Fast Fiction

শেষ মুহূর্তে নামটা উঠল সবার আগে

“ওই লেন না, পাশেরটা। কর্মীদের ঢোকার পথ ওদিকে।”

গেটের সামনে দাঁড়ানো ফারুক হাত তুলে মেহরিনকে থামিয়ে দিল। তার তালুর নিচেই সাদা দড়ি টানানো দুটো লেন—একটা ফুল দিয়ে সাজানো, অন্যটা প্লাস্টিকের চেয়ার আর পানির জারের পাশ ঘেঁষে। উঠোন ভরা মানুষ, লাইটের তাপে বাতাসে গরম তারের গন্ধ, দূরে জেনারেটরের গুনগুন। মেহরিনের হাতে ভাঁজ খুলে-বন্ধ হতে হতে নরম হয়ে যাওয়া কেনাকাটার রসিদ, বাম কাঁধে ব্যাগ, চোখের নিচে টানা দৌড়ঝাঁপের কালচে ক্লান্তি। সে মুখ খুলবার আগেই সাবিহা খালা হাই হিলের শব্দ তুলে এগিয়ে এলেন।

“আমি তো আগেই বলেছি,” খালা এমন গলায় বললেন যেন বাড়ির দেয়ালও তাকে মানে, “যারা কাজকর্ম দেখে, তারা সামনে দিয়ে ঢোকে না। আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা থাকলেই হয় না, সীমা বুঝতে হয়।”

দুই ফুফাতো বোনের ঠোঁট একসাথে বেঁকে উঠল। একজন নিচু গলায় বলল, “সকাল থেকে সব সামলাচ্ছে, ভাব দেখো আবার!” কথাটা এমন জোরে বলা যে না শোনার উপায় নেই।

মেহরিন রসিদটা মুঠোয় ভাঁজ করল। “ঠিক আছে,” সে ঠান্ডা গলায় বলল, “আমি পাশের লেনেই যাই। তবে কনের গয়নার বাক্স, অতিথিদের কক্ষের তালিকা, আর আপনার ছোট ছেলের ইনসুলিন—সব আমার ব্যাগে। যেটা আগে লাগবে, সেখানেই ডাকবেন।”

সে ঘুরে পাশের দিকে হাঁটা দিতেই সাবিহা খালার মুখের রং বদলে গেল। “এই মেয়েটা, দাঁড়াও তো! এত নাটক কিসের? ইনসুলিনটা দাও আগে।”

মেহরিন থামল, ফিরে তাকাল না। “পাশের লেনের লোকেরা সামনেই দাঁড়ায় না, খালা। ওখানেই আসুন।”

এক মুহূর্তের জন্য দড়ির দুই পাশে দাঁড়ানো লোকেরা কার দিকে তাকাবে বুঝতে পারল না। সেটাই ছিল প্রথম ফাটল। ছোট, কিন্তু চোখে পড়ার মতো। সাবিহা খালা নিজে দুপা এগিয়ে এসে ব্যাগ থেকে ওষুধ নিলেন; নিতে নিতে নিচু গলায় বললেন, “অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি কোরো না। তোমাকে এখানে রাখা হয়েছে উপকারের জন্য।”

মেহরিন এবার তাকাল। “রাখা হয়েছে? আমি নিজে এসেছি। রাশেদের কথায়।”

খালার চোখ কটমট করে উঠল, কিন্তু ততক্ষণে পাশের বারান্দা থেকে নাফিসা ভাবি চিৎকার করে ডাকছেন, “মেহরিন, প্লেস কার্ডগুলো কোথায়? চেয়ার বদলাতে হবে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের হক সাহেব এসে গেছেন, উনাদের টেবিল আলাদা।”

মেহরিন পাশের লেন দিয়েই ঢুকল। ফুলের খিলান তার মাথার ওপর নয়, কাঁধের ডান পাশে পড়ল; তবু ঢুকল সে-ই। উঠোনের মাঝখানে গিয়ে ব্যাগ নামানো মাত্র তিন দিক থেকে মানুষ জুটে গেল। কেউ বলছে কনের মেকআপ আর্টিস্টকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, কেউ বলছে বরপক্ষের জন্য আলাদা পানসুপারি কোথায়, কেউ আবার হক সাহেবের টেবিলে নামের কার্ড পাল্টাতে বলছে। মেহরিন ব্যাগ খুলে, তালিকা মিলিয়ে, রসিদের ভাঁজে গুঁজে রাখা ছোট নোট বের করে একে একে সব সোজা করতে লাগল। তার আঙুলে পুরনো কলমের কালির দাগ, ফোনের স্ক্রিনে ভাঙা কোণ, সালোয়ারের হাঁটুতে সারাদিনের ভাঁজ।

