Fast Fiction

হেসেছিল আগে, থামল পরে

“সাবিহা, ওই টেবিল ছেড়ে ট্রেটা ধরো—এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে ছবি খারাপ দেখায়,” মাহিরা ভাবি হাত বাড়িয়ে তার আঙুলের ফাঁক থেকে ট্যাবটা টেনে নিল, তারপর পাশের ছেলেটাকে বলল, “অপারেটর জায়গায় রায়হান বসবে। ও জানে কীভাবে ক্লায়েন্টের সামনে কথা বলতে হয়।” সামনের সারির আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা মুখগুলো তখনই ঘুরে তাকাল; কেউ ঠোঁট টিপে হাসল, কেউ চেয়ারের কভার সোজা করতে করতে এমন ভঙ্গি করল যেন ব্যাপারটা খুব স্বাভাবিক। সাবিহার হাতে এক ধাক্কায় ধরিয়ে দেওয়া স্টিলের ট্রেতে কাপ কেঁপে উঠল। ঢাকার এই হোটেল বলরুমে আলো বেশি, মানুষও বেশি; অপমান লুকোনোর জায়গা কম। সকাল থেকে সে লাইভ বিক্রির ড্যাশবোর্ড বসিয়েছে, পণ্যের প্রশ্নোত্তরের তালিকা সাজিয়েছে, এমনকি স্ট্রিমের ব্যাকআপ লিংকও সে-ই তুলে রেখেছে—আর এখন তাকে সামনের সারির আইল ধরে চা বিলাতে হবে।

দরজার অর্ধেক খোলা ফ্রেমে এক সেকেন্ড থেমে সে মাহিরা ভাবির দিকে তাকাল। চোখে অনুনয় ছিল না। ট্রে সে নিল, কিন্তু টেবিলের কোণায় রাখা কালো অ্যাক্সেস-কার্ডটা তুলে নিজের ওড়নার ভাঁজে গুঁজে ফেলল—যেটা দিয়ে কনসোল টেবিলের নিচের সুরক্ষিত বাক্স খোলা যায়। মাহিরা ভাবি সেটা খেয়াল করেনি; ব্যস্ত ছিল রুবেল মামার দিকে মিষ্টি মুখ করে বলায়, “মেয়েদের মধ্যে সাবিহা খুব কাজের, দৌড়াদৌড়ির জিনিস ও-ই ভালো পারে।”

রুবেল মামা ফ্রন্ট রো-র চেয়ারে বসে গম্ভীর গলায় শুধু বললেন, “মুখ সামলে চলিস। আজ বিনিয়োগকারীরা আছে।” কথাটা কার জন্য, বোঝা গেল না। কিন্তু মাহিরা ভাবি মাথা নেড়ে যেন আশীর্বাদ পেল। সাবিহার কাঁধে রাতভর কাজের জমা শক্ত ভাব ছিল; হাতার কাছে কুঁচকে থাকা কাপড়, কবজিতে বাসকার্ডের ক্ষয়ে যাওয়া ধার, সবকিছু মিলিয়ে তাকে এই চকচকে আয়োজনের ভেতর আরও নিচু দেখাচ্ছিল। সে আইলের ধারে দাঁড়াল, ট্রে বুকে সমান তুলে। কনসোল টেবিলটা সেখান থেকে তিন হাত দূরে, অথচ সেই তিন হাতের ফাঁকটাই আজ তাকে অযোগ্য বলে সাজিয়ে রাখল।

