Fast Fiction

চাপ পড়তেই আসল ফাঁস হল

“ওই ১২ নম্বর র্যাক ছাড়ো, আগে বনানী রুট বের করো!” রাশেদ সুপারভাইজার গলির মুখে দাঁড়িয়ে চেঁচাতেই দুইটা ঠেলাগাড়ি একে অন্যের মুখে গিয়ে ঠেকে গেল, কাঁচা টমেটোর ক্রেট কাত হয়ে লাল জল পড়ল সিমেন্টে। মৌরি ডান হাত তুলে বলেছিল, “ওটা আগে গেলে পচা ধরবে—” কিন্তু রাশেদ তার কথা কেটে হেডসেট কানে চেপে দিল, যেন শব্দও তার অনুমতি ছাড়া উঠতে পারবে না। র্যাকের ফাঁকে ফাঁকে চালান আটকেছে, লেবেল উল্টে আছে, আর লোডিং বেতে দাঁড়ানো ট্রাকের চালকেরা হর্ন না দিয়ে শুধু ঘড়ি দেখছে—ওদেরও রাগ জমে গেলে পরে মুখে মুখে যায়, কাদের গুদামে সময়মতো মাল ওঠে না।

মৌরি রাতের ভাত না খেয়ে বেরিয়েছিল। সকালে মায়ের হাতে গুঁজে দেওয়া অর্ধেক ভাঁজ করা ফার্মেসির রশিদটা এখনও তার ওড়নার কোণে আটকে আছে; মাসের শেষে ওষুধ না নিলে মায়ের হাঁপানি বাড়ে। এই শিফটের ভুল মানে শুধু বকুনি না—ঢাকার উপকণ্ঠে কৃষি-পণ্যের এই গুদামে একবার নাম খারাপ হলে পরের মাসে ওভারটাইম কাটে, আর আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা যাদের আছে, তাদের সামনে মেয়েদের ভুলটা দ্বিগুণ শোনা যায়। সে আবার বলল, এবার সরাসরি ঠেলাগাড়িওয়ালাকে, “শাহীন ভাই, ১২ নম্বরের কাগজটা দেখেন—মোহাম্মদপুর আগে।”

রাশেদ এক পা এগিয়ে এসে ঠেলাগাড়ির হ্যান্ডেলে হাত রাখল। “তুমি কারে নির্দেশ দাও? আজ থেকে লাইন আমি চালাই। তোমার কাজ লেবেল মিলানো, বুঝছ?” তার বাম হাতে মাস্টার চাবির রিং, ডান হাতে খাতা। হেডসেটের তার গলায় ঝুলছে, কিন্তু চ্যানেলে সে নিজেই গুলিয়ে ফেলছে রুট নম্বর। কাছের প্লাস্টিকের চেয়ারের কোণে হিসাব-কাকার কাপে চা ঠান্ডা হয়ে উপরে পাতলা আস্তর ধরেছে; তিনি ওঠেননি, শুধু কাঁচের চশমার ভেতর দিয়ে দেখছেন। এর মধ্যেই শিউলি ভাবি, মালিকপক্ষের আত্মীয়া, দরজার কাছে এসে দাঁড়ালেন। রাশেদ তার দিকে আধা ঘুরে গলাটা নরম করল, “ভাবি, চিন্তা নাই, আমি সামলাইতেছি।”

ভাবির সামনে গলাটা নরম, মৌরির দিকে ফিরে ধারালো। এটাই ছিল রাশেদের আসল কায়দা—যাদের কাছে মুখ বাঁচাতে হয়, তাদের সামনে নাম; কাজের ভেতরে ফাঁকা। সে হেডসেটে বলে ফেলল, “সিলেট লাইন তিন নম্বর বেতে আনো।” সঙ্গে সঙ্গে জাহিদ চেঁচিয়ে উঠল, “ভাই, তিন নম্বর বেতে তো বরফের মাল আছে!” একটা ট্রলি আরেকটার গায়ে ধাক্কা খেল। কাঁচা বেগুনের বস্তা ছিঁড়ে কয়েকটা গড়িয়ে গেল গলির মাঝখানে। মৌরি নিচু হয়ে একটা লেবেল উল্টে সোজা করল। পুরনো কলমের কালি-দাগ তার বুড়ো আঙুলে বসে আছে; এই আঙুল দিয়েই সে মাসের পর মাস রাতের শিফটে রুট শিট ঠিক করেছে। সে মাথা না তুলে বলল, “তিন নম্বর খালি না। সাত নম্বর খুলতে হবে। দক্ষিণের ট্রাক আগে না গেলে ফেরত আসবে।”

