Fast Fiction

ওর নামটা এক ডাকেই ওপরে উঠল

“ওদিকে না, ম্যাডাম—সাইড গেট,” বলে কালো কোটের দরজার অ্যাটেনডেন্ট মেহরিনের সামনে হাত নামিয়ে দিল, যেন তার হাঁটার পথটুকুও ভাড়া করা। সামনে লাল কার্পেটের মোড়, ফুলের খিলান, ক্যামেরার আলো। ড্রপ-অফ লেনের মূল দরজা দিয়ে একের পর এক গাড়ি থামছে, নামছে আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা মুখ, আর তাকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে কাঁচের দেয়ালের পাশের সরু পথটায়, যেখানে বরফ গলে পানি পড়ছে আর এক কোণে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া খাবারের বাক্স রাখা।

মেহরিন থামল। তার হাতে ছোট্ট ক্লাচ, তালুর ভেতর ফোনের স্ক্রিনের আলো নিভু নিভু করছিল। সে জানত, আজ তাকে আনা হয়েছে দেখানোর জন্য—রায়ানের পাশে, রায়ানের মায়ের জেদের সামনে, “মেয়েটা আছে” এই প্রমাণ হিসেবে। চুক্তিটা ছিল সহজ: সন্ধ্যাটা পার করো, পারিশ্রমিক নাও, কারও সামনে বাড়তি কথা বলবে না। সহজটা ঢাকা শহরে কখনও সহজ থাকে না; বিশেষ করে যখন মানুষের চোখে দামের মাপ ঝুলে থাকে।

সে সরেনি। বরং ঠান্ডা কণ্ঠে বলল, “আমাকে কে সাইড গেটে পাঠাল?”

অ্যাটেনডেন্টের মুখে মুহূর্তের জন্য ধাক্কা ফুটে উঠল। সে অভ্যস্ত ছিল নারীরা এমন সময় গলাটা নামিয়ে ফেলে। পেছন থেকে কেউ হেসে উঠল। তারপর তীক্ষ্ণ, চেনা গলা—“আমি বলেছি।” সাবিহার খালা, সোনালি বর্ডারের শাড়ি, ঠোঁটে মাপজোক করা হাসি, কাছে এসে দাঁড়ালেন। “এত ভিড়ের সামনে নাটক কোরো না মা। তোমার জন্য ভেতরে আলাদা বসার ব্যবস্থা আছে।”

মা শব্দটা তিনি এমনভাবে বললেন, যেন মেহরিনকে আদর নয়, জায়গা বুঝিয়ে দিচ্ছেন। রায়ানের খালাতো খালা, কিন্তু ঘরে তার কথাই বেশি চলে; বিশেষ করে বংশ, পড়াশোনা, কার সঙ্গে কার নাম জুড়বে—এসব বিষয়ে। মেহরিনের দিকে একবার তাকিয়ে তিনি পাশে থাকা আরেক কর্মচারীকে বললেন, “এই মেয়েটাকে রিসিভিং লাইনের সামনে রেখো না। পেছনের লাউঞ্জে নিয়ে যাও। বরপক্ষের বয়োজ্যেষ্ঠরা আসবেন।”

কর্মচারী সঙ্গে সঙ্গে মাথা নুইয়ে মেহরিনের দিকে হাত বাড়াল। “এইদিকে, আপা।”

মেহরিন তার দিকে তাকালই না। সাবিহার খালার চোখে চোখ রেখে বলল, “আমাকে আনা হয়েছে সামনে নামানোর জন্য। লুকিয়ে বসানোর জন্য না।”

চারপাশে গাড়ির দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ, মাইকে কোরআন তিলাওয়াতের ভাঙা সুর, ফুলের গন্ধের সঙ্গে পেট্রলের ধোঁয়া। সাবিহার খালা এক পা এগিয়ে এলেন। “তোমাকে কে কী বলে এনেছে, সেটা এখানে আমার চেয়ে বেশি কেউ ঠিক করবে না। রায়ান কোথায়, জানো? ভেতরে অতিথি সামলাচ্ছে। তুমি এখন যদি বুদ্ধিমতীর মতো চলো, সন্ধ্যাটা শান্তিতে যাবে।”

