গেটে থামানো মেয়েকেই আগে নিল তারা
“ওই গাড়িটা আগে নিন—মাহিরা নামবে,” সেলিনা খালা হাত তুলে বলতেই তিনজন ভেন্যু-কর্মী ছুটে গেল সামনের সাদা প্রাডোর দিকে, আর আরিবার ট্যাক্সির দরজা আধখোলা অবস্থাতেই থেকে গেল। ড্রপ-অফ লাইনের কিনারে দাঁড়িয়ে আরিবা এক পা নামিয়ে থামল; পিছন থেকে হর্ন, সামনে লাল কার্পেট, মাথার ওপরে আলোর মালা। গেটের পাশে দাঁড়ানো ইমরান তালিকা দেখে মুখ কুঁচকে বলল, “আপনি একটু সাইডে থাকেন আপা, ভেতরে ভিড়।” যেন সে বরপক্ষের কাজের মেয়ে, আত্মীয়স্বজনের জানাশোনা কেউ না।
ট্যাক্সির সিটের পকেটে তার ঠান্ডা হয়ে যাওয়া খাবারের বাক্সটা কাত হয়ে ছিল; অফিস থেকে সোজা এসেছে, দুপুরের ভাত আর খাওয়া হয়নি। ব্যাগ থেকে ভাড়ার টাকা বের করতে গিয়ে মেট্রোকার্ডের ঘষে উঠে যাওয়া ধার আঙুলে লাগল। পাঁচ বছর আগে এই বাড়ির লোকেরা তার বাবার মৃত্যুর পর ঠিক এভাবেই তাকে “একটু পরে” বলে সরিয়ে দিয়েছিল—তখনও দরজা খোলা ছিল, শুধু তার জন্য না। আজ মাহিরার বিয়ে; আরিবা এসেছে নিমন্ত্রণে, তবু সেলিনা খালার চোখে সে এখনও ভুল সময়ে আসা ভুল মেয়ে।
সামনের গাড়ির দরজা খুলতেই মাহিরা নামল, গলায় সোনার ভার, পাশে তানভীর—যার সঙ্গে আরিবার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, যতদিন না সেলিনা খালা এক বিকেলে সবাইকে বসিয়ে বলে দিয়েছিল, “বংশের মান, সম্পত্তির হিসাব, এসব বুঝতে হয়।” তারপর কাগজপত্র উধাও, কথাবার্তা উধাও, আর আরিবার মায়ের কাঁধ থেকে শেষ ভরসাটুকুও। আজ তানভীর চোখ তুলে একবার দেখল, তারপর সঙ্গে সঙ্গে মুখ ঘুরিয়ে নিল; এই ঘুরিয়ে নেওয়ার অনুশীলন সে ভালোই শিখেছে।
আরিবা ট্যাক্সিচালককে টাকা মিটিয়ে দরজা নিজেই বন্ধ করল। সাইডে সরে দাঁড়ানোর বদলে সে সরাসরি ইমরানের রেজিস্টার-টেবিলের সামনে গিয়ে বলল, “আমার নামটা আবার দেখান।” শুকনো কাগজ নাড়ার শব্দ উঠল; সেলিনা খালা পাশ ফিরে তাচ্ছিল্যের হাসি দিলেন। “এত রাতে এসে নাম দেখতে হবে? তুমি ভেতরে গিয়ে মেয়েদের সঙ্গে বসো। সামনে না।”
ইমরান অস্বস্তিতে পাতাগুলো উল্টাতে লাগল। আরিবা কাগজের ওপর হাত রাখল না; শুধু ব্যাগ থেকে ফোন বের করল। “আজ দুপুরে আপনার ভেন্যু-কো-অর্ডিনেটর যেটা পাঠিয়েছেন, সেটা আমি খুলে দিচ্ছি।” সে স্ক্রিনে মেসেজ খুলে ধরে দিল। গাঢ় অক্ষরে লেখা—‘বরপক্ষের পারিবারিক অভ্যর্থনা: প্রথম সারিতে মরহুম রাশেদের জ্যেষ্ঠ কন্যা আরিবা রাশেদ, প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে।’ তার নিচে টেবিল বিন্যাসের ছবি, সোনালি দাগ টেনে। আরেকটি সংযুক্ত নোট—‘দাতা পরিবারের উত্তরাধিকারী আসন নিশ্চিত করবেন।’
