পুরো দৃশ্যটাই উল্টে গেল
রাশেদ ভাই লোহার চেকলিস্ট বোর্ডটা মেহরাবের বুকের সামনে ঠাস করে নামিয়ে বলল, “এই লাইনে দাঁড়া। একটাও ঠেলা বের হবে না, আগে সই কর।”
রিসিভিং লেনের মুখ আটকে আছে তিনটা হাতঠেলা, দুইটা ভ্যান, আর বাঁধা পেঁয়াজের বস্তা। লোডিং বেয়ের রোলার দরজা আধখোলা, ভেতর থেকে ঠান্ডা বাতাস নয়, বরং পুরনো আলুর গন্ধ আর ভেজা কাঠের গরম বাষ্প বেরোচ্ছে। ধাতব টেবিলের কোণে চা ঠান্ডা হয়ে গিয়ে বাদামি দাগ ফেলেছে; তার পাশেই বোর্ডের ক্লিপে আটকানো কাগজে পুরনো কলমচাপের দাগ। মেহরাব একবার তাকিয়েই বুঝল—চেকমার্কগুলো আগে থেকেই মারা, কেবল তার সইটাই ফাঁকা রাখা হয়েছে।
এই ফাঁকা জায়গাটাই আজ তার গলায় ফাঁস। গত মাসে এক রাতের ক্ষতিটা এখনও তার নামে ঝুলছে—যেদিন রিলিজ আটকে দিয়ে সকাল পর্যন্ত মাল দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল, আর পরে বলা হয়েছিল সে নাকি হিসাব বুঝে না। সেই দেনা এখন আবার টেনে তোলা হয়েছে, ঠিক ঈদের আগে, যখন বাড়িতে মা ওষুধ কমিয়ে খাচ্ছে আর ছোট বোনের কলেজের ফি বাকি। তবু মেহরাব মাথা নিচু করল না। সে শুধু দেখল, বেয়ের মুখে দাঁড়ানো কুলিরা অকারণে হাতল ধরে আছে, কারণ রিলিজের শব্দ না এলে কেউ নড়বে না।
রাশেদ ভাই গলা উঁচু করল যেন পুরো গুদাম শুনে। “সবাই শুনেন। মাল গেট ছাড়বে না। কম পেয়াজ, ছেঁড়া বস্তা, ভেজা প্যালেট—সব এই ছেলের রিসিভে গেছে। এখন নিয়মমাফিক সই দিয়ে নেবে। পরে কান্নাকাটি চলবে না।”
দুইজন ঠিকাদারি ড্রাইভার মুখ ঘুরিয়ে তাকাল। একজনের হাতে চালান, অন্যজন দাঁত দিয়ে সুতা কাটছে। শীলা আপা, হিসাব টেবিলের পাশে, খাতা বন্ধ করেও চুপ রইলেন। চুপ থাকা মানে অস্বীকার নয়; চুপ থাকা মানে দেখছি। মেহরাব সেটা জানে।
“আমি রিসিভে ছিলাম,” মেহরাব বলল, “কিন্তু রিলিজ আমার হাতে ছিল না।”
“ওহ, খুব বড় কথা শিখছ?” রাশেদ ভাই কাগজে আঙুল ঠুকল। “রিলিজ কার হাতে ছিল সেটা পরে হবে। আগে লেখ—সব পণ্য ঠিকঠাক বুঝে নিয়েছি, ক্ষতি পরবর্তীতে ধরা পড়েছে। নিচে সই। এখুনি।”
‘পরবর্তীতে’ শব্দটার নিচে কালি গাঢ়। মেহরাবের চোখ সেখানে আটকাল। মানে এখন যদি সই দেয়, পরে ধরা পড়া যে কোনো ক্ষতির মালিক সে। আজকের না, আগেরও। কাগজের ভাষা এত মোলায়েম যে তাতেই ফাঁদ আরও টাইট।