শোকেস শুরু হতেই বিপদ ধরা দিল। বিশাল স্ক্রিনে “কৃষি-সাথী স্মার্ট কিট” লেখা উঠল, তারপর আটকে গেল অর্ডার সংখ্যার জায়গায়। রায়হান গলায় মধু মেখে বলছিল, “আমাদের সিস্টেম রিয়েল-টাইমে...” এর মধ্যেই লাইভ মন্তব্যের ফিড বন্ধ হয়ে কালো স্ক্রিন। সামনের সারির দুই জেলা-ডিলার একে অপরের দিকে তাকাল। ফারহান, ইভেন্ট-সমন্বয়ক, দৌড়ে এসে কনসোলের পাশে ঝুঁকল। মাহিরা ভাবি ঠোঁট চেপে ফিসফিস করল, “কেউ যেন বুঝতে না পারে।” তারপর জোরে বলে উঠল, “সাবিহা, আইলে দাঁড়িয়ে কী করছ? চা দাও, চা! অতিথিরা বসে আছে।”

সাবিহা ট্রে হাতে এক পা এগিয়েই স্ক্রিনের নিচের লাল সিগন্যাল দেখতে পেল। ব্যাকআপ সার্ভার অন হয়নি। রায়হান ভুল কিউ চাপছে। সে শান্ত গলায় বলল, “ডানপাশের রাউটারটা রিস্টার্ট না করে লাভ হবে না। আর ব্যাকআপ লিংক—” মাহিরা ভাবি তার দিকে না তাকিয়েই হাত তুলল, যেন মশা তাড়ায়। “চুপ। সামনে কথা বলো না। ট্রে নিয়ে দাঁড়াও।” পাশে দুই খালা-ফুফু এই দৃশ্য দেখে চোখ নামিয়ে নিলেও কান নামাল না। অপমান যত খোলা, তত আরাম তাদের।

আরও খারাপ হলো যখন স্ক্রিনে বুকিং নম্বর শূন্যে নেমে গেল। সামনের সারি থেকে আনোয়ারা আপা—নরসিংদীর বড় কৃষি-উদ্যোক্তা—চেয়ার থেকে আধা উঠে বললেন, “আমার অগ্রিম বুকিং দেখাচ্ছে না কেন? আমি তো লিংকে ঢুকে আগে থেকেই ফরম পূরণ করেছি।” রায়হান জবাব দিতে গিয়ে তোতলাতে লাগল। ফারহান কনসোলের তার খুলে আবার লাগাচ্ছে, যেন তারে সমস্যা হলেই ইজ্জত বাঁচে। মাহিরা ভাবি এবার সাবিহাকে আরও কাছের আইল-এ ঠেলে দিল, “এদিকেই থাকো। সামনে কেউ চা চাইলে যেন অপেক্ষা না করে।”

ট্রে হাতে দাঁড়িয়েই সাবিহা বলল, “আপা, আপনার বুকিং গেছে, কিন্তু স্ট্রিমের ব্যাকআপ ওঠেনি। নীচে কিউ জমে আছে।” আনোয়ারা আপা মাথা ঘুরিয়ে সরাসরি তার দিকে তাকালেন। “কোথায় কিউ?” এই প্রথম প্রশ্নটা রায়হানের দিকে না গিয়ে সাবিহার দিকে এল। মাহিরা ভাবির কপাল কেঁপে উঠল। সে দ্রুত বলল, “ও টেকনিক্যাল কিছু বোঝে না, রান্নাঘরের সাথে ঘোরাঘুরি করছিল—” কিন্তু আনোয়ারা আপা হাত তুলে থামিয়ে দিলেন, “মেয়েটাকে বলতে দিন।”

সাবিহা ট্রে বাম হাতে ধরে ডান হাতের দুই আঙুল তুলে কনসোলের নিচে দেখাল, “লোকাল ক্যাশে ভরে গেছে। ব্যাকআপ চাবি ছাড়া খুলবে না। যে লাল আলোটা দেখছেন, ওইটা।” পাশের সারি থেকে আরেকজন জিজ্ঞেস করল, “তাহলে এখন কী করবেন?” আবারও প্রশ্নটা তার দিকেই ছুটে এলো। ফারহান অনিশ্চিত চোখে রায়হানের মুখ দেখল, তারপর সাবিহার দিকে। রায়হান মুখ খুলে বলল, “Actually—” কিন্তু শব্দটাই ঘরে বেমানান লাগল। কেউ শুনল না।