কিন্তু যেখানে অতিথিদের বসানো হচ্ছে, সেখানে তার নিজের নাম নেই। মেয়েদের বিশ্রামঘরে কুশন ঠিক করতে গিয়ে সে শুনল সাবিহা খালা ভেতরে বলছেন, “ওকে খাবারটা রান্নাঘরের পাশে দিলেই হবে। সামনের টেবিলে বসালে লোকে প্রশ্ন করবে।”

প্রশ্ন করবে—কোন প্রশ্ন? মেহরিন জানে। গত ছয় মাস ধরে রাশেদের মা অসুস্থ হলে হাসপাতালে রাতে কে থেকেছে, রাশেদের চাচার জমির কাগজের নকল তুলতে কে গুলশান থেকে আজিমপুর ছুটেছে, এই বিয়ের অর্ধেক বাজারের টাকা নিজের বেতন থেকে আগে দিয়ে পরে কিস্তিতে তুলেছে কে—এসব প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন একটাই: যে মেয়েটা এত ভেতরের কাজ করে, তার পরিচয় কী?

উত্তরটাকে সবাই ঝুলিয়ে রেখেছে, যেন দরজার আড়ালে শুকোতে দেওয়া ভেজা কাপড়।

সন্ধ্যা আরও ঘন হতেই মূল গেটের কাছে আবার ভিড় বাড়ল। বরপক্ষের কয়েকজন আগেভাগে এসেছে; স্ক্যানার বসানো হয়েছে কারণ কমিউনিটি সেন্টারটা নতুন, টোকেন ছাড়া ভেতরের লিফট লবি খোলে না। ফারুক কোমরে ঝোলা ঝুলিয়ে টোকেন বিলাচ্ছে। সাবিহা খালা এবার নিজে দাঁড়িয়ে তালিকা মিলিয়ে লোক ঢোকাচ্ছেন, যেন পুরো বাড়ির মানসম্মান তার আঙুলের ফাঁক দিয়ে যাতায়াত করছে।

এই ভিড়ের মাঝেই হঠাৎ ভেতর থেকে কনের বাবা হাঁপাতে হাঁপাতে বেরিয়ে এলেন। “ফারুক, ওপরের অতিথি কক্ষে রাশেদের নথির ফাইলটা কে পাঠাবে? ব্যাংকের লোক এসেছে, এখনই সই লাগবে।”

সাবিহা খালা বিরক্ত হয়ে বললেন, “ওসব মেহরিন জানে। কোথায় গেছে ও?”

মেহরিন তখনই সিঁড়ির মোড় থেকে নামছিল, হাতে নীল ফাইল। “এটা?”

কনের বাবা যেন বাঁচলেন। “এই তো! মা, তুমি না থাকলে আজ আমার শেষ ছিল।”

তিনি ফাইল নিতে নিতে স্বাভাবিক অভ্যাসে বলেই ফেললেন, “মেহরিন, আপনি একটু—”

শব্দটা উঠোনের বাতাসে কেমন কেটে গেল। আপনি।

সাবিহা খালার মুখ শক্ত হয়ে গেল। ফারুকও থমকাল। কনের বাবা আরেক ধাপ এগিয়ে এসে বললেন, “আপনি দয়া করে এখানে দাঁড়ান। ভেতরের ভিআইপি লিফটের টোকেনটা আগে ওনাকে দিন। রাশেদ নামলে যেন সরাসরি ওপরে যেতে পারেন।”

ফারুকের হাত নিজে থেকেই কোমরের ঝোলার দিকে গেল। “জি… আপা, এই লেনে আসেন।”

মেহরিন নড়ল না। সে শুধু দেখল, একটু আগেও যে ফুল-দড়ির লেন তার জন্য ছিল না, ফারুক নিজে দড়ি তুলে ধরেছে। ভাষা বদলেছে, দাঁড়ানোর জায়গা বদলেছে। নাফিসা ভাবি পাশের এক কাজের মেয়েকে সরিয়ে দিয়ে বললেন, “এইখানে দাঁড়াও, মেহরিন। ভিড়ের মধ্যে থাকলে আবার কেউ কিছু বলবে।”

মেহরিন এগিয়ে গেল। হাই হিলের শব্দ আবার শোনা গেল, এবার দ্রুততর। সাবিহা খালা এসে কনের বাবার সামনে দাঁড়ালেন। “দুলাভাই, এত লোকের সামনে এভাবে… একটা মেয়েকে আপনি-টাপনি বললে মানুষ কী বুঝবে? কাজের দরকারে কাউকে মাথায় তুলতে নেই।”

কনের বাবা ইতস্তত করলেন। তার চোখে সেই চিরচেনা ভীরুতা—বাড়ির ভেতরের ক্ষমতার হিসাব মেলাতে গিয়ে পুরুষেরা যে মুখ করে। ফারুকের হাতে টোকেন থেমে আছে। চারপাশের কথাবার্তা স্তিমিত না হলেও কানের ভেতর সব আলাদা আলাদা শব্দ হয়ে ফুটতে লাগল—গ্লাসে বরফের ঠকাস, দূরে মাইকে কোরআন তিলাওয়াত, জেনারেটরের টানা গুনগুন।

