Fast Fiction

ফাঁদটাই উল্টে ওর গায়ে পড়ল

ড্রপ-অফ লাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে মেহরিন দুহাতে ফুলের ট্রে সামলাচ্ছিল, আর রুবায়েত খালা আঙুল তুলে বলছিলেন, “ওই সাদা গাড়িটা আগে নাও, কনের মামারা নামবে। তুমি দরজার ভেতর যাবে না, বাইরে থাকো। তোমাকে দেখলেই সবাই কাজ ধরিয়ে দেবে।” কথাটা এমন ভঙ্গিতে বলা, যেন মেহরিন মানুষ না, ভাঁজ খুলে-বন্ধ হওয়া একটা তালিকা। তার হাতে অর্ধেক ভাঁজ করা রসিদ আর গাড়ির নম্বর লেখা ছোট কাগজ, এতবার খোলা-বন্ধ হয়েছে যে কোণাগুলো সাদা হয়ে গেছে। সকাল থেকে কাঁধে জমা কাজের শক্তভাব শাড়ির ব্লাউজের সেলাই পর্যন্ত টেনে ধরেছে, তবু অতিথিরা নামলে সে-ই ছুটে ছুটে সালাম করছে, ট্রে এগোচ্ছে, বাচ্চাদের সরে দাঁড়াতে বলছে। অনুষ্ঠানভবনের কাঁচের দরজার ওপাশে ঝাড়বাতির আলো, আর এপাশে তার জায়গা শুধু কার্বের ধারে।

রুবায়েত খালা আজ কনের ফুফু-সম আত্মীয়, মুখে সবসময় মিষ্টি হাসি, কিন্তু হাতে লোহার মতো নিয়ন্ত্রণ। মেহরিনকে তিনি মাসখানেক ধরে ব্যবহার করছেন—হল বুকিং দেখা, মেনু মিলিয়ে দেওয়া, গাড়ির সময় ধরা, গ্রামের আত্মীয়দের থাকার ব্যবস্থা। কারণ মেহরিন না বলত না; কারণ তার বাবার কৃষি ঋণের কিস্তি আটকে আছে, আর কনের বড়ভাই তানভীর একসময় বলেছিল, “তুমি থাকলে সব গুছায়।” আজ সেই তানভীর ভেতরে বরপক্ষ সামলাচ্ছে; বাইরে মেহরিনকে এমনভাবে সরিয়ে রাখা হয়েছে, যেন এই বিয়ের সঙ্গে তার কোনো মুখ নেই, শুধু হাত আছে।

প্রথম ধাক্কাটা এল প্রকাশ্যেই। গেট ডেস্কের ছেলেটা প্লাস্টিক চেয়ারের কোণ ছেড়ে উঠে বলল, “আপা, আপনার জন্য ভেতরে একটুখানি বসার জায়গা—” রুবায়েত খালা কেটে দিলেন, “ওর দরকার নেই। ওই চেয়ারটা কনের চাচির জন্য রাখো। মেহরিন, তুমি দাঁড়িয়েই থাকবে। আর শোনো, আমার নামের লিস্টটা তোমার হাতে থাকবে, কিন্তু কারও সঙ্গে নিজের পরিচয় দেবে না। বলবে তুমি বাইরে কাজ দেখছ।” সামনে তিনজন খালা, দুইজন কাজিন, একগাদা আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা মুখ। চেয়ারের পিঠে ঝুলে থাকা পাতলা কাগজের মোড়ক খসখস করে উঠল, যেন অপমানও শোনে।

মেহরিন শুধু “আচ্ছা” বলল না। সে তালিকাটা নিল, চোখ নামিয়ে নয়, সোজা তাকিয়ে। তখনই প্রথম ছোট্ট একটা ফাঁক দেখা গেল। ড্রাইভার সালাম, যে সকাল থেকে তার কাছেই নির্দেশ নিচ্ছিল, রুবায়েত খালার দিকে না তাকিয়ে মেহরিনকে জিজ্ঞেস করল, “আপা, ভিআইপি গাড়ি কোন লাইনে আনব?” রুবায়েত খালা শুনে বিরক্ত হলেন, “আমার কথাই শেষ কথা। বাম লেনে রাখবা। মেহরিন, তুমি ওকে লিখে দাও।” তিনি নিজের ব্যাগ থেকে একখানা সই-করা নির্দেশপত্র বের করলেন—অনুষ্ঠানভবনের ড্রপ-অফ টাইমার, কোন লেন কখন খোলা থাকবে, সব লেখা। কাগজটা মেহরিনের হাতে ঠেলে দিয়ে বললেন, “এটা দেখিয়ে কাজ করাও। আর আমার অনুমতি ছাড়া এক সেকেন্ডও বাড়াবে না।”

