bn-BD shelf
Romance
01আমাকে সরাতেই শর্টকাট মরল“মৌ, ওই কৃষির প্রেসক্রিপশনটা আগে দাও—না, এটা না, সবুজ ফাইলটা—আহা, তোমারে কতবার কইতে হবে?”02আমার জায়গা ওরা মুছতে পারেনিগরম ট্রের ধাক্কায় স্টিলের জগটা কাত হয়ে পড়তেই মেহরিন দুই হাতে ধরে ফেলল, আর একই সময়ে বলল, “ভাতটা ওই টেবিলে নামান, দই এখানে রাখেন—ওপাশে জায়গা নাই।” তার কণ্ঠে তাড়াহুড়ো ছিল, কিন্...03আসল ডিউটির মালিক আবার ফিরলরিমা বাঁ হাতে রেজিস্টারের পাতা চেপে ধরে ডান হাতে তিনটা রিপোর্ট-ফোল্ডার এক লাইনে গুঁজে দিল, তারপর কুঁচকে যাওয়া ব্যাজের ফিতা গলায় দুলতে দুলতে বলল, “খালাম্মা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের...04আসল শিফটটা আবার আমার হলো“ওই ব্যাগটা আগে দেন—না, ওইটা না, ইউরিয়া লেখা নীলটা,” মিতু হাত বাড়িয়ে ক্রেতার কাঁধের উপর দিয়ে বস্তাটা টেনে নামাল, তারপর একই নিঃশ্বাসে বলল, “বিকাশে গেলে শেষ চার ডিজিট বলেন, ভুল গ...05আসল শিফটের মালিক আবার ফিরল“মৌরি, ওই ফাইলটা ধরো—আর লাইনে কাদের আগে ঢোকাতে হবে, সেটা তুমি বাইরে দাঁড়িয়ে বুঝিয়ে দাও। ডেস্কে আমি আছি।”06এই ভাঙনও আমাদের আলাদা করতে পারল নাস্ট্রেচারে ধাক্কা লাগতেই অক্সিজেন সিলিন্ডারের মুখটা কাত হয়ে গেল, রিদা দৌড়ে গিয়ে দুহাতে সেটাকে ধরে সোজা করল আর গেটের পাশে দাঁড়ানো ওয়ার্ডবয়কে বলল, “ভাই, আগে চাকা উঠান, না হলে আ...07এখন আমরা একই পাশেমেহজাবিন দুই হাতে ফেটে যাওয়া সারবস্তার মুখ চেপে ধরেছিল, আর সাদা দানার মতো ইউরিয়া তার আঙুলের ফাঁক গলে কাউন্টারের কিনারা বেয়ে মেঝেতে পড়ছিল, তখনই রাশেদা আপা খড়খড়ে গলায় বলল, “কে...08কাজ চাপিয়ে, শেষে আমাকেই ডাকল“ওই ফাইলটা এখানে দিন—না, ওইটা না, নীল স্টিকারওয়ালা,” বলে মেহরীন কাউন্টারের পাশের সরু ট্রলির উপর ঝুঁকে জন্মতারিখ মিলিয়ে নিল, আর ঠিক তখনই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীর ছেলের দিকে না তাকিয়...09ঘরটা আমার জন্যই রাখা ছিলমেহরিন প্লাস্টিকের চেয়ারের কোণা টেনে এনে আরিবের মায়ের মাথার নিচে গুঁজে দিল, তারপর নিজের ওড়না খুলে স্যালাইনের নলটা দরজার হাতল থেকে ছাড়িয়ে সোজা করল। করিডরে তখন তিনজন একসাথে চিৎক...10ঘরটা আমার জন্যই রাখা ছিল #2“চাদরটা ঠিক করে ধরেন—রক্ত নিচে পড়ছে!” বলে মেহজাবিন দুই হাতে স্ট্রেচারের ধাতব কিনারা চেপে ধরল, কাঁধে ঝুলে থাকা ব্যাগটা বারবার