা, সম্বোধন, কার হাতে চাবি—সব গুনে রাখছে। তার গলায় ঝুলে থাকা পুরোনো পরিচয়-ফিতা কাপড়ে ঘষা লেগে চিকন হয়ে গেছে; পাশের লিফটের ধাতব দরজার ময়লা আয়নায় নিজের কাঁধের কড়া ভাঁজ আর রাতভর দৌড়াদৌড়ির ক্লান্তি এক সেকেন্ডে দেখে নিল সে। তারপরই চোখ গেল সিঁড়ির মোড়ের কর্কবোর্ডে—পরিবারের অতিথি-তালিকা, মিলাদের দায়িত্ব, আর বহুবার খোলা-বন্ধ করা এক নাম-রেজিস্টার। এক কোণায় পুরোনো মানচিত্র-পিনের গর্ত, তার আশপাশে কাগজ ঘষা খাওয়া।
সে ট্রে নামিয়ে সোজা বোর্ডের সামনে দাঁড়াল। তালিকায় লেখা—“বহিরাগত সহযোগী: নীলা।” নীলা। অদ্ভুত বানান না; ইচ্ছে করে বসানো নাম। নীরা বুকের ভেতর চেপে রাখা সেই আধাভাঁজ রসিদটা আঙুলে মুচড়ে ফেলল। গত তিন মাস ধরে খালার ওষুধ, বাজার, মিলাদের চাল-ডাল—সব তার টাকায় কিনেছে, কিন্তু আজও দরজার কাছে তাকে ঠিক জায়গাটা দেখিয়ে দিতে হয়।
রোকেয়া ভাবি পেছন থেকে এসে কাঁধে আঙুল ঠেকাল। “কি দেখছ? এই বোর্ডে সবার দায়িত্ব লেখা। যারা ঘরের, তারা ড্রইংরুমে বসে। যারা কাজে লাগে, তারা ওঠানামা করে।”
নীরা মাথা তুলল। “দায়িত্বের পাশে নামও লেখা। নাম ভুল হলে কাজও ভুল জায়গায় যায়।”
ভাবি একটু হেসে বলল, “তোমার অনেক বোধ হয়েছে। জলিল, ওকে পিছনের বারান্দায় পাঠাও। ভিআইপি টেবিলে শরবত কম।”
দারোয়ান জলিল চোখ নামিয়ে বলল, “এইদিক, আপা।” আপা বলেই থেমে গেল; রোকেয়ার চোখে ধরা পড়ে দ্রুত শুধু, “এইদিক।”
পাঁচ মিনিট পর ভুল নামটা কাজ বদলে দিল। খালার বড় ননদ এসে বোর্ডের দিকে তাকিয়ে বললেন, “নীলা, রান্নাঘরে গিয়ে দেখ তো কোরমায় লবণ পড়েছে কি না।” নামটা পড়েই তিনি আর নীরার মুখ দেখলেন না। নীরা কোরমার পাতিলে দাঁড়িয়ে শুনল, সামনে ড্রইংরুমে রোকেয়া ভাবি ফিসফিস করে বলছে, “বাইরের মেয়েটা বেশিদিন ধরে আছে বলে একটু বাড়াবাড়ি করে। মৃত বড়ভাইয়ের দায়ে আশ্রয় দেওয়া, এর বেশি কিছু না।”
মৃত বড়ভাই। কথাটা ছুরির মতো ধারালো, কারণ এই বাড়িতে মৃত মানুষের স্মৃতি পর্যন্ত বাছাই করে সাজানো হয়। নীরা প্লেট ধুচ্ছিল, তবু কান আটকে রাখা গেল না। আরমানের গলা এল নিচু স্বরে, “এভাবে বলার দরকার ছিল না।” “তুমি চুপ থাকো,” রোকেয়া কেটে দিল। “আজ হুজুর, আত্মীয়, সব পক্ষ আছে। কার কোথায় জায়গা, সেটা আজই ঠিক করে দিতে হবে।”
আরমান। একসময় নীরার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সিঁড়িতে বসে ক্লাস নোট ভাগ করত; এখন খালার ভাতিজা, এই বাড়ির হিসাব-কিতাব সামলায়, আর রোকেয়া ভাবির সামনে কথার মেরুদণ্ড টিকিয়ে রাখতে পারে না। নীরা চোখ মুছল না। শুধু বারান্দায় রাখা পুরোনো টেবিলের নিচে বাঁধাই খাতা আর একটি মোটা রেজিস্টার দেখতে পেল। ওপরের পাতায় নতুন কালি, ভেতরের ধারে পুরোনো খয়েরি দাগ।
খালা তাকে ডেকে পাঠালেন দুপুরের নামাজের পর। খালার ঘর ঠান্ডা, কাঠের আলমারি আর আতরের গন্ধে ভারী। বিছানার পাশে বসে খালা বললেন, “তুই আজ নিচে কম যাস। রোকেয়া বলেছে, বাইরে লোক বেশি। কথা বাড়লে মুখ রক্ষা কঠিন।”
নীরা নরম গলায় বলল, “আমার মুখ রক্ষা কারা করবে, খালা?”