“শান্তি কার?” মেহরিন জিজ্ঞেস করল।

খালার ঠোঁট শক্ত হলো। আশেপাশে দু-একজন আত্মীয় মাথা ফিরিয়ে তাকাচ্ছে দেখে তিনি গলা নামালেন, কিন্তু কথাগুলো আরও ধারালো হয়ে উঠল। “ঢাকার অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে সবাই সব বুঝে ফেলে, মা। কার বাড়ি, কার মান, কে কোথা থেকে এসেছে। কৃষির কলেজে পড়ে চাকরি করা ভালো কথা, কিন্তু সব জায়গায় সবাইকে সামনে আনা যায় না।”

এবার আঘাতটা সোজা হাড়ে লাগল। মেহরিনের বাবা ময়মনসিংহে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসে চাকরি করতেন; সেই ঘামের টাকা দিয়ে মেয়েকে পড়িয়েছেন। রায়ান সেই গল্প শুনে একদিন বলেছিল, “তোমার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাস আছে।” আজ সে অভ্যাসটাই সাবিহার খালার কাছে নিচু জায়গার প্রমাণ।

কাউন্টারের সরু ধারে অগোছালো মিন্টের টিন, পানির বোতল, অতিরিক্ত ফিতা, সেফটিপিন ছড়িয়ে ছিল। মেহরিন এগিয়ে গিয়ে সেখান থেকে নিজের অস্থায়ী প্রবেশ-কার্ডটা খুলে রাখল। তারপর ক্লাচ থেকে গাড়ির চাবিটা বের করল—রায়ান একটু আগে পথেই দিয়েছিল, যাতে নামার পর চালককে ছেড়ে দিতে পারে। চাবিটাও কার্ডের পাশে রাখল। ঠক করে শব্দ হলো। “যদি আমি সামনের পথে নামার মানুষ না হই,” সে বলল, গলাটা এবার ইচ্ছে করেই একটু উঁচু করে, “তাহলে আপনারা আমার উপস্থিতির সুবিধাটাও নেবেন না।”

এইটুকুতেই প্রথম ফাটল পড়ল। দরজার পাশের ইভেন্ট হোস্ট—যুবক, গলায় ওয়াকি-টকি—দৌড়ে এসে থামল। সে কার্ডটার দিকে তাকিয়ে, তারপর মেহরিনের মুখের দিকে তাকিয়ে আচমকা সুর পাল্টে ফেলল। “একটু দাঁড়ান, আপা… মানে, ম্যাডাম, এই কার্ডটা আপনার?” তার চোখে আতঙ্কের সঙ্গে চিনে নেওয়ার আলো। কার্ডের কোণায় সোনালি দাগ ছিল—রায়ানের ব্যক্তিগত অতিথির চিহ্ন, যা সাধারণ কাউকে দেওয়া হয়নি।

সাবিহার খালা তীব্র স্বরে বললেন, “ওটা ভুল করে গেছে। তুমি এটা নিয়ে ভেতরে রাখো।”

কিন্তু হোস্ট এবার আর তার দিকে না তাকিয়ে মেহরিনের দিকে সামান্য ঝুঁকল। “ম্যাডাম, দুঃখিত। আপনি এখানে দাঁড়ান, দয়া করে। এই লেনটা খালি করুন—” সে হাত তুলে অন্য অ্যাটেনডেন্টদের বলল, “রিসিভিং পথটা খুলে দিন। উনাকে সাইডে নেবেন না।”

এক মুহূর্তে বাতাসের দিক বদলাল। একজন অ্যাটেনডেন্ট, যে একটু আগেও মেহরিনকে সরাচ্ছিল, সে এখন লাল ফিতেটা তুলে ধরে পথ পরিষ্কার করতে লাগল। অন্য দুজন অপেক্ষমাণ আত্মীয়দের গাড়ি একটু থামিয়ে দিল। সাবিহার খালার মুখে সেই দৃশ্য ধাক্কার মতো পড়ল; কিন্তু তিনি দ্রুত সামলে নিয়ে হাসলেন, যেভাবে বড়রা ভুলকেও ছোটদের ওপর চাপিয়ে দেয়। “এইসব ছেলেরা সবসময় বাড়াবাড়ি করে। এসো, মেহরিন, ভেতরে চল। আলাদা রুমে বসি। মেয়েদের মধ্যে বসে নাও। পরে রায়ান এসে—”

