Fast Fiction

আমি না ধরলে লাইন নড়ে না

“মিতুল, ওই ট্রলিটা সরাও। কাউন্টারে তোমার দরকার নেই,” রাশেদ স্যার এমনভাবে হাত নাড়ল, যেন কাউন্টারের সামনে দাঁড়ানো মানুষগুলোও তার ব্যক্তিগত জিনিস। সামনে সারি পাক খেয়ে দরজা ছাড়িয়ে উঠোন পর্যন্ত গেছে; কারও হাতে সারের চালানপত্র, কারও বীজের স্লিপ, কারও চোখে রাতভর বাসে এসে জমে থাকা ধুলো। কাউন্টারের ধারে অর্ধেক খাওয়া চায়ের কাপ ঠান্ডা হয়ে পাতলা চামড়া ফেলেছে, তার নিচে বাদামি দাগের বৃত্ত। মিতুলের কুঁচকে যাওয়া ব্যাজের ফিতা গলার পাশে চেপে আছে, কিন্তু আজ ব্যাজটা তার গলায় নেই—সকালে ডিউটি শুরুর আগেই রাশেদ স্যার সেটা খুলে নিয়ে নিজের পকেটে রেখেছে। “নতুন নিয়ম,” বলে রেখেছিল। এখন সে স্টুলে বসে প্রথম কৃষকটার কাগজ উল্টেপাল্টে দেখছে, আর পিছনে সারি জমে ঘন হয়ে উঠছে।

মিতুল ট্রলির হাতলে হাত রাখল, ঠেলে সরাল না। চোখ তুলেই দেখল, শিউলি আপা পাশের রেজিস্টার টেবিল থেকে একবার তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে ফেলেছে; এই তাকানোটা সে চেনে, আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা আছে বলে অফিসে সবাই জানে কে কাকে কী নামে ডাকে, কে কার মামাতো শ্বশুরবাড়ির লোক। ভুল করলে লজ্জা শুধু কাজের থাকে না, বাড়ি পর্যন্ত গড়ায়। আজ সকালে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় মা বলেছিল, “ঈদের আগে বেতনটা আটকে গেলে ওষুধের টাকা কই পাবি?” সেই কথাটা রাশেদ স্যারের “তোমার দরকার নেই”র নিচে মিতুলের কান গরম করে রেখেছে।

প্রথম কৃষক, দাড়িতে সাদা রঙ মেশানো, কাগজ এগিয়ে দিয়ে বলল, “মা, মাদারীপুর থেকে আসছি। গত সপ্তাহে ফোনে বলছিলেন মাল আছে।” রাশেদ স্যার ভ্রু কুঁচকে বলল, “এই স্লিপ পুরনো। আজকে ইস্যু হবে না। পরেরজন।” লোকটা হতভম্ব হয়ে কাগজ আঁকড়ে দাঁড়িয়েই রইল। মিতুল ঠান্ডা গলায় বলল, “স্লিপ পুরনো না, তারিখটা পেছনের সিলের। সামনের সিল আজকের। ডান দিকের খোপে—” “তুমি চুপ,” রাশেদ স্যার তাকে না দেখেই কেটে দিল। “আমি বসেছি, আমি দেখব। ট্রলি নিয়ে পেছনে যাও।”

দ্বিতীয়জনকে সে ভুল লাইনে পাঠাল, তৃতীয়জনের কাগজে ইউনিয়ন কোড না দেখে ফিরিয়ে দিল, চতুর্থজনের পেমেন্টের রসিদ উল্টো ধরে বলল ব্যাংকের সিল নেই। প্রত্যেকবার মিতুল এক লাইনের ঠিক কথা বলল, প্রত্যেকবার তাকে থামানো হল। সারির মধ্যে গজগজ বেড়ে উঠল। কেউ ফিসফিস করে বলল, “এই মেয়েটাই তো আগে দিত।” আরেকজন বলল, “সকাল থেকে তিনজনও ঢুকল না।” পেছনে মালভর্তি ট্রলি দাঁড়িয়ে আছে—ইউরিয়ার বস্তা, ধানের বীজের কার্টন, কীটনাশকের সিল করা বাক্স—গলিপথ আটকে। কাজের লেন বন্ধ হয়ে গেলে ভেতরের গুদামও থেমে যায়।

হাজেরা খালা, যিনি প্রতি মৌসুমে ছেলে-জামাইদের জন্য মাল তোলেন, কাউন্টারের গায়ে কনুই ঠেকিয়ে বললেন, “বাবা, আমার কাগজ তো গতকাল মিতুলই দেখে রেখেছে। তুমি আবার শুরুর থেকে ধরছ কেন?” রাশেদ স্যার হেসে মুখ নরম করল, সেই ভদ্র হাসি যা সে শুধু বয়স্ক মানুষ বা পরিচিত নাম শুনলে ব্যবহার করে। “খালা, আমি না দেখে কী করে ছাড়ি? এত অনিয়ম হয়েছে আগে।” মিতুলের দিকে একবার তাকিয়ে “আগে” শব্দটা টেনে বলল। কথাটা এমনই ছিল যে, লাইনে দাঁড়ানো লোকেরাও বুঝল দোষটা কার ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে।