ঠিক তখনই গেটের বাইরের কালো গাড়ির দরজা খুলে রাশেদ নামল।

সে সারাদিন চোখে পড়েনি। সবাই বলছিল বরযাত্রীর রিসিভ, হল ম্যানেজার, ব্যাংকের নথি—হাজার কাজে আটকে আছে। মেহরিন জানত, রাশেদ চুপ মানুষ; তাকে না চাইলে সে সামনে এসে কিছু বলবে না। কিন্তু আজ দুপুরে, নিজের অফিস থেকে ছুটি কেটে, সব বাজারের বিল গুঁজে, মেহরিন এখানে এসেছে একটাই শর্তে—“আর লুকিয়ে রাখব না।” শর্তটা রাশেদ মাথা নেড়ে মেনেছিল। তারপর হারিয়ে গিয়েছিল কাজের ভিড়ে।

এখন সে এসে থামল ঠিক দড়ির মাঝখানে। চোখ প্রথমে মেহরিনের ওপর, তারপর সাবিহা খালার মুখে। “কি হয়েছে?”

সাবিহা খালা এক নিঃশ্বাসে বললেন, “কিছু না। ওকে তো বলেছি, সামনের লেনটা বড়দের জন্য। কাজের মানুষজনকে যদি সামনে দিয়ে—”

“কাজের মানুষজন?” রাশেদের গলা খুব উঁচু হলো না, তাই আরো পরিষ্কার শোনা গেল।

সাবিহা খালা এবার কণ্ঠ শক্ত করলেন। “দেখো, এইসব ব্যাপার বড়দের সামনে মাপমতো করতে হয়। আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা আছে, ভালো কথা। তাই বলে সবাইকে কি এক আসনে বসানো যায়? আজ বিয়ের ঘর। কার আগে কে ঢুকবে, কে কোথায় দাঁড়াবে, এগুলো মানতে হয়।”

তিনি শেষ কথাটা বলেই হাত বাড়িয়ে ফারুককে ইশারা করলেন। “ওকে একটু পাশে নাও। আগে ব্যাংকের লোক, তারপর রাশেদের সিলেটের খালাতো ভাইরা যাবে।”

এবার অপমানটা আড়ালহীন। সবার সামনে সরিয়ে দেওয়া। দড়ি তুলে নয়, লোক সরিয়ে। ফারুক বিপদে পড়া চেহারায় একবার রাশেদের দিকে, একবার মেহরিনের দিকে তাকাল। নাফিসা ভাবি ঠোঁট কামড়ে দাঁড়িয়ে। কনের বাবা চুপ। সাবিহা খালা নিশ্চিত—এই নীরবতাই তার শক্তি।

মেহরিন ধীরে ধীরে নিজের ব্যাগের চেইন টানল। ভেতর থেকে একটা ছোট চাবির গোছা বের করে রাশেদের দিকে বাড়াল। তার ফ্ল্যাটের অতিরিক্ত চাবি, যেটা গত তিন মাস ধরে তার কাছেই ছিল; অসুস্থ খালাম্মাকে দেখে এসে ওষুধ রেখে যাওয়া, কাগজ এনে দেওয়া, রাতের ভাত বসিয়ে দেওয়া—সবকিছুর নিঃশব্দ প্রমাণ। “এই নাও,” সে স্পষ্ট গলায় বলল, যাতে দড়ির দুই পাশই শোনে। “যদি আমার জায়গা পাশের লেনেই হয়, তোমার ঘরের চাবি আমার কাছে থাকা ঠিক না।”

চাবির ধাতব শব্দ রাশেদের তালুতে পড়ে ঠক করে বাজল। দৃশ্যটা এমন পরিষ্কার যে কেউ চোখ ফিরিয়ে নিতে পারল না। সাবিহা খালা এক সেকেন্ডের জন্য থেমে গেলেন; তারপর তীক্ষ্ণ গলায় বললেন, “নাটক! বিয়ের দিন এইসব দেখাতে হবে?”

রাশেদ চাবির গোছা বন্ধ মুঠোয় নিল। তারপর এক পা এগিয়ে গেল, এমন জায়গায় দাঁড়াল যেখানে ফুলের লেন আর কর্মীদের লেন একেবারে তার দুই পাশে। “ফারুক,” সে বলল, “যে টোকেনটা ওপরের মালিকপক্ষের স্যুটে যায়, সেটা দাও।”

সাবিহা খালা হেসে উঠলেন, কিন্তু হাসিটা শুকনো। “মালিকপক্ষ? ও?”