“না,” মেহরিন কেটে দিল।

চারপাশের শব্দ সে শুনতে পাচ্ছিল, কিন্তু নিজের কণ্ঠ আরও স্পষ্ট। “আমাকে সাইড গেটে নামিয়ে, পেছনের ঘরে লুকিয়ে, পরে চুপচাপ ভালো কথা বলে মিটিয়ে ফেলতে চাইলে হবে না। আমি এখানেই দাঁড়াব। যিনি আমাকে এনেছেন, তিনি সবার সামনে বলবেন আমি কে। না হলে আমি এখনই চলে যাব, আর আপনারা নিজে ব্যাখ্যা দেবেন কেন মূল দরজায় আমাকে নামিয়ে সরাতে হলো।”

সাবিহার খালা এবার সত্যিই বিচলিত হলেন। “এভাবে কথা বলো না। বড়রা আছে।”

“তাই তো,” মেহরিন বলল। “বড়রা দেখুক।”

হোস্টটা অসহায় চোখে ভেতরের দিকে তাকাল। ওয়াকি-টকিতে ভাঙা গলায় কিছু বলল। ড্রপ-অফ লেনে আরেকটা কালো গাড়ি এসে থামল, কিন্তু নামার দরজা খুলেও কেউ নামল না; কারণ সবার দৃষ্টি এখন এই দরজার সামনে। রিসিভিং লাইনের ফুল হাতে দাঁড়ানো দুই কাজিন নিজেদের জায়গা বদলাতে গিয়ে থেমে গেছে। এক বৃদ্ধা ফুপু গলার শাল টেনে কাঁধে তুললেন, যেন শুনতে সুবিধা হয়।

ঠিক তখনই ভেতর থেকে দ্রুত পায়ে রায়ান বেরিয়ে এল। কালো পাঞ্জাবি, মুখে তাড়াহুড়ো, কিন্তু প্রথমে সে সাবিহার খালার দিকেই তাকাল। “খালা, কী হয়েছে?”

সাবিহার খালা স্বস্তির শ্বাস নিয়ে বললেন, “কিছু না। মেয়েটা একটু জেদ করছে। আমি বলছি, পেছনে—”

“আমাকে সাইড গেটে পাঠানো হয়েছে,” মেহরিন বলল। “আপনার কার্ড খুলে রাখতে হয়েছে। এখন বলুন, আমি আপনার সামনে হাঁটার মানুষ, না পেছনে লুকিয়ে রাখার?”

রায়ানের চোখ নিচে নামল—কাউন্টারের ধারে রাখা কার্ড, চাবি, তারপর আবার তার মুখে। এক সেকেন্ড। দুই সেকেন্ড। তার চোয়াল শক্ত হলো। “মেহরিন, ভিতরে চলো। আমরা আলাদা কথা বলি।”

সেটাই ছিল মিটমাটের শেষ প্রস্তাব। চারপাশে অনেকে এই পথটাকেই নিরাপদ ভাবল। ব্যক্তিগত ঘরে গিয়ে যা খুশি বলো, বাইরে মুখ বাঁচুক। মেহরিন নড়ল না।

“না। আলাদা কথা না,” সে বলল, এবার প্রতিটি শব্দ ছেড়ে ছেড়ে। “আমাকে নিচে নামানো হয়েছে সবার সামনে। আমার জায়গাটাও সবার সামনে ঠিক হবে। নইলে চাবি আপনি নিন, আমি গাড়ি ডেকে চলে যাই।”

সে চাবিটা তুলে রায়ানের দিকে বাড়াল, কিন্তু এক ধাপও এগোল না। এই একটুকু অস্বীকারে পুরনো সব ভারসাম্য ভেঙে গেল। রায়ান চাবি নিল না। তার বদলে সে ধীরে ধীরে কাউন্টারের ধারে গিয়ে কার্ডটা তুলল। সোনালি কোণার কার্ড। তারপর খুব স্পষ্ট স্বরে, এমন স্বরে যা মাইকের দরকার হয় না, দরজার সব লোকের শোনার জন্য বলল, “শুনুন।”