সে কাগজ নিতে নিতে বুঝল, আজ খালা তাকে শুধু শ্রমিক বানাননি, দায়ও তার হাতে বেঁধে দিতে চাইছেন। কিন্তু কাগজে সই রুবায়েত খালার, হল কর্তৃপক্ষের স্ট্যাম্পও আছে। মেহরিন কাগজ ভাঁজ করল, আবার খুলল। গেট ডেস্কের ছেলেটা এক ঝলক দেখে নিল। ওর চোখে ছিল কাজের ঝুঁকি—ভুল লেন খুললে ম্যানেজারের বকুনি। এইটুকুই যথেষ্ট।

দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যার ভিড় যখন গাঢ় হলো, রুবায়েত খালা চাপ বাড়ালেন। “শোনো, বরপক্ষের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যাররা আসবে। সামনের ছাউনির নিচে যারা দাঁড়িয়ে আছে, তাদের সরাও। তোমার মামারাও থাক, ওদের পিছনে নাও।” মেহরিন থমকাল। “আমার মামারা?” “তোমার আত্মীয় না, আজ কনের অতিথি বড়। আত্মীয়তা পরে দেখিও।” কথাটা এত জোরে বলা হলো যে পাশে দাঁড়ানো দুই বৃদ্ধ ফিরেও তাকালেন। নিজের লোকের জন্য নির্ধারিত ঢোকার পাশটা, যেখানে একটু সম্মান নিয়ে মানুষ নামতে পারে, সেখান থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হল। তার কোলের ওপর রাখা ছোট ফুলের ঝুড়িটা এক বালিকার হাতে দিয়ে রুবায়েত খালা বললেন, “এটা তুমি ধরো, ওর হাতে দিলে কুঁচকে যাবে।”

মেহরিনের বুকের ভেতর কিছু শক্ত হলো, কিন্তু মুখে উঠল না। সে শুধু সালামকে ডেকে বলল, “সই-করা কাগজমতো বাম লেনেই সব ভিআইপি গাড়ি আনবা। আর গেট ডেস্কে কাগজ দেখিয়ে তারপর নামাবা।” রুবায়েত খালাই তো এ কথা বলেছিলেন। সালাম মাথা নাড়ল। গেটের ছেলেটা তালিকার পাশে নির্দেশপত্রটা গুঁজে রাখল।

তারপর জিনিসটা মঞ্চের আলোতে নয়, দরজা খোলা-বন্ধের মধ্যে ঘটল। একে একে তিনটা কালো মাইক্রোবাস এসে বাম লেনে ঢুকে দাঁড়াল। সেখানেই তখন কনের বড়চাচার পরিবার নামছে, সঙ্গে বয়স্কা দাদি। সরু জায়গা আটকে গেল। গাড়ির পেছনে গাড়ি। বাম লেনের টাইমার একবার চালু হলে নির্দিষ্ট সময়ের আগে ডান লেন খোলে না—এ নিয়ম মেহরিন আগেই জানত, কারণ বুকিং-এর দিন সে-ই শুনেছিল। রুবায়েত খালা ভেবেছিলেন, মেহরিন সবসময়কার মতো দৌড়ে গিয়ে লোক সরাবে, স্টাফ বোঝাবে, নিজের শরীর দিয়ে ফাঁক করবে। কিন্তু গেট ডেস্কের ছেলেটা সই-করা কাগজ উঁচু করে বলল, “খালাম্মা, আপনার নির্দেশে ভিআইপি সব বাম লেনে। এখন ডান লেন বন্ধ থাকবে কাউন্টডাউন শেষ না হওয়া পর্যন্ত।”

রুবায়েত খালার মুখের হাসিটা প্রথমবার কেঁপে উঠল। “আরে, আমি তো বলছি ডানটা খোলো! বরের খালুদের গাড়ি ঢুকছে।” ছেলেটা পিছু হটল না। “আপনি সই করেছেন, ম্যাডাম। টাইমার ঘুরে গেছে।”

এইখানেই ভিড়ের চোখ বদলে গেল। একটু আগেও যারা মেহরিনকে বাইরে-মানুষ ভেবে কাজে ডাকছিল, তারা এখন দেখছে কার কথা স্টাফ শুনছে, কার সইয়ে লেন বন্ধ। ঠিক তখন তানভীর কাঁচের দরজা ঠেলে বাইরে এল, মুখে ঘাম। “কী হয়েছে?” রুবায়েত খালা তেড়ে বললেন, “ওকে বলো মেহরিনকে নিয়ে গাড়ি সরাক। দাঁড়িয়ে আছে কেন?” তানভীর মেহরিনের দিকে তাকাল—দেখল তার কাঁধ শক্ত, হাতে ভাঁজ-করা কাগজ, চোখে আর সেই আগের তাড়াহুড়ো নেই।