“তোমারে কে জিজ্ঞেস করছে?” রাশেদ এবার এত জোরে বলল যে পাশের র্যাক থেকে দুজন প্যাকার তাকাল। তারপর, একেবারে প্রকাশ্যে, সে চেয়ারটা টেনে নিজের পেছনে নিল—যে প্লাস্টিকের চেয়ারটায় বসে রুট খাতা দেখা হয়, সেটাতেও আজ মৌরির বসা বন্ধ। “দাঁড়ায়া থাকো। আর মুখ বন্ধ রাখো।”

প্রথম পুরস্কারটা ছোট ছিল, কিন্তু ধারালো। জাহিদ, যে একটু আগেও রাশেদের দিকেই তাকিয়ে ছিল, নিচু গলায় মৌরিকে বলল, “আপা, সাত নম্বরের ছোট চাবিটা তার রিংয়ে।” মৌরি কোনো জবাব দিল না, শুধু হাত বাড়িয়ে আটকে থাকা ট্রলির ওপরের লাল মার্কার দিয়ে ১২ নম্বর ক্রেটে বড় করে একটা তীর টেনে দিল। “এটা আগে যাবে,” সে বলল। দুই ঠেলাগাড়িওয়ালা এক সেকেন্ড রাশেদের দিকে, এক সেকেন্ড মৌরির দিকে তাকাল। তারপর তারা ট্রলির মুখ সামান্য ঘুরিয়ে দিল। রাশেদ সেটা দেখে ঝাঁকুনি খেয়ে উঠল, “আমি না বললে কেউ নড়বা না!”

কেউ পুরোপুরি থামল না। কারণ গলির মুখে তখন নতুন চাপ এসে গেছে। বাইরে থেকে আরেকটা ট্রাক ঢুকেছে, মাছবাহী বরফের বাক্স নিয়ে; ভেতরের গরমে বরফ ঝরছে, মেঝে পিচ্ছিল। হিসাব-কাকা চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে শুধু একবার বললেন, “আর দেরি হইলে ফজলুর গাড়ি ফিরা যাইব।” এই লোকটা মালিকের মামা; তিনি বেশি কথা বলেন না, কিন্তু যেটুকু বলেন তা গুদামের দেয়াল পেরিয়ে বাড়ির খাওয়ার টেবিলেও পৌঁছে যায়। রাশেদ সেটা জানে। তবু সে মাস্টার চাবির রিংটা মুঠোয় চেপে মৌরির সামনে হাত নামিয়ে ধরল না; উল্টো খাতা বগলে নিয়ে গলির মুখ আটকাল।

মৌরির কণ্ঠ এবার পাতলা না, ঠান্ডা হলো। “সাত নম্বর খুলেন।”

রাশেদ হাসল, শিউলি ভাবির শোনা যায় এমন ভঙ্গিতে। “তুমি অনেক জানো, তাই না? জানো তো, মালিক আমার খালাতো ভাই। আজকে থেকে রুট ছাড়ার চাবি আমার কাছে থাকবে।”

কথাটা গলির ওপর দিয়ে চলে গেল। যারা শুনল, তাদের কানে শুধু ক্ষমতার দাবি ঢুকল না; ঢুকল আত্মীয়তার ভর। এই জায়গায় সেটাই তালা। মৌরি এক সেকেন্ড শিউলি ভাবির দিকে তাকাল না, হিসাব-কাকার দিকেও না। সে দেখল মেঝেতে পড়ে থাকা বেগুন, টমেটোর জল, ভুল রুটের কাগজ, আর হেডসেটে রাশেদের কাঁপা আঙুল। তারপর মাছের ট্রাকের লোক চেঁচিয়ে উঠল, “আর পাঁচ মিনিট, আপা! বরফ যাইতেছে!”