সামনের লেনের চালক মাথা তুলল। ফিতে ধরা কর্মচারীরা স্থির। সাবিহার খালার মুখের রঙ বদলাতে শুরু করেছে।

রায়ান কার্ডটা মেহরিনের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “এটা আমার ব্যক্তিগত অতিথির কার্ড না। এটা আমার সঙ্গীর কার্ড। মেহরিন আমার সঙ্গে এসেছে, আমার পাশে ঢুকবে, আর আজকের রিসিভিং অর্ডারে ওকেই আগে নেওয়া হবে।”

বাতাস যেন এক ধাক্কায় অন্য গন্ধ পেল—জুঁইফুলের মধ্যে ধাতব কিছু। সাবিহার খালা ঝাঁঝিয়ে উঠলেন, “রায়ান, তুমি জানো কী বলছ? আত্মীয়স্বজন—”

রায়ান এবার তার দিকে ফিরল, কিন্তু গলা আর উঁচু করল না; তবু আশেপাশের সবাই শুনল। “খালা, আমি খুব ভালো করেই বলছি। যাকে আপনারা সাইডে সরিয়েছেন, তাকে আজ এই দরজায় প্রথমে রিসিভ করা হবে। হোস্ট, নোট করুন—মেহরিনকে এসকর্ট করে মূল লাইনে নিন। ফিতা খুলুন। আমার বড় ফুপুদের আগেও ও যাবে। আর কেউ যদি ওকে পেছনে পাঠায়, সেটা আমার সিদ্ধান্ত অমান্য করা হবে।”

এবার ক্ষতটা দৃশ্যমান হলো। সাবিহার খালার ঠোঁট কেঁপে উঠল; তিনি সঙ্গে সঙ্গে আরেক কর্মচারীকে কিছু বলতে গিয়ে দেখলেন, ছেলেটা তার দিকে এগোচ্ছে না—হোস্টের ইশারায় মেহরিনের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। একটু আগের সেই অ্যাটেনডেন্ট, যে হাত নামিয়ে পথ আটকে দিয়েছিল, সে এখন দুই হাতে ফিতা তুলে ধরে মাথা নুইয়ে বলছে, “এইদিকে আসুন, ম্যাডাম।”

দুই কাজিন, ফুল হাতে, তড়িঘড়ি করে নিজেদের অবস্থান পাল্টাল। তাদের মাঝখানে ফাঁকা করা হলো পথ। পেছনে দাঁড়ানো গাড়িটাকে হাত দেখিয়ে থামিয়ে রাখা হলো। এক বৃদ্ধা ফুপুকে অন্য দিক দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো, কারণ মূল রেখাটা এখন মেহরিনের জন্য খোলা। এই বদলটা এত দ্রুত, এত প্রকাশ্য যে কারও মুখরক্ষা করার সময় রইল না।

সাবিহার খালা শেষ চেষ্টা করলেন। “রায়ান, মেয়েটা কে, সেটা কি আজই—”

মেহরিন এবার নিজেই এগিয়ে গেল, কিন্তু রায়ানের ঠিক পাশে এসে থামল। “না,” সে বলল, “আজই না। এখনই।”

রায়ান তার দিকে একবার তাকাল। সেই তাকানোতে ক্ষমা ছিল না, ছিল সিদ্ধান্তের কঠিন দাগ। সে হাত বাড়াল, কিন্তু মেহরিন ধরার আগে বলল, “সবাই শুনে নিন। মেহরিনকে আমি কাউকে দেখানোর জন্য আনিনি। আমি তাকে বেছে এনেছি। ও আমার সঙ্গে বসবে, আমার সঙ্গে উঠবে, আর আজকের পর কেউ ওকে সাইড গেটের মানুষ ভাববে না। প্রথম অভ্যর্থনা, প্রথম এসকর্ট, প্রথম আসন—ওর।”