এইটুকুই ছিল প্রথম ফাটল। যে আইলে সে কেবল চা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিল, সেই আইলের সামনে দুজন উঠে এসে স্ক্রিনের বদলে তাকে দেখতে লাগল। মাহিরা ভাবি হেসে পরিস্থিতি সামলাতে চাইল, “গ্রাহকদের সামনে অযথা টেনশন না বাড়াই। ফারহান, তুমি দেখো। সাবিহা, ট্রে নিয়ে ঘুরো।” কিন্তু ফারহান ইতিমধ্যে বলেছে, “চাবি কার কাছে?” রায়হান থমকাল। মাহিরা ভাবি উত্তর দেওয়ার আগেই সাবিহা ওড়নার ভাঁজ থেকে কার্ডটা বের করল। স্টিলের ট্রেতে কাপের পাশে কালো কার্ডটা পড়তেই এক টক্ শব্দ হলো, ছোট অথচ ধারালো। সামনে বসা রুবেল মামার ভুরু সরে উঠল।

মাহিরা ভাবি এবার সত্যিই কড়া হলো। সে এক পা এগিয়ে এসে নিচু গলায়, তবু এমন নিচু নয় যে অন্যেরা না শোনে, বলল, “কার্ডটা দাও। এখন নাটক কোরো না। আত্মীয়স্বজন সব আছে। মেয়েমানুষ হয়ে সামনের লাইনে দাঁড়িয়ে ঝগড়া মানায় না। ট্রে নাও, ভেতরে যাও।” শেষ কথাটা সে এমন ভঙ্গিতে বলল যেন সাবিহা দেরিতে ফেরত দেওয়া চাবির মতোই অপ্রয়োজনীয়।

সাবিহা কার্ডটা আঙুলে ধরে থাকল। তার কণ্ঠ উঁচু হলো না, কিন্তু আইলের ধার দিয়ে ছড়িয়ে পড়ল, “আমি ভেতরে গেলে এই শোকেস এখনই বন্ধ হবে। আর আমি থাকলে পাঁচ মিনিটে উঠবে।” কথা শুনে এক বৃদ্ধ খালু চশমা নামিয়ে তাকালেন। আনোয়ারা আপা সোজা হয়ে বসলেন। ফারহান স্পষ্ট গলায় বলে ফেলল, “ম্যাডাম, ও-ই সকালে কনফিগার করছিল।” মাহিরা ভাবি মুহূর্তেই তার দিকে ফিরল, “তোমাকে কে কথা বলতে বলেছে?”

এবার প্রতিরোধটা প্রকাশ্যে ভাঙতে শুরু করল। স্ক্রিনে হঠাৎ রি-লোডের বদলে “সেশন এক্সপায়ার্ড” উঠতেই সামনের সারিতে চাপা গুঞ্জন ছড়াল না; বরং দু-তিনজন একসঙ্গে বলে উঠল, “ওকে করতে দেন।” “চাবি যেহেতু ওর কাছে, ও-ই খুলুক।” “আমার বুকিংটা আগে দেখান।” চোখের রেখা বদলে গেল; যারা একটু আগে ট্রের কাপ দেখছিল, তারা এখন তার হাতে ধরা কার্ড দেখছে। মাহিরা ভাবির গলায় প্রথমবারের মতো আটকে যাওয়া শব্দ উঠল, “এটা আমাদের ঘরের ব্যাপার, বাইরে—”