এইবার গলি ভাঙল। মৌরি সোজা এগিয়ে গেল। রাশেদ হাত বাড়িয়ে আটকাতে গিয়েছিল, কিন্তু সে তার কবজি সরিয়ে হেডসেটটা গলা থেকে টেনে নিল, এমন টানে যে তারের ক্লিপ শার্ট থেকে ছিটকে পড়ল। একই টানে মাস্টার চাবির রিংটাও তার আঙুলের ফাঁক থেকে খুলে এল; ধাতব শব্দে কয়েকটা চাবি একে অন্যে লেগে উঠল। কেউ নিশ্বাস ফেলার আগেই মৌরি হেডসেট কানে চেপে বলল, “সাত নম্বর খোলো। জাহিদ, বরফের গাড়ি পিছনের ঢালুতে নাও। শাহীন ভাই, ১২ নম্বর মোহাম্মদপুর। লাল লেবেল আগে, সবুজ পরে। আর কেউ তিন নম্বর ছুঁইবা না।”

শব্দগুলো আদেশের মতো নয়, কাজের মতো বেরোল। জাহিদ দৌড় দিল। শাহীন গাড়ির মুখ ঘুরিয়ে দিল এক টানে। পাশের র্যাক থেকে বস্তা টেনে আনা ছেলেটা আর প্রশ্ন করল না, শুধু “জি আপা” বলে লেবেল দেখতে লাগল। গলির আটকে থাকা বাতাস নড়ে উঠল; ঠেলাগাড়ি একটার পেছনে আরেকটা ফাঁক পেল। রাশেদের হাত তখনও মাঝআকাশে, যেন কারও কাছ থেকে কিছু নিতে গিয়ে পায়নি।

মৌরি দাঁড়িয়েই সাত নম্বরের তালা খুলল। চাবির রিং ভারী, কিন্তু তার হাত কাঁপল না। “বেগুন ডানদিকে, কাঁচামরিচ উপর। ওই ক্রেটটা নামাও, নিচে পচা ধরছে,” সে বলে যেতে লাগল। সে একবারেই বুঝে ফেলছিল কোন শেলফে কোন চালান আটকে আছে। কাগজের লেবেলগুলো উল্টে সোজা, সোজা থেকে সারি। মাছের বরফের পানি সরাতে সে খালি ক্রেট ফেলে অস্থায়ী পথ বানাল। “দড়িটা দাও। না, ওইটা না, মোটা দড়ি। দ্রুত।”

রাশেদ কিছু বলার চেষ্টা করল, “এইভাবে দিলে কাস্টমার—” মৌরি তার দিকে না তাকিয়েই কেটে দিল, “কাস্টমারের নাম পড়ে বলেন আগে।” রাশেদ খাতার পাতা উল্টাল। ভুল পাতায়। তারপর আরও ভুল। হিসাব-কাকার চোখ সেই পাতায় গিয়ে থামল। শিউলি ভাবি এখন দরজা ছেড়ে ভেতরে চলে এসেছেন; তার নাকের নথের পাশে ঘাম জমেছে। রাশেদ তাড়াহুড়ো করে বলল, “খুলনা রুট আগে!” জাহিদ পিছন থেকে চেঁচাল, “খুলনার ট্রাক তো বাইরেই নাই!”