আরেকটা গাড়ি এসে হর্ন দিল। ভেতর থেকে নামার কথা কনের শ্বশুরপক্ষের প্রবীণ আত্মীয়দের। সামনের ছাউনির নিচে জায়গা নেই; বাম লেনে আটকে থাকা দাদিকে নামাতে হুইলচেয়ার আনা যাচ্ছে না। দুজন হলকর্মী ছুটে এসে রুবায়েত খালাকেই প্রশ্ন করল, “কোন গাড়ি আগে নেব?” প্রশ্নটা তার মুখে চড়ের মতো পড়ল, কারণ উত্তর দিলেই নিজের সই-করা ফাঁদ মানতে হবে, আর না দিলেই বিশৃঙ্খলা তার নামে যাবে।

মেহরিন তখনই নিজের একমাত্র সিদ্ধান্তটা নিল। সে গেট ডেস্ক থেকে পিতলের ছোট চাবিটা তুলে নিল—ড্রপ-অফ টাইমার প্যানেলের কভার খোলার চাবি। সকাল থেকে এটা তার কাছেই ছিল, কারণ রুবায়েত খালা বলেছিলেন, “তুমি রাখো, বারবার আমার ব্যাগ খুলতে পারব না।” সে চাবিটা দু আঙুলে ধরে রুবায়েত খালার দিকে বাড়িয়ে দিল। সঙ্গে সই-করা নির্দেশপত্রটাও। শান্ত গলায় বলল, “এটা আপনার। আপনি নিজে খুলে নিজে ঠিক করেন। আমি আর আপনার নামে লেন ভাঙব না।”

চারপাশে শব্দ ছিল, তবু এই কথাটা সোজা শুনল সবাই কাছাকাছি যারা ছিল। তানভীর এক পা এগিয়ে এসে থামল। রুবায়েত খালা যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। “তুমি আমাকে এই সময়ে ছেড়ে যাচ্ছ?” “আমি কাউকে ছাড়ছি না,” মেহরিন বলল, “আমি শুধু আপনার সই আপনার হাতে ফিরিয়ে দিচ্ছি।” সে চাবি আর কাগজ তার হাতে চেপে দিল। কাগজের শুকনো খসখস শব্দটা স্পষ্ট শোনা গেল।

এবার খালার গলায় সেই পুরনো কর্তৃত্ব ফিরে এল, কিন্তু একটু বেশিই তীক্ষ্ণ হয়ে। অতিরিক্ত এক ধাক্কাই দরকার ছিল। তিনি গেট ডেস্কের ছেলেটাকে চেঁচিয়ে বললেন, “সবাই শুনে রাখো, আরেক ব্যাচ গাড়ি একসাথে ঢোকাও। এই মুহূর্তে। বরের পক্ষ অপেক্ষা করবে না। টাইমার বাড়াও, ডান লেনও খোলো!” ছেলেটা হাত তুলল, “ম্যাডাম, ডাবল ওপেন করলে সামনের সুরক্ষা ব্যারিয়ার উঠবে না—” “আমি বলছি করো! আমার নামে করো!”

“আমার নামে করো”—এই কথাটাই তাকে শেষ করল।

ছেলেটা আরেকজন কর্মীকে ডাকল। তারা দৌড়ে প্যানেলের কাছে গেল। রুবায়েত খালা নিজে কভার খুলে সই-করা নির্দেশপত্র দেখিয়ে বললেন, “দুই লেন খুলো।” কর্মীরা তার আদেশ অনুযায়ী অতিরিক্ত সুইচ চাপতেই সামনের ব্যারিয়ার আধখানা উঠে থেমে গেল, তারপর কাঁপতে কাঁপতে আবার নেমে এল। ভেতর থেকে বেরোতে থাকা গাড়িও আটকাল, বাইরে ঢুকতে থাকা গাড়িও। তিন দিক থেকে হর্ন একসাথে চেপে বসল। বাম লেনের মাইক্রোবাসের দরজা খোলা, দাদি নামার মাঝপথে; ডান লেনে বরপক্ষের কালো সেডান কাত হয়ে দাঁড়িয়ে গেল; পেছনের গাড়ি রিভার্স নিতে না পেরে লাইনে দাঁড়ানো অতিথির পায়ের কাছে ধুলা ছুড়ে দিল। মুহূর্তে ড্রপ-অফ কার্ব জ্যাম হয়ে গেল, আর হলকর্মীরা একসঙ্গে একটাই নাম বলতে লাগল—“খালাম্মা, আপনার অর্ডার ছিল!”