সরে গিয়ে তার কনুইয়ে আঘাত করছিল। করিডরের সাদা আলোয় রিফাত...11ঘরটা যেন আমার জন্যই অপেক্ষায় ছিলবেসিনের সামনে ঝুঁকে মায়া এক হাতে রিমির কামিজের বমি ধুতে ধুতে অন্য হাতে কলটা চেপে রাখল, যাতে পানি ছিটকে বাইরে না যায়। পেছন থেকে রিমির খালা নাক কুঁচকে বললেন, “এই তো, সুযোগ পেলেই ঘেঁষ...12ঘরটা যেন তারই জন্য ছিলনীরা দুহাতে আরমানের মাথা চেপে ধরে টিস্যুতে রক্ত থামাতে থামাতে বলল, “চোখ বন্ধ রাখো,” আর ঠিক তখনই সাবিহার খালা ভেজা বারান্দা পেরিয়ে এসে এমন গলায় উঠলেন যেন নীরাই এই দুর্ঘটনার কারণ।...13ফাঁকা ঘরটাও আমারই ছিলমাহিরা ভাবি সাবিহার বইগুলো এক হাতে তুলে নিয়ে বলল, “এই টেবিলটা খালার বড় ছেলে দুদিন থাকবে, ও বসবে এখানে। তোর জিনিসপত্র ভেতরে রেখে দে।” একই সময়ে রান্নাঘর থেকে ডেকে উঠল, “ডালটা নামি...14ফাঁকা স্লটটা আমারই ছিল“চাবিটা দাও, তুমি এত ভেতরে কেন ঢুকছ?”—ফারিহা ভাবির গলাটা দরজার ফাঁকে কেটে এল, আর সেই সময় মেহরিন দুই হাঁটু মেঝেতে ঠেকিয়ে নাবিলার বিছানার নিচ থেকে গড়িয়ে যাওয়া ইনহেলারটা টেনে তুল...15ভাঙনও আমাদের আলাদা করেনিমেহরীন দৌড়ে গিয়ে চুলার ওপর ওঠা দুধের পাতিলটা নামাতেই রিফাতের খালা হাতের আঁচল ঝাপটে উঠলেন, “এই মেয়ে, কে বলছে তোমাকে রান্নাঘরে ঢুকতে?” পাতিলের গা বেয়ে দুধ নেমে আগুনে সিঁসিঁ শব্দ...16ভাঙনেও আমরা আলাদা হইনিমেহরাব দৌড়ে গিয়ে গরম ডালের হাঁড়িটা ঈশার হাত থেকে কেড়ে নিল, তারপর নিজের হাত পুড়িয়ে হলেও সিঙ্কের নিচে নামিয়ে রাখল। হাঁড়ির ধার বেয়ে ডাল ছলকে নওশীন আপার মেঝেতে পড়ে গেছে, সাদা...17যে জায়গা তারা দেয়নি, সেটাই অপেক্ষায় ছিলমৌ ট্রে নামিয়ে আরেকটা ভেজা গ্লাস তুলতেই রাশেদা ভাবি তার কনুই সরিয়ে দিল, যেন মানুষের নয়, স্ট্যান্ডের জায়গা ঠিক করছে। “এখানে না, ওই পেছনের লাইনে দাঁড়াও। সামনের টেবিলে আত্মীয়স্ব...18শেষে একই ভার তুলেছিরিদা দুই হাতে স্যালাইনের স্ট্যান্ড ঠেলে দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে তুলতেই পেছন থেকে তানভীর খালার কড়া গলা এসে লাগল, “এইটা তুমি ধরবা না, নার্স আসতেছে— অত বাড়াবাড়ি কইরো না।” অথচ নার্স...19শেষে শুধু আমার চাবিই চললপানির জগটা মেহরীন দুই হাতে ধরে এগিয়ে দিতেই সাবিহা খালা তীক্ষ্ণ গলায় বললেন, “থাক, এত আগ বাড়িয়ে ধরতে হবে না। অতিথিদের সামনে কে কী করছে, সেটা বুঝে করতে হয়।”