হোস্ট প্রায় দৌড়ে এসে বলল, “মেহরিন আপা—” তারপর নিজেই থেমে সংশোধন করল, “মেহরিন ভাবি, এইদিকে।” সঙ্গে সঙ্গেই দুজন কর্মচারী ভেতরের দরজা খুলে দাঁড়াল। আগে যে আত্মীয়দের জন্য হাসিমুখে ঝুঁকে ছিল, সেই একই দেহভঙ্গি এখন তার দিকে ঘুরে গেল। সাবিহার খালার হাত, যা এতক্ষণ নির্দেশ দিচ্ছিল, এখন বাতাসে অকারণে উঠে থেকে নামল।

মেহরিন রায়ানের বাড়ানো হাত ধরল না। সে কার্ডটা নিজে নিল, চাবিটা ক্লাচে রাখল, তারপর শান্ত গলায় বলল, “আমি সামনে যাব। কিন্তু মনে রাখবেন, আমাকে আবার আড়াল করার চেষ্টা হলে আমি নিজেই বেরিয়ে যাব।”

“হবে না,” রায়ান বলল।

“আমাকে নয়,” মেহরিন ঠান্ডা চোখে সাবিহার খালার দিকে তাকিয়ে বলল, “ওদের শুনিয়ে বলুন।”

রায়ানের গলায় এবার কাঁটা বসানো শীতলতা। “কেউ মেহরিনকে সরাবে না। দরজায়, ভেতরে, আসনে—ও আগে।”

শব্দগুলো পড়ে থাকতে দেখা গেল। হোস্ট সঙ্গে সঙ্গে হাত তুলল। “পথ খালি করুন। প্রথম প্রবেশ—মেহরিন ম্যাডাম।”

তখনই আসল উল্টে যাওয়া। এক কাজিন নিজের হাতে ধরা ফুলের ঝুড়ি সরিয়ে পেছনে গেল। আরেকজন দৌড়ে ভেতরের পরিবারের অভ্যর্থনা সারি সোজা করল। যে অ্যাটেনডেন্ট একটু আগে সাইড গেট দেখাচ্ছিল, সে কাঁচের দরজা টেনে পুরো খুলে দিল। সাবিহার খালার পেছনে দাঁড়ানো এক ভদ্রমহিলা, যিনি এতক্ষণ তার কথাতেই মাথা নাড়ছিলেন, অস্বস্তিতে আধা পা সরে দাঁড়ালেন, যেন ভুল জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়েছেন। ধার করা কর্তৃত্বের মেরুদণ্ড ভেঙে গেলে শব্দ হয় না; শুধু দেখা যায়, কাকে আর কেউ অনুসরণ করছে না।

মেহরিন এগোল। ফুলের গন্ধ, আলো, ভেতরের শীতাতপের ঠান্ডা বাতাস তার মুখে লাগল। রায়ান এক কদম পেছনে থাকল, যেন যে জায়গাটা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, সেটাই আগে ফিরিয়ে দেয়। মূল দরজার চৌকাঠ পার হওয়ার ঠিক আগে সে থামল, পেছনে না তাকিয়েই বলল, “আমার আসনও সামনে হবে। নাম লুকিয়ে নয়।”

“হবে,” রায়ানের গলা এল, পরিষ্কার, শোনার মতো জোরে।

কিছুক্ষণ পর, আবার ড্রপ-অফ লেনেই, আরেক দফা গাড়ি এসে থামল। ভেতরে নেওয়ার আগে হোস্ট তাকে সামনের গাড়ির ধার ঘেঁষে নিয়ে যাচ্ছিল, কারণ প্রবীণ এক আত্মীয়কে নামিয়ে একই দরজা দিয়ে তুলতে হবে। দরজার অ্যাটেনডেন্ট একবার মেহরিনের মুখের দিকে তাকাল, তারপর তৎক্ষণাৎ তার কাঁধ ঘুরিয়ে অন্যদের থামাল। অপেক্ষায় থাকা দুইজন শরীর সরিয়ে আধচক্র বানাল, তারপর পুরো লাইনটাই তার চলার পথ ঘিরে বাঁক নিয়ে গেল। মেহরিন কার্ডটা আঙুলে চেপে সোজা সেই খোলা রাস্তায় পা রাখল।