দুই সেকেন্ডের জন্য কারও হাসি আসেনি। এই জায়গায় হাসির চেয়ে খারাপ জিনিস আছে—অবিশ্বাস। সেটা একবার উঠলে আর নামানো যায় না। রাশেদের গলায় হেডসেট নেই, হাতে চাবি নেই, আর মুখে যে নির্দেশ বেরোচ্ছে তা সিমেন্টে পড়েই ভেঙে যাচ্ছে। মৌরি সেই ভাঙার ওপর পা রেখে পরের আদেশ দিল, “চার নম্বর বেতে বরিশাল রেডি। নীল ট্যাগ আলাদা। হিসাব-কাকা, ওজন লিখেন—আট ক্রেট কমাইছি, পচা বাদ।”

হিসাব-কাকা এই প্রথম সরাসরি তাকে জবাব দিলেন। “লিখতেছি।” শব্দটা ছোট, কিন্তু গলির রং বদলে দিল। কারণ খাতা ধরার অনুমতি তিনি কাকে দিলেন, সবাই শুনল। তিনি নিজের বগল থেকে পাতলা লেজারটা বের করে র্যাকের মাঝের লোহার ফ্ল্যাটের ওপর রাখলেন, মৌরির দিকে ঠেলে। রাশেদের দিকে না। এই ঠেলা ছিল খোলাখুলি।

রাশেদ যেন সেটা মানতে পারছিল না। সে এগিয়ে এসে লেজারের ওপর হাত রাখল। “খাতা আমার কাছে থাকবে।” মৌরি বাম হাতে চাবির রিং, ডান হাতে খাতার ওপর তার হাতের কবজি সরিয়ে দিল। নরম না, জোরে না—এমনভাবে, যেন পথে রাখা ভুল বাক্স সরায়। “আপনি পাশে দাঁড়ান,” সে বলল। “ভুল রুট আর ছাড়ব না।” “তুমি সীমা পার করতেছ।” “লাইনও পার করতেছেন আপনি। পাঁচটা গাড়ি দাঁড় করাইছেন।”

কথাটা এবার শুধু ঝগড়া থাকল না, কারণ সেই মুহূর্তে বাইরে থেকে চালক ফজলু ভিতরে ঢুকে হিসাব-কাকাকে বলল, “মামা, আর দেরি হইলে আমি অন্য গুদামে যামু।” মামা শব্দটা গলির ওপর ছুরি টানল। আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা যে কোন দিক দিয়ে কার মুখে উঠে আসে, কেউ ধরে রাখতে পারে না। রাশেদ ঘুরে ফজলুকে ধমক দিতে গেল, “তুমি চুপ—” কিন্তু ফজলু তার দিকে না তাকিয়ে মৌরিকে জিজ্ঞেস করল, “আপা, আমার লাইন কই?”

এইটাই চূড়া। কার কথা শুনে গাড়ি চলবে, প্রশ্নটা সরাসরি এসে পড়েছে। রাশেদ শেষ চেষ্টা করল। দরজার দিকে আধা ঘুরে শিউলি ভাবির দিকে তাকিয়ে বলল, “ভাবি, ওকে সরান। এখানে নিয়ম আছে।” শিউলি ভাবি ঠোঁট চেপে রইলেন। কিন্তু হিসাব-কাকা দাঁত দিয়ে পান ভাঙতে ভাঙতে বলে দিলেন, “নিয়ম মাল ছাড়ে। দাঁড়ায়া থাকা নিয়ম না।” তিনি রাশেদের দিকে হাত বাড়ালেন। “চাবির বাকি সেট আর মূল খাতা দাও।”

রাশেদ নড়ল না। যেন না নড়লেই আদেশ বাতিল হয়ে যাবে। ততক্ষণে মৌরি হেডসেটে বলে চলেছে, “ফজলু ভাই, দুই নম্বর ঢুকেন। শাহীন, ওর আগে কেউ যাবে না। শামীম, ওই পলিথিন তোল—স্লিপ করবে।” তার নির্দেশে লোক নড়ছে। তার কণ্ঠে ভুল নেই। এদিকে রাশেদের স্থির দাঁড়িয়ে থাকা নিজেই ভুলের মতো দেখা যাচ্ছে।