ইমরানের মুখের রঙ বদলে গেল। সেলিনা খালা সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে এলেন। “ওটা পুরোনো খসড়া। আমি নিজে বদলেছি। এসব ওকে দেখানোর দরকার নেই।” তিনি স্ক্রিনটা নামিয়ে দিতে হাত বাড়াতেই আরিবা ফোন সরিয়ে নিল। “খসড়া হলে আপনার বদলের নির্দেশ কোথায়? লিখিতটা দেখান।”
এই একটুকু প্রশ্নে আশপাশের দুই কর্মী থেমে গেল। মাহিরার কনের ফুফাতো ভাই, যে ফুলের ট্রে ধরেছিল, কাঁধ ঘুরিয়ে তাকাল। রেজিস্টার-টেবিলের পাশে ছোট খামে মোড়া কিছু প্লেস কার্ড রাখা ছিল; কাগজের মোড়ক চেপে ধরার শব্দে ইমরানের আঙুল কাঁপল। সে রেজিস্টারের ভাঁজের ভেতর থেকে আরেকটা মুদ্রিত শিট টেনে বের করল—লাল কলমে কাটাকুটি, কিছু নাম সরানো, কিছু বসানো। উপরে সেলিনা খালার হাতের লেখা: ‘আরিবা—পাশের মহিলাদের টেবিল, পরের ব্যাচ। সামনে না।’
আরিবা মাথা নাড়ল। “এই কাটাকুটিটা ভেন্যুর নির্দেশ না। এটা ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ।” তার গলা উঁচু হল না, কিন্তু এতটাই ঠান্ডা ছিল যে পাশে দাঁড়ানো আতর মাখা এক বৃদ্ধ মামা চশমা নামিয়ে কাগজটার দিকে তাকালেন। “রাশেদ ভাইয়ের বড় মেয়ে কোনটা?” তিনি জিজ্ঞেস করলেন।
সেলিনা খালা দ্রুত উত্তর দিলেন, “আরে, ও তো মেয়ে মানুষ, বাইরে ছিল, এসব দায়িত্ব—”
“আমি প্রশ্ন করেছি,” বৃদ্ধ মামা তাকে থামিয়ে দিলেন। আরিবার দিকে তাকিয়ে বললেন, “তুমি?”
“জি, আমি।”
এই সময় ড্রপ-অফ লাইনে আরেকটা কালো গাড়ি এসে থামল। ভেন্যুর মূল হোস্ট পরিবারের প্রতিনিধি, কনের দাদার পুরোনো ব্যবসায়িক অংশীদার হাজি সামিউল আলম, নামার আগেই ইমরান প্রায় দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলতে গিয়েছিল। কিন্তু বৃদ্ধ মামার দৃষ্টি আর ফোনের স্ক্রিনে জমে থাকা নাম দেখে সে মাঝপথে থেমে গেল। পা ফিরিয়ে এনে দুহাত জোড় করে বলল, “আরিবা আপা, আপনি এদিকে আসেন… না, মাফ করবেন—আরিবা ম্যাডাম, আপনাকেই আগে নিতে হবে। আপনার জন্য সামনের গ্রহণসারি রাখা ছিল।”
শব্দটা ছোট ছিল—“ম্যাডাম”—কিন্তু কার্পেটের মাথায় দাঁড়ানো তিনজন কর্মীর কাঁধ একসঙ্গে ঘুরে গেল। ইমরান আর সেলিনা খালার মাঝখানে না দাঁড়িয়ে একটু পেছনে সরে শরীর কাত করল, পথ খুলে দিল। যে ট্রে মাহিরার সামনে ছিল, সেটি নিয়ে থাকা ছেলেটি এখন দ্বিধায় আরিবার দিকে তাকিয়ে আছে। এই বদলটা গোপনে হল না; লেনের বাতাসের মধ্যেই হল।
তানভীর অবশেষে এগিয়ে এল। তার কণ্ঠে সেই পুরোনো মসৃণতা, যা দিয়ে সে একসময় মিথ্যাকে ভদ্রতা বানাত। “আরিবা, এটা এখন করার সময় না। অতিথি আসছে। ভেতরে গিয়ে বসো, পরে কথা হবে।”
আরিবা তার দিকে তাকাল না। “পরে বলেই তো পাঁচ বছর কেটে গেছে।”
সেলিনা খালা এবার আর আড়াল রাখলেন না। “তুমি কী চাও? আজ মাহিরার বিয়ে নষ্ট করতে? তোমার বাবার নামে একটু দান করা হয়েছিল বলে তুমি ভাবছ, এই ঘরের উপর তোমার হুকুম?” তার কণ্ঠ উঁচু হয়ে গেটের আলোয় লাফিয়ে উঠল। “কে তোমাকে প্রতিনিধিত্বকারী বানাল?”