খালা চোখ ফিরিয়ে জানালার দিকে তাকালেন। “সব কথা সবার সামনে বলতে নেই। তোর বাবার নাম কেউ এখন তুলুক, আমি চাই না।”
নীরা জবাব দিল না। টেবিলের ওপর খালার ওষুধের খাম, তার নিচে বাড়ির পুরোনো দায়িত্ব-রেজিস্টারের একটি আলাদা পৃষ্ঠা বের হয়ে আছে। ওপরের লাইনে ঘষা। কালি কেটে আবার লেখা। সে আঙুল বাড়াতেই খালা দ্রুত পৃষ্ঠা গুটিয়ে রাখলেন। ওই তাড়াহুড়োই প্রথম পুরস্কার—অন্তত সে জানল, এখানে কিছু লুকোনো আছে, আর লুকোনো জিনিসটা জীবন্ত।
বিকেলে মিলাদের খাবার সাজানোর সময় আরেক দফা অপমান এল আরও খোলা হাতে। ডাইনিং টেবিলে নাম-চিরকুট বসানো হয়েছে—কে কোথায় বসবে। নীরার জন্য কোনো চেয়ার নেই। রোকেয়া ভাবি বোর্ড থেকে পড়ে শুনাল, “বাইরের সহায়তা—রান্নাঘর ও পরিবেশন। বসার দরকার নেই।” তারপর নীরার হাতে চাবির গোছা দিয়ে বলল, “এগুলো রাখো। স্টোররুম খুলবে, বন্ধ করবে। এই কাজটাই তোমার সঙ্গে মানায়।”
চাবি ফেরত দিয়ে নীরা বলল, “আপনারা যাদের ঘরের বলেন, তাদের নামও কি এভাবেই বদলান?”
চামচের শব্দ থেমে গেল। খালার বড় ননদ কপালে হাত ঠেকালেন। রোকেয়া ভাবি ঠান্ডা হাসল, “দেখেছ? আশ্রয় দিলে মাথায় ওঠে। আরমান, তুমি ওকে বোঝাও।”
আরমান এগিয়ে এসে চাবির গোছা নিতে গিয়ে থামল। তার চোখ এক সেকেন্ডের জন্য সিঁড়ির মোড়ের বোর্ডে গেল। “বোর্ডটা কে লিখেছে?” সে জিজ্ঞেস করল।
“আমি,” রোকেয়া বলল, “কেন?”
“কারণ পুরোনো দায়িত্ব-রেজিস্টারে এই লাইনটা অন্যরকম ছিল।” “তুমি এখন পুরোনো কাগজ টানবে?” “কাগজ না টানলে মানুষকে তো তোমরা টেনে সরাচ্ছ।”
রোকেয়া এবার সত্যিই অস্থির হল। “নাটক কোরো না। খাতায় কী ছিল, আমি জানি।”
সেখানেই আরমান গিয়ে বারান্দার টেবিলের নিচ থেকে মোটা রেজিস্টারটা টেনে বের করল। ধুলো উড়ল। সবাই পুরোটা বুঝল না, কিন্তু দেখল—কেউ একজন কাগজের কথা বলে উঠোনের বাতাস বদলে দিয়েছে। আরমান পাতাগুলো ওল্টাতে ওল্টাতে একটি জায়গায় থামল, আঙুল রাখল, তারপর নীরাকে ডেকে বলল, “এটা দেখো।”
পৃষ্ঠার ওপর পুরোনো তারিখের সারি। প্রথমে এক কালি—“১৪ শাবান, ঘরভাগ ও দেখভাল: নীরা, বড়ভাইয়ের কন্যা, খালার তত্ত্বাবধানে।” তার নিচে আরেক রঙের কালি দিয়ে পরে চাপা লেখা—“নীলা, বহিরাগত সহযোগী।” কিন্তু যা মুছে ফেলা হয়নি, তা ছিল সময়ের চিহ্ন। প্রথম এন্ট্রির পাশে খয়েরি কালি ছড়ানো, পৃষ্ঠার ধার হলদে, আর তারিখের ওপর অফিসের সীলের চাপ পুরোনো। নিচের বদলানো লাইনের কালি অনেক নতুন, আর সীলের অর্ধেক অংশ কেটে বসানো। রোকেয়া ঝাঁপিয়ে এসে খাতা বন্ধ করতে গেল।
নীরা তার আগেই পাতায় হাত চাপল। “বন্ধ করবেন না।”
রোকেয়া ফিসফিস করে উঠল, “সবাই সামনে আছে।”
“তাই তো।” নীরার কণ্ঠ এত নিচু ছিল যে শুনতে চাইলে সামনে ঝুঁকতে হয়। “এই প্রথম ঠিক কথা ঠিক জায়গায় পড়া হবে।”
খালার হাত কাঁপতে লাগল। “রোকেয়া, খাতা দাও।” রোকেয়া বলল, “খালা, পুরোনো ভুল-ভ্রান্তি আছে। এখন এসব—” “ভুল?” নীরা এবার সরাসরি পাতার ওপর আঙুল রাখল। “একটা ভুলে সীলের কালিও বদলে যায়?”