রাশেদ ভাই এবার সামাজিক চাপটা নামাল। “তোর মামার বাসায় আমি খাই-দাই, তোদের বাড়ির লোকজন আমাকে কী বলে জানিস? বড় ভাই। আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা আছে বলেই তো এতদিন ধরে রাখছি। নইলে তোকে এ বেয়ের ধারে আসতেও দিতাম না। আজ সামনে সই কর। আমার মুখটা রাখ।”
কথাটা এমনভাবে বলা হল, যেন সই না করলে সে শুধু অফিসের না, ঘরেরও বেয়াদব। পাশের কুলি জসিম চোখ নামিয়ে ফেলল। নাঈম, রাশেদের খালাতো ভাই, দরজার চাবি আঙুলে ঘোরাতে ঘোরাতে দাঁড়িয়ে হাসল। “এইটুকু নিয়ম মানলে মানুষ ছোট হয় না, মেহরাব।”
ছোট হয় না—কিন্তু ছোট বানানো যায়। মেহরাব সেটা আগেই দেখেছে। একবার সবার সামনে তাকে ডেকে বলা হয়েছিল, “পড়াশোনা করে কী হবে, কাজ তো বুঝিস না।” আর বাড়িতে মা শুনেছিল অন্যের মুখে। আজ সেই স্বরই ফিরে এসেছে।
মেহরাব কাগজটা টেনে নিল না। সে বোর্ডের মাথায় লেখা লাইন পড়ল—‘বে-৩ কৃষি পণ্য রিলিজ চেক’। তার নিচে ঘরগুলো: গাড়ি নম্বর, প্যালেট গণনা, সিল অক্ষত, দরজা খোলার অনুমতি, রিলিজ সময়, গ্রহণকারী সই। প্রথম চার ঘরে টিক মারা। ‘দরজা খোলার অনুমতি’-র পাশে টিকের সঙ্গে ছোট করে initials: আর.এইচ. রাশেদ হোসেন। ‘রিলিজ সময়’ও লেখা। কিন্তু দরজা তখনও আধখোলা, আর গাড়ি একটাও বের হয়নি।
এখানেই প্রথম ফাঁক। মেহরাব মাথা তুলল না, শুধু বলল, “নিয়মমাফিক হলে আগে দরজা খোলার অনুমতি যিনি দেন, তিনি উপস্থিত থেকে রিলিজ দেন। তারপর গ্রহণকারী সই করে।”
রাশেদ ভাই তাচ্ছিল্য করল। “নিয়ম আমাকেই শেখাবি?”
“আপনিই তো নিয়ম ধরেছেন,” মেহরাব শান্ত গলায় বলল।
শব্দগুলো বড় কিছু নয়, কিন্তু আশেপাশে দুজন ঠেলাওয়ালা হাতল থেকে হাত সরিয়ে নিল। শীলা আপা খাতা আবার খুললেন। ছোট, দৃশ্যমান, ঠান্ডা একটা সরে-যাওয়া হল—যেন ঘরটা হালকা কাত হয়ে গেছে। রাশেদ ভাই সেটা টের পেয়ে গলার জোর বাড়াল।
“ঠিক আছে। সবাই সাক্ষী থাকেন,” সে বলল। “এই ছেলে এখন সবার সামনে কাগজ পড়ে সময় নিচ্ছে। দেরির ক্ষতি যার হবে, তার নামও লিখব। মেহরাব, নিচে লিখ—তুমি যাচাই করে গ্রহণ করেছ। আর এই যে নাঈম, সে সাক্ষী।”
নাঈম সঙ্গে সঙ্গে সামনে এল। “আমি সাক্ষী।”
মেহরাব এবার বোর্ড হাতে নিল। পুরনো বলপেনটা ক্লিপে আটকে ছিল; মাথায় নীল কালি শুকিয়ে গাঢ় হয়ে আছে। সে ঢাকনা খুলে কাগজের নিচে সই লাইনের ওপর কলম ধরল, কিন্তু নাম লেখার বদলে আঙুল থামিয়ে রাখল। তারপর খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করল, “সাক্ষী কোথায় সই দেবে?”