“না,” সাবিহা এবার তাকে কাটল। ট্রেটা সে সামনের সারির খালি চেয়ারের হাতলে নামিয়ে রাখল, যেন কাপগুলোকেও পক্ষ বেছে নিতে হচ্ছে। “এটা এখন ঘরের ব্যাপার না। এটা শোকেস। আর এই শোকেসের অপারেশন আমি বসিয়েছি।” শব্দগুলো পরিষ্কার, ছোট, নির্দয়। “সিস্টেম চালু হবে আমার নির্দেশে। যে থাকবেন, তিনি আমার পথ ছাড়বেন।”

মাহিরা ভাবি যেন চড় খেয়ে পিছু হটল না, কিন্তু শরীরের রেখা বদলে গেল। “তুমি নিজেকে কী ভাবো?” তার কণ্ঠ উঠতেই রুবেল মামা প্রথমবার সামনে ঝুঁকে বললেন, “মাহিরা, চুপ করো। কাজটা আগে হোক।” তাতে ভাবির ক্ষতি হলো আরও বেশি; কারণ বকুনি ছিল প্রকাশ্যে, আর কারও জন্য নয়, তার জন্য। ফারহান ইতিমধ্যে কনসোল টেবিলের পাশের স্টুল টেনে সরিয়ে দিয়েছে। আনোয়ারা আপা হাত তুলে ডেকে বললেন, “সাবিহা, আমার অর্ডার নম্বরটা আগে দেখো।” আবার নাম ধরে। আবার সবার সামনে।

সাবিহা এগিয়ে গেল। মাহিরা ভাবি শেষ চেষ্টা করল তার কনুই ধরতে, “আমি বলছি ট্রে—” সাবিহা হাত সরিয়ে দিল, শক্তি দিয়ে নয়, অধিকার দিয়ে। “ট্রে পরে যাবে,” সে বলল, “এখন আমার কাজ।” এই এক লাইনেই ঘরের পুরোনো পাঠ পাল্টে গেল। ফারহান নিজে মাইকের স্ট্যান্ড ঘুরিয়ে তার দিকে নামিয়ে দিল, যদিও সে মাইক ছোঁয়নি। রায়হান চেয়ারের পেছনে সরে দাঁড়াল; তার টাই বাঁকা, আঙুল কাঁপছে। দৃশ্যমান ক্ষতি এই রকমই হয়—কেউ পড়ে যায় না, তবু সবাই দেখে কে সরল।

কার্ড সোয়াইপ, নিচের বাক্স খোলা, রাউটার রিস্টার্ট, ব্যাকআপ লিংক চালু—সাবিহা কাজগুলো করল দ্রুত, কোনো নাটক ছাড়া। কিন্তু নাটক তৈরি হলো তার চারপাশে। স্ক্রিনে কালো ফিডের জায়গায় মন্তব্য ফিরে আসতেই সামনের সারি একসাথে নিশ্বাস ফেলল। বুকিং নম্বর শূন্য থেকে লাফ দিয়ে উঠল বারোতে, তারপর সতেরো। আনোয়ারা আপা বললেন, “এই যে, আমার নরসিংদীর অর্ডার এলো।” পাশের জন জিজ্ঞেস করল, “সিলেটের ডেলিভারি স্লট খোলা আছে?” রায়হান উত্তর দিতে মুখ তুলতেই মানুষ অপেক্ষা করল না; তারা তাকিয়ে রইল সাবিহার দিকে।

সে চোখ না তুলেই বলল, “সিলেটে শুক্রবারের স্লট বন্ধ। শনিবার খুলছি। ফারহান, দ্বিতীয় কুরিয়ার-লাইনটা চালু করো।” ফারহান সঙ্গে সঙ্গে নড়ল। এরপর, “চট্টগ্রামের প্রি-অর্ডার আলাদা কিউতে নাও।” এক কর্মী দৌড় দিল। মাহিরা ভাবি তখনও দাঁড়িয়ে, কিন্তু তাকে আর কেউ নির্দেশের কেন্দ্র মনে করছে না। সে একবার রুবেল মামার দিকে তাকাল, একবার সামনের সারির দিকে; কোথাও আশ্রয় পেল না।

