মালের লাইন ঘুরে আমার দিকেই এল
“এই পাশটা খালি রাখেন—ও না, ও না, সাবিহা আপা হাত দেবেন না,” গেটের সামনে দাঁড়ানো ছেলেটা হাত তুলে সাবিহার পথ আটকাল, আর মাহির ভাই গাড়ির দরজা ধরে হেসে বলল, “তুমি ভেতরে যাও। কার্বসাইডের রিসিভ আমি দেখি।”
ঢাকার বেইলি রোডের ভাড়া নেওয়া অনুষ্ঠানবাড়িটার সামনে তখন বিকেলের আলো গাড়ির কাঁচে লেগে তীক্ষ্ণ হয়ে আছে। একদিকে অতিথিদের নামানো, আরেকদিকে কৃষি পণ্যের প্রদর্শনীর জন্য আসা বাক্স নামানোর সরু লাইন। এই চালানটা বুক করেছিল সাবিহাই—ময়মনসিংহের নার্সারি, টাঙ্গাইলের বীজ, হাইড্রোপনিক্সের ডেমো ট্রে, সব তার ফোন, তার অগ্রিম, তার বারবার ভাঁজ খুলে দেখা অর্ধেক মোড়া রসিদে লেখা হিসাব। তবু আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা আছে বলে আজ মাহির ভাই এমন ভঙ্গিতে দাঁড়িয়েছে যেন কার্বের ইঞ্চিগুলোও তার বাপের।
সাবিহার আঙুলে ধরা পাতলা গেট পাসের কোণ ঘষে মলিন হয়ে গেছে, বাসের কার্ডের মতো ক্ষয়ে ওঠা এক প্রান্ত। সে সেটা বাড়াতেই মাহির ভাই পাসটা তার হাত থেকে নিয়ে গেটের টেবিলে আছড়ে রাখল। “এটা অতিথি সমন্বয়ের পাস। মাল তুলতে আলাদা ছাড়পত্র লাগে। তুমি ভেতরে খালাম্মার পাশে থাকো, সেটাই মানায়।”
খালাম্মা রওশন দরজার ফাঁকায় থেমে তাকালেন। তার চোখে সেই পরিচিত হিসাব—মেয়েটা কাজের, কিন্তু সামনে কতটা দেখা যাবে? পাশে দুই খালাতো বোনের ঠোঁট বেঁকে উঠল। এক কেটারিং কর্মী সাবিহার দিকে ট্রলি বাড়িয়ে আবার টেনে নিল, যেন ভুলে গিয়েছিল কে “আসলে” এখানে আদেশ দেয়। প্রথম ছোট ক্ষতটা সেখানেই দেখা গেল: ট্রলিটা তার হাত থেকে সরে গেল, আর মাহির ভাই নিজের কণ্ঠ নামিয়ে বলল, “সামাজিক অনুষ্ঠানে একটু দূরত্ব বুঝতে হয়।”
সাবিহা ভেতরে গেল না। কার্বের রঙচটা সাদা রেখার পাশে দাঁড়িয়ে রইল। অনুষ্ঠানবাড়ির খোলা ফটক দিয়ে ভেসে আসছিল মাইকের দোয়া, বাসমতির গন্ধ, আর লোকজনের ফিসফাস। মাহির ভাই একেকজনকে নামিয়ে ভিতরে পাঠাচ্ছে, ড্রাইভারদের ইশারা করছে, দরজা খুলে ধরছে। তার মুখে সদ্য ধার করা কর্তৃত্বের চকচকে ভাব। সে ফিসফিস করে গেটের ছেলেকে বলল, “ট্রাক আসলে আগে আমাকে ডাকবা। ওর সাথে কোনো কাগজপত্র নিও না।”
“কাগজ আমার কাছে,” সাবিহা শান্ত গলায় বলল।
“কাগজ থাকলেই হয় না। রিসিভিং নেম লাগে।” মাহির ভাই এবার জোরে বলল, যাতে আশেপাশের লোক শোনে। “এখানে যার কথা বড়রা জানে, নামও তার চলে।”
দুইজন ক্লায়েন্ট-চেহারার লোক, সাদা পাঞ্জাবি পরা, গাড়ি থেকে নেমে মুহূর্তে সাবিহার দিকে তাকিয়ে আবার মাহির ভাইয়ের দিকে ফিরল। এটাই মাহিরের খেলা—যে আগে ধরা পড়ে, তাকেই লাইন মানে। সে সাবিহার সামনে এক ধাপ এসে দাঁড়াল। “তুমি পাশেই থাকো, সমস্যা হলে ডাকি। এখন গেট আটকে রেখো না।”
এই “পাশে থাকা” কথাটা সাবিহা চেনে। অফিসে ফাইল তার, কিন্তু মিটিংয়ে নাম অন্য কারও। রাত জেগে সরবরাহ মিলিয়েছে সে, আর সকালে কৃতিত্ব গেছে পরিচিত ছেলের হাতে। একবার নয়, একাধিকবার। শেষবার যখন সে গুদামের অতিরিক্ত স্টক বাঁচিয়ে ছিল, তখনও মাহির ভাই বলেছিল, “তুমি আড়ালেই ভালো।” আজ সামনে খালাম্মা, আত্মীয়, ব্যবসার লোক—আজকের আড়াল মানে কাল থেকে স্থায়ী নিচু সিঁড়ি।
একটা মিনি ট্রাক ফটকের মুখে ঢুকতেই মাহির ভাই হাত উঁচু করে থামাল। “এইটা না, ওই পাশে নেন। আগে অতিথির গাড়ি বের হবে।” অথচ ওটাই ছিল কৃষি চালানের গাড়ি—সামনে বড় অক্ষরে নার্সারির নাম। ড্রাইভার জানালা নামিয়ে মাথা বের করল। “সাবিহা আপার নামে মাল।”
মাহির ভাই উত্তর দিল তৎক্ষণাৎ, “আমার কাছে দেন। আমি এখানের দেখভাল করি।”
সাবিহা এক পা বাড়াতেই গেটের ছেলেটা আবার কাঁধ বাড়িয়ে রাস্তা আটকাল। “ভাইয়া বলেছেন, বাইরে দাঁড়ান।”
তার শরীর থামল, চোখ থামল না। গাড়ির নম্বর মিলল। পেছনের বডির সিল মিলল। আর ড্যাশবোর্ডের কাছে নীল প্লাস্টিকে গোঁজা খামটাও মিলল। ওটা ছাড়পত্রের খাম। সে নিজের ব্যাগ থেকে অর্ধেক ভাঁজ করা রসিদ, ফোন, আর ছোট লাল সিলমোহর-দেওয়া গ্রহণপত্র বের করল। মাহির ভাই সেটা দেখে ঠোঁট চেপে ধরল। “ওসব পরে হবে। আগে ভেতরের মান-ইজ্জত সামলাই।”
“মান-ইজ্জত নষ্ট হচ্ছে কার?” সাবিহা জিজ্ঞেস করল।
মাহির ভাই হাসল, কিন্তু চোখে হাসি এল না। “যখন কেউ নিজের জায়গা ভুলে যায়, তখন সবার।”
ড্রাইভার করিম গাড়ি একটুখানি এগিয়ে আবার থামাল। গেটের ভেতরের লোডিং স্লট তখন খালি। দুইজন মালবাহক ট্রলি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু কার ইশারায় নামাবে বোঝে না বলে দ্বিধা। মাহির ভাই হাত নেড়ে তাদের নিজের দিকে ডাকল। “এই দিকে। আগে কাগজ আমার হাতে।”
করিম খাম খুলল না। সে গলা বাড়িয়ে বলল, “রিলিজ স্লিপে যে নাম, তার সই ছাড়া মাল নামবে না। সাবিহা আপা কে?”
এক মুহূর্তের জন্য কার্বের শব্দ যেন ধার কমাল। মাহির ভাই দ্রুত এগিয়ে গেল। “আমি বলছি, আমাকে দেন। আমরা এক।”
করিম নিরাসক্ত চোখে তার দিকে তাকাল, তারপর পাশ কাটিয়ে সাবিহার দিকে। “আপা, আপনি?”
সাবিহা হাত তুলল। ছোট, সোজা, কোনো ব্যাখ্যা নয়। করিম সঙ্গে সঙ্গে দরজার পকেট থেকে নীল খাম বের করে তার দিকে বাড়িয়ে দিল। মাহির ভাই মাঝখানে হাত ঢুকিয়ে ধরতে গেল, কিন্তু করিম খাম পেছনে সরিয়ে নিল। “দুঃখিত। নাম মেলেনি।”
প্রথম ফাটলটা সবাই দেখল। গেটের ছেলেটা কাঁধ সরিয়ে নিল। মালবাহক দুজনের একজন ট্রলি ঘুরিয়ে সাবিহার সামনে আনল। খালাম্মা রওশন দরজার ফাঁক ছেড়ে এক ধাপ বাইরে এলেন। তার পাশে দাঁড়ানো আত্মীয়দের মুখে সেই দ্রুত বদলে যাওয়া হিসাব। মাহির ভাইয়ের গলায় এবার খানিক খসখসে তাড়া। “সাবিহা, খামটা আগে আমাকে দাও। ভেতরে বড়রা আছে।”
সাবিহা খামের কাগজ বের করে পড়ল না; পড়ার দরকার নেই, সে জানে কী আছে। উপরে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের লাল ছাপ, নিচে গ্রহণকারী পক্ষের নাম। আর পাশে একটি স্থানান্তরযোগ্য প্রবেশপত্র—লোডিং স্লট নম্বর ২-এ প্রবেশের অনুমতি। সে পাসটা হাতে নিতেই তার পুরোনো ক্ষয়ে যাওয়া কোণ আলোতে ধরা দিল। ঠিক বাসকার্ডের মতো ঘষা, প্রতিদিনের হাতবদলের চিহ্ন নিয়ে।
মাহির ভাই এবার নিচু গলায় বলল, “একটা ব্যাপার বোঝো। খালাম্মা চান না তুমি সামনে থেকে সব করো। লোকের কথা আছে।”
“লোকের কথা তো তুমি বলছ,” সাবিহা বলল। “মাল কার নামে এসেছে, সেটা কাগজ বলছে।”
সে করিমকে ইশারা করল। “গাড়ি সোজা স্লট দুইয়ে নিন।”
করিম স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে গাড়ি সরু লেনে ঢুকিয়ে দিল। ঘটনাটা এত দ্রুত ঘটল যে মাহির ভাই এক পা সামনে, এক পা পিছনে আটকে গেল। সে হাত তুলে চেঁচিয়ে উঠল, “এই গাড়ি থামান! আগে অনুমতি—”
“অনুমতি আমার কাছে,” সাবিহা বলল, আর গেট পাসটা টেবিল থেকে তুলে নিল। “ভেতরের অতিথি লাইনের পাস এখন থেকে নাঈম ব্যবহার করবে। লোডিং পাস আমার।”
গুদাম-হিসাবের ছেলেটা নাঈম এতক্ষণ পিলারের আড়ালে ছিল। সাবিহা তার দিকে পাস বাড়িয়ে দিল। “অতিথিদের বীজ প্রদর্শনী ঘরে পৌঁছাও। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবে, রিসিভিং চলছে।”
এবার দরজা, ট্রলি, মানুষ—সবাই দিক বদলাল। নাঈম পাস গলায় ঝুলিয়ে ভেতরের ফটক পেরিয়ে গেল। মালবাহকরা করিমের গাড়ির পেছনে হাঁটা দিল। অতিথিদের এক গাড়ি এসে থামলেও ভেতরের কর্মীরা আগে স্লট খালি করছে। মাহির ভাই আর সক্রিয় লাইনের মধ্যে রইল না; সে দাঁড়িয়ে আছে বাইরে, যেখানে হর্ন শোনা যায় কিন্তু কাজের হাত পৌঁছায় না।
খালাম্মা রওশন এগিয়ে এসে বললেন, “মাহির, যদি ওর কাগজ থাকে, ঝামেলা কোরো না।”
কথাটা সমর্থন নয়, কিন্তু ভরও আর তার দিকে নেই। মাহির ভাই সেটা বুঝল। তার কণ্ঠ তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল। “খালাম্মা, আপনি জানেন না—এটা আমি সেট করছিলাম।”
“সেট করছিলে?” সাবিহা খামের ভেতর থেকে গ্রহণপত্রের সঙ্গে আরেকটা পাতলা স্লিপ বের করল। আধাভাঁজ, বহুবার খোলা-বন্ধ করা কাগজ। “অগ্রিম আমার হিসাব থেকে গেছে। চালান নিশ্চিত করেছি আমি। আর এই রিলিজ স্লিপে স্পষ্ট লেখা—সংগ্রহকারী পক্ষ বদলানো যাবে শুধু সই করা স্থানান্তরচিহ্ন দিয়ে।”
মাহির ভাই হাত বাড়াল। “দাও। আমি সই করি।”
সাবিহা তার দিকে তাকাল, যেন এই প্রস্তাবও লোডিং স্লটের ময়লার মতোই সরিয়ে ফেলার জিনিস। “তোমার নামে তো নয়।”
করিম গাড়ির পেছনের তালা খুলে দিল। ধাতুর শব্দে কয়েকজন অতিথি মাথা ঘুরিয়ে তাকাল। কাঠের বাক্স, সাদা প্লাস্টিক-জড়ানো চারা ট্রে, লেবেল মারা সার প্যাক—সব দেখা যাচ্ছে। মাহির ভাই দ্রুত মালবাহকদের ডেকে উঠল, “কেউ হাত দেবে না! আমি না বলা পর্যন্ত কিছু নামবে না!”
একজন মালবাহক থেমে গেল, অন্যজন দ্বিধায় ট্রলির হাতল শক্ত করল। পুরোনো শাসনের শেষ প্রতিরোধটা সেখানেই উঠল—কাজ থামিয়ে দিয়ে যেন সে প্রমাণ করতে চায়, তার শব্দ ছাড়া কিছুই নড়ে না।
সাবিহা তখন খুব সাধারণভাবে কাজটা করল। লাল ছাপওয়ালা রিলিজ স্লিপের নিচে থাকা ছোট স্থানান্তর অংশে নিজের সই দিল, তারপর লোডিং পাসের উল্টো পিঠে স্লট নম্বর ও গ্রহণকারী দিক লিখে দিল। “গ্রহণপক্ষ: প্রদর্শনী-পূর্ব গুদাম,” সে নাঈমকে না, সরাসরি মালবাহকদের শুনিয়ে বলল। “এই লাইন আমার। বাক্সগুলো বামদিকের স্লটে নামবে। মাহির ভাইয়ের হাতে কিছু যাবে না।”
একসঙ্গে তিনটা জিনিস ঘটল। করিম কাগজে চোখ বুলিয়ে মাথা নাড়ল। মালবাহকরা মাহির ভাইয়ের দিকে নয়, সাবিহার দিকে তাকিয়ে প্রথম বাক্স তুলল। আর গেটের ছেলেটা, যে কিছুক্ষণ আগে তাকে আটকে রেখেছিল, দৌড়ে এসে স্লটের রশি নামিয়ে দিল, যেন শুরু থেকেই জানত দরজা খুলতে হয় কাকে।
মাহির ভাই এগিয়ে এসে ট্রলির সামনে দাঁড়াল। “এইটা করা যাবে না। আমি বলছি, মাল এখানে নামবে না।”
“সরে দাঁড়ান,” করিম বলল।
“তুমি আমাকে চেনো?”
“কাগজ চিনি।”
এই চারটে শব্দে মাহির ভাইয়ের মুখের রঙ এমন বদলাল, যেন কেউ ভিড়ের সামনে তার গলার বোতাম খুলে দিয়েছে। খালাম্মা রওশন আরেক ধাপ পিছিয়ে গেলেন; পাশে দাঁড়ানো এক বৃদ্ধ আত্মীয় মাহির ভাইকে ডাকলেন না, থামালেনও না। শুধু দেখলেন। দেখাটাই যথেষ্ট ছিল।
মাহির ভাই এবার সরাসরি সাবিহার দিকে ফিরল। গলায় সেই দেরিতে আসা অনুনয়ের ভেজা ভাব। “শোনো, সামনে এত মানুষ। তুমি যদি আমাকে একেবারে কাট করে দাও, কথা উঠবে।”
“যখন আমাকে গেট থেকে সরালে, তখনও তো মানুষ ছিল,” সাবিহা বলল।
সে লোডিং পাসটা করিমের হাতে ছুঁইয়ে আবার নিজের আঙুলে নিল, যেন দাগ বসিয়ে নিল কার নির্দেশে গাড়ি নড়বে। “এই গাড়ি স্লট দুই ছাড়া কোথাও খুলবে না। আর এই চালানের কোনো বাক্স মাহির ভাই রিসিভ করবে না।”
মাহির ভাই খেপে উঠে বলল, “আমি তো বাড়ির লোক!”
“এই লাইনে বাড়ির লোক লাগে না,” সাবিহা বলল। “নাম লাগে।”
মালবাহকরা আর দেরি করল না। প্রথম কাঠের বাক্স ট্রলিতে উঠল, তারপর দ্বিতীয়। মাহির ভাই একপাশে সরে যেতে বাধ্য হল, কারণ দাঁড়িয়ে থাকলে চাকার ধাক্কা লাগত। সক্রিয় লাইনের বাইরে মানুষজন এমনভাবে সরে দাঁড়ায়—কেউ তাকে ঠেলেনি, কিন্তু কাজ তাকে অপ্রয়োজনীয় করে সরিয়ে দিল। অতিথিদের আরেকটি গাড়ি এসে থামল; ফটকের ভেতর থেকে একজন কর্মী মাহির ভাইকে এড়িয়ে সোজা সাবিহাকে জিজ্ঞেস করল, “আপা, ডেমো ট্রেগুলো কোন হলে যাবে?”
“প্রথমে বাম স্লট, তারপর উত্তর ঘর,” সাবিহা বলল। “ফুলের গেট পেরিয়ে নয়। পাশের দরজা।”
মাহির ভাই কথার ভেতর ঢুকতে চাইল। “না, ওই রাস্তায়—”
কেউ থামল না। নাঈম ভিতর থেকে ফিরে এসে গ্রহণপত্রের কপি সাবিহার হাতে দিল। করিম সই নেওয়ার জন্য কলম বাড়াল। সাবিহা সই করল, তারপর রিলিজ স্লিপের নিচে পরিষ্কার অক্ষরে লিখল: “মাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হলো—গ্রহণপক্ষ সাবিহা।” কালি শুকানোর আগেই সে পাসটা উঁচু করে মালবাহকদের দেখাল। “এখন নামান।”
পেছনের বডি থেকে বাক্স নামতে লাগল দ্রুত, অভ্যস্ত ছন্দে। একটার পর একটা। মাহির ভাই আর কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল; এখন কথা বললে সেটাই বেশি শোনা যাবে যে তার হাতে কিছু নেই। তার ধার করা কর্তৃত্বের জায়গায় শূন্যতা এমন স্পষ্ট হলো যে তাকে ঘিরে দাঁড়ানো লোকেরা অজান্তে অর্ধচক্র ভেঙে দিল। কেউ তার মুখের দিকে নয়, বাক্স কোন দিকে যাচ্ছে তা দেখছে।
শেষ বড় বাক্সটা নামার সময় সাবিহা নিজে স্লটের সাদা রেখার পাশে দাঁড়াল। ক্ষয়ে যাওয়া পাসের কোণ তার আঙুলে চেপে আছে। সে ট্রলির মুখ বামদিকে ঘুরিয়ে দিল, তারপর করিমকে বলল, “ইঞ্জিন চালু রাখেন। পরের চালানও এই দিকেই আসবে।”
লোডিং স্লটের বাম পাশে বাক্সগুলোর স্তূপ স্থির হয়ে বসল। ইঞ্জিন হালকা গুঞ্জন তুলতে তুলতে অপেক্ষা করল সাবিহার পরের ইশারার জন্য।