রাশেদ ভাই বিরক্ত হয়ে বলল, “নিচে। তোর পরে।”
“আর রিলিজ কন্ট্রোল?”
“উপরে তো আছে।” রাশেদ ভাই কাগজ কেড়ে নিয়ে নিজেই দেখাল—‘দরজা খোলার অনুমতি’ আর ‘রিলিজ সময়’-এর পাশে তার initials, তার লেখা সময়।
সেই মুহূর্তে শীলা আপা মাথা তুললেন। “তাহলে রিলিজ আপনি খুলেছেন নাকি?” তাঁর গলায় বিস্ময় কম, হিসাব বেশি।
রাশেদ ভাই গড়গড় করে বলল, “মানে, প্রক্রিয়াগত—আমার অধীনে—”
মেহরাব কলমটা নামাল না। “আজ দরজা যদি না খুলে থাকে, কিন্তু কাগজে রিলিজ সময় লেখা থাকে, তাহলে আটকে থাকা কার্টের ক্ষতি কার?”
পাশের ভ্যানে বসা ড্রাইভার নিচে নেমে এল। সে নিজের চালানে চোখ বুলিয়ে আবার বোর্ডের দিকে তাকাল। কারণ দেরির মাশুল তারও আছে। নাঈমের আঙুলে ঘোরা চাবিটা এবার থেমে গেল।
রাশেদ ভাই তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে বলল, “তুই আগে সই কর। পরে কথা হবে।”
“কিসের নিচে?” মেহরাব বোর্ডের ওপর আঙুল রাখল। “‘রিলিজ সময় ৯:৪০’। এখন বাজে দশটা বারো। দরজা আপনার চাবি ছাড়া খোলেনি। কার্ট আটকে আছে। তবু আপনি আগে থেকে টিক মেরেছেন, সময় লিখেছেন, initials দিয়েছেন। তারপর আমাকে দিয়ে লিখাতে চান ‘পরবর্তীতে ধরা ক্ষতি’?”
গরম বায়ুর মধ্যে ফ্যানের ঘুরঘুর শব্দ হঠাৎ আলাদা করে শোনা গেল। পাশের সরু করিডোরে টিউবলাইটের ভনভন, যেন কাগজের ওপর ঝুঁকে আছে। শীলা আপা এবার দাঁড়িয়ে এলেন। “বোর্ডটা দিন।”
রাশেদ ভাই বোর্ড ছাড়ল না। “শীলা আপা, আপনি থাকেন। আমি সামলাই।”
কিন্তু সামলানো জিনিসটা ইতিমধ্যে হাত ফসকে গেছে। কারণ সে-ই একটু আগে সবাইকে সাক্ষী ডেকেছে, সে-ই জোর করে চেক-সইয়ের ক্রম মুখে বলেছে, সে-ই নিজের initials দেখিয়ে প্রমাণ করেছে রিলিজ নিয়ন্ত্রণ তার পাশে। মেহরাব কিছু ব্যাখ্যা করল না। সে শুধু সই করল না।
নাঈম গলা খাঁকারি দিল। “এইভাবে কাজ আটকে রাখা ঠিক না, ভাই। গাড়ি আছে—”
“চাবি দাও,” শীলা আপা বললেন।
“চাবি আমার কাছে,” নাঈম উত্তর দিল, কিন্তু আগের আত্মবিশ্বাস নেই।
মেহরাব এবার প্রথমবারের মতো সরাসরি নির্দেশ দিল, “বে-৩ এর কার্ট দাঁড়িয়ে থাকবে। কেউ হাতল ছাড়বেন না। রিলিজের মালিকানা যিনি কাগজে নিয়েছেন, আগে তিনি দরজা খুলে সময় ঠিক করবেন।”
শব্দ কম, কিন্তু কুলিরা এবার তার দিকেই তাকাল। জসিম হাত ঠেলার সামনে এসে দাঁড়াল, যেন কারও ভুল নির্দেশে এখন আর ঠেলা ছাড়বে না। শীলা আপা খাতা নিয়ে টেবিলের পাশে এলেন, যেখানে ঠান্ডা চায়ের দাগ গোল হয়ে শুকিয়ে আছে। “রাশেদ সাহেব,” তিনি বললেন, “আপনি যদি ৯:৪০-এ রিলিজ দিয়ে থাকেন, আর দরজা এখনো বন্ধ থাকে, তাহলে লেন দেরির ক্ষতি আপনার খাতে যাবে। কারণ কাগজে রিলিজ আপনি নিয়েছেন।”
রাশেদ ভাইর চোখ মুহূর্তে কেঁপে উঠল। “কাগজটা খসড়া।”
“তাই?” শীলা আপা বোর্ডের ওপর ঝুঁকলেন। “তাহলে খসড়ায় initials কেন? আর সাক্ষী ডেকে সই নিতে কেন?”