স্ক্রিনে সংখ্যা বাড়ছে, মন্তব্যের সারি নেমে আসছে, আর লোকজনের সম্বোধন বদলে যাচ্ছে। “সাবিহা, এই প্যাকেজে কত একর কভার হবে?” “সাবিহা, নগদে নিলে ছাড়?” “আপা, রেজিস্ট্রেশন নামটা একটু দেখে দেন।” দুই মিনিট আগেও যারা তাকে চা-বাহক ভেবেছিল, তারা এখন উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত থেমে আছে। এই থামাটাই সবচেয়ে বড় উলটানো। মাহিরা ভাবি হঠাৎ জোরে বলে উঠল, “সবাই অত বাড়াবাড়ি করবেন না। ও আমাদের বাসার মেয়ে, স্টাফ না—”

সাবিহা মাথা তুলল। এটাই ছিল শেষ, সবচেয়ে কুৎসিত টান: নিচে নামিয়ে রেখেও নিজের বলে দাবি করা। সে ঘুরে দাঁড়িয়ে সামনের সারি, পাশের সারি, আইলের গা ঘেঁষে দাঁড়ানো সব চোখের দিকে একবার তাকাল। তারপর একেবারে স্পষ্ট গলায় বলল, “আমি কারও বাসার মুখরক্ষা করতে এখানে দাঁড়াইনি। আমি এই শোকেসের অপারেটিং লিড। যার প্রশ্ন আছে, আমাকে করবে। যার আপত্তি আছে, সে পাশে সরে দাঁড়াবে।”

কথা শেষ হতেই ঘর থামল না; বরং নতুন নিয়মে চলতে শুরু করল। আনোয়ারা আপা প্রথমে নিজের ফাইল বন্ধ করে বললেন, “ঠিক আছে, অপারেটিং লিড, আমার পরের চালানটা নোট করুন।” রুবেল মামা আস্তে করে চেয়ারের হাতল থেকে নিজের হাত সরিয়ে নিলেন, যেন ভুল জায়গায় রেখে ফেলেছিলেন। ফারহান সবার শোনার মতো গলায় কর্মীদের বলল, “আপারা, সাবিহার নির্দেশ নিন।” এই এক লাইনেই মাহিরা ভাবির মুখের রং সরে গেল। ধার করা কর্তৃত্ব ফেরত গেলে এমনই ফাঁপা শোনায় মানুষের শ্বাস।

মাহিরা ভাবি আরেকবার বলার চেষ্টা করল, “আমি তো শুধু—” কিন্তু বাকিটা বেরোল না, কারণ তখনই স্ক্রিনে লাইভ অর্ডার তিরিশ পার করল এবং পেছন থেকে এক প্রবীণ চাচা বিরক্ত স্বরে বললেন, “কথা কম, কাজ চলুক।” এতক্ষণ যে নারী তাকে ট্রে ধরিয়ে দিয়েছিল, সে এখন আইলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থেকেও পথ রোধ করতে পারছে না। মানুষ শরীর বাঁচিয়ে তাকে পাশ কাটিয়ে সাবিহার কাছে এগোচ্ছে। ক্ষমতা উল্টে গেলে প্রথমে শব্দ ভাঙে, তারপর ভঙ্গি।

কিছুক্ষণ পরে সাবিহা নিজেই কনসোল থেকে সরে দাঁড়াল। কাজ চলতে থাকল তার বলে দেওয়া ছন্দে। সে খালি চেয়ারের হাতল থেকে স্টিলের ট্রেটা তুলে নিল। আইলের সামনে যারা একটু আগে কাঁধে কাঁধ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, তারা এবার সরে গেল। ফ্রন্ট রো-র পাশের সার্ভিস-লেনের বাঁকে পৌঁছে সে ট্রেটা দুই হাতে সমান করল; কাপগুলো আর কাঁপল না।