মিতুল ট্রলির পাশে সরে গিয়ে পেছনের চালান গুনল। হাতে কাজ থাকলে রাগ কমে—এ অভ্যাস তার পুরনো। কিন্তু রাশেদ স্যার রাগও কমতে দিল না। সে পকেট থেকে দেরিতে ফেরত দেওয়া ছোট গুদামচাবিটা বের করে কাউন্টারের কাচে ঠক করে ছুঁড়ে বলল, “যেহেতু ট্রলিতেই থাকতে পছন্দ, এটা নাও। ভেতরের তালা মিলিয়ে এসো। আর কেউ কাউন্টারে ঢুকবে না।” চাবিটা মিতুলের পায়ের কাছে পড়ল। সামনে দাঁড়ানো দুজন কৃষক সেই শব্দে নিচে তাকাল। অপমানেরও একটা ধাতব শব্দ থাকে; ছোট, কিন্তু সবার কানে যায়।

মিতুল চাবিটা কুড়িয়ে নিল, তালা মিলাতে গেল না। গলার স্বর না বাড়িয়েই বলল, “পেছনের চার নম্বর স্লিপটা আগে ছাড়ুন। তারপর হাজেরা খালার। ট্রলি না ছাড়লে ভেতরের লেন আটকে থাকবে।” রাশেদ স্যার এবার সরাসরি তাকাল। “আমাকে শেখাচ্ছ?” “লেন বন্ধ,” মিতুল বলল। “তুমি পিয়ন না অপারেটর, সেটা আমি ঠিক করব।”

সামনের কাঁচের দরজায় আরেক দল ঢুকল। বাইরে আজান ভেসে এল কাছের মসজিদ থেকে, কিন্তু লাইনের কারও নড়ার উপায় নেই। রাশেদ স্যার ভুল ফাইলে সই খুঁজতে গিয়ে পুরো রেজিস্টার উল্টে ফেলল। কাউন্টারের ধারের ক্যালকুলেটর মেঝেতে পড়ে খটাস শব্দ করল। এক কৃষক রাগে বলে উঠল, “আমাদের গ্রাম থেকে আসতে ভোর চারটায় বেরিয়েছি। কাগজ ঠিক, টাকা ঠিক। দিবেন না কেন?” “শব্দ কমান,” রাশেদ স্যার চেঁচিয়ে উঠল, আর সেই চিৎকারে সমস্যাটা ঢাকতে গিয়ে আরও খুলে গেল। কারণ ঠিক তখনই পেছনের গুদাম থেকে মালবাহী ছেলেটা এসে বলল, “ভাই, কোন চালান আগে বের হবে বলেন। ট্রলি আটকা।” রাশেদ স্যার উত্তর দিতে গিয়ে থেমে গেল। সে জানে না।

মিতুল এবার ট্রলির সামনে গিয়ে দাঁড়াল। তার কণ্ঠে আদেশের জোর ছিল না, ছিল কাজের স্বাভাবিক গতি। “সজিব, চার নম্বর স্লিপ—মাদারীপুর, দুই বস্তা ইউরিয়া, এক কার্টন ধানের বীজ। ট্রলিটা ডান লেন ধরে বের করো। হাজেরা খালার ফাইলটা বাম পাশে রাখো। যাদের ব্যাংক সিল আছে, তারা কাগজ ওপরে ধরে দাঁড়ান।” এক মুহূর্তের জন্য কেউ কারও অনুমতি চাইল না। সজিব ট্রলির মাথা ঘুরিয়ে দিল। হাজেরা খালা নিজের কাগজ তুলে ধরলেন। লাইনের তিনজন একসঙ্গে স্লিপ ওপরে তুলল। শিউলি আপা রেজিস্টার টেনে নিয়ে হাজেরা খালার নামের পাশে আঙুল রাখলেন। জটখোলা শব্দটা ছিল খুব ছোট—চাকার মোচড়, কাগজের সড়সড়, মানুষের শরীর এক ধাপ সরার আওয়াজ—কিন্তু সারি প্রথমবার নড়ল।

রাশেদ স্যার স্টুল থেকে আধা উঠে দাঁড়াল। “কে বলল? কে বলল আগে এটা যাবে?” মিতুল তাকাল না। “যার স্লিপে আগের অনুমোদন আছে, সে আগে যাবে। আপনি চাইলে কাগজ দেখেন।” সামনের দাড়িওয়ালা কৃষক, যে একটু আগে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এবার ট্রলির সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে গিয়ে বলল, “এই তো আমারটাই। এতক্ষণ এই মেয়েটাই বলতেছিল।” তার গলায় কৃতজ্ঞতা ছিল না; ছিল বিরক্তিতে পাওয়া স্বস্তি। তাতেই যথেষ্ট।

চাপা কাঁপুনি এবার রাশেদ স্যারের হাতেই উঠল। সে তাড়াতাড়ি আরেকটা ফাইল টেনে নিয়ে বলল, “ঠিক আছে, এটা আমি করছি।” ভুল ফাইল। সিলেটের চালান খুলে বসেছে খুলনার জেলার স্লিপের ওপরে। মিতুল এক পা এগিয়ে রেজিস্টারের ডানপাতা টেনে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল। “ওটা বাদ। আগে পেমেন্ট মিলিয়ে নিন।” “রেজিস্টার ছাড়ো,” রাশেদ স্যার ফিসফিস করে বলল, কারণ এখন আর জোরে বললে সবাই শুনবে সে কী হারাচ্ছে। মিতুল ছাড়ল না। শিউলি আপা প্রথমবার স্পষ্ট গলায় বললেন, “স্যার, পেমেন্টের খাতা এ পাতায়। মিতুল ঠিক ধরছে।”

এই এক বাক্যেই ভিড়ের পড়া বদলে গেল। আগে যেখানে তারা স্টুলে বসা লোকটাকেই নিরাপদ ভেবেছিল, এখন তারা চোখ সরাচ্ছে কাগজের দিকে, আঙুলের দিকে, যেদিকে কাজ সত্যি এগোয়। হাজেরা খালা ঠোঁট বাঁকিয়ে বললেন, “বসা মানুষ সব পারে না বাবা। কাজ জানা লাগে।” খুব জোরে নয়, কিন্তু কাউন্টারের কাছে থাকা সবাই শুনল। পরিবারের বড়দের মতো তার কথার ওজন আছে; আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা থাকা শহরে এই ওজন কানে কানে ছড়াতে সময় লাগে না।

রাশেদ স্যার শেষ চেষ্টা করল মুখ বাঁচাতে। “সবাই লাইন ঠিক রাখেন। মিতুল, তুমি পাশে দাঁড়িয়ে শুধু বলো। কাউন্টারে বসতে হবে না।” এবার মিতুল সোজা তাকাল। “পাশ থেকে বলে হবে না। ব্যাজ দেন।” কথাটা ছুরি নয়, পেরেকের মতো গেল। ছোট, সরু, সরাসরি। কাউন্টারের সামনে হাওয়া গরম হয়ে উঠল। রাশেদ স্যার হাসার চেষ্টা করল, “এত নাটক করার কিছু নাই।” মিতুল একই স্বরে বলল, “আপনি পরের কৃষকটা ছাড়তে পারেন না। ব্যাজ দেন।”

সেই মুহূর্তে ভাঙনটা হল। পেছন থেকে গুদামের আরেকজন এসে দাঁড়িয়ে বলল, “ভাই, পাঁচ নম্বর ট্রলি রওনা করব? কাগজ কার কাছে?” সামনে তিনজন কৃষক একসঙ্গে স্লিপ বাড়িয়ে ধরেছে, আর রাশেদ স্যারের সামনে খোলা ফাইলটা ভুল জেলার। তার কপালের পাশে ঘাম চিকচিক করছে। স্টুলে বসে থেকেও সে ছোট হয়ে গেছে; মুখের সুর বদলে গেছে, কিন্তু কাজ বদলায়নি। লাইন দরজার বাইরে পর্যন্ত জমে, আর কেউ আর তার দিকে নির্দেশের জন্য তাকাচ্ছে না। সবাই তাকিয়ে আছে মিতুলের দিকে—যেন তাদের দুপুরের ভাত, ভাড়ার টাকা, জমির সময়, সব এখন ওই একজোড়া হাতে গিয়ে ঠেকেছে।

শিউলি আপা ধীরে ধীরে নিজের টেবিলের ড্রয়ার খুললেন। ভেতর থেকে নীল ফিতায় ঝুলানো অফিসের ব্যাজটা বের করে কাউন্টারের উপর রাখলেন। “সকালেই স্যার নিতে বলছিলেন,” তিনি বললেন। “এখন কাজ চলুক।” রাশেদ স্যারের মুখ শক্ত হয়ে গেল। “শিউলি, তুমি—” “পরের জনকে আটকে রাখবেন না,” হাজেরা খালা কড়া গলায় বলে উঠলেন। “রোজার দিনে এত লোককে দাঁড় করাইয়া রাখছেন।” এইবার আর কাউকে বোঝাতে হল না। রাশেদ স্যার ব্যাজটা হাতের কাছে টেনে নিয়ে এক সেকেন্ড ধরে রাখল, যেন ধরে থাকলেই কর্তৃত্বটাও থাকবে। তারপর লাইনের সামনে, সবার চোখের মধ্যে, সেটা মিতুলের দিকে বাড়িয়ে দিল। আঙুল ছাড়তে তার খানিক দেরি হল; সেই দেরিই তাকে আরও উলঙ্গ করে দিল।

মিতুল ব্যাজটা নিল, গলায় পরল না। আগে কাউন্টারের স্টুলটাকে একপাশে ঠেলে দিল। তারপর রেজিস্টার নিজের দিকে ঘুরিয়ে এনে বসল না, দাঁড়িয়েই কাজ ধরল। “মাদারীপুর স্লিপ শেষ। হাজেরা খালা, আপনার রসিদ। সজিব, পাঁচ নম্বর ট্রলি বাম লেন। শিউলি আপা, ব্যাংক সিলওয়ালাদের আলাদা করেন। যাদের ফটোকপি নাই, পাশে দাঁড়ান, শেষ ভাগে।” তার কণ্ঠে কোনও বিজয় ছিল না; ছিল দ্রুত, মেপে দেওয়া স্থান। সঙ্গে সঙ্গে কাউন্টার বদলে গেল। কাগজ এলো, সই পড়ল, সিল পড়ল, ট্রলি ছাড়ল। যাদের একটু আগে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে দুজন দশ মিনিটের মধ্যে মাল নিয়ে দরজার দিকে ঘুরে গেল। দেরির ক্ষতি পুরো উঠল না, কিন্তু থেমে থাকা যন্ত্রটা ঝাঁকুনি খেয়ে বেঁচে উঠল।

রাশেদ স্যার একবার বলার চেষ্টা করল, “এই ফাইলটা আগে—” “না,” মিতুল কাগজ না তুলেই বলল। “তার সিল অসম্পূর্ণ। পাশে যান।” লোকটা বাধ্য হয়ে সরে গেল। এই এক সরে যাওয়াতেই রাশেদ স্যারের শেষ ভরসাটুকু খসে পড়ল। সে আর স্টুলে ফিরল না। কাউন্টারের কিনারায় পড়ে থাকা ঠান্ডা চায়ের কাপটা তার কনুইয়ে ঠেকে কেঁপে উঠল, বৃত্তাকার দাগের ভেতর নতুন চা আর জমল না।

আরেক দফা চাপ এল যখন এক বৃদ্ধ কৃষক কাঁপা হাতে ভুল স্লিপ বাড়িয়ে দিলেন। রাশেদ স্যার তৎক্ষণাৎ সুযোগ নিতে চাইল। “দেখলেন? এ জন্যই আমি—” মিতুল বৃদ্ধের হাত থেকে দুই কাগজ আলাদা করে নিল। “এইটা আপনার জামাইয়ের, এইটা আপনার। নাম মিলায়া ধরেন। আপনারটার পেছনে লাল সিল আছে। সজিব, এই কাগজে আধা বস্তা কম দিবে না।” বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন, আর রাশেদ স্যারের বাকিটুকু গলায় শুকিয়ে গেল। সে শুধু দাঁড়িয়ে রইল, যেন অফিসে থেকেও অফিসের বাইরে।

ভিড়ের মধ্যে আরেকজন মোবাইল কানে নিয়ে কারও সাথে বলছিল, “না না, এখন লাইন চলতেছে। ওই মেয়েটা ধরছে।” মিতুল শুনল, কিন্তু মুখ তুলল না। তার আঙুল সিলের কালি মুছে আবার পড়ল, আবার উঠল। গলার কাছে ব্যাজটা অবশেষে ঠেকল, পাতলা ফিতার পুরনো ভাঁজ ঘামে নরম হয়ে বুকে লেগে রইল।

শেষ বড় ট্রলিটা বের করার সময় লেনের মাঝখানে বস্তার কোণা আটকে গেল। আগে হলে কেউ চেঁচামেচি করত, তিনজন তিনদিকে টানত, চাকা কাত হয়ে যেত। মিতুল নিজেই কাউন্টার থেকে নেমে এল। ব্যাজটা বুকে ঠেকানো, এক হাতে ট্রলির সামনের বার, আরেক হাতে পেছনের বস্তা একটু উঁচু করে দিল। “মাঝখান দিয়ে নাও। ডান চাকা সোজা।” সে নিজে লেনের কেন্দ্রে হাঁটতে হাঁটতে ট্রলিটা টেনে ছাড়ল। এই প্রথম চাকার দুলুনি থেমে দুটো চাকা একই রেখায় চলল, সোজা, ভার ধরে, কাজের রাস্তার ঠিক মাঝখান দিয়ে।