bn-BD shelf
Revenge
01আমি না ধরলে লাইন নড়ে না“মিতুল, ওই ট্রলিটা সরাও। কাউন্টারে তোমার দরকার নেই,” রাশেদ স্যার এমনভাবে হাত নাড়ল, যেন কাউন্টারের সামনে দাঁড়ানো মানুষগুলোও তার ব্যক্তিগত জিনিস। সামনে সারি পাক খেয়ে দরজা ছাড়িয়ে...02আসল কর্তাই ফিরল, পথ বন্ধ হল“এই লেনটা না, আপা, বাইরে দাঁড়ান।” গেটের কাছে হলুদ ফিতে টানা পথের সামনে হাত ছড়িয়ে দাঁড়াল নাইম ভাই। তার কণ্ঠটা এমন জোরে উঠল যে মেহরীনের পেছনে দাঁড়ানো খালা রওশন, দুই ফুফাতো বোন, এমনকি...03আসল স্কিল উঠতেই সব চুপনাইরা থেমে গেল আইল-ধারের মনিটর ওয়েজের পাশে, কারণ তার কালো কাপড়ে ঢাকা কনসোলের ওপর ইতিমধ্যেই রিদওয়ানের হাত। মাইকে ঘোষণাও হয়ে গেছে—“টিম লিড, রিদওয়ান হোসেন।” সামনে প্রথম সারিতে শা...04এক পরীক্ষাতেই সব ফাঁসগেটের ভেতর ঢুকতেই নাজিয়া দেখল তার সেতারের বাক্সটা খুলে রাখা, আর তার নাম-লেখা সাদা কাগজের ওপর কালো মার্কার টেনে লিখে দেওয়া হয়েছে—“রাইসা রহমান: লাইভ রাউন্ড।” পাশের মঞ্চ থেকে ঘোষকে...05এক প্রশ্নেই ঘরটা ওদের বিরুদ্ধে গেলগাড়ির দরজা খুলতেই দুজন বেয়ারা একসঙ্গে মেহরিনের দিকে ঘুরে বলল, “আপা, পরের ভিআইপি কারটা—”
“ওকে জিজ্ঞেস করার দরকার নেই,” রাশেদা খালা কাঁচের দরজার সামনে দাঁড়িয়েই কথাটা কেটে দিলেন।...06কন্ট্রোল আবার আমার হাতেট্রলির চাকায় বাঁধা বাঁধাকপির বস্তা কাত হয়ে লেনে ছড়িয়ে পড়তেই শিউলি ডিসপ্যাচ ঘরের দরজায় হাত রাখল, আর ভেতর থেকে কামরুল ভাই চেঁচিয়ে উঠল, “ওখানে না। সিটে কেউ বসবে না। তুই বাইরে দাঁড়া।”07কন্ট্রোল ফিরতেই বেই চললচতুর্থ বেইয়ের সামনে ট্রলির চাকা আটকে কাঁকিয়ে উঠতেই মেহজাবিন গলা চড়াল, “ওটা আগে ছাড়বেন না—পেঁয়াজের প্যালেট ঢুকলে মাছের গাড়ি উল্টা মুখে আটকা পড়বে।”
ঢাকার কারওয়ান বাজারের পেছনের কৃষি...08ঘরটাই শেষমেশ ওদের ছাড়ল“ওই মাইক্রোফোনটা ধরো না,” রওশন আপা হাত বাড়িয়ে মেহরীনের কবজি ঠেকিয়ে দিলেন, যেন উঠানের মাঝখানের টেবিল আর ফুল-ঝোলানো ফটক একসঙ্গে তাঁর বাপের সম্পত্তি। “তুমি পিছনে থাকো। অতিথি রিসিভ...09চাপ পড়তেই আসল ফাঁস হল“ওই ১২ নম্বর র্যাক ছাড়ো, আগে বনানী রুট বের করো!” রাশেদ সুপারভাইজার গলির মুখে দাঁড়িয়ে চেঁচাতেই দুইটা ঠেলাগাড়ি একে অন্যের মুখে গিয়ে ঠেকে গেল, কাঁচা টমেটোর ক্রেট কাত হয়ে লাল জল...10চাপ পড়তেই কে ভুয়া ধরা গেলহাতগাড়িটার সামনের চাকা র্যাম্পের ধাতব ঠোঁটে ঠক করে আটকে গেল, আর একই সঙ্গে রেডিওতে কর্কশ শব্দ উঠল—“বে তিন দাঁড়িয়ে আছে, ছাড়পত্র কোথায়?” মাহিরা হাত বাড়িয়েই ছিল রিলিজ বোর্ডের দিকে, ঠি...11চেয়ারটা আবার আমার হলোচতুর্থ র্যাকের মুখে ঠেলা গাড়ি দুটো আড়াআড়ি আটকে যেতেই রাশেদ সুপারভাইজার চাবির গোছা ঝনঝন করে তুলে বলল, “মেহজাবিন, তুমি লাইনে দাঁড়াও। ডিসপ্যাচ টেবিলে হাত দেবে না।” লাল