দূরত্বই সেদিন দৃশ্য ছিল
“ওটা ভিতরে নেবে না,” নাঈমা আপা ফাইলটা মেহরিনের হাত থেকে টেনে নিয়ে দরজার চৌকাঠে নিজের শরীর আড়াআড়ি করে দাঁড়াল, “অফিসের কাগজ অফিসেই থাকবে। ভেতরের টেবিলে আব্বা বসে আছেন।”
চৌকাঠের কাঠে পুরোনো বার্নিশ উঠে খসখসে হয়ে আছে; মেহরিনের কনুই তাতে ছুঁয়ে গেলেই রুক্ষ গুঁড়া লেগে থাকে। সকাল থেকে ডেলিভারির হিসাব, কৃষি-যন্ত্রের চালান, ব্যাংকের রসিদ—সব গুছিয়েছে সে। ডান হাতের আঙুলে নীল কালি জমে পুরোনো দাগের ওপর নতুন ছাপ পড়েছে। তবু ভেতরের বসার ঘর-লাগোয়া কক্ষে ঢোকার অধিকার তার নেই, যেন সে শুধু নিচতলার অফিসের জন্য, উপরের পরিবারের জন্য নয়।
রিজওয়ান চাচা ভেতর থেকে বললেন, “মেহরিন, বাইরের প্লাস্টিক চেয়ারে বসো। ডাকলে আসবা।” বাইরের সেই সস্তা চেয়ারটার এক কোণা ভাঙা; বসলে কাপড় টানে। মেহরিন বসেনি। আধাভাঁজ করা রসিদটা মুঠোয় চেপে দাঁড়িয়ে রইল। তখনই ভেতর থেকে রাফি বেরোতে গিয়ে থামল। তার কাঁধ দরজার এক পাল্লায়, নাঈমা আপার হাত আরেক পাল্লায়। মাঝখানে এক মানুষের যাওয়ারও জায়গা নেই। রাফি একবার ফাইলের দিকে, একবার মেহরিনের কনুইয়ে লেগে থাকা বার্নিশের গুঁড়োর দিকে তাকাল। তারপর খুব শান্ত গলায় বলল, “ফাইলটা দিন। এখনই লাগবে।”
নাঈমা আপা ফাইল ছাড়ল বটে, কিন্তু মেহরিনকে না, রাফির হাতে। এমনভাবে, যেন জিনিস যাবে, মানুষ না। রাফি ফাইল নিতে গিয়ে অর্ধেক মুহূর্ত থামল; তার আঙুল মেহরিনের বুড়ো আঙুলের গায়ে লাগার আগেই সরে গেল। স্পর্শ হল না, তবু মেহরিনের কবজিতে যেন টান পড়ল। প্রথমবার সে বুঝল, এই রেখা কেবল নাঈমা আপা টেনে দেয় না—রাফিও টানে, আর টানতে গিয়েই কষ্ট পায়।
দুপুরের পর তাকে পাঠানো হল সদরঘাটের গুদামের কুরিয়ার রসিদ আনতে। ফেরার পথে ঢাকা গরমে ওড়নার নিচে ঘাড় ভিজে গেছে, স্যান্ডেলের ফিতে পায়ের গিঁটে দাগ কেটেছে। অফিসে ঢুকতেই রাফি বলল, “চাচা অপেক্ষা করছেন। চালানের কপি?” মেহরিন ব্যাগ খুলে খুঁজছিল। আধাভাঁজ করা রসিদ, কলম, ছোট ক্যালকুলেটর, দুটো কয়েন—সব একসঙ্গে গুলিয়ে গেছে। রাফি হাত বাড়াল না। কাউন্টারের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকল। এ বাড়ির নিয়মে অযথা কাছে আসা যায় না; বিশেষ করে সিঁড়ির মাথায় খালাদের পায়ের শব্দ থাকলে।
“এটা,” মেহরিন কাগজ বাড়াতেই ওপর থেকে নাঈমা আপার ডাক, “রাফি, খাবার ঠান্ডা হয়ে যাবে।” রাফি কাগজ নেওয়ার জন্য এক পা এগিয়েছিল; ডাক শুনে থামল। তাদের মাঝখানে কাঠের কাউন্টার, তার ওপর ধুলো জমা স্ট্যাপলার। মেহরিনের হাত বাতাসে ঝুলে রইল। শেষে সে কাগজ কাউন্টারের কিনারায় রাখল। রাফি সেটাই তুলে নিল। “তুমি খেয়েছ?” প্রশ্নটা যেন ভুলবশত বেরিয়ে গেল তার মুখ থেকে। মেহরিন চোখ তুলল না। “অফিসে যারা থাকে, তারা পরে খায়।”
ওই এক বাক্যের পর সারা বিকেল রাফি অকারণ কড়া হয়ে রইল। কোন ট্রাকে কোন মাল উঠবে, কোন দোকানে কৃষি-স্প্রেয়ারের যন্ত্রাংশ যাবে—সবকিছু এমনভাবে বলল যেন ভুল করলে সর্বনাশ। কিন্তু দুইবার মেহরিন দেখল, সে নিজেই এমন কাজ করছে যা সে কাউকে করতে দেয় না। একবার সিঁড়ির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা নাঈমা আপাকে সরিয়ে গুদামের তালিকার কপি নিজে নামিয়ে দিল, যাতে মেহরিনকে ওপরতলায় উঠতে না হয়। আরেকবার আব্বার ঘরের জন্য চা নিয়ে যে কাজের মেয়েটা ডাকছিল, তাকে বলল, “ওকে পাঠিও না, আমি নিচ্ছি।”