আরিবা ফোনের পাশ থেকে আরেকটা কাগজ বের করল—ভাঁজে ভাঁজে নরম হয়ে যাওয়া, তবু সিল অক্ষত। “হাসপাতালের করিডরে, আব্বা শেষ রাতে এটা মাকে দিয়েছিলেন। পরে মা আমাকে।” পাতার ওপর ট্রাস্টের সিল, আইনজীবীর সই, আর সংক্ষিপ্ত নির্দেশ—কনের নানাবাড়ির কৃষি-জমি বিক্রির টাকার যে অংশে এই বিয়ের হল-খরচ, গহনা আর যৌতুক-ঢাকা উপঢৌকন জোগানো হয়েছে, তার মূল বিনিয়োগ ছিল মরহুম রাশেদের নামে রাখা পারিবারিক তহবিল থেকে; জীবিত জ্যেষ্ঠ সন্তান আরিবা তদারকি অধিকার বহন করবে সামাজিক অনুষ্ঠানে। নিচে হাসপাতালের সাক্ষী হিসেবে এক ডাক্তারের নাম, আর এক করিডর-সাক্ষী—সেই বৃদ্ধ মামা, যিনি এখন চশমা পরে কাগজটা পড়ছেন।
বাতাস জমাট বাঁধল না; বরং হিসাবের মতো সোজা হয়ে গেল। বৃদ্ধ মামা কাগজ ভাঁজ করলেন না, সবার দেখার মতোই ধরে রাখলেন। “এটা আমি সই করেছি,” তিনি বললেন। “সেলিনা, তুমি তখন বলেছিলে, মেয়েটা ছোট, পরে জানানো হবে।”
সেলিনা খালার ঠোঁট শুকিয়ে গেল। তবু শেষ লড়াইটা তিনি দিলেন। “আইন-টাইন আমি জানি না। আজকের অনুষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ আমার হাতে। বসার জায়গা আমি ঠিক করেছি। সামনে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা বসবেন, তারপর মাহিরার শ্বশুরবাড়ি। আরিবা থাকলে মেয়েদের টেবিলে থাকবে। এটাই ঠিক।”
ওখানেই আরিবা সিদ্ধান্ত নিল। সে ইমরানের রেজিস্টার-টেবিলের দিকে হাত বাড়িয়ে খামে মোড়া প্লেস কার্ডগুলো নিজের দিকে টেনে নিল। কেউ তাকে থামাতে পারল না—কারণ থামাতে গেলে কার হাতে কোন অধিকার, সেটাই তখন সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রশ্ন। সে একে একে কার্ডগুলো খুলল। সোনালি অক্ষরে লেখা: ‘দাতা পরিবার’, ‘প্রধান অভ্যর্থনা’, ‘বরের অভিভাবক’, ‘বিশেষ অতিথি’। সেলিনা খালা এগিয়ে এসে বললেন, “স্পর্শ করবে না—”
“আমি রাখছি,” আরিবা বলল, এবং প্রথম কার্ডটা ইমরানের হাতে দিল। “ড্রপ-অফ লাইনের প্রথম গ্রহণ—দাতা পরিবারের প্রতিনিধি। আমার নাম বসান।” দ্বিতীয়টা বৃদ্ধ মামার হাতে। “প্রবীণ সাক্ষী—আপনি।” তৃতীয়টা তানভীরের দিকে না বাড়িয়ে পাশ কাটিয়ে মাহিরার শ্বশুরের সঙ্গী এক ভদ্রলোকের দিকে। “বরপক্ষকে এরপর নিন।” তারপর সেলিনা খালার হাতে বাকি কার্ড থেকে ‘পাশের আত্মীয়’ লেখা একটা ছোট কার্ড তুলে দিল। “আপনার বসা ওখানে।”
এই একটা ছোট সাদা কার্ড যেন তার হাতে পুড়ে উঠল। সেলিনা খালা থমকে গেলেন। দৃশ্যমান ক্ষতিটা সেখানেই—যে নারী এতক্ষণ আঙুল নেড়ে সবাইকে সরাচ্ছিলেন, তাকে এখন নিজের আসন-চিহ্ন হাতে নিতে হচ্ছে, সামনে নয়, পাশের সারিতে। আশপাশের কর্মীরা আর নির্দেশ চাইছে না; তারা কার্ডের লেখা পড়ছে। ইমরান দ্রুত প্রথম সারির দড়ি-ঘেরা জায়গায় গিয়ে নামফলক বদলাতে শুরু করল।
তানভীর এবার সামনে এসে নিচু গলায় বলল, “আরিবা, এতটা কোরো না। খালাকে ওই জায়গায় বসালে সবাই—”