কেউ উচ্চস্বরে কিছু বলল না, কিন্তু দৃশ্য বদলাল। বড় ননদের গলায় কাশি আটকানো শব্দ উঠল। জলিল দূরে সরে গিয়ে দরজার পাল্লা ধরে দাঁড়াল। আরমান খাতা বন্ধ করল না; বরং আরেক পৃষ্ঠা উল্টে একই তারিখের হিসাবের পাতায় দেখাল—ওষুধের খরচ, কৃষি জমির বর্গা থেকে আসা টাকার হিসাব, আর পাশে খালার নিজের হাতের নোট—“নীরার স্কুল ফি।” একই দিনের, একই কালি, একই দাগ। রোকেয়ার মুখে তখন এক অদ্ভুত ব্যস্ততা; যেন কোন জিনিস আগে বাঁচাবে—সম্মান, গল্প, না কাগজ।
কিন্তু পুরো সত্য তখনও শেষ হয়নি। রোকেয়া হঠাৎ খাতা টেনে নিয়ে সিঁড়ির মোড়ের বোর্ডের দিকে হাঁটল। “এগুলো এখানে থাকার কথা না,” বলে সে বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে নতুন তালিকাটা ছিঁড়ে ফেলতে লাগল। মানে পরিষ্কার—পড়া বদলে দিতে না পারলে, পৃষ্ঠাই গায়েব করবে। “জলিল, পুরোনো খাতা ভেতরে নিয়ে যাও। এখনি।”
সময় একেবারে সঙ্কুচিত হয়ে এল। সন্ধ্যার আজানের আগে দোয়া শেষে পরিবারের পুরুষেরা মাগরিব পড়তে যাবে, তারপর খাবার, তারপর রাতের বসা—এই থ্রেশহোল্ড পার হয়ে গেলে আজকের নামটাই কালকের সত্যি হয়ে যাবে। নীরা এগিয়ে গেল। “খাতা কোথাও যাবে না।”
রোকেয়া তার পথ রোধ করল। “তুমি এক কদম সামনে আসবে না। এই বাড়ির ভেতরের সিদ্ধান্তে তোমার অধিকার নেই।”
এই কথাটাই সব আগের অপমানকে এক লাইনে বেঁধে দিল। রান্নাঘরের ধোঁয়া, পেছনের বারান্দা, ভুল নাম, চেয়ার না পাওয়া—সব মিলিয়ে এটাই বানানো আসল কথা: তোমার কোনো অধিকার নেই। নীরা এবার আরমানের দিকে তাকাল না, খালার দিকেও না। সরাসরি কর্কবোর্ডের নিচের ছোট ড্রয়ার খুলে পিনের বাক্স বের করল। ওই বাক্সে সবসময় মানচিত্র-পিন, বিলের কাগজ, দোয়ার তালিকা আটকানোর পিন থাকে। রোকেয়া বুঝে উঠতে না উঠতেই নীরা পুরোনো রেজিস্টারের পাতাটা ছিঁড়ল না; আলতো করে সুতো ছাড়িয়ে বের করল, যাতে তারিখের সারি অক্ষত থাকে। তারপর বোর্ডে আগে থেকে থাকা তালিকার ওপর তা বসিয়ে দিল।
রোকেয়া ছুটে এসে বলল, “তুমি কি পাগল?” হাত বাড়িয়ে পাতাটা সরাতে গেল।
নীরা এতদিনের জমে থাকা শান্ত রাগে প্রথমবার জোরে বলল, “হাত সরান।”
ঘরটা লোকভর্তি ছিল, কিন্তু সে কারও দিকে মুখ ফেরাল না। পৃষ্ঠার ওপর আঙুল রেখে এক এক করে পড়তে শুরু করল—“চৌদ্দ শাবান। ঘরভাগ ও দেখভাল: নীরা, বড়ভাইয়ের কন্যা, খালার তত্ত্বাবধানে।” তারপর পাশের হিসাবের পৃষ্ঠা তুলে ধরল। “একই দিনের নোট—নীরার স্কুল ফি। একই কালি। একই সীলের চাপ।” সে নিচের পরের লাইনটায় টোকা দিল। “এই কাটাকাটি পরে। সীলের অর্ধেক আলাদা কেটে বসানো। তারিখের ওপর নতুন কালি শুকায়নি তখন; তাই ছড়ায়নি। পুরোনো লাইনের খয়েরি দাগটা টিকে আছে।”