ট্যাগওয়ালা...12টাকার লাইন ঘুরে যেতেই ওরা থেমে গেল“এই লেনটা না, পেছন দিক দিয়ে যান—স্টাফদের দাঁড়ানোর জায়গা ওখানে,” কালো কোট পরা ছেলেটা হাত তুলে রিদওয়ানের বুকের সামনে থামিয়ে দিল, যেন সে আমন্ত্রিত কেউ না, অতিরিক্ত মালপত্র নামাতে...13ডিসপ্যাচটা ফিরল আমার হাতে“ওই ট্রাকটা ছাড়বেন না—” বলে মিতুল রেজিস্টারের টেবিলের দিকে হাত বাড়াতেই রাশেদ চাবির গোছা মুঠোয় চেপে তার সামনে চেয়ারের পা আড়াআড়ি ঠেকিয়ে দিল। লোডিং বেতে তখন তিনটা ট্রাক লাইন দিয়ে দাঁড়...14ডিসপ্যাচের চেয়ারটা আবার আমারলোহার শাটারের সামনে তৃতীয় ট্রলিটা এসে আড়াআড়ি আটকে যেতেই রাশেদ চেঁচিয়ে উঠল, “ওইটা আগে না, সিলেটেরটা আগে দাও—দাঁড়িয়ে থাকিস কেন?” ঢাকার কোল্ড-চেইন গুদামের লোডিং বেতে তখন কাঁচা ম...15নিজের মঞ্চেই সে শেষ হয়ে গেল“মাহিরা, আপনি ওখানেই বসুন—বেঞ্চে। আগে নওশীন যাবে।”16নিজের স্টেজেই সে ধরা খেলআরমান মেহরিনের হাত থেকে সাদা সেন্সর-প্রোবটা টেনে নিয়ে বলল, “এটা আমি নেব। তুমি স্যাম্পল ট্রে ঠিক করো।” তার কবজির ওপর পুরনো কলমের কালির দাগ ছিল; প্রোব ছাড়তে গিয়ে দাগটার ওপর মেহরিন...17পাসটা হাতে যেতেই সব বদল“ওই বেঞ্চে বসবেন না, এটা আমাদের সিরিয়ালের লোকজনের,” বলে নাসরিন ভাবি হাত বাড়িয়ে মেহজাবীনের ফাইলটা ঠেলে দিলেন এমনভাবে, যেন ফাইল না, কারও কনুই সরাচ্ছেন। পুরোনো নীল কভারের ভাঁজে ভাঁ...18মালের লাইন ঘুরে আমার দিকেই এল“এই পাশটা খালি রাখেন—ও না, ও না, সাবিহা আপা হাত দেবেন না,” গেটের সামনে দাঁড়ানো ছেলেটা হাত তুলে সাবিহার পথ আটকাল, আর মাহির ভাই গাড়ির দরজা ধরে হেসে বলল, “তুমি ভেতরে যাও। কার্বসাইডে...19যাকে ঠেলে সরাল, মাইক গেল তার হাতেরুবাইয়াত আপা মেহরীনের গলা থেকে পরিচয়কার্ডের ফিতা টেনে খুলে নিলেন, এমনভাবে যেন গলায় থাকা জিনিসটাও তার দয়ার দান। তারপর ডেস্কের ওপরে রাখা রোগীর তালিকা নিজের দিকে টেনে এনে বললেন, “...20যাকে বসতে দেয়নি, তার কাছেই ঢোকার মিনতি“এই বেঞ্চে না, ওদিকে দাঁড়ান”—মাহিরা ভাবি নিজের ব্যাগটা বাড়িয়ে খালাম্মার বসতে যাওয়া জায়গাটা আটকে দিল, তারপর কাউন্টারের মেয়েটাকে চিবুক তুলে বলল, “আগে আমাদের নাম ডাকেন, রোগী খুব...21যাকে বাদ দিতে চেয়েছিল সবাইলিফটের সামনে হাত তুলে রাশেদ স্যার বললেন, “মেহরাব, দাঁড়াও। তুমি না। আরিফ যাবে আগে।”
আরিফের গলায় নতুন ঝোলানো পরিচয়কার্ড, হাতে কাগজে মোড়া অতিথি-প্যাকেট, তবু তার কপালে এমন ঘাম যে...22যে গেট থেকে আমাকেই কাটল“ওই লাইনে না, স্যার—আপনাকে সাইডে দাঁড়াতে বলা হয়েছে।” কালো স্যুটের ছেলেটা হাত বাড়িয়ে নওশাদের সামনে দড়ির ফাঁক বন্ধ করে দিল, আর ঠিক তখনই পেছন থেকে এক নীল মাইক্রোবাস এসে থামতেই দু...23যে মঞ্চটা ওর ছিল, সেটাই ওকে মারল“মেহরিন, তুমি সাইডে দাঁড়াও—এই রাউন্ডটা তানভীর করবে,” ঘোষক স্যার মাইকের তার