“সবাই কী?” আরিবা তাকাল। “যেটা তুমি চেয়েছিলে—পড়বে। কে আগে, কে পরে।” তার চোখে জল ছিল না; ছিল শীতল ধাতুর মতো উজ্জ্বলতা। “তুমি যেদিন আমার মায়ের সামনে বলেছিলে, ‘আমি কিছু করতে পারছি না,’ সেদিনও তুমি সারি বেছে নিয়েছিলে। আজও বেছে নাও। কিন্তু আমার সারি আমি নিজে রাখব।”
ড্রপ-অফ লাইনে নতুন গাড়ি থামছে, দরজা খুলছে, আতরের গন্ধ আর গরম বাতাসে লোকজন নামছে। ইমরান উচ্চস্বরে কারও নাম ডাকল না; তার দরকারও হল না। সে প্রথম গ্রহণের ট্রে নিয়ে সরাসরি আরিবার সামনে দাঁড়াল। শরীর সামান্য নত, গলা পরিমিত—“এইদিকে, দয়া করে।” মাহিরার ফুলের ট্রে বহনকারী ছেলেটি দৌড়ে এসে আরেকটি ট্রে এনে বৃদ্ধ মামার হাতে দিল। সেলিনা খালা কিছু বলতে গিয়ে দেখলেন, তার নিজের বলা কথা এখন বাতাসে কাজ করছে না; কর্মীরা ব্যস্ত, আত্মীয়রা তাকিয়ে, আর কেউই তার দিকে অনুমতির জন্য ফিরছে না।
ভেতরের হলের দরজার আগে লিফট লবিতে বড় আয়নাটায় পুরোনো মুছেও না ওঠা আঙুলের দাগ। আরিবা পাশ কাটিয়ে যেতে যেতে এক ঝলক নিজেকে দেখল—চোখের নিচে ক্লান্তি, শাড়ির কাঁধে সরে থাকা ভাঁজ, হাতে এখনও সেই হাসপাতালের কাগজ। তার ঠিক পেছনে তানভীর থেমে ছিল; আয়নায় দেখা যাচ্ছিল, কিন্তু আরিবা ঘুরল না। সামনে হলঘরে গোল টেবিলগুলোর মাথায় নামফলক দাঁড়িয়ে।
সেখানে সে দ্বিতীয় কাটাটা দিল, এবং এই কাটাই শেষ। প্রধান টেবিলের ওপর রাখা ‘বরের অভিভাবক’ কার্ডটা সে সরিয়ে ডানদিকে পরের টেবিলে রাখল। নিজের কার্ড তুলে এনে মাঝের প্রথম টেবিলে দাঁড় করাল—‘আরিবা রাশেদ, দাতা পরিবারের প্রতিনিধি’। বৃদ্ধ মামার কার্ড তার বাম পাশে। মাহিরার শ্বশুরবাড়ির টেবিল সামনে, কিন্তু প্রথম না। তারপর সেলিনা খালার হাতে থাকা ছোট কার্ডটার দিকে একবার তাকিয়ে বলল, “ওই সারি।”
ইমরান সঙ্গে সঙ্গে চেয়ার টেনে দিল। আর এক কর্মী ভুল করে সেলিনা খালার জন্য মাঝের চেয়ারে হাত দিতেই ইমরান কঠিন স্বরে বলল, “না, ওটা না। পাশেরটা।” ছোট্ট নির্দেশ, কিন্তু সবার সামনে। সেলিনা খালা থমকে গিয়ে দেখলেন, তার জন্য রাখা চেয়ারটায় টেবিলের কিনারা একটু ভাঙা, টেবিলক্লথের প্রান্ত সামান্য বেঁকে আছে। এতদিন অন্যের জন্য যেটুকু বেঁকে থাকত, আজ তা তার জন্য।
মাহিরা, ভারী গহনায় অস্থির, একবার খালার দিকে, একবার আরিবার দিকে তাকাল। তানভীরের কণ্ঠ নরম হয়ে এল, প্রায় অনুনয়ের মতো। “আমরা পরে বসে—”
“না,” আরিবা বলল। “আজ বসাই সব।”
প্রধান টেবিলের চেয়ারে হাত না রেখে সে কাগজটা ভাঁজ করে ব্যাগে ঢুকিয়ে দিল। প্রবেশপথের ভিড় তখন তার জন্য নিজে থেকেই দুই পাশে সরে যাচ্ছে—কেউ নাটক করছে না, কেউ অভিনন্দন দিচ্ছে না; শুধু যে যেখানে দাঁড়িয়েছিল, নতুন হিসাব বুঝে শরীর সরাচ্ছে। সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে ওঠার মুখে একজন উর্দিধারী কর্মী তাড়াহুড়া করে সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল, তারপর আরিবার চোখের সরল রেখা দেখে নিজেই আধাপা পেছাল। তার হাতার কালো কাপড় আগে সরে গেল, সরু করিডরের বাতাসে একবার নড়ে পথ ফাঁকা করে দিল।