রাশেদ ভাই এবার শেষ চেষ্টা করল, যে চেষ্টা সবসময়ই পুরোনো ক্ষমতা করে—আরেক দফা গলা। “মেহরাব, তুই সীমা পার হইস না। তোর মায়ের সামনে আমি কী বলব ভাবছিস? আজ যা বলছি, সেটা তোর ভালোর জন্য। আমার ওপর উঠবি না।”
মেহরাবের মুখ শক্ত হল, কিন্তু গলা না। “আমার মায়ের কথা বেয়ের মধ্যে আনবেন না। কাগজে যার টিক, যার সময়, যার initials—রিলিজ তার।”
এই এক লাইনে ঘরের ভেতর দূরত্ব বদলে গেল। আত্মীয়স্বজনের জানাশোনার দাবিটা হাওয়ায় ঝুলে রইল, কিন্তু আর কাজ করল না। কারণ সেটা এখন কাগজের পাশে দাঁড়াতে পারছে না।
রাশেদ ভাই বোর্ড উল্টে নিতেই মেহরাব থামাল। “উল্টাবেন না। সামনে রাখেন।” তারপর সে শীলা আপার দিকে তাকাল। “সাক্ষী লাইনে আগে উনার নাম নিন। যিনি আমাকে সই করতে বললেন।”
“অসম্ভব!” রাশেদ ভাই ঝাঁকিয়ে উঠল।
“আপনিই তো বললেন, সবাই সাক্ষী থাকেন,” শীলা আপা শান্ত গলায় বললেন। তাঁর আঙুল একে একে ঘর ছুঁল—দরজা খোলার অনুমতি, রিলিজ সময়, initials, সাক্ষী। “যেহেতু গ্রহণকারী সই হয়নি, মাল এখনো গ্রহণ হয়নি। তার মানে রিলিজ-পূর্ব দায় এ টেবিল ছাড়েনি। আর টেবিলে কার সইচিহ্ন আছে, তা সবাই দেখছে।”
এবার দৃশ্যটা দ্রুত বদলাল। ড্রাইভার নিজের চালান শীলা আপার সামনে ধরল, “আপা, দেরির নোটটা এখনই দেন।” জসিম চুপচাপ কার্ট ঘুরিয়ে এমনভাবে দাঁড় করাল, যাতে দরজা না খোলা পর্যন্ত কিছুই বেরোতে না পারে। নাঈম চাবি পকেটে ঢোকাতে গিয়ে থেমে গেল; কারণ এখন চাবি লুকোনো মানে আরও স্পষ্ট দায়।
রাশেদ ভাই মরিয়া হয়ে বোর্ডটা মেহরাবের দিকে ঠেলল। “ঠিক আছে, তুই লিখ—গ্রহণ স্থগিত। লিখে দে। কিন্তু সই কর।”
এটাই তার বাড়াবাড়ি। সে ভেবেছিল যে কোনো সই হলেই ফাঁকাটা মেহরাবের নামে চলে যাবে। মেহরাব কলম নিল, কিন্তু নিজের নামের লাইনে গেল না। বোর্ডটা দুই হাতে ফিরিয়ে দিল, এমনভাবে যে কাগজের মাথা রাশেদ ভাইয়ের বুকের দিকে। “গ্রহণকারী সই করব না,” সে বলল। “যিনি মিথ্যা রিলিজ দিলেন, তিনি লিখবেন—রিলিজ পূর্বে চিহ্ন দেওয়া হয়েছে, দরজা খোলা হয়নি, মাল হস্তান্তর অসম্পূর্ণ।”
রাশেদ ভাই পিছিয়ে গেল, যেন বোর্ডটা গরম। “আমি কেন লিখব?”