হিসাব-কাকা দ্বিতীয়বার বললেন না। তিনি শুধু চশমা নামিয়ে তাকালেন। শিউলি ভাবি এবার নিজের আঁচলের কোণ শক্ত করে ধরলেন; যে আত্মীয়তার ভর দিয়ে রাশেদ একটু আগে গেট বন্ধ করছিল, সেই ভর এখন তার ঘাড়ে উল্টো চেপেছে। কারণ প্রকাশ্যে অক্ষম লোককে ঢেকে রাখা মানে বাড়ির টেবিলে নিজের বিচার ডেকে নেওয়া। রাশেদ সেটা বুঝল। দেরিতে, কিন্তু বুঝল।

তার শার্টের পকেট থেকে ছোট চাবির গোছা বের করতে গিয়ে হাত ফসকে পড়ে গেল মেঝেতে। দুইটা চাবি টমেটোর জলে ভিজে চকচক করল। সে তাড়াতাড়ি কুড়িয়ে মৌরির দিকে না তাকিয়ে বাড়িয়ে দিল। মৌরি তখনও হেডসেটে, “বরিশাল গাড়ি বের—হ্যাঁ, এখন,” বলে ডান হাত বাড়াল। চাবি তার তালুতে এল। সঙ্গে সঙ্গে হিসাব-কাকা মূল লেজারের মোটা খাতাটাও রাশেদের বগল থেকে টেনে নিয়ে একই লোহার ফ্ল্যাটে সরিয়ে দিলেন, মৌরির পাশে। রাশেদ খালি হাত নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল; তার মুখে আর কোনো দিক নেই।

“পরের লাইন?” ফজলু আবার জিজ্ঞেস করল।

মৌরি খাতা খুলে কলম চালাল। পুরনো কালি-দাগের ওপর নতুন দাগ বসে গেল। “খুলনা পরে। আগে সাভার। পচনশীল আগে, দূরেরটা পরে। যার আপত্তি আছে, সে লেবেল পড়ে বলুক।” কেউ বলল না। শুধু র্যাকের ফাঁক দিয়ে ঠেলাগাড়ি বেরোতে লাগল, একটার পর একটা। আটকে থাকা বায়ুতে এবার ডিজেলের গন্ধ মিশল; সেটা কাজের গন্ধ। রাশেদ একবার মুখ খুলে, আবার বন্ধ করল। তার আর আদেশ নেই, শুধু জায়গা দখলের স্মৃতি আছে। সেটাও গলি থেকে সরে যাচ্ছে, চাকার শব্দে।

আর দশ মিনিটের মধ্যে গলির মেঝে দেখা গেল। ছড়িয়ে থাকা বেগুন উঠেছে, ভুল লেবেল আলাদা, বরফের পানি সরেছে। শিউলি ভাবি সরে দাঁড়িয়েছেন; দরজার চৌকাঠে আর কাউকে ঠেকাচ্ছেন না। হিসাব-কাকা খাতায় ওজন মিলিয়ে শুধু সংখ্যাই বলছেন, আর মৌরি হেডসেটে সেই সংখ্যা ধরে রুট ছাড়ছে। রাশেদকে কেউ কিছু জিজ্ঞেস করছে না। একবার সে পাশের প্লাস্টিকের চেয়ারটা টানতে গিয়েছিল, তারপর নিজেই হাত সরিয়ে নিল—চেয়ারটা এখন ফাঁকা থেকেও তার না।

শেষ ট্রলিটা ক্রসলেনে ঢুকে বাঁ দিকে ঘুরতেই মৌরি লেজার বন্ধ করল। মাস্টার চাবির রিং তার তালুতে এসে থামল; আর ঝনঝন করল না। র্যাকের মাঝের সেই সরু অপারেশনস ক্রসলেনে দাঁড়িয়ে সে হেডসেটটা কান থেকে খুলে সুইচ নামাল। ক্ষীণ একটা ক্লিক হলো, তারপর চ্যানেলের শব্দ নিজে নিজেই মরে গেল।