ঘরটা যেন আমার জন্যই অপেক্ষায় ছিল
বেসিনের সামনে ঝুঁকে মায়া এক হাতে রিমির কামিজের বমি ধুতে ধুতে অন্য হাতে কলটা চেপে রাখল, যাতে পানি ছিটকে বাইরে না যায়। পেছন থেকে রিমির খালা নাক কুঁচকে বললেন, “এই তো, সুযোগ পেলেই ঘেঁষাঘেঁষি। আমি না থাকলে কার ঘাড়ে কে চড়ে বসে, বোঝা যায়।”
মায়া মাথা তুলল না। কামিজটা চিপে পাশের বালতিতে ফেলল, তারপর অচেতন আধশোয়া রিমির কাঁধে নিজের ওড়না টেনে দিল। ড্রইংরুমে খালার আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা দুজন আন্টি বসে আছেন; তাদের সামনে রিমির এভাবে পড়ে থাকা মানে কাল সকালেই অন্য মানে বেরোবে। মায়া শুধু বলল, “ওর গায়ে ঠান্ডা লাগবে।” যেন নিজের জন্য নয়, কাজের কথাই বলছে।
একজন আন্টি হেসে বললেন, “আহা, মেয়েটা তো খুব দায়িত্ব নেয়।” কথাটার ভেতরে কৃতজ্ঞতা ছিল না, ছিল দূর থেকে দেখা ব্যবহারিক সুবিধার মাপ। রিমির খালা সঙ্গে সঙ্গে কেটে দিলেন, “দায়িত্ব না, হিসাব। ঢাকায় থাকতে হলে কারও না কারও গা ঘেঁষতেই হয়।” তারপর মায়ার দিকে না তাকিয়েই বললেন, “ওকে আমার রুমে নয়, বারান্দার পাশের খাটে শুইয়ে দাও। চাদর নোংরা করলে তুমি ধুবা।”
মায়া রিমিকে টেনে তুলল। মেয়েটা প্রায় পুরো ভার তার ওপর ফেলে দিয়েছে। সরু করিডরে ঢোকার মুখে আধখোলা একটা দরজায় এক মুহূর্ত থামল—ওটাই রিমির ঘর, ভেতরে আলো জ্বলছে, টেবিলে কৃষি অর্থনীতি বই, খোলা নোট, চশমা। দরজাটা আবার ভেতর থেকে টেনে লাগিয়ে দিল খালা। “ওর রুমে কেউ ঢুকবে না,” ঠান্ডা গলায় বললেন তিনি। “ওর পরীক্ষা সামনে।”
সেই রাতেই প্রথম ছোট্ট ব্যতিক্রমটা এল। মায়া যখন বারান্দার পাশের খাটে রিমিকে কষ্ট করে শুইয়ে ফিরে যাচ্ছে, আধচোখে রিমি ফিসফিস করল, “পানি…” মায়া গ্লাস এগিয়ে দিতেই রিমির আঙুল তার কবজি আঁকড়ে রইল দু সেকেন্ড। “তুমি যাও না,” জড়ানো গলায় বলল সে। কথা শেষ হতেই খালা দরজার ফাঁক থেকে দেখে ফেললেন। “মায়া, তুমি কিচেনে যাও। এখানে আমি আছি।” কিন্তু যাওয়ার আগে রিমি কষ্ট করে নিজের বালিশের নিচ থেকে ছোট চাবিটা বের করে মায়ার হাতে গুঁজে দিল, “মেইন গেট… আমি নিলে হারাই।” তারপর চোখ বন্ধ। খালা সেটা দেখেননি, আর মায়া চাবিটা মুঠোর ভেতর চেপে রাখল—ভাড়াবাসায় কারও হাতে রাতে ঢোকার রাস্তার চাবি থাকা, সেটুকুই তখন অদ্ভুত এক স্বীকৃতি।
তবু সেই স্বীকৃতিও ধার করা ছিল। দুই দিন পর থেকে নিয়মটা দাঁড়াল, সবাই বেরোলে মায়া ফ্ল্যাট গোছাবে, বাজারের ব্যাগ তুলবে, খালার ছোট ছেলেমেয়ের অনলাইন ফর্ম পূরণ করে দেবে, আর রাতে ফিরলে চাবি ফেরত দেবে। “তুমি তো স্থায়ী থাকো না,” খালা বলতেন, যেন তিন মাস ধরে একই খাটে ঘুমানো, একই রান্নাঘরে ভাত ধোয়া, একই বাথরুমে লাইনে দাঁড়ানো কিছুই না। মায়া কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের বিকেলের ক্লাস শেষে ফিরত অনেক রাত করে; গেট খুলে দিতে দেরি হলে নিচতলার দারোয়ান চোখ তুলে তাকাত। এক রাতে খালা চাবি দিতে ভুলে গিয়েছিলেন। মায়া সিঁড়ির মাথায় বসে ছিল আধঘণ্টা, কাঁধে ব্যাগ, হাতে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া খাবারের বক্স। উপরে আলো, ভেতরে হাসির শব্দ, আর নিচে কাগজে মোড়া পরোটার শুকনো খসখস শব্দ।
দরজা খুলে খালা মুখ কুঁচকে বললেন, “এত রাতে কারও জন্য বসে থাকা যায়? তুমি আগে বলবা না?” মায়া কিছু বলল না। রান্নাঘরে গিয়ে দেখল টেবিলে সবার খাওয়া শেষ, তার ভাগে রাখা ভাতের বক্সে তরকারির তেল জমে সাদা হয়ে গেছে। সে বক্স খুলে চুপচাপ বসতেই খালা পাশ কাটিয়ে বললেন, “আমার ছোটভাইয়ের মেয়ে আসতে পারে সামনের সপ্তাহে। তখন কিন্তু জায়গা নিয়ে ভাবতে হবে। আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা আছে, বুঝোই তো। যার যেমন অবস্থান।”
মায়া ভাত গিলতে গিলতে শুধু মাথা নুইয়ে রাখল। তার অবস্থানটা এই বাসায় কী—অতিথি, ভাড়াটে, না কাজের সময় ডেকে নেওয়া হাত—সেটা কেউ সোজা করে বলে না; কিন্তু চাবি দেরিতে ফেরত চাওয়া, ঠান্ডা খাবার, খাট বদলানো—সব মিলিয়ে বোঝা যায়।
রিমি শুরুতে কিছুই দেখত না, বা দেখতে চাইত না। ক্লাস, টিউশন, পরীক্ষা—সব মিলিয়ে মেয়েটা নিজের সোজা পথ বাঁচিয়ে চলত। তবে সেই শুক্রবার সন্ধ্যায় বদলটা চোখের সামনে ঘটল। খালার এক দুলাভাই হঠাৎ এসে পড়েছেন; সঙ্গে আরেকজন আত্মীয়। টেবিলে চা, সমুচা, ফরমাল হাসাহাসি। রিমি ইনস্টিটিউট থেকে ফিরেছে ভিজে চুলে, তাড়াহুড়োয় ব্যাগ ছুড়ে রেখে সরাসরি ঘরে ঢুকতে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই তার ব্যাগের ভেতর থেকে একটা স্যানিটারি প্যাডের প্যাকেট আর মোচড়ানো ফার্মেসির বিল গড়িয়ে ড্রইংরুমের মাঝখানে এসে পড়ল।
খালার দুলাভাইয়ের চোখ এক ঝলক নেমে গিয়ে আবার উঠল। খালা মুখ শক্ত করলেন। এমন ক্ষুদ্র জিনিসও কত তাড়াতাড়ি মেয়েদের মান-ইজ্জতের আলোচনায় টেনে আনে, তা মায়া জানে। সে এক সেকেন্ডও দেরি করল না। হাতে থাকা ট্রেতে চা নিয়ে যেন হোঁচট খেল, কাপের চামচ ঠং ঠং করে উঠল, আর নিচু হতে হতে প্যাকেট-বিল দুটো নিজের আঁচলের তলায় গুটিয়ে নিল। “সরি, হাত ফসকে গেল,” বলে সে মেঝেতে পড়া সামান্য চা নিজেই মুছতে বসে গেল।
সবাই চায়ের ছিটায় ব্যস্ত হল। রিমি দরজার মুখে জমে গিয়েছিল; তারপর ধীরে ধীরে পেছনে সরে দাঁড়াল। মায়া মাথা নিচু করে চায়ের দাগ মুছতে মুছতে বুঝল, রিমির চোখ এবার তার হাতের দিকে স্থির। কোনো বক্তৃতা নেই, কোনো ব্যাখ্যা নেই। শুধু মেয়েটা দেখল—মায়া জড়িয়ে পড়তে আসে না, ঢেকে দেয়।
সেই রাতেই রিমি প্রথমবার রান্নাঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে বলেছিল, “তুমি খেয়েছ?” মায়া বক্সের ভাত গরম করছিল। রিমি ফ্রিজ খুলে ঠান্ডা দইটা বের করে তার পাশে রাখল। “এটা খেয়ে নিও। আমি খাব না।” কথাটা সাধারণ, কিন্তু প্রথমবার কেউ ধরে নিল, এই বাসায় তার খাওয়ার জায়গা আছে, তার জন্য আলাদা কিছু সরিয়ে রাখা যায়। মায়া ধন্যবাদও দিল না; দিলে ব্যাপারটা বড় হয়ে যেত। শুধু দইয়ের ঢাকনা খুলে টেবিলের কোণে সরাল।
তারপর চাপ আরও কষে বসল। খালার ছোটভাইয়ের মেয়ে সত্যিই আসবে—এই ঘোষণা ঘুরতে লাগল। বারান্দার পাশের খাটে নতুন চাদর চাপানো হল, মায়ার বই-খাতা এক কোণে তুলে রাখা হল। “দুই-এক রাত কষ্ট করলে কী হয়?” খালা বললেন। “মেয়েদের বাসা মানে নমনীয় হতে হয়।” মায়া জানত, নমনীয় কথাটার মানে এখানে শুধু সে-ই। রিমি দু-একবার মুখ তুলেছিল, “খালা, মায়ার তো ক্লাস—” খালা কেটে দিয়েছিলেন, “তোর জন্যই তো এত কিছু বলি। কালকে কেউ কী বলবে, ভাবিস? এক বাসায় কে থাকে, কে যায় আসে—সব হিসাব আছে।”
সোমবার রাতে ইনস্টিটিউটে প্র্যাকটিক্যাল দেরি হল। কৃষির মাটির নমুনা জমা দিতে গিয়ে মায়ার ফেরত আসতে সাড়ে দশটা। ফোনের ব্যাটারি প্রায় শেষ। বাসার নিচে এসে সে দেখল মেইন গেট বন্ধ, উপরতলার বারান্দায় আলো। ব্যাগের ভেতর খুঁজে পেল না চাবি—সকালে খালাকে ফেরত দিয়েছিল। সে নিচে দাঁড়িয়ে দুবার কল দিল। ধরল না কেউ। তৃতীয়বার ধরলেন খালা, কণ্ঠ বিরক্ত, “এখন? আমরা আত্মীয়দের সঙ্গে বসে আছি। একটু দাঁড়াও।”
পনেরো মিনিট পর দরজা খুলল হাসান ভাই, বাসার পুরনো টিউটর ছেলে, আত্মীয়ের মতো যাতায়াত। তার চোখে অস্বস্তি। “আপা বলছে, আজকে তুমি ড্রইংরুমে বিছানা করে নাও। রিমির রুমের সামনে যেও না। লোকজন আছে।”
মায়া সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে দেখল, ড্রইংরুমে সত্যিই লোকজনের গন্ধ জমে আছে—সুগন্ধি, চা, বাসি সমুচা, কথা থামিয়ে তাকানো চোখ। করিডরের শেষে রিমির দরজা বন্ধ। সে ভেবেছিল অন্তত নিজের ব্যাগটা খাটের পাশে রাখবে; কিন্তু খালা সামনে এসে দাঁড়ালেন। হাতে চাবির গোছা। “শোনো, আমার ছোটভাইয়ের মেয়েটা কাল ফজরের মধ্যে আসবে। তুমি আজকেই ঠিক করো কোথায় যাবে। এতদিন ছিলে, সেটাই অনেক। আর রিমির আশেপাশে এত বেশি থাকা ভালো দেখায় না।”
শেষ কথাটা করিডরের বাতাসকে নোংরা করে দিল। মায়া একবারও প্রতিবাদ করল না। সে বুঝল, এই বাসায় তার শ্রম নেওয়া যাবে, কিন্তু তার উপস্থিতি যে কারও মুখরক্ষার ক্ষতি বলে চালানো যাবে। রিমির দরজার ঠিক সামনে, সেই সরু থ্রেশহোল্ডে দাঁড়িয়ে তার বুকের ভেতর কেমন শক্ত হয়ে গেল।
সে ধীরে ব্যাগটা কাঁধ থেকে নামাল। ভেতর থেকে কাগজের খসখস শব্দ—পুরোনো টিউশনির খামে ভাঁজ করা কিছু টাকা, আর ইনস্টিটিউটের রসিদ। শান্ত গলায় বলল, “আজকের মাসের বাকি ভাড়া আর বিদ্যুতের অংশটা আছে। হিসাব মিটিয়ে দিচ্ছি।” খামটা খালার দিকে বাড়িয়ে দিল। “রাতটা নিচে কাটিয়ে ভোরে চলে যাব। কারও সামনে আমাকে নিয়ে কিছু বলতে হবে না।”
খালা খামটা নিয়ে চোখ কুঁচকালেন, যেন এভাবে মিটিয়ে দেওয়া তার সুবিধার নয়। “এত নাটক কিসের? আমি তো বলিনি বের হয়ে যাও—”
“বলেননি,” মায়া থামাল, “কিন্তু কোথায় দাঁড়াব, কোথায় ঢুকব, সেটা বুঝেছি।” সে হাত বাড়াল। “চাবিটা দিন। যেটা নিয়েছিলাম, ফেরত দিই।”
করিডরের বাতাস তখন আরও চাপা। ড্রইংরুম থেকে থেমে যাওয়া আলাপের গন্ধ যেন এখানেও এসে দাঁড়িয়েছে। খালা চাবির গোছা থেকে ছোট চাবিটা আলাদা করতে করতে বললেন, “তুমি নিজের সীমা জানলে ভালো থাকবা।” কথার শেষে অবজ্ঞা ছিল, কিন্তু একটু তাড়াও ছিল—মেয়েটা মাথা নিচু করে অনুরোধ করবে, এই প্রত্যাশা।
মায়া করল না। চাবিটা হাতে নিয়েই সে ঘুরে দাঁড়াল। রিমির দরজার দিকে তাকাল না, শুধু নিচে নামার জন্য করিডরের অন্ধকার মাথার দিকে পা বাড়াল। ঠিক তখনই ভেতর থেকে তালার শব্দ হল।
রিমির দরজা খুলে গেল তীব্র নয়, স্থির এক টানে। মেয়েটার মুখে ঘুম নেই; চোখ লাল, কিন্তু সোজা। সে প্রথমে খালার হাত থেকে বাকি চাবির গোছাটা নিয়ে নিল। খালা চমকে উঠলেন, “রিমি—” রিমি শুনল না। নিজের দরজাটা আরও খুলে দিল, ভেতরের আলো করিডরে পড়ল। তারপর মায়ার হাতে থাকা ছোট চাবিটার দিকে তাকিয়ে বলল, খুব নিচু, কিন্তু স্পষ্ট গলায়, “ওটা আমাকে দাও।”
মায়া থামল। চাবিটা এগিয়ে দিল। রিমি সেটি নিয়ে নিজের তালায় ঘুরিয়ে আবার খুলল, যেন দরজা খোলা আছে—এটা শুধু এই রাতের জন্য নয়, নিয়ম বদলানোর জন্য দেখা দরকার। তারপর এক পা সরে দাঁড়িয়ে বলল, “ভেতরে আসো। আজ না—এখন থেকে। চাবিটা তোমার কাছেই থাকবে।”
খালা এবার সামনে এগোলেন। “তুই বুঝছিস কী বলছিস? লোকজন আছে ঘরে—”
রিমি মুখ ফেরাল না। “লোকজন থাকলেই তো বুঝে বলছি। যার কারণে আমার নামে আজ পর্যন্ত একটা কথাও বাইরে যায়নি, তাকে বারান্দায় রাখা হবে না।” তারপর খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে মায়ার ব্যাগটা তার হাত থেকে নিয়ে নিজের ঘরের ভেতরে রেখে দিল। “ভিতরে আসো।”
সেটুকুই। কোনো ঘোষণা নয়, কোনো চোখে চোখ রেখে নাটক নয়। তবু করিডরের ক্ষমতার রেখা সরে গেল। যে দরজার সামনে মায়া এতদিন থেমে যেত, সেখানে এখন তার জন্য সরে দাঁড়ানো জায়গা আছে। সে কয়েক সেকেন্ড স্থির দাঁড়িয়ে রইল; যেন অভ্যাস বদলাতে সময় লাগে। খালার মুখের দিকে তাকাল না। শুধু জুতো খুলে দোরগোড়াটা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকল।
রিমি দরজা বন্ধ করল না সঙ্গে সঙ্গে। হাত বাড়িয়ে মায়ার তালুতে আবার ছোট চাবিটা রাখল। আঙুল ছুঁয়ে থাকল এক মুহূর্ত। “ফেরত দেবে না,” সে বলল। “রাতে দেরি হলে নিজেই খুলে ঢুকবে।” এটাই একমাত্র বাড়তি বাক্য; এর ভেতর দুঃখ, কৃতজ্ঞতা, লজ্জা সব গুছিয়ে ছোট হয়ে আছে।
মায়া এবার প্রথমবার ঘরটার ভেতর তাকাল। পড়ার টেবিল গুছানো, বইয়ের স্তূপ পাশে সরানো, মেঝের এক কোণে তার জন্য জায়গা ফাঁকা করা নয়—বিছানার পাশেই জায়গা রাখা। জানালার কাঁচে ঢাকা শহরের হলুদ আলো থমকে আছে। দরজা টেনে লাগার পর বাইরে করিডরের শব্দ ম্লান হয়ে গেল। মায়া নিঃশ্বাস ফেলল, যেন এতক্ষণ তা আটকে ছিল। তারপর নিজের ব্যাগটা তুলে নিয়ে একেবারে ভেতরে গেল, এইবার কোনো অনুমতি চেয়ে নয়।
আলো জ্বলতেই রইল। বিছানার পাশে ভাঁজ করা একটা কম্বল রাখা, সমান করে গুটানো, যেন অনেকক্ষণ ধরেই সেখানে প্রস্তুত ছিল—কাপড়টা নরম ভারে চুপচাপ অপেক্ষা করছে।