মেহরাব এবার আর একচুলও বাড়তি বলল না। “কারণ রিলিজ আপনার।”
শীলা আপা টেবিলে খাতা খুলে বসেছেন। তাঁর ডান পাশে দেরির হিসাবের কলাম, বাঁ পাশে দায়ের নাম। “লিখুন,” তিনি বললেন। “নইলে আমি কাগজের বর্তমান অবস্থাই নথিভুক্ত করব।”
এক সেকেন্ড, দুই, তিন। বাইরে হর্ন। ভেতরে পচা আলুর গন্ধ। টিউবলাইটের ভনভন। রাশেদ ভাইয়ের কপালে ঘাম জমল। তারপর সে বোর্ড টেনে নিয়ে ঝট করে নিচে লিখল—‘দরজা খোলা হয়নি, হস্তান্তর সম্পন্ন নয়।’ কিন্তু তাতেও বাঁচা হল না; কারণ তার নিচে নাম দিতে হল। নামের পরে সময়। আর তার আগেই উপরে মিথ্যা রিলিজ সময় দাঁড়িয়ে আছে।
শীলা আপা সঙ্গে সঙ্গে খাতায় দেরির খরচ, ফেরত গাড়ির অপেক্ষা, লেন বন্ধের নোট তার নামে টেনে নিলেন। ড্রাইভার চালানে আঙুল ঠুকল। “আমার ভাড়া দাঁড়াবে।”
জসিম কার্টের হাতল ছেড়ে দিল না, কিন্তু এবার কারও দিকে তাকিয়ে নয়—মেহরাবের দিকে অপেক্ষা করে। মেহরাব বলল, “এখন দরজা খুলুন। নতুন সময় দিন। তারপর যা রিসিভ হবে, তা-ই লেখা হবে।”
রাশেদ ভাই চাবির দিকে হাত বাড়িয়ে থমকাল। নাঈম চাবি এগিয়ে দিলেও সেটা আর ভাইসুলভ দেখাল না; যেন দেরি করে ফেরত দেওয়া একটা চাবি, যার সঙ্গে কর্তৃত্বও একটু দেরিতে, একটু নোংরা হয়ে ফিরে আসে। রাশেদ ভাই দরজা খুলল। ধাতব রোলার ওপরে উঠতে গিয়ে কেঁচে উঠল, আর ভেতরের আটকে থাকা ঠেলাগুলো একে একে নড়ল। কিন্তু বেরোনোর সংকেত মেহরাব না দেওয়া পর্যন্ত কেউ ঠেলল না।
মেহরাব বোর্ডটা আবার নিল। এবার সে উপরের পুরনো টিক, মিথ্যা সময়, নতুন স্বীকারোক্তি, সব একসঙ্গে পড়ে নিয়ে নিচের ফাঁকা গ্রহণকারী ঘরে লিখল—‘রিলিজ সংশোধনের পর গ্রহণ আরম্ভ’। তারপর নিজের নাম লিখল, সময় দিল নতুনটা। সে বোর্ডটা নিয়ে চেকলিস্ট ডেস্কে রাখল, ঠান্ডা চায়ের দাগের ঠিক পাশেই, যেখানে পুরনো কলমের দাগ কাগজের নিচে চেপে আছে। এক হাত তুলে কাগজটা সমান করে দিল। রিগ করা চেকলিস্টটা ডেস্কে চেপ্টা হয়ে রইল; উপরের টিকগুলো এখন নিচের স্বীকারোক্তি আর নতুন সময়ের পাশে ঘুরে গিয়ে তাদের মালিককেই দেখাচ্ছে। মেহরাবের হাত কাগজ ছেড়ে উঠল।