এক হাতে চেপে ধরে বললেন, আর আরেক হাতে ডেমো টেবিলের সামনে রাখা নামফলকটা তুলে তানভীরের দিকে বাড়িয়ে দিলেন।...24যে হাত সরিয়েছিল, সেই হাতই ডাকল“বে তিন খুলে দেন! বরফ গলছে!” কুদ্দুস গেটের দিক থেকে চিৎকার করতেই লোডিং বেয়ের সামনের ট্রাকের লাইন আরেক হাত এগোল, তারপর থেমে গেল। লক ঝুলছে, মোটা দাঁতের মাস্টার চাবি রাশেদের মুঠোয়,...25রিলিজের আসনটা আবার আমারট্রলিটা বে-দরজার সামনে কেঁচোর মতো বেঁকে দাঁড়িয়ে ছিল, আর ড্রাইভাররা একসাথে চেঁচাচ্ছিল, “রিলিজ কই? গরম নামতেছে!” মাহিরা হাতে স্টিলের ট্রে চেপে পাস-বোর্ডের দিকে যেতেই রাশেদ কনুই ঠেক...26শেষে আমার হাতই লাগলরাশেদ ভাই ফাইলের মোটা গুচ্ছটা মাহিরার হাত থেকে কেড়ে নিয়ে কাউন্টারের ভেতরের ঘূর্ণি-চেয়ারটায় নিজের শরীর নামিয়ে বলল, “তুমি বাইরে দাঁড়াও। নাম ডাকব, তখন কাগজ ধরাবে।” তার কনুইয়ের...27শেষে ওরাই ঢোকার ভিক্ষা চাইল“ওকে না, পাশের লেনে দাঁড় করান। এই পাসে ভেতরের পিকআপ হবে না।”28শেষে কাজটা আমার হাতেই এলোচতুর্থ ট্রাকটা বে-দরজার সামনে কাত হয়ে দাঁড়াতেই মাহিন হাত তুলে চিৎকার করল, “ওইটা তিন নম্বর লাইনে, এখনই!” কিন্তু মার্কারটা ছিল রাশেদ সুপারভাইজারের হাতে; সে কাগজে গোল দাগ টেনে উল্টো এ...29শেষে কাজটা আমার হাতেই ফেরালপ্লাস্টিকের টোকেনের ঝুনঝুন শব্দ তুলে রাশেদ স্যার মেহরীনের সামনে থেকে লাল ফাইলটা সরিয়ে বলল, “ওই কনসোলের দিকে যাবেন না। কাউন্টারে দাঁড়ান, নাম লিখেন। লাইভ ছাড় আমি দেব।”30সবাই ভেবেছিল নওশীন হারবেশারমিন ভাবি নওশীনের হাত থেকে পিতলের চাবির রিংটা টেনে নিয়ে পাশের কাজের ছেলেটার হাতে ছুড়ে দিলেন। “তুমি দরজায় দাঁড়াবে না। ভেতরে যাও, মেয়েদের পাশে বসো। অতিথি সামলানো সবার কাজ না।”31সবার সামনে গাড়ির ডাক দিল সেসাব্বির ভাই মেহরীনের হাত থেকে সাদা নাম-কার্ডটা টেনে নিয়ে বলল, “এটা তোমার হাতে কেন? গাড়ির ডাক আমি দেব। তুমি গিফট ব্যাগগুলো ধরো।”32সামনের সারি সে-ই নিল #2“রাইসা, সামনে না। ওই ব্যাজটা খুলে পেছনে দাঁড়াও—তুমি শুধু খাম ধরাবে।”33স্পটলাইট হঠাৎ ওর দিকেই ঘুরলদরজার মুখেই স্বেচ্ছাসেবক ছেলেটা মেহরিনের গলা থেকে ঝোলানো অংশগ্রহণকারীর কার্ড খুলে নিয়ে বলল, “এটা আরমান ভাইয়ের লাইনে যাবে, আপা। আপনি টেবিলের পাশে থাকেন, জিনিসপত্র ধরিয়ে দেবেন।” কথা...34হেসেছিল আগে, ডাকা হলো ওকেইফাইলের বান্ডিলটা মেহরিনের হাঁটুর ওপর আছড়ে ফেলে রুবাইয়ার ভাবি বলল, “এইগুলো সিরিয়াল ধরে বসাও, কিন্তু বেঞ্চের সামনে দাঁড়াইবা না—রোগীর লোকজন ভাববে তুমি এখানের স্টাফ।”35হেসেছিল আগে, থামল পরে“সাবিহা, ওই টেবিল ছেড়ে ট্রেটা ধরো—এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে ছবি খারাপ দেখায়,” মাহিরা ভাবি হাত বাড়িয়ে তার আঙুলের ফাঁক থেকে ট্যাবটা টেনে নিল, তারপর পাশের ছেলেটাকে বলল, “অপারেটর জায়গ...