রাশেদ এবার তাকাল না তার দিকে। “মেহরিন।”

নামটা ডাকার ভঙ্গিই বদলে দিল বাতাস। ডাক নয়, ঘোষণা। “আমার সঙ্গে যে থাকবে, ও আগে যাবে। আমার কক্ষ, আমার নথি, আমার মায়ের ওষুধ—সব যার হাতে ছিল, ওকে কেউ পাশের লেনে দাঁড় করাবে না। আজ থেকে না।”

সাবিহা খালা ঝাঁপিয়ে উঠলেন, “তুমি কি বুঝে বলছ? এত লোকের সামনে—”

“বুঝেই বলছি।” রাশেদ এবার তার দিকে ফিরল। “যেহেতু সবাই দেখছে, সবার সামনেই বলি—ও আমার বাগদত্তা। কাগজ আমি কাল সই করব না, আজ রাতেই পড়ে দেখব; আর পড়ে দেখাবে মেহরিন। এই বাড়িতে, এই গেটে, ওর ঢোকার অধিকার আগে।”

ফারুকের মুখ থেকে “জি ভাই” বেরিয়ে এল, কিন্তু পরের শব্দে সে নিজেই সোজা হয়ে দাঁড়াল, “জ্বি, ভাবি… আপনি এইদিকে আসেন।”

ভাবি।

সাবিহা খালার চোখ বড় হয়ে গেল। “ফারুক!”

ফারুক ইতিমধ্যে দড়ি বদলে দিয়েছে। সিলেটের খালাতো ভাইরা, যারা একটু আগে সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, নিজে থেকেই সরে গেল। ব্যাংকের লোক ফাইল বুকে চেপে একপাশে দাঁড়াল। ফারুক কোমরের ঝোলা থেকে গাঢ় সোনালি ধারওয়ালা টোকেন বার করে দুই হাতে বাড়াল, যে ভঙ্গি সে একটু আগে পর্যন্ত শুধু বড়দের জন্য রেখেছিল। “মেহরিন ভাবি, এই টোকেন। ওপরের ডানদিকের লেন খুলবে। আপনি আগে।”

সাবিহা খালা এবার হাত বাড়িয়ে টোকেনটা প্রায় ছিনিয়ে নিতে গেলেন। “এটা আগে রাশেদের হাতে দাও। নিয়ম আছে।”

মেহরিন টোকেন নেওয়ার আগেই তার কবজি মাঝআকাশে থামিয়ে দিল রাশেদ। শক্ত করে নয়; কিন্তু সামনে সবাই দেখল, কার হাত আটকেছে। “নিয়ম এখন আমি বলছি, খালা। আগে মেহরিন। তারপর আমি।”

এটা ছিল দৃশ্যমান ক্ষতি—সাবিহা খালার হাত শূন্যে ঝুলে থাকা, তার কথার ওপর অন্য গলা চেপে বসা, ফারুকের দৃষ্টি আর তার দিকে নয়। এটা ছিল উল্টে যাওয়া ক্ষমতা—যে লেন থেকে মেহরিনকে সরানো হয়েছিল, সেই লেনের দড়ি এখন তার জন্য তুলে ধরা। আর এটা ছিল ভাঙনের শব্দ—সাবিহা খালার গলায় প্রথমবারের মতো নিশ্চিত সুর হারিয়ে যাওয়া।

“তুমি পরে আফসোস করবে,” তিনি ফিসফিস করে বললেন, কিন্তু ফিসফিসটাও সবাই শুনল, কারণ আর কেউ তার হয়ে কথা তুলল না।

মেহরিন এবার হাত বাড়াল না। সে রাশেদের দিকে তাকিয়ে রইল এক শ্বাস। “সবার সামনে বলেছ?”

“সবার সামনে,” রাশেদ বলল।

“তাহলে আমার জায়গা আমি নিজেই নেব।”

সে ফারুকের বাড়ানো হাত থেকে টোকেনটা নিল। পুরনো কালির দাগওয়ালা আঙুলে সোনালি ধার চকচক করল। তারপর সে সাবিহা খালার সামনে দিয়ে, দড়ির ভেতরের লেন ধরে, সেই স্ক্যানারের দিকে হাঁটল যেটার সামনে তাকে প্রথমে থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পথটা ছোট, তবু আজ এত লোকের চোখে এত লম্বা। জেনারেটরের গুনগুন, লাইটের তাপ, ধূপের ধোঁয়া, তার কাঁধের পেশিতে সারাদিনের শক্ত হয়ে থাকা যন্ত্রণা—সব এক সরু রেখায় গিয়ে ঠেকল স্ক্যানারের কালো মুখে।

মেহরিন টোকেনটা তুলল, একবার ছুঁইয়ে দিল। স্ক্যানারের উপর সবুজ আলো জ্বলে উঠল—টিক।