এটা বক্তৃতা ছিল না; ছিল পড়া। একেবারে শুষ্ক, ধারালো পড়া। আর সেই পড়া শেষ হতে না হতেই রোকেয়া আর বোর্ডের মালিকের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। তার হাত মাঝআকাশে থেমে গেল, কারণ এখন যে কেউ দেখছে, সে-ই একই জিনিস পড়তে পারছে। বড় ননদ এবার খালার দিকে না তাকিয়ে সরাসরি পৃষ্ঠার দিকে ঝুঁকলেন। জলিল দুই পা পেছাল। আরমান টেবিল থেকে আরেকটি পুরোনো পাতার সীল এনে পাশে মিলিয়ে ধরল, কিছু না বলেই।
রোকেয়া শেষ চেষ্টা করল। “এতে কী প্রমাণ হয়? বড়ভাইয়ের কন্যা মানেই—”
“নাম,” নীরা কেটে দিল, “এখানে আছে। সম্পর্ক আছে। তত্ত্বাবধান আছে। পরে যা বসানো হয়েছে, সেটা আপনার লেখা। আমার না।”
সে বাক্স থেকে লাল মাথার মানচিত্র-পিন তুলল। কর্কবোর্ডে আগের গর্তের কাছে, যেখানে বছরের পর বছর কিছু না কিছু টাঙানো হয়েছে, সেখানেই পৃষ্ঠা চেপে ধরল। প্রথম পিনটা ঢুকল না; পুরোনো গর্তে কাত হয়ে গেল। নীরা পিনটা টেনে বের করল। সেই ক্ষুদ্র বিরতিতে যেন পুরো বাড়ির বানানো ইতিহাস নিঃশ্বাস চেপে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর সে অল্প ডানদিকে, পুরোনো ক্ষতের ধার ঘেঁষে আবার চাপ দিল। এবার পিন ঢুকে গেল। কাগজ, কর্ক, পুরোনো ঘর্ষণের জায়গা—সব ভেদ করে।
পৃষ্ঠা ঝুলে রইল না; শক্ত হয়ে আটকে গেল। ওপরে পুরোনো লাইন, নিচে পরের কেটে দেওয়া নাম, পাশে একই দিনের খরচের উল্লেখ—সব একসঙ্গে দৃশ্যমান। বোর্ডে এখন আর “বহিরাগত সহযোগী” একা বেঁচে নেই; তার ওপরে শুয়ে আছে সেই আগের সত্য, যেটাকে ঘষে সরানো হয়েছিল।
খালা তখন খুব আস্তে বললেন, “খাতা আর কেউ ছুঁইস না।” তার গলায় আদেশের জোর ছিল কম, কিন্তু প্রয়োজনও ছিল না। আদেশ দেওয়ার অধিকার ইতিমধ্যে কাগজ বদলে নিয়েছে।
আরমান নীরার হাতে চাবির গোছাটা আবার দিতে গিয়েও থামল, তারপর টেবিলের ওপর রেখে দিল। “এগুলো স্টোররুমের না,” সে নিচু গলায় বলল, “হিসাব-আলমারিরও।”
নীরা চাবি নিল না। সে শুধু আধাভাঁজ রসিদটা, যা এতক্ষণ মুঠোয় কুঁচকে ছিল, বোর্ডের নিচের তাকের ওপর রেখে দিল—ওষুধের দোকানের নাম, খালার ইনহেলারের দাম, তার নিজের হাতে লেখা তারিখ। তারপর একবার পৃষ্ঠাটার দিকে তাকাল। মুছে দেওয়া কালির নিচে নিজের নাম এত বছর পর এমন নির্দয় স্পষ্টতায় দেখা যায়—এটা সে কল্পনা করেনি।
সে ঘুরে সিঁড়ির দিকে হাঁটল। কর্কবোর্ডে আটকানো পাতার এক কোণ সামান্য উঠেছিল, পরে আবার বসে গেল। লাল মাথার মানচিত্র-পিনটা পুরোনো গর্তের ধার ঘেঁষে ঢুকে আছে; পিনের সরু দেহের ছায়া কর্কবোর্ডে সেই পুরোনো ক্ষতের ওপর স্থির হয়ে রইল।