এ বাড়িতে যত নিষেধ, সবই নাকি শালীনতার জন্য। কিন্তু শালীনতা সবসময় মেয়েদের পায়ে বেঁধে রাখা হয়, পুরুষদের হাতে নয়—এটা মেহরিন অনেক আগেই শিখেছে। সে এখানে তিন বছর। তার মামা মারা যাওয়ার পর রিজওয়ান চাচা দয়া করে অফিসে বসিয়েছিলেন, “হিসাব জানে, মেয়ে চুপচাপ।” দয়ার সেই কাগজে বেতন লেখা থাকে, সম্মান থাকে না। আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা আছে বলেই তাকে রাখা যায়; সেই জানাশোনাই আবার দরজা বন্ধ করার অজুহাত।
মাঝসপ্তাহে বড় ঝামেলা বাধল। মালয়েশিয়া থেকে আসা পাম্পসেটের চালানে ঘাটতি ধরা পড়েছে। বিকেলে দুজন খুচরা বিক্রেতা এসে অফিসে চেঁচামেচি শুরু করল। রিজওয়ান চাচা নামাজে, রাফি বাইরে ব্যাংকে। নাঈমা আপা নিচে নেমে প্রথমেই বলল, “হিসাব তো মেহরিন দেখে, ওকে জিজ্ঞেস করেন।” যে ভুলটা আসলে পুরোনো ইনভয়েসে ছিল, সেটা একা মেহরিনের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে তিনি সরে দাঁড়ালেন। লোক দুজনের সামনে নাঈমা আপার ঠোঁট পাতলা, গলা মিষ্টি—“আমরা তো ওকে বিশ্বাস করে বসিয়েছি।”
মেহরিন ফাইল টেনে খুলল। কালি-লাগা আঙুলে পাতার কোণা উঠছিল না। লোক দুজন সামনে ঝুঁকে এসেছে; পেছনে সিঁড়ির গোড়ায় বাড়ির কাজের মেয়ে দাঁড়িয়ে। এই এক মিনিটে তার অপমানটা পুরো বাড়ির ভেতর গিয়ে পৌঁছাবে—এটা বুঝে সে গলা শক্ত করল। “পুরোনো কোটেশন আর চূড়ান্ত চালান এক না। অপেক্ষা করেন।”
নাঈমা আপা ঠান্ডা হেসে বলল, “তুমি চুপ থাকো। ভুল করলে মানতে হয়।” এইবার রাফি ঢুকল। রোদ থেকে এসে তার কপালে ঘাম, হাতে ব্যাংকের খাম। এক সেকেন্ডও সময় নিল না। মেহরিনের সামনে খোলা ফাইল সে টেনে নিজের দিকে নিল, পাতার মাঝখান থেকে সোজা একটা কপি বের করল। “ভুলটা আমার পাঠানো সংশোধিত দামে। এই পাতাটা ওর কাছে ছিল না।”
লোক দুজন থমকে গেল। নাঈমা আপা বলল, “তোর?” রাফি খামটা কাউন্টারে ছুঁড়ে রেখে বলল, “আমি রাতের ইমেইল থেকে প্রিন্ট নিয়ে আলাদা করেছি। আব্বাকে দেখানোর আগে নিচে নামাইনি। ওকে দোষ দিচ্ছেন কেন?” কথাটা শুধু মেহরিনকে বাঁচানো নয়; নাঈমা আপার সাজানো অপমানটা সবার সামনে কেটে দিল। তবু সে এমন কিছু বলল না যাতে মেহরিনের ওপর দাবি দাঁড়ায়। ফাইল তার হাতে গেল, নিয়ন্ত্রণও তার হাতে রইল, কিন্তু দোষটা আর মেহরিনের গায়ে থাকল না।
নাঈমা আপা রাগ চেপে বললেন, “তাহলে আগে বলিসনি কেন?” রাফি তাকাল না। “আপা, আগে শুনলে বলতাম।”
সেদিনের পর বাড়ির বাতাস বদলে গেল, নরম হয়ে নয়—আরও ধারালো হয়ে। মাগরিবের পর খাবার টেবিলে মেহরিনের জন্য যে ছোট প্লেটটা আগে রান্নাঘরের দরজায় রাখা হত, সেটাকে নাঈমা আপা সরিয়ে দিলেন। “ও অফিসে খেয়ে নিক। ভেতরে এত ওঠানামা ভালো দেখায় না।” খালা নিচু গলায় জিজ্ঞেস করলেন, “এতদিন তো খেত?” “এতদিন আর এখন এক না,” নাঈমা আপা বললেন, “মানুষ কী বলে, ভাবেন না?”
মেহরিন তখন রেজিস্টার লিখছিল। ওপরে কে কোথায় বসে, কে কার সামনে প্লেট রাখল—এসব না দেখেও বোঝা যায়। সে নিচেই রইল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর রাফি সিঁড়ি বেয়ে নেমে এল এক গ্লাস পানি আর ঢাকা দেওয়া থালা হাতে। রান্নাঘরের ছেলেকে দিয়ে পাঠাতে পারত, পাঠাল না। কাউন্টারের ওপারে রেখে শুধু বলল, “হিসাব মেলানো শেষ না হলে ঠান্ডা হয়ে যাবে।” সিঁড়ির মাঝপথে নাঈমা আপার চুড়ির শব্দ। রাফি সঙ্গে সঙ্গে সরে দাঁড়াল। যেন থালা নয়, কেবল কাগজ রেখে গেছে। তবু ব্যাপারটা দেখা হয়ে গেছে। এ বাড়িতে কে কাকে কোথায় বসে খেতে দেয়, সেটাও মর্যাদার ভাষা।
পরদিন দুপুরে রিজওয়ান চাচা স্পষ্ট করে বললেন, “মেহরিন কাজ করবে, কিন্তু ভেতরের ঘরে রাত করে বসবে না। মানুষের মুখ বন্ধ নাই।” কথাটা মেহরিনের দিকে, অথচ চোখ রাফির ওপর। রাফি জবাব দিল না। তার এই চুপ থাকাই বেশি বিপজ্জনক; তর্ক করলে সহজ হত। মেহরিন বুঝল, যে একবার প্রকাশ্য অপমান থেকে তাকে সরিয়ে দিয়েছে, সেই লোকটাকে এখন সবাই অন্য চোখে দেখছে। আর তাকেও।
শবেবরাতের আগের সন্ধ্যায় ঝড় উঠল। লোডশেডিং, তারপর জেনারেটরের কাঁপা আলো। অফিসের হিসাব বন্ধ করে মেহরিন বেরোতে যাবে, এমন সময় রিজওয়ান চাচা ওপর থেকে ডাক দিলেন, “ওই সিন্দুকের ছোট চাবিটা কোথায়? কাল ব্যাংকে জমা।” চাবিটা ছিল ভেতরের বসার ঘর লাগোয়া কাচঘেরা ছোট কক্ষে, যেখানে তাকে ঢুকতে বারণ। নাঈমা আপা সবার সামনে বলে ফেললেন, “মেহরিন তো নিচে ছিল, ও কেন জানবে? রাফি, তুই দেখে আয়। আর ওকে এদিকটায় আনিস না।”
রাফি সিঁড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে নিচে তাকাল। জেনারেটরের হলদে আলোয় দরজার ফাঁক সরু, কিন্তু যথেষ্ট—একজন ঢুকতে পারে, দুজন না। ভেতরের কক্ষের আলমারি সে চেনে, মেহরিনও চেনে; হিসাবের কাজ করতে করতে চাবির খাম সে-ই একদিন গুছিয়েছিল, কিন্তু প্রকাশ্যে সেটা বলার মানে হবে আরও প্রশ্ন। রিজওয়ান চাচা বিরক্ত, “তাড়াতাড়ি করো। নামাজের পর আমাকে বেরুতে হবে।” নাঈমা আপা যেন সুযোগ পেয়ে গেলেন। “এই জন্যই বলি, যার যতটুকু জায়গা ততটুকুই থাকলে ভালো।”
মেহরিনের কাঁধে দিনের ক্লান্তি জমে কাঠ হয়ে ছিল। ওড়নার নিচে কামিজের হাতা কুঁচকে উঠেছে; কবজির কাছে কালি দাগ। সে জানত, রাফি চাইলে একাই ঢুকে চাবি বের করতে পারে। চাইলে বলতে পারে, “তুমি বলো কোথায়।” চাইলে আবার এমনও করতে পারে, যাতে সবাই বুঝে—এই মেয়েটা জানে ভেতরের আলমারির খুঁটিনাটি, মানে সীমা আগেই নষ্ট। রাফি নিচে নেমে এল। ধীরে। এসে দরজার চৌকাঠে দাঁড়াল, ঠিক সেদিনের মতো, কিন্তু এবার শরীর দিয়ে আটকে নয়। তার হাত দরজার পাল্লায়, চোখ মেহরিনের দিকে। “চাবির খামটা কোন তাকে?”
প্রশ্নটা শোনামাত্র নাঈমা আপা বললেন, “ও ভেতরে যাবে না।” রাফি চোখ না সরিয়েই বলল, “আমি ওকে ডাকিনি।” তারপর একটু থেমে, খুব নিচু গলায়, শুধু মেহরিনের জন্য, “বললেই হবে।”
এমন সময় ওপরতলার করিডর থেকে খালা, কাজের মেয়ে, এমনকি মসজিদে যাওয়ার আগে রিজওয়ান চাচার ছায়াও নড়ল। সবাই দরজার দিকে তাকানো। এই এক দরজার ফাঁকেই আজ কার অবস্থান কোথায়, সেটা লেখা হবে।
মেহরিন এগিয়ে এল। একেবারে চৌকাঠ পর্যন্ত। রাফির গায়ের গরম ঘাম, কাগজ, ধাতুর চাবি আর জেনারেটরের ডিজেলের গন্ধ একসঙ্গে লেগে আছে বাতাসে। ভেতরের কক্ষ অন্ধকার; বাইরে হলদে আলো। সে হাত তুলে আলমারির দিক দেখাতে গেল। রাফিও একই মুহূর্তে একটু ঝুঁকল, যেন তার হাতের রেখা ধরে তাকের উচ্চতা মাপবে। দূরত্ব কমে এল। আধপা। আরেকটু হলেই তার আঙুল মেহরিনের হাতার কাছে ছুঁয়ে যেত।
সেইখানেই মেহরিন থামল।
থামাটা হঠাৎ নয়, পরিষ্কার। সে চৌকাঠ পার করল না। হাতও পুরো বাড়াল না। কাঁধ সোজা করে বলল, “ডান পাশের দ্বিতীয় তাকে, খামের নিচে।” গলায় কোনো কাঁপন নেই। যেন সে নির্দেশ দিচ্ছে, অনুরোধ না। রাফির হাত বাতাসে থেমে রইল, তার হাতার ঢিলেঢালা কাপড়ের এক কণা দূরে। আরেক পা বাড়ালেই সামাজিক ভাঙন, আরেক ইঞ্চি সরে গেলেই মিথ্যা। মাঝখানটুকুই এখন সত্যি।
ওপরে নাঈমা আপা তীক্ষ্ণ গলায় বললেন, “পাও নাকি?” রাফি চোখ না ফিরিয়ে ভেতরে হাত বাড়াল। “পেয়েছি।” কিন্তু সে তখনও পুরো ভেতরে ঢোকেনি; তার শরীরের এক ভাগ চৌকাঠে, এক ভাগ কক্ষে। যেন লাইনটা ভাঙার আগের শেষ অবস্থা। মেহরিন দেখল, তার নিজের নিঃশ্বাসও আটকে আছে। এই লোকটাই এতদিন সীমা টেনেছে, আজ সেই লোকের সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থা—সে নিজে সীমা না ভাঙতে কষ্ট পাচ্ছে। এটাই দেখা, এর বেশি কিছু দরকার নেই।
চাবির খাম বেরিয়ে এল। রাফি সেটা তুলতে গিয়ে আবার একবার তার দিকে ফিরল, খুব সামান্য। এবার সত্যিই হাত বাড়াতে পারত—চাবি দেওয়ার অজুহাতে, অন্ধকারে, সবার চোখের ঠিক আড়ালে। মেহরিন আধপা পিছোল না; এগোলও না। শুধু বলল, “চাচার হাতে দিন।”
এই কথাটাই শেষ কাজ করল। তার কণ্ঠে প্রত্যাখ্যান ছিল না, অনুমতিও না—ছিল সীমা কার হাতে, সেই সিদ্ধান্ত। রাফি খামটা নিজের বুকে টেনে নিল। তাদের মাঝখানে দরজার ফাঁক, হলদে আলো, শ্বাসের গরম। আর কিছু নয়।
মেহরিন তখন চৌকাঠের ভেতরকার ছায়ায় আধপা দাঁড়িয়ে, ঢিলে হয়ে নামা হাতাটা নিজেই ভাঁজ করে কবজির ওপর তুলে নিল। কাপড়ের কিনারা এক মুহূর্ত তার আঙুল ছুঁয়ে নেমে এলো, তারপর স্থির হল; আর কোনোবার গিয়ে লাগল না।