রুবায়েত খালা এবার নিজেই সামনে ছুটে গিয়ে হাত নাড়লেন, “পিছাও, পিছাও!” কিন্তু কেউ তার কথা শুনে সরতে পারছে না। এক ড্রাইভার জানালা নামিয়ে কাগজ দেখাল, “আমাকে তো এই লেনে আসতে বলছে।” আরেকজন বলল, “ডান দিকও খুলতে বলেন নাই?” গেট ডেস্কের ছেলেটা উচ্চস্বরে, ভয়ে শুকনো গলায় বলে উঠল, “রেকর্ডে ম্যাডামের নির্দেশ গেছে।” আশেপাশে যারা আত্মীয় দাঁড়িয়ে ছিল, তাদের মুখে অস্বস্তির টান। কনের বাবার বড়ভাই কপালে হাত দিলেন; বরের এক খালু গাড়ি থেকে অর্ধেক নেমে আবার বসে পড়লেন, কারণ পা রাখার জায়গা নেই। রুবায়েত খালার শাড়ির আঁচল একবার ব্যারিয়ারের ধাতব কোণায় আটকে ছিঁড়ে গেল, তবু তিনি সেটা ছাড়িয়ে আবার চেঁচালেন। এবার গলায় ভদ্রতার লেপ নেই; শুধু ভাঙা তাড়া।

তানভীর কাছে এসে থামল মেহরিনের পাশে। খুব নিচু গলায় বলল, “তুমি খুলে দিতে পারবে?” প্রশ্নে অনুরোধ ছিল, পুরনো ভরসাও ছিল, কিন্তু সে ভরসা দেরিতে এসেছে। মেহরিন তার দিকে না তাকিয়েই বলল, “চাবি, কাগজ, নির্দেশ—সব খালার হাতে।” তানভীরের মুখে কথা থেমে গেল। এটাই ছিল সীমা। সে আর হাত বাড়ায়নি।

রুবায়েত খালা এখন লোক ডাকার ভঙ্গি ছেড়ে মিনতি-জবরদস্তির মাঝামাঝি স্বরে বলছেন, “মেহরিন, এদিকে আসো। তুমি তো বোঝো। একবার শুধু সেট করে দাও।” সামনের সারির দুই খালা, যারা একটু আগে তার জন্য চেয়ারও রাখেননি, তারা সরে দাঁড়ালেন। মেহরিন তখন ধীরে ধীরে প্যানেলের দিকে গেল, কিন্তু তার গতি উদ্ধারকারীর মতো নয়; মালিকানা ফেরত নেওয়া কারও মতো। কর্মীরা নিজে থেকেই সরে জায়গা করে দিল। গেট ডেস্কের ছেলেটা তার হাতে প্যানেলের কভার ধরল। এটাই ক্ষমতার উল্টে যাওয়া—কেউ ঘোষণা করল না, তবু সবাই দেখল।

প্যানেলের ভেতরে লাল ডিজিটে কাউন্টডাউন চলছে। অতিরিক্ত আদেশের কারণে সিস্টেম সেফটি-লকে গেছে; কোনো লেনই পুরো খোলা নয়, যতক্ষণ না বর্তমান চক্র শেষ হয়। রুবায়েত খালা হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন, “দ্রুত করো, অতিথিরা দাঁড়িয়ে আছে।” মেহরিন তার দিকে ফিরল না। শান্ত স্বরে কর্মীকে বলল, “মালিকপক্ষের সই যার, নিয়ন্ত্রণ তার। আমি তো শুধু বাইরে কাজ দেখতাম, খালাম্মা তাই বলেছিলেন।” কথাটা ছুরি নয়; ছুরির হাতল ফেরত দেওয়া।

রুবায়েত খালার মুখের রং নেমে গেল। তিনি হাত বাড়িয়ে বললেন, “চাবিটা দাও।” মেহরিন তখন নিজের মুঠো খুলল। পিতলের চাবিটা তার তালুতে এক সেকেন্ড শুয়ে থেকে আবার রুবায়েত খালার হাতেই রাখল—যেমন শুরুতে দিয়েছিল, তেমনই, কিন্তু এবার সবাই দেখে। তারপর প্যানেলের নীচের ছোট টাইমার-সুইচে আঙুল রেখে বলল, “আপনার বাড়তি আদেশে লক পড়েছে। এই চক্রটা শেষ হলেই কার্ব খালি হবে। এর আগে আমি কিছু ভাঙব না।”

রুবায়েত খালা যেন আরেকবার তাকে ডাকতে চাইলেন। মেহরিন সুইচ ছেড়ে দিল। লাল সংখ্যা তিন, দুই, এক। প্যানেলের ভেতর থেকে ক্ষীণ একটা টিকটিক শব্দ পাতলা হয়ে এলো, সাউন্ড সিস্টেমের বেসও যেন দূরে সরে গেল। শূন্যে পৌঁছাতেই ড্রপ-অফ কার্বের শব্দ এক ধাক্কায় কেটে ঠান্